আগুন
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার দাবানল
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার, শত শত দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পূর্ব জাভার জনপ্রিয় ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যান থেকে শুরু করে সুমাত্রার বিস্তীর্ণ ভূমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ আগস্ট) ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া ও এল নিনিয়োর (প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা) কারণে হওয়ায় দেশটির সর্বোচ্চ শুষ্ক মৌসুমে বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঝুঁকি বেড়েছে।
পূর্ব জাভার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ব জাভা প্রদেশের ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় আগুন লেগেছে। প্রদেশটির প্রায় ৭৪৩ হেক্টর (১ হাজার ৮৩৬ একর) এলাকা পুড়ে গেছে।
দেশটির বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনে শুকনো তৃণভূমি, গাছপালা ও সংরক্ষিত এডেলভেইস ফুলের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান মাউন্ট ব্রোমোর দর্শনীয় স্থান পেনানজাকান এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা কাউকে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পূর্ব জাভা অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, পার্কের রেঞ্জার ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ জাতীয় উদ্যানটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত দুর্গম এলাকায় আগুন নেভাতে অন্তত ৩টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব হেলিকপ্টার দিয়ে আগুনের উৎসগুলোতে পানি ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলভাগে কর্মীরা আগুন নেভানো, ঠান্ডা করা, টহল ও আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ফায়ারব্রেক তৈরির কাজ করছেন।
রবিবার জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনের সময় দেশটির বনমন্ত্রী রাজা জুলাই আন্তোনি বলেন, ‘বন ও ভূমিতে আগুনের পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং এর ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ সময় যেসব মানবসৃষ্ট কারণে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যেমন: সিগারেটের অবশিষ্টাংশ না নিভিয়েই ফেলে দেওয়া ও জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন লাগানো। এমন বিধ্বংসী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী।
অস্বাভাবিক শুষ্ক এই মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি এলাকায় দাবানলের খবর পাওয়া গেছে।
দাবানলে সুমাত্রা দ্বীপের জাম্বি প্রদেশে ৫০ হেক্টরের (১২৪ একর) বেশি পিটভূমি (শুষ্ক স্যাওলাসমৃদ্ধ জলাভূমি) পুড়ে গেছে। এতে কিছু এলাকায় তীব্র ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে এবং বায়ুর মান আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুয়ারো জাম্বি জেলার সুংগাই গেলাম গ্রামে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মালিকানাধীন কয়েক হেক্টর পাম বাগান পুড়ে গেছে। গত সপ্তাহের বুধবার থেকে সেখানে আগুন জ্বলছে।
দেশটিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৩০০ দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পিটভূমির গভীরতা, পানির সীমিত সরবরাহ, দুর্গম এলাকা ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। এসব কারণে তিনটি হেলিকপ্টার আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেরে বাইরে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভৌত সংস্থা জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দাবানল সংঘটনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস হতে পারে। এ সময়ে শুকনো গাছপালা ও প্রবল বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে প্রায়ই বনভূমিতে দাবানলের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও জমি পরিষ্কার করতে বাগান মালিক ও স্থানীয় কৃষকেরা অনেক সময় অবৈধভাবে আগুন লাগিয়ে দেন। এসব কর্মকাণ্ডে আগুনের ধোঁয়া মাঝেমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপজ্জনক ধোঁয়াশা তৈরি করে।
২১ ঘণ্টা আগে
দাবানলের কারণে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে ও অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে ওকানাগান লেকের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি জরুরি অবস্থা জারি করেন।
শনিবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি জায়গায় দাবানল জ্বলছিল। এ সময় দাবানলের প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। প্রচণ্ড গরম, ঝোড়ো বাতাস ও দীর্ঘদিনের খরার কারণে এলাকাগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ দুর্যোগে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাসের শহর সামারল্যান্ড এলাকা থেকে এক রাতেই সকল বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাছের শহর পিচল্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি বলেন, ‘আগুনের কারণে কয়েকজন বাসিন্দা আটকা পড়েছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোতে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আজ অনেক পরিবার কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আপনাদের মধ্যে অনেকেই এখনও নিঁখোজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় আছেন।’
এদিকে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপম্যান বলেন, ‘আগুনের কারণে যারা সড়কপথে বের হতে পারছিলেন না, তাদের দমকলকর্মীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুন মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম ব্যাল্ড রেঞ্জ এলাকায় আগুনের খবর পাওয়া যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছোট্ট ফাউল্ডার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের সামারল্যান্ড পর্যন্তও খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ক্লিফ চ্যাপম্যান ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরণাত্মক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামারল্যান্ডের মতো দাবানল পরিস্থিতির মুখে অন্য এলাকাগুলোও পড়তে পারে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী কেলি গ্রিন বলেন, জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে সেখানের প্রাদেশিক সরকারকে অতিরিক্ত কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওই এলাকায় ভ্রমণ সীমিত করা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসনের ব্যবস্থা করা।
ওকানাগান-সিমিলকামিন আঞ্চলিক জেলার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এরিক থমসন বলেন, এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল এর আগে ওই অঞ্চলে দেখা যায়নি।
থমসন বলেন, একপর্যায়ে তিনি তার কর্মস্থান জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে নিজের পরিবারকে সরিয়ে নিতে বের হন। শনিবার ভোরে গাড়িতে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে পরিবারকে সরিয়ে নিতে যাচ্ছি। আমরা দক্ষিণ দিকে যাচ্ছি।’ সে সময় সড়কে যানজট তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কয়েকটি বাড়িতে আগুন জ্বলছে। দুই পাশের আগুনের মধ্য দিয়েই বাসিন্দারা সড়ক ধরে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।
অপরদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির মালিক কেরি গোল্ড ও তার স্বামী মাইক এলসিংগা এলাকা ছেড়ে চলে যান। তারা কাছের একটি পাহাড়ের ওপর আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েন।
কেরি গোল্ড বলেন, ‘এটি ভয়ংকর পরিস্থিতি। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ‘
সম্প্রতি এই দম্পতি ভ্যানকুভার শহর থেকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসেছেন। এখানে দাবানল পরিস্থিতিতে আগে থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলেন। তারা তাদের বিড়ালকে নেওয়ার জন্য একটি ক্যারিয়ার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। পাশাপাশি তারা তাদের এক শারিরীক প্রতিবন্ধী বন্ধুকে দাবানল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আগেহ থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন।
এলসিংগা বলেন, ‘আমরা নিজেদের বাড়ি রক্ষা করতে চাই। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা কেউই আগুনের মধ্যেও আটকা পড়তেও চাই না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব দাবানলের কারণে সরকারকে বহু মানুষকে একসঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
১ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, নিহত ৫, নিখোঁজ বহু
ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ঠিক কতজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন দেশটির উদ্ধারকারীরা। গতকাল (রবিবার) সকাল ৬টা থেকে ৭টার দিকে সুমেনেপ রিজেন্সির জলসীমায় ফেরিটিতে আগুন লাগে।
‘মুতিয়ারা সেন্টোসা-২’ ফেরিটি ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরের উদ্দেশে যাচ্ছিল।
উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির ম্যানিফেস্ট অনুযায়ী এতে ২৩২ জন যাত্রী ও ৩৯ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
এদিকে, সোমবার সকালে কর্মকর্তারা জানান, ফেরিটিতে ম্যানিফেস্টে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ছিলেন। এখন পর্যন্ত ২২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে প্রকৃতপক্ষে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা নির্ধারণে কর্মকর্তারা নিহত ও জীবিতদের পরিবারের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন।
সুরাবায়া উদ্ধার কার্যালয়ের প্রধান নানাং সিগিত জানান, ইন্দোনেশিয়ায় নৌযান বা ফেরিতে যাত্রীর প্রকৃত সংখ্যার সঙ্গে অনেক সময় ম্যানিফেস্টে উল্লেখিত সংখ্যার মিল থাকে না। নৌযানগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে এমন অসঙ্গতি দেখা দেয়। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়ে।
এদিকে, ফেরিতে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ফেরিটিতে ১৮০টি যানবাহনও ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ট্রাক। এছাড়া এতে একটি এক্সকাভেটরও বহন করা হচ্ছিল।
উদ্ধার হওয়া যাত্রী আহমাদ আবদুল করিম জানান, সম্ভবত নিচতলার যানবাহন ডেকে থাকা একটি ট্রাক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘বাতাসের কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সবাইকে ফেরির সামনের অংশে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’
ঘটনাস্থলটি সুমেনেপ রিজেন্সির বুরুয়ান সাপুদি দ্বীপের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এ দুর্ঘটনার পর সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধারকারী নৌযান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ ও ঘটনাস্থলের আশপাশ দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি জাহাজও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
ফেরিটি ১৯৯২ সালে জাপানে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে কয়েক বছর চলাচলের পর ২০১৫ সালে এটি ইন্দোনেশিয়ায় বিক্রি করা হয়। প্রায় ১৬০ মিটার (৫২৫ ফুট) দীর্ঘ এ ফেরিতে ৬৮৯ জন যাত্রী, ৪৯ জন ক্রু সদস্য এবং সর্বোচ্চ ১৮১টি যানবাহন বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
মুতিয়ারা সেন্টোসা-২ নিয়মিত সুরাবায়া-মাকাসার রুটে চলাচল করে। সাধারণত এ যাত্রাপথ অতিক্রম করতে প্রায় ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। জাভা ও সুলাওয়েসি দ্বীপের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এ রুটটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি চলাচল অন্যতম প্রধান যাতায়াত ব্যবস্থা। তবে দেশটিতে প্রায়ই নৌদুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার জন্য দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৭ দিন আগে
ফরিদপুরে হরিরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৪ দোকান পুড়ে ছাই
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হরিরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৪ টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের হরিরহাট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকানের মালামালসহ ব্যবসায়ীদের ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
হরিরহাট বণিক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা মাতুব্বর জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর হঠাৎ করেই বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান, বাজারের ব্যবসায়ী হাশেম মিয়া, আজিজ মুন্সী, পরেশসহ চারজনের দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে মুদি ও কাঁচামালের দোকান ছিল।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় তিন-চারটি গ্রামের মানুষ আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দোকানগুলোর সঙ্গে ভেতরে থাকা মালামালও পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দোকানগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
৭ দিন আগে
চকবাজারে খাজা মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে
ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাজধানীর চকবাজারের হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেট (খাজা মার্কেট) এলাকার আশিক টাওয়ারের আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে লালবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম ইউএনবিকে জানান, পরে সহায়তার জন্য সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে পথে তীব্র যানজটের কারণে ইউনিটগুলোর চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
তিনি বলেন, মোট ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় বিকাল ৩টা ১৪ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
৩৭ দিন আগে
চকবাজারে খাজা মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট
রাজধানীর চকবাজারের খাজা মার্কেটের আশিক টাওয়ারের আটতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লালবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
তিনি বলেন, পরে সহায়তার জন্য সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে তীব্র যানজটের কারণে ইউনিটগুলোর চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে ওই চার ইউনিটও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।
আগুন লাগার কারণ, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
৩৭ দিন আগে
রাজধানীর বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ২
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাঁটাবনে একটি বহুতল ভবনের ১২ তলার দুটি ফ্ল্যাটে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে এলিফ্যান্ট রোডের ১৪ তলা বিশিষ্ট আল-বারাকা টাওয়ারের ১২ তলায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মো. শিহাব সরকার জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দিবাগত রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনটি থেকে দুইজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন—কিশোরগঞ্জ জেলার বাবুল মিয়ার ছেলে মো. জনি (২৪) এবং বগুড়ার কাহালু উপজেলার সেলিম সরকারের ছেলে আব্দুস সালাম (২০)। জনি ব্যারিস্টার মোয়াজ্জেমের সহকারী (ক্লার্ক) এবং সালাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. নাজমুল সরোয়ার জানান, রাত ১টার দিকে আগুন লাগার পর ভবনের ওপরের তলাগুলো ধোঁয়ায় ভরে যায়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
৪৪ দিন আগে
লখনউয়ে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৪
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
সোমবার (২২ জুন) লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি ভবনে আগুন লাগে। ভবনটির নিচতলায় একটি পোষা প্রাণীর দোকান ও পশু চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ওপরের তলাগুলোতে একটি কোচিং সেন্টার ও অ্যানিমেশন স্টুডিও ছিল।
দুর্ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। একটি ভিডিওতে একজনকে ওপরের তলা থেকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি বেঁচে গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ভবনের পেছনের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। ধোঁয়া অপসারণে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করা হয় এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও শৌচাগারে জীবিতদের অনুসন্ধান করেন।
অ্যানিমেশন স্টুডিওর কর্মী মোহাম্মদ আসিন জানান, দুপুরের খাবারের বিরতি শেষে কর্মীরা কাজে ফিরছিলেন, ঠিক তখনই আগুন লাগার খবর পান।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটি ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড, কিন্তু বের হওয়ার চেষ্টা করার আগেই কক্ষ ও চলাচলের পথ ধোঁয়ায় ভরে যায়।’
ভারতে প্রায়ই প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দেশটিতে ভবন নির্মাণ আইন ও নিরাপত্তা বিধিমালা অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাতা ও বাসিন্দাদের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয়।
গত ৩ জুন দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।
৪৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের আরটিজি ক্রেনে আগুন
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) একটি আরটিজি ক্রেনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৪ নম্বর বার্থে থাকা আরটিজি-৪০১৪ ক্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বন্দর, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সমন্বিত চেষ্টায় আধ ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুর আড়াইটায় এনসিটির দক্ষিণ এলাকার ৪ নম্বর বার্থে থাকা আরটিজি-৪০১৪ ক্রেনে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে।
তিনি বলেন, পরে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যোগ দেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
৪৯ দিন আগে
চট্টগ্রামের হালিশহরে বস্তিতে আগুন, পুড়ল ৪ সেমিপাকা ঘর
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর আই-ব্লকের একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি সেমিপাকা ঘর পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা।
এই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক কক্ষবিশিষ্ট চারটি সেমিপাকা ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। আগুনের উৎপত্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি তারা। দমকলকর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, ‘আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে আগুন লাগে। আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।’
আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
৬৯ দিন আগে