বগুড়া
উচ্চ সুদের চাপ কমিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির চেষ্টা করছে সরকার: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, উচ্চ সুদের চাপ কমিয়ে উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে অর্থায়ন, বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করা এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় যুক্ত করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি খাতের উন্নয়নে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে বগুড়া অঞ্চলের অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ নিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
গভর্নর বলেন, উচ্চ সুদের কারণে বর্তমানে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ব্যাংক ঋণের সুদহার বর্তমানে প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এ অবস্থায় উচ্চ ব্যয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সফল হওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হলো উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ব্যয় কমানো এবং ব্যবসাকে টেকসই করার সুযোগ তৈরি করা।
তিনি জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে উদ্বৃত্ত তহবিল নিয়ে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলোকে তহবিল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। ৬ শতাংশ সুদের ভর্তুকি সরকার বহন করছে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িকভাবে কার্যকর ও টেকসই অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ একটি পাইলট কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান গভর্নর। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণদের মধ্যে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ দেখা গেছে, সেই শক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এ কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৮টি জেলায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর বাকি ৫৬ জেলায় ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স) সালাউদ্দিন তফাদার এবং কৃষি ঋণ বিভাগের-২-এর পরিচালক একেএম সাইদুজ্জামান।
স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার পরিচালক (প্রশাসন) সরদার আল ইমরান। সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার কার্যালয়ের পরিচালক (পরিদর্শন) সেলিম আহমেদ।
সভা শেষে অংশীজনরা বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গঠনমূলক মতামত ও সমন্বিত সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সভায় তফসিলি ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের প্রতিনিধি, বগুড়া অঞ্চলের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
১০ ঘণ্টা আগে
বগুড়ায় সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি, আটক ১
বগুড়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন এবং সনদ তৈরির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের খান্দার এলাকায় বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তি মো. সাইফুল ইসলাম‘পাসপোর্ট কর্নার’ নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং গত তিন বছর ধরে সেখানে কম্পিউটার ডট পি প্রসেসিংয়ের ব্যবসার আড়ালে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযান পরিচালনা করেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া মহানগরীর খান্দার এলাকার পাসপোর্ট কর্নারে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নানাবিধ সনদ তৈরির কাজ করা হতো।
সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানকালে দেখা যায়, জেলা সিভিল সার্জন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও সিটি প্রশাসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ও সিল স্ক্যান করে কম্পিউটারে হুবহু বসিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইল ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল ভুয়া জন্মনিবন্ধন। কোনো কোনো নথিতে দেখা যায়, স্বাক্ষর একজনের হলেও সিল দেওয়া হয়েছে অন্য আরেক কর্মকর্তার।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অপকর্মের কথা শুনলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাচ্ছিলাম না। সিভিল সার্জন এবং ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে জাল করা হয়েছে।
সাধারণ একটা ফাইলে কর্মকর্তাদের নাম-স্বাক্ষর বসিয়ে এসব সনদ প্রিন্ট করা হত। তিনি আরও জানান, জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত দোকানটির দুটি কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোকানমালিক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইফুল জালিয়াতির সত্যতা স্বীকার করে কম্পিউটার পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও দুজনের নাম প্রকাশ করেছেন।
১ দিন আগে
বগুড়ায় বিকল ট্রাক মেরামত করার সময় প্রাণ গেল ২ জনের
বগুড়ায় বিকল হয়ে পড়া একটি কাঠবোঝাই ট্রাক মেরামত করার সময় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: বগুড়া সদর উপজেলার ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকার বাসিন্দা মামুন হোসেন ও হানজালা।
জানা গেছে, গতকাল রাতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মহিপুর এলাকায় ঢাকাগামী কাঠবোঝাই একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় তিন ব্যক্তি সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ট্রাকটি মেরামতের কাজ করছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত যানবাহন তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের শেরপুর স্টেশনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান।
ফায়ার সার্ভিসের শেরপুর স্টেশনের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, বিকল ট্রাক মেরামত করার সময় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ধাক্কা দেওয়া যানটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
১৭ দিন আগে
বগুড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩
বগুড়া সদরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উড়ালসড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে অন্য একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার আনন্দ সরকারের ছেলে তাপস সরকার (৩৫) এবং তার ছেলে তীব্র সরকার (১৮)। নিহত অন্য একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নূর ইসলাম নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। তার বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায়। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (রবিবার) ভোরে ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চাকা বিকল হয়ে পড়ে। চালক ও সহকারী ট্রাকটির চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রংপুরগামী অন্য একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ভেতরে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
নিহত তাপস সরকারের শ্যালক নয়ন রায় জানান, ট্রাকটির চাকা নষ্ট হওয়ার পর তাপশ তার ছেলেকে চাকা নিয়ে আসতে বলেছিলেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করলে পেছন থেকে একটি ট্রাক এসে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে নিহত হন।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। একটি ট্রাকের কেবিন পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়। আমরা আসার পর দুইজনের মরদেহ ভেতর থেকে উদ্ধার করেছি।’
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ও মালামাল সড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪১ দিন আগে
বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত
বগুড়া সদরের এরুলিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা শ্রমিকদের চাপা দিলে ৭ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর যাত্রীবাহী বাসটি উঠে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ জন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা তাজমুল (৪৫), বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল এবং নূর আলম। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুরেরা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারের এই হাটে কাজের সন্ধানে জড়ো হন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই দৈনিক মজুরিতে তাদের সংগ্রহ করেন। আজ (শুক্রবার) ভোরে ঢাকা থেকে নওগাঁ অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের চাপা দিয়ে উল্টো ঘুরে বগুড়ামুখী হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক নিহত হন।
পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও তিনজন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির মধ্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও গাড়িটি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই স্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারা স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানান।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, বাসচাপায় ঘটনাস্থলে তিনজন এবং হাসপাতালে চারজন মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক সচল করার চেষ্টা করছে।
৪৩ দিন আগে
বগুড়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৪
বগুড়ায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপ নওগাঁয় মাছ বিক্রি করে ফিরছিল। সকাল ১০ টায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে অন্য একটি ভটভটিকে অতিক্রম করার সময় নওগাঁগামী মালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় পিকআপের চালক, সহকারী ও দুজন মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত চারজনের মরদহ উদ্ধার করেন। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের কাছে সংবাদ পাঠানো হয়েছে এবং অপর তিনজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি শফিকুল ইসলাম।
৪৯ দিন আগে
বগুড়ায় রাইস মিলমালিককে হত্যা করে ‘বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট’
বগুড়ার শিবগঞ্জে মোহাম্মদ আলী (৭০) নামে এক রাইস মিলমালিককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর তারা মিল থেকে তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৫ জুলাই) রাতে উপজেলার ফেনিগ্রাম ফুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ আলী উপজেলার ফেনিগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার মৃত কছিরউদ্দীনের ছেলে।
জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) রাতে মোহাম্মদ আলী নিজের রাইস মিলে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা মিলের পেছনের দিক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ সময় মিলে থাকা তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট করে নিয়ে যায় তারা।
আজ (সোমবার) সকালে মোহাম্মদ আলী বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার রাইস মিলে যান। সেখানে গিয়ে তারা বিছানায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
৭৫ দিন আগে
বগুড়ায় কুকুর নির্যাতনের অভিযোগে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা
বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকায় একটি কুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে মো. স্বপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযুক্ত মো. স্বপন কানছগাড়ী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আজ (সোমবার) দুপুরে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে মো. এমরান হোসেন কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে যান। সেখানে একটি সাদা-কালো রঙের কুকুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এসএম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জলেশ্বরীতলার একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
এমরান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাসহ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি সমন্বিত চিকিৎসক দল কুকুরটিকে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসার পর প্রাণীটি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনাস্থলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত স্বপন ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে কুকুরটিকে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছেন। আহত প্রাণীটির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এবং সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।
এ বিষয়ে অভিযোগটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বগুড়া সদর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৮১ দিন আগে
বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা মামলা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
বগুড়ায় ৮ বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে হত্যার ঘটনায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই অপরাধের সময় আরও ৫ আসামি নাবালক হওয়ায় তাদের ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল-১-এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— শাজাহানপুরের খাদাস এলাকার আবুল কালাম আজাদ, সাগর, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান ও রাজু ইসলাম । এদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক আছেন।
আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। এরাও খাদাস গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিফাত শাজাহানপুরের খাদাস হাটখোলা এলাকার এনামুল হকের ছেলে ছিল। আসামিরা সবাই নিহতের পরিবারের প্রতিবেশি ও পরিচিত। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে আসামিরা। পরে মরদেহের সন্ধান পেয়ে ১৮ জুলাই শাহাজানপুর থানায় মামলা করেন এনামুল হক।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, এনামুল হক প্রবাসী ছিলেন। দেশে আসার পর তার কাছে থেকে বিভিন্ন সময় প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ টাকা চাইতেন। ঘটনার দিনও এনামুলের কাছে ১ লাখ টাকা ধার হিসেবে দাবি করেছিলেন আবুল কালাম আজাদ, কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করেন এনামুল। এরপর সেদিন বিকেল থেকে এনামুলের বড় ছেলে রিফাত হোসেনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এর ৩ দিন পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের স্বামীর মাধ্যমে এনামুল জানতে পারেন পার্শ্ববর্তী পোয়ালগাছা গ্রামের একটি সেতুর নিচে একটি শিশুটির মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে রিফাতের পরিবার তার মরদেহ চিহ্নিত করে। পরে নিহত রিফাতের বাবা শাজাহানপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আজগার আলী জানান, মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তবে মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ায় মামলা থেকে তার নাম বাদ পড়েছে। এর আগে সব আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
৯০ দিন আগে
বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত
বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শাজাহানপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলআরোহী এক ব্যক্তি ও তার চার বছরের মেয়ে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী।
সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহাসড়কের শাজাহানপুরের বনানী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি মোটরসাইকেল পর্যটন মোটেলের বিপরীত পাশে বনানী এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি অজ্ঞাত গাড়ি মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলআরোহী মো. আনিসুর রহমান (৩৫) ও তার চার বছরের মেয়ে আয়েশা নিহত হন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আনিসুর রহমানের স্ত্রী মোছাম্মত পুষ্পা আক্তার। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত পুষ্পা আক্তারের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহত আনিসুর রহমান পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মো. এরশাদ আলীর ছেলে ছিলেন।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিক ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাইওয়ে পুলিশ শেরপুর দুর্ঘটনার বিষয়টি তদারকি করছে। ঘাতক গাড়ি ও চালককে শনাক্তে কাজ চলছে।
১১৭ দিন আগে