চট্টগ্রাম বোর্ড
চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ে অপপ্রচার, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান
আগামী ২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন বিজ্ঞপ্তিকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তি বোর্ডের পক্ষ থেকে জারি করা হয়নি বলে পরিষ্কার জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি’-এর নাম ব্যবহার করে একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২৭ জুলাইয়ের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারেই অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নজরে আসার পর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি স্পষ্ট করেছে যে, এই সংবাদটি সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এই অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির কোনো সম্পর্ক বা সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসত্য তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি সকল পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, পরীক্ষার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত যেকোনও তথ্য সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া কেউ যেন বিশ্বাস বা শেয়ার না করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি জানিয়েছে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-সংক্রান্ত সকল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সময়সূচির পরিবর্তন, নতুন বিজ্ঞপ্তি ও যেকোনো নির্দেশনা শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডসমূহের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নিয়মিত প্রকাশ করা হয়।
জনস্বার্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের যেকোনো ভুয়া ও গুজব সৃষ্টিকারী তথ্য প্রচার থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৯ ঘণ্টা আগে
জিপিএ-৫ এ প্রথম স্থানে চট্টগ্রামে কলেজিয়েট স্কুল
এসএসসিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ এর দিক থেকে এ বছর সেরা দশের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল।
১ হাজার ১০৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করল। তবে প্রতিষ্ঠানটির এবারও জায়গা হয়নি শতভাগ পাসের তালিকায়।
কলেজিয়েট স্কুল থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৪৭২ জন। যাদের মধ্যে একজন অকৃতকার্য হওয়ায় শতভাগ পাসের তালিকা থেকে সরে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১০ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
কলেজিয়েট স্কুলের পরেই জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৭৩ জন এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪৬৮ জন। ৯৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ পাসের হার নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭৪ জন।
এরপরেই ৪৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৩১ জিপিএ-৫ পাওয়ায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুসলিম হাই স্কুল। তবে, এবার এই স্কুল শতভাগ পাসের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। জিপিএ-৫ এর দিক দিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে নাসিরাবাদ বালক উচ্চ বিদ্যালয়। এ স্কুল থেকে ৫১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়ছে ২৬০ জন।
আরও পড়ুন:জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে মেয়েরা
নৌ-বাহিনী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ২৫৭ জন। এই প্রতিষ্ঠান জিপি-৫ প্রাপ্তির তালিকায় রয়েছে পঞ্চম স্থানে। সেরা তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪৩ জন।
চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৩৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩২ জন জিপিএ-৫ পাওয়ায় সেরাদের তালিকায় রয়েছে সপ্তম স্থানে। বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৫ জন। সেরাদের তালিকায় তারা রয়েছে অষ্টম স্থানে।
এ ছাড়া, চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের ২২৩ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় সেরাদের তালিকায় তারা রয়েছে নবম স্থানে। দশম স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলার বাইরের কক্সবাজার গভর্নমেন্ট হাই স্কুল। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১৮৯ জন শিক্ষার্থী।
এর আগে, শুক্রবার (২৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবার ২১৬টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮১৯ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। যা গতবারের চেয়ে ৪ হাজার ৭০৭ জন বেশি।
এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ২০ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে গত বছরের তুলনায় পাসের হার এবং জিপিএ ৫ দুটোই কম। গত বছর পাসের হার ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ থাকলেও এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: পাসের হারের দিক দিয়ে এগিয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড
১০৮৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে এবার পাসের হার ৭৮.২৯ শতাংশ
গতবারের তুলনায় এবারও জিপিএ ও পাসের হার দুটোই কমেছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে। এ বছর এসএসসিতে পাসের হার ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৮৬ জন। এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৫০ জন। এবার পাসের হার গতবারের তুলনায় ১০ শতাংশ কম। গতবার পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৮ হাজার ৬৬৪ জন।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড মিলনায়তনে এই বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করার পর এই তারতম্য দেখা গেছে। ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ছাত্র পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও ছাত্রী পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৪ জন ও ছাত্রী ৬ হাজার ৪৪৬ জন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর হাতে এসএসসির ফলাফল হস্তান্তর
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে আছেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মানবিকে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪১ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পাসের হার ৮২ দশমিক ০৬ শতাংশ।
যেখানে, গতবছর পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং পাস করেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৩ জন।পাস করাদের মধ্যে গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ হাজার ৬৬৪ জন।
প্রসঙ্গত, এবারের পরীক্ষায় ১ হাজার ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের জন্য কেন্দ্র ছিল ২১৬টি। পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬৮ হাজার ২৭০ জন ও ছাত্রী ৮৬ হাজার ৪৯৯ জন। তিন বিভাগেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নিয়েছে ৩৪ হাজার ৩২ জন। মানবিক থেকে ৫৯ হাজার ৫৩৩ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৬১ হাজার ২০৪ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় বসেছিল ৩০ হাজার ৩৭১ জন, মানবিক থেকে ৫৯ হাজার ১৩৭ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষা দেয় ৬০ হাজার ২০৪ জন।
এবার নগরীসহ চট্টগ্রাম জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৮৮৫ জন। কক্সবাজার জেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ২৪ হাজার ৩৩০ জন, রাঙামাটি জেলা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮ হাজার ৭৪২ জন, খাগড়াছড়ি থেকে ৯ হাজার ৮৬৬ জন, বান্দরবান থেকে ৪ হাজার ৯৪৫ জন।
আরও পড়ুন: এসএসসির ফল প্রকাশ ২৮ জুলাই
১০৮৯ দিন আগে