রুহুল কবির রিজভী
১৭ বছরে জাতির মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার পাশাপাশি জাতির মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করা হয়েছে। মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের যে প্রতিযোগিতা ছিল, সেটা ইসলামিক হোক বা টেকনোলজিতে হোক—আমাদের সেই প্রতিযোগিতা থেকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ‘বড় জায়গা’ থেকে ফোন এলে খাতায় কিছু না লিখলেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে শুধু প্রশ্নপত্র জমা দিলেও তাকে পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা নাসের, কেরানীগঞ্জ সিএনজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইমাম উল্লাহ মাস্তানসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতিরা।
স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষদের পক্ষে বক্তব্য দেন চুনকুটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদ। পরিচালনা কমিটির সভাপতিদের পক্ষে বক্তব্য দেন টেগুরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি মাসুদ আলম স্বাধীন।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা ও বৃত্তি পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
৭ ঘণ্টা আগে
ব্রিকস সামিটে না গিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান: রিজভী
ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী। তো তাকে আপনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত দেবেন না? সে গিয়ে ওখানে সাইডলাইনে বসবে? এটা তো হতে পারে না। উনি যাননি। এই না যাওয়ার মধ্যে যে গর্বের জায়গা তৈরি করেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন গোটা জাতির সামনে, গৌরব তৈরি করেছেন জনাব তারেক রহমান।’
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’—এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার খবর আসে।
তিনি বলেন, ‘১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তারপরেই তারা বলল, তাদের সুইচ, এদের সুইচ আছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। সেই সুইচ তারা যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারে, চালু করতে পারে। তারা ঘোষণা দিল যে, এই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে।’
এ ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিষয়টি বুঝতে বিশেষ কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আশ্রয় পেয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের হস্তান্তরের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বারবার বলেছে তাকে হস্তান্তর করার জন্য। আপনারা হস্তান্তর করছেন না।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আদালতে যাদের বিচার চলছে, তাদের হস্তান্তর না করার বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সৌহার্দ্যের কথা বলা হলেও আড়ালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।
৩ দিন আগে
আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহে বারবার বিঘ্ন নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর
ভারতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বারবার বিঘ্নের পেছনে নাশকতা বা কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি আরও বলেন, ‘সেটার একটা ইউনিট নষ্ট। সেখান থেকে যে বিদ্যুৎ আসে, সেটা সরবরাহে বিঘ্নিত হচ্ছে। কত দিক থেকে সংকট!’
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এখন আমার কাছে একটা জিনিস মনে হয় যে, কোনো ঘটনা আছে কি না? একটা রহস্য আছে কি না? কোনো সাবোটাজ হচ্ছে কি না কোথাও? এটা মানুষের মনে—আমার শুধু নয়, সব মানুষের মনে এই প্রশ্নটি দেখা দিয়েছে। যে কেন এখন একটার পর একটা কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি করা হবে? জনকল্যাণমুখী যে কর্মসূচিগুলি, সে কর্মসূচিগুলোতে বাধা দেওয়ার জন্যই কি নানা ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে কি না—সেটা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে যে অর্থ পাওনা থাকে, তা সরকার কিস্তিতে পরিশোধ করে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ভারতকেও পাওনা পরিশোধ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে এটা হচ্ছে কেন? মানুষের মনে যে প্রশ্নটা—সেই প্রশ্নটির কথা আমি আপনাদের সামনে এখানে তুলে ধরলাম।’
দেশ একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘যে পরিস্থিতির মধ্যে দেশ আছে, সেটা আমি বলব যে একটি সংকট এবং সে সংকটটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এবং কোথাও কোনো কনস্পিরেসি হচ্ছে বলে আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে! অনেকে হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন, আপনি কীভাবে বলছেন? কিন্তু আমার সবকিছু—বাস্তবতা এবং বিরাজমান ঘটনাগুলো দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, কোথাও কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না? কোথাও কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না?’
তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও এ ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। এসব ঘটনা একটি সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম, যার মধ্যে জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও রয়েছে, তা ব্যাহত করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে কোনো ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে কি না।
এছাড়া নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে আবার প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো করতে পারল, সেই প্রশ্নও তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে উঁকি মারার চেষ্টা করছে। কিন্তু করছে কীভাবে? এখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে? এত বড় একটি... তারা মানুষ জড় করল এতগুলো! তো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানে না? পুলিশ প্রশাসন—তারা কী করছেন?’
রংপুরে একই হিন্দু পরিবারের চার সদস্য হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে তাদের আইনের মুখোমুখি করেছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের কোনো সুযোগ যেন এ দেশে না হয়। যদি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটে, তবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণমানুষের অধিকার চরম হুমকির মুখে পড়বে।’
৭ দিন আগে
ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব অপকর্ম সমাজ থেকে মুছে দেব: রিজভী
ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সমাজের সব ধরনের অপকর্ম মুছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘এই সমাজ থেকে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন—যত ধরনের অপকর্ম, আমরা এটা মুছে দেব। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সেই কাজ করবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের যে সরকার, সেই সরকার নারীদের সমস্ত নাগরিক মর্যাদা, নারীদের বেঁচে থাকা, নারীদের আইনি অধিকার—প্রত্যেকটি নিশ্চিত করবে।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির আগে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। নারীদের মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সমানভাবে দক্ষ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জেলা পর্যায়ে, মহানগর পর্যায়ে বা কেন্দ্রে, তাদের নেতারা কেউ অযোগ্য নয়। তারা অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন। এরা একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় তারাও সমানভাবে দক্ষ।
তিনি বলেন, এখন মানুষ নির্বিঘ্নে কথা বলতে ও চলাচল করতে পারছেন এবং নারীরাও নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ সংগঠনের নেত্রীদের অতীতের নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কি মনে নেই? এই আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ এবং আপনাদের এখানকার অনেক নেত্রীরা কতবার কারাগারে গেছেন? কতবার রিমান্ডে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে? কতবার অত্যাচারিত হয়েছেন? কত নির্মমভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?’
এসব নেত্রীকে কীভাবে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হতো, সেখান থেকে আদালতে তোলা হতো এবং পরে মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হতো, তা স্মরণ করিয়ে দেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার—এই সরকারে আপনাদেরও রক্ত-ঘাম আছে। অতএব এই সরকারের অংশ আপনারাও।’
জাতীয়তাবাদী মহিলা দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, এটি সংগঠনের জন্য গর্বের বিষয়। দলের কর্মসূচি ও সরকারের কার্যক্রমের দিকে নজর রেখে জনগণের জন্য এবং সামাজিক সুরক্ষায় সরকার কী অবদান রাখছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
৭ দিন আগে
১৭ বছর মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল একজন ও এক দলের: রিজভী
গত ১৭ বছরে দেশে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র থাকলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেখলাম, অনেক টেলিভিশন ছিল, অনেক পত্রিকা ছিল। কিন্তু কথা বলা হবে, মত প্রকাশ হবে শুধু একজন ব্যক্তির, একটি রাজনৈতিক দলের।’
তিনি আরও বলেন, ওই কাঠামোর বাইরে মতপ্রকাশের চেষ্টা যারা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। ‘ভয়াবহ ছিল সেই রূপ,’ বলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মিডিয়াগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো হোস্ট যারা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে। সামাজিক গণমাধ্যমকে তারা নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।’
তবে ওই সময় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন বলে প্রশংসা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক যারা মাঠপর্যায়ে ছিলেন, তারা কেবল ধিকি ধিকি করে জ্বলছিলেন। গণতন্ত্রের আলো কিছুটা তারা জ্বালিয়ে রেখেছেন, যারা এখানে অনেকেই বসে আছেন। তারা ওই পরিস্থিতির মধ্যেও চেষ্টা করেছেন।’
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘যে সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবদমিত ছিল, কথা বলা ছিল পাপ এবং সরকারের বিরুদ্ধে যায়—এমন কথা বলা ছিল ঘোরতর অন্যায়, সেই সময় আমরা যতটুকু পরিসর পেয়েছি, ডিআরইউ তা প্রচার ও প্রকাশ করতে কখনও দ্বিধা করেনি।’
ওই সময়ে সাংবাদিকেরাও চাপের মুখে ছিলেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, অনেক সাংবাদিককে দমনমূলক কালো আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় নিগৃহীত হতে হয়েছে। জেল-জুলুমও খাটতে হয়েছে।
তবে এখন দেশে মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এখন সবাই স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
রিজভী বলেন, ‘যারা সরকারে আছেন, সরকারের বাইরে যারা আছেন এবং সরকারের বাইরে থাকা বিরোধী দল—তারা মুক্ত কণ্ঠে সমালোচনা করবেন। সরকারের কাজগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। এইভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।’
এছাড়া গণতান্ত্রিক এই অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করেন রিজভী।
৯ দিন আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ না থামলে জ্বালানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের সংকট আছে, জ্বালানির সংকট আছে। এই সংকট তো আন্তর্জাতিক সংকট। একক কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে এই মুহূর্তে এ সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামে।’
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহনের বড় একটি পথ রয়েছে। সেখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আনার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্যাসবাহী কার্গো আসছে।
তিনি বলেন, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রের টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। ত্রুটি মেরামতের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
রিজভী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনে আরও ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস ও জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করছে। এ জন্য আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
দেশের মূল্যস্ফীতি কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। বর্ষা শেষে শরৎকালে সাধারণত খাদ্যপণ্য, শাকসবজি, চাল-ডাল ও লবণের দাম বাড়লেও সরকারের বাজার হস্তক্ষেপের কারণে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম তেমন বাড়েনি।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মানুষের সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকরা যেতে পারবেন।
‘একটি জাতির কর্মসংস্থান যদি সামগ্রিকভাবে নিশ্চিত হয়, তাহলে সেই জাতি চূড়ান্ত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়’ মন্তব্য করে এক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পরিবারের নারী অভিভাবককে দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারীরা হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। ফলে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া পরিবারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটি বিএ ও বিএ (অনার্স) পর্যন্ত অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা যদি ক্ষমতায়িত না হয়, নারীর ক্ষমতায়ন যদি না হয়, তাহলে সভ্যতা সম্পূর্ণ হয় না—এই দর্শনকে মাথায় রেখেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৪৮ বছর আগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই দর্শনকে ধারণ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে এসেছে এবং তারা সামনের দিকে অগ্রসর হবে।
রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল দেশের অন্যতম শক্তিশালী নারী সংগঠন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগঠনটি প্রতিবাদ করেছে এবং নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের কারণে রাতে নারীদের গ্রেপ্তার করা হলে কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের পাশে ছুটে গেছেন। খাদিজা, মিতু, নুসরাত, রূপাসহ অসংখ্য নারী নির্যাতনের ঘটনায় সংগঠনটি রাজপথে প্রতিবাদ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সময় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশকারীদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, যারা নারীদের ওপর হামলা চালায় এবং এ ঘটনায় উল্লাস করে, তারা ‘কাপুরুষ’ ও ‘বর্বর’।
তিনি বলেন, ‘যে মহিলা জুলাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রেখেছেন, তার ওপর আঘাত করা—এটা সবচেয়ে ঘৃণ্য, নিকৃষ্টতম কাপুরুষোচিত কাজ।’
ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বলেন, সংসদেও সব দল মিলে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছে।
১০ দিন আগে
দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে: রিজভী
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ...হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুএকটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোম পড়েছে। তারপরেও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের উপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’
মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে। তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
রিজভী জানান, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ইতোমধ্যে সেটি মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে গ্যাসের রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে।
‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ইনশাআল্লাহ গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে। বিদ্যুৎ থাকবে—তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি,’ বলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষার রাজনীতি করে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি আজকে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসেই জনগণের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষায় তারেক রহমান নিরলস পরিশ্রম করছেন, দিন-রাত কাজ করছেন।
দলের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ না থাকলে সেটি মোকাবিলা করে ভালো কিছু করার মধ্যে তো কোনো কৃতিত্ব নেই! নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে, ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে, কিন্তু সেগুলোকে মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার অঙ্গীকারগুলো—ফার্মারস কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভাতা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।
দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা, অথচ সরকার চালাতে গিয়ে দল হিসেবে বিএনপি পৃথক থাকতে পারছে না—গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভেগ (অস্পষ্ট) টার্ম।’
রিজভী বলেন, ‘জনগণ পার্টিকে ভোট দিয়েছে, পার্টি সরকার গঠন করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা সব বিএনপির নেতা। অধিকাংশই বিএনপির নেতা। তাহলে পার্টিকে যখন ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, পার্টির লোকরাই তো সরকার পরিচালনা করবে! এটার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
‘আমরা বারবার বলেছি, তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মী সরকারের অংশ। সরকারের সব কর্মসূচি, যেটা জনকল্যাণে-জনস্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো আমাদের নেতাকর্মীরা ভালো করে জনগণকে অবহিত করবে। এর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই, কোনো বৈশব্দ নেই।’
তিনি বলেন, ‘পার্টি পার্টির জায়গায় আছে, সরকার সরকারের জায়গায় আছে। কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বিএনপি এবং বিএনপির লোক। সুতরাং দলের লোকরাই তো মন্ত্রী হবে, চিফ হুইপ হবে। চিফ হুইপ ভাইস চেয়ারম্যান কাকে করবে? অন্য দেশ থেকে ধার করে আনবে, না অন্য পার্টি থেকে ধার করে আনবে? দলের লোকরাই হবে।’
রিজভী আরও বলেন, সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে এসব মোকাবিলা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার কথায়, ‘সংকট আসবে। কিন্তু সংকট মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বসে নেই। সব সংকট মোকাবিলা করেই তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
১৮ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া ৫ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
সেপ্টেম্বরের উপযুক্ত সময়ে আরও দুটি কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মধ্যে একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। আরেকটি কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণে নেতৃত্ব দেবেন যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
রিজভী জানান, এসবের বাইরে আরও বেশ কিছু কর্মসূচি থাকবে। এসব কর্মসূচির খসড়া দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হবে।
যৌথ সভায় বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
এত অপপ্রচারের পরও প্রধানমন্ত্রী-বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশের মতো রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি—৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ।
তিনি বলেছেন, জনগণের পক্ষে, জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের জন্য কাজ করলে সেই দলের সরকার কোনো দিনই ব্যর্থ হবে না। সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি একথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি দুই নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
রিজভী বলেন, তার প্রধান দায়িত্ব হবে দলকে সুশৃঙ্খল ও সুসমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই তিনি কাজ করবেন।
তিনি বলেন, জনগণের শুভেচ্ছা ও সমর্থন নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। তার ঘোষিত কর্মসূচিগুলো জনগণের স্বার্থ, মানবকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।
দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে না জড়াতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই নেতাকর্মীদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত থেকে দলকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কেউ অনৈতিক চিন্তা করার সুযোগ পাবে না। সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জনস্বার্থের বাইরে বিএনপি কোনো কাজ করবে না।
বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া জনকল্যাণে কাজ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের আর্থিক উন্নয়নে তাদের নেওয়া পদক্ষেপ বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নতুন কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন যেগুলো জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলের নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন এবং জনগণের কাছে তা তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সারা দেশে হয়তো দুয়েকজন বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে যারা নানা ধরনের অপকর্মে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না, গঠনমূলক কাজে থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন। নেতাকর্মীরা যাতে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারেন, সেই চেষ্টা করতে হবে।
ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। কারণ এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না।
তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পাশে থাকবেন এবং একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবেন।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশের মতো রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি—৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এ ছাড়াও বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে
ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ করছে সরকার: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার বা তার জোটের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই ভগ্নস্তুপের ওপর দাঁড়িয়েই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, গুম, খুন ও নজিরবিহীন দুর্নীতির এক চরম বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্যে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।
বিগত সরকারের সময় দেশের সার্বিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চারদিকে ছিল অরাজকতা-নৈরাজ্যের এক ধূসর পরিবেশ। কে কখন গুম হয়ে যাবে, কে কখন অদৃশ্য হয়ে যাবে, তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না। বিচারবহির্ভূত হত্যা লেগেই ছিল এবং প্রত্যেকটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তিনি আরও বলেন, কেউ খালের ধারে, কেউ নদীর ধারে, কেউ পুকুরের ধারে—প্রতিদিন একটার পর একটা মরদেহ পাওয়া যেত। সে মরদেহ উপজেলা চেয়ারম্যানের হতে পারে, সাবেক এমপির হতে পারে, কোনো ছাত্রনেতার হতে পারে কিংবা কোনো যুবনেতার হতে পারে। যারা গত সরকারের রাজনৈতিক মতামতের ভিন্নমত পোষণ করত, তাদের ওপরও নির্যাতন হয়েছে। একজন সাবেক এমপিকে নৌকার মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘এই নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকারের মধ্যে একটি বিপুল তরঙ্গের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ৫ আগস্ট পেলাম এবং একটি পরিবর্তন ঘটল। কিন্তু যে লিগ্যাসি বা ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছিল, সেটি রাতারাতি নির্মাণ বা পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেল, উড়ে গেল এবং সেটা উড়ে বেড়াল কোথায়? ফিলিপাইনের জুয়ার আসরের ক্যাসিনোর মধ্যে। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক—একটার পর একটা ব্যাংক লোপাট হয়ে গেল। অর্থনীতিতে এক কঠিন অবস্থা তৈরি হয়েছিল।
রিজভীর ভাষায়, লোক দেখানো কিছু মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট, মেগা দুর্নীতির রূপকথার সমস্ত গল্প আমরা সেই সময় শুনে এসেছি। সেই পরিস্থিতির পর আজকে নতুন একটি সরকার এসেছে। যে সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার করেছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় প্রথম দিন বা দ্বিতীয় দিন থেকেই সেগুলো বাস্তবায়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, সেই কর্মকাণ্ডগুলো অব্যাহত রেখেছেন। দিনরাত নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কোনো ধরনের কমতি করছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা সরকারের উন্নয়নের গতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন দুর্যোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সুষ্ঠ উন্নয়নের যে গতি, সেখানে অনেকটা বাধা হয়েছে। কিন্তু সে বাধা থাকার পরেও সেটাকে অতিক্রম করে এই সরকার জনগণের স্বস্তির জন্য এবং জনগণের কল্যাণের জন্য তার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
রিজভীর ভাষ্য, আজকে বিভিন্ন সেক্টরে যে সমস্ত সংকট আমরা দেখি, সেই সংকটগুলো উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় যে নির্দেশনা, সে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, একটা দেশে মহামারি আসতে পারে, নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে, বন্যা আসতে পারে, ভূমিকম্প হতে পারে। কিন্তু জনগণের একটি সরকার সেগুলোকে মোকাবিলা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াই হচ্ছে সেই সরকারের ব্রত। কারণ এই সরকার নির্বাচিত সরকার। আর নির্বাচিত সরকার হওয়ার কারণেই প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আজকের অনুষ্ঠানটি সেই জবাবদিহিতারই একটি অংশ।
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহত্তর জবাবদিহিতা কার কাছে? জনগণের কাছে। আর জনগণের কাছে জবাবদিহিতা কীভাবে হয়? একটি সরকারের পার্লামেন্টের মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মাধ্যমে।’
রিজভী বলেন, ছয় মাসে সরকারের অগ্রগতি, অর্জন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
৩৩ দিন আগে