রাজাবাবু
উচ্চ হাসিল ও রাখার বিড়ম্বনায় খামারমুখী কুমিল্লার ক্রেতারা
গরুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল, নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াত ও পশু রাখার বিড়ম্বনা এড়াতে খামারমুখী হচ্ছেন কুমিল্লা নগরীর কোরবানিদাতারা। খামার মালিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরাসরি খামারে গিয়ে কোরবানির পশু কেনার এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।
সরেজমিনে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কমলাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা-সুয়াগাজী সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ‘ফরিদ অ্যাগ্রো ফার্ম’। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিকভাবে এখানে গরু পালন করা হচ্ছে। খামারটিতে বর্তমানে বিক্রির উপযোগী প্রায় ৩০টি গরু রয়েছে, যার সবগুলোই দেশি শাহীওয়াল জাতের।
এই খামারটিতে ৩ লাখ থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘রাজাবাবু’। ১ হাজার কেজিরও বেশি ওজনের এই গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। মূলত পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু পালন ও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে খামারটি সহজেই ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
ফরিদ অ্যাগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক খালেদ মনসুর ইমন বলেন, নগরীর বাসা-বাড়িতে গরু রাখা ও খাবারের ব্যবস্থা করা বেশ কঠিন। এই ঝক্কি এড়াতেই ক্রেতারা খামারের দিকে ঝুঁকছেন। আমাদের বেশ কয়েকটি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে কোনো গরু ঈদের আগের দিন, আবার কোনোটি ঈদের দিন বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে জেএইচ অ্যাগ্রো পার্কের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক লিটু বলেন, সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখলায় আমাদের খামার। গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের খামার থেকে গরু বিক্রি অনেক বেড়েছে। এর প্রধান দুটি কারণ হতে পারে—প্রথমত, কোরবানির আগে পশু রাখার সমস্যা এবং দ্বিতীয়ত, খামারে সুস্থ ও রোগমুক্ত পশুর শতভাগ নিশ্চয়তা।
সরাসরি খামার থেকে পশু কেনা কুমিল্লা ক্লাবের সেক্রেটারি আহমেদ শোয়েব সোহেল নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটে গিয়ে দেখেশুনে পশু কিনতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। অনেক সময় হাটে অসুস্থ পশুও গছিয়ে দেওয়া হয়। এর বাইরে শহর এলাকায় গরু এনে রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের একটা বড় সমস্যা তো আছেই। তাই ঝামেলার অবসান ঘটাতে একটি খামার থেকে আগেভাগেই পশু কিনে রেখেছি। তারা ঈদের দিন সকালে সরাসরি আমার বাসায় গরু পৌঁছে দেবে।’
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন জানান, পশুর হাটে যাতে কোনোভাবেই অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু বিক্রি হতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। এবার জেলার চার শতাধিক হাটে মোট ৮৫টি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে।
হাটের অতিরিক্ত ভিড় ও কোলাহল এড়াতে সৌখিন ক্রেতারা সরাসরি খামার থেকে পশু ক্রয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাল নোটের কারবার প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও মহাসড়কের পাশে কোনো পশুর হাট না বসাতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হাটে নির্ধারিত মূল্যের বেশি হাসিল আদায় করা যাবে না। কেউ এই নিয়ম অমান্য করলে বা কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
কুষ্টিয়ার ২৬ মণের ‘রাজাবাবু’, দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ
কোরবানির ঈদ এলেই দেশের পশুর বাজারে বড় গরু নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। কোথাও বিশাল আকৃতির ষাঁড়, কোথাও লাখ টাকার দাম হাঁকা গরু—সবকিছু নিয়েই চলে মানুষের আগ্রহ।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার কুষ্টিয়া জেলার প্রান্তিক খামারিরা তাদের পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এবারের কোরবানির বাজারে আলোড়ন তুলেছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের কমলাপুর লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রায় ২৬ মণ ওজনের ‘রাজাবাবু’। খামারিরা যার দাম হাঁকছেন ৮ লাখ টাকা।
ধবধবে সাদা ও কালো রঙের গরুটির বয়স তিন বছর। গরুটি এখন চার দাঁতের। বিশাল আকারের রাজাবাবুকে দেখতে প্রতিদিন দূরদুরান্ত থেকে খামারে আসছে দর্শনার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজ বাড়ির গাভী গরুর বাছুর এই গরুটিকে নিজ সন্তানের মতো লালনপালন করছেন মো. মোতালেব হোসেন মন্ডল। ভালোবেসে তিনি গরুটির নাম দিয়েছিলেন ‘রাজাবাবু’। গম, ছোলা, চালের গুড়া, আলু ও ঘাস খাইয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে গরুটি।
সরেজমিনে মো. মোতালেব হোসেন মন্ডলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২৬ মণ ওজনের গরুটির যত্ন নিচ্ছেন তার সহধর্মিনী।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর যাবত আমাদের গরুর খামার আছে এবং ৩ বছর এই গরুটা আমরা সখ করে লালনপালন করছি। এই গরুকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়, আমরা কোনো প্রকার ওষুধ বা ইঞ্জেকশন ব্যবহার করিনি। গরুর খাওয়া বাবদ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আমাদের গরুটির ওজন ২৬ মণ, দাম ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
মোতালেব হোসেন মন্ডল বলেন, আমার একটি গাভীর পেট থেকে রাজাবাবুর জন্ম। জন্মের পর থেকে তাকে আমি লালনপালন করছি। গরুটি খুবই শান্ত প্রকৃতির। এজন্যই তার নাম রেখেছি রাজাবাবু। আমি তাকে আমার নিজস্ব চাষ করা ঘাস, খড়, ভুষি খাইয়েছি। বাইরের কোনো খাবার খাওয়াইনি। হঠাৎ অসুস্থতার কারণে গরুটি এবার হাটে তুলতে পারছি না। যদি কেউ কিনতে চান, তাহলে আমার এই ০১৭২০৬০৪২০২ নম্বরে যোগাযোগ করলে হবে।
তিনি জানান, ব্যাপারীরা এ পর্যন্ত রাজাবাবুর দাম ৬ লাখ টাকা বলেছেন। কিন্তু তিনি ৮ লাখ টাকায় গরুটি বেচতে চান। যদি কাঙ্ক্ষিত দামে ‘রাজাবাবু’ বিক্রি না হয়, তাহলে তিনি শনিবার পশুটিকে নিয়ে গাবতলীর হাটে যাবেন।
মোতালেব হোসেনে আরও বলেন, এবার যদি ভারত থেকে গরু না আসে, তাহলে লাভবান হবেন খামারিরা। গো-খাদ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই, যেন গরু আমদানি করা না হয়।
১১ দিন আগে
হালিমার পরিচর্যায় ৪ বছরে বাছুর থেকে ২৩ মণের ‘রাজাবাবু’
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মো. জসিম মোল্লা (৩০) জীবিকার তাগিদে থাকেন প্রবাসে। স্ত্রী হালিমা খাতুন গৃহিণী। ঘরের কাজের পাশাপাশি গৃহবধূ হালিমা একটি ষাঁড় গরু লালন-পালন করেছেন।
ছয় বছরের সংসার জীবন তাদের। প্রায় চার বছর ধরে সন্তানের মতোই গরুটিকে পরিচর্যা করে আসছেন। আদর করে গরুটির নাম রেখেছেন ‘রাজাবাবু’।
এই দম্পতি উপজেলার সদকী ইউনিয়নের উত্তর মূলগ্রামের বাসিন্দা। রাজাবাবু নামের ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটির উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং লেজ থেকে মাথার দৈর্ঘ্য প্রায় আট ফুট। যার ওজন আনুমানিক ৯৫৭ কেজি অর্থাৎ ২৩ মণের বেশি। হালিমা গরুটির দাম চাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে উত্তর মূলগ্রামের মৃত সামছদ্দিন মোল্লার ছেলে জসিম মোল্লার সঙ্গে একই এলাকার মো. চাঁদ আলীর মেয়ে হালিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পরের বছর জসিম মোল্লা জীবিকার তাগিদে চলে যান ইরাকে। আর হালিমাকে তার শ্বশুর ফ্রিজিয়ান বাছুরসহ একটি গাভী গরু কিনে দেন। সেই বাছুরটিই আজকের বিশাল রাজাবাবু।
প্রায় চার বছর ধরে ঘাঁস, খড়, ছাল-ছোলা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন খাবার দিয়ে নিজের সন্তানের মতোই গরুটিকে পালন করেছেন হালিমা। প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার খাবার খায় গরুটি। এটিকে ঘিরেই হালিমার চোখে এখন নানান স্বপ্ন।
কোরাবানির ঈদের সময় ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে তার দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টিনশেডের পাকা মেঝের ঘরের সামনে একটি আম গাছ রয়েছে। সেখানে দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে কালো রঙের রাজাবাবু। তাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন হালিমা খাতুন।
এ সময় হালিমা খাতুন বলেন যে তিনি প্রায় চার বছর ধরে নিজ সন্তানের মতোই গরুটিকে লালন-পালন করছেন। দেখতে সুন্দর ও বিশাল দেহের অধিকারী হওয়ায় তিনি আদর করে নাম রেখেছেন রাজাবাবু। তার প্রতিমাসে ঘাঁস, খড়, ছোলা, গম, ধানের গুড়াসহ গরুর খাবাবের জন্য প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
প্রায় ২৩ মণ ওজনের গরুটিকে তিনি ১০ লাখ টাকা হলে বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে গরু ও মহিষের ১০ গাড়িতে করে বরযাত্রা!
১০৮০ দিন আগে