বিদ্যুৎ প্রকল্প
৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে ওএএসএল
বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অর্থদাতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ওশান এইড সার্ভিসেস লিমিটেড (ওএএসএল)। প্রতিষ্ঠানটি ইপিসি প্লাস এফ (প্রকৌশল, ক্রয়, নির্মাণ ও অর্থায়ন) মডেলের আওতায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ের প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।
চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম মনজুর আলম বলেন, সম্ভাবনাময় ও অর্থায়নযোগ্য প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে ওএএসএল। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজে এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরকে পরস্পরের পরিপূরক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখি। ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি মূলধন, প্রযুক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে ওএএসএল। এর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, গ্যাসভিত্তিক ও হাইব্রিড দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্র, গ্রিড অটোমেশন, সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন (স্কাডা) ব্যবস্থা ও স্মার্ট মিটারিং, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও এলপিজি টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
ওএএসএল যেসব অর্থায়নকারী গোষ্ঠীর শর্ত বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে, সেগুলো ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ের প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধারণত দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে হবে এবং তাতে আমদানিনির্ভর উপাদান থাকতে হবে।
মনজুর আলম বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকল্পকে চূড়ান্ত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রকল্প চূড়ান্ত করা হবে।
ওএএসএলের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প চিহ্নিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, শর্তপত্র (টার্ম শিট) প্রস্তুত এবং অর্থায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
ইপিসি প্লাস এফ মডেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সহায়তার মধ্যে থাকবে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা রাষ্ট্রীয় সংস্থা নির্ধারণ, প্রকল্পের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন। অর্থায়ন কাঠামোর প্রয়োজনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্বভৌম ঋণের ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রস্তাবিত এ মডেলে স্থানীয় অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মনজুর আলম বলেন, প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী ওএএসএল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বাংলাদেশি কোম্পানি, ইপিসি ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করতে পারে।
ওএএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদাররা প্রযুক্তি, প্রকৌশলগত দক্ষতা, সরঞ্জাম, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন দেবে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করবে ওএএসএল।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রকল্প নির্মাণ ও পরিচালনার সময় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর, স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সুফলের পরিমাণ নির্ভর করবে প্রতিটি প্রকল্পের আকার, কাঠামো ও বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর।
মনজুর আলম বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা এবং বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির তুলনামূলক কম অংশগ্রহণের কারণে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ গ্রিডের উন্নয়ন ও জ্বালানি সংরক্ষণব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও ক্রয়প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওএএসএল কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
৬ দিন আগে
আফ্রিকাজুড়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি
আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ক্রমেই সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং ব্যাটারি স্টোরেজকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। কয়লা ও বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধের পরিবর্তে সরকার ও বিনিয়োগকারীরা এখন সস্তা, দ্রুততর এবং আরও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের সন্ধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।
এই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে চলতি মে মাসের শুরুতে চীন ও জাম্বিয়ার মধ্যে সম্পাদিত ১৫০ কোটি ডলারের একটি জ্বালানি চুক্তিতে, যেখানে সৌর, বায়ু ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ৩টি পৃথক ৩০০ মেগাওয়াট প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তিতে কয়লার উপস্থিতি মহাদেশটির স্থিতিশীল বেসলোড বিদ্যুতের চাহিদাকে তুলে ধরলেও ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয়, অনির্ভরযোগ্য গ্রিড এবং ক্রমবর্ধমান শিল্প চাহিদার মুখে আফ্রিকার দেশগুলো এখন এমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছে, যেগুলো প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় দ্রুত ও কম খরচে স্থাপন করা সম্ভব।
সৌর ও বায়ুশক্তির জনপ্রিয়তা
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রন ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আফ্রিকায় ঘোষিত ৩২২টি জ্বালানি প্রকল্পের মধ্যে ১৭৩টিই ছিল সৌরশক্তি প্রকল্প। এরপরে রয়েছে জলবিদ্যুৎ ৪৬টি, বায়ুশক্তি ৩৪টি, গ্যাস ২২টি এবং হাইব্রিড জ্বালানি প্রকল্প ১৪টি।
কেনিয়ার আর্থিক খাতের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক ট্রাস্ট ‘এফএসডি কেনিয়া’র জলবায়ু অর্থায়ন প্রধান মুগওয়ে মাঙ্গা বলেন, ‘আফ্রিকা বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের প্রান্তে নয়, বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে। এই মহাদেশে বিশ্বের সেরা নবায়নযোগ্য সম্পদ রয়েছে এবং অর্থনীতি এখন স্পষ্টভাবে পরিষ্কার জ্বালানির পক্ষে ঝুঁকে গেছে।’
আফ্রিকা মিনিগ্রিড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এএমডিএ) প্রধান নির্বাহী ওলামিদে নিয়ি-আফুয়ে বলেন, মহাদেশটি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের ধরনে একটি ব্যাপক কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং নমনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণযোগ্য ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মিনি-গ্রিড ব্যবস্থায় সৌরশক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (আইআরইএনএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আফ্রিকা রেকর্ড ১১ দশমিক ৩ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোজন করেছে যা আগের বছরের তিনগুণ। এই প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর ও ইথিওপিয়া থেকে।
খরচ কম
প্রযুক্তির ক্রমহ্রাসমান মূল্যও এতে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০১০ সাল থেকে বৈশ্বিকভাবে ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুতের খরচ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে, আর স্থলভিত্তিক বায়ুশক্তির খরচ কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ফলে আফ্রিকার অনেক বাজারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই এখন নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে সস্তা উৎস।
আফ্রিকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ক্রসবাউন্ডারি এনার্জির প্রধান নির্বাহী ম্যাট টিলার্ড বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন নিঃসন্দেহে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে প্রয়োজনীয় মেগাওয়াটের সঙ্গে সংযুক্ত করার সবচেয়ে দ্রুত, সস্তা ও বিনিয়োগযোগ্য পথ।’
প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ আসছে বিতরণমূলক সৌর ও ব্যাটারি সিস্টেম থেকে, যেগুলো সরাসরি খনি, কারখানা, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বাড়িতে স্থাপন করা হচ্ছে।
টিলার্ড বলেন, বেশিরভাগ সরকারি পরিসংখ্যান এখনও পুরনো পদ্ধতিতে জ্বালানি রূপান্তর পরিমাপ করে; জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত মেগাওয়াট গণনা করে। কিন্তু সৌর ও ব্যাটারির জন্য কেন্দ্রীয় ইউটিলিটির প্রয়োজন নেই।
আফ্রিকা সোলার ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য দেখাচ্ছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আফ্রিকায় ২৩ দশমিক ৪ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু রয়েছে বলে নথিভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের রপ্তানি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৭ সাল থেকে আফ্রিকান দেশগুলোতে ৫৮ দশমিক ১ গিগাওয়াটের সৌরপ্যানেল রপ্তানি হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় সরকারি হিসাবে যা ধরা পড়ছে, বাস্তবে সৌরশক্তির প্রসার তার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে হচ্ছে।
দ্রুত মুনাফা
বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই নবায়নযোগ্য প্রকল্পে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ এগুলো দ্রুত মুনাফা দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ওঠানামার ঝুঁকিও হ্রাস করে।
নিয়ি-আফুয়ে বলেন, ‘সৌর ও বায়ু প্রকল্পগুলো এই মুহূর্তে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ এগুলো শক্তিশালী বাণিজ্যিক ভিত্তি এবং তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে সমন্বয় করে।’
কঙ্গোর কামোয়া-কাকুলা তামার খনি কমপ্লেক্সে ক্রসবাউন্ডারি এনার্জি ২৩৩ মেগাওয়াটের একটি সৌর ও ব্যাটারি প্রকল্প নির্মাণ করছে, যা আফ্রিকার অন্যতম বৃহত্তম তামার খনিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
টিলার্ড জানান, চুক্তি সই থেকে মাত্র এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির ৮০ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর তুলনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ১২ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায়ই এক দশক বা তারও বেশি সময় লেগে যায়।
টিলার্ড বলেন, ‘অথচ, সৌর ও ব্যাটারি প্রকল্পে বিনিয়োগকারীরা মূলধন খাটানোর মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে উপার্জন শুরু করেন।’
নীতি পরিবর্তন সহায়ক হলেও রয়েছে চ্যালেঞ্জ
নীতিগত পরিবর্তনও মহাদেশটির নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করছে। ইথিওপিয়া প্রথম দেশ হিসেবে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনচালিত যানবাহন আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহনের দ্রুত গ্রহণকে উৎসাহিত করছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যক্তিগত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমা শিথিল করায় শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জোয়ার এসেছে।
তবে বড় বাধাগুলো এখনও রয়ে গেছে। আফ্রিকার অনেক বিদ্যুৎ ইউটিলিটি আর্থিক সংকটে রয়েছে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করতে ঋণদাতারা সতর্ক থাকছেন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশ-ঝুঁকির ধারণার কারণে আফ্রিকায় নবায়নযোগ্য প্রকল্পে অর্থায়নের খরচ উন্নত অর্থনীতির তুলনায় তিনগুণ পর্যন্ত বেশি।
তবে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনসহ (আইএফসি) উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলো রেয়াতমূলক ঋণ, গ্যারান্টি ও ঝুঁকি-ভাগাভাগির কাঠামোর মাধ্যমে এই ব্যবধান পূরণে সহায়তা করছে।
মাঙ্গা বলেন, ‘যা বাকি আছে তা আর প্রযুক্তি বা খরচের প্রশ্ন নয়। এটি এখন অর্থায়ন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং মহাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি করতে পারে—এমন বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুতের প্রশ্ন।’
১৪২ দিন আগে
বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্জ্য সম্পদে পরিণত হবে: ডিএনসিসি মেয়র
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে, বর্জ্য সম্পদে রুপান্তরিত হবে এবং পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে উঠবে।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর ২০২৩) দুপুরে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে চলমান ডিএনসিসি'র ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্লান্ট’- পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: অনুমতি ছাড়া ডিএনসিসি এলাকায় কেউ গাছ কাটতে পারবে না: ডিএনসিসি মেয়র
এসময় ডিএনসিসি মেয়র বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পটির কাজ পাওয়া চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনকে আমারা ৩০ একর জমি হস্তান্তর করেছি। জানুয়ারি থেকে পুরোদমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, কোম্পানি জানিয়েছে জমি বুঝে পাওয়ার পর প্রকল্প সম্পন্ন করতে তাদের দুই বছর সময় লাগবে। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পটি থেকে বিদুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রতি ঘন্টায় উৎপাদন হবে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
তিনি আরও বলেন, এজন্য চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনকে প্রতিদিন তিন হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সরবরাহ করবে ডিএনসিসি। উৎপাদিত বিদুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে, কিনে নেবে বিদুৎ বিভাগ।
মেয়র বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলা হবে হবে। এর ফলে বায়ু দূষণ রোধ হবে,বর্জ্য সম্পদে পরিণত হবে। স্মার্ট বাংলাদেশে স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ছিল।
তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং এবং সময় সাপেক্ষ একটি কাজ ছিল। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
মেয়র আরও বলেন, ২০০৮, ২০১১ ও ২০১৩ সালে বারবার চেষ্টা করা হয়েছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের। কিন্তু আমরা আলোর মুখ দেখতে পারি নাই। চীন সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের সমন্বয়ে উত্তর সিটি করপোরেশন এই প্রকল্পে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
মেয়র বলেন, জায়গাটি ৩০ ফিট নিচু ছিল। এখানের ৩০ একর জমিকে ল্যান্ডফিল করতে ৩০ ফিট নিচু জায়গাকে ভরাট করতে হয়েছে। অনেক কাজ করতে হয়েছে তাই কিছুটা সময় লেগেছে।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ইতোমধ্যে সিএমইসি'র প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেছে। তাদের কিছু যন্ত্রপাতি প্লান্টে চলে এসেছে, আরও যন্ত্রপাতি দ্রুতই পৌঁছবে। চীনের রাষ্ট্রদূত ও সিএমইসি'র কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছে জানুয়ারির শুরু থেকে পুরোদমে প্লান্টের কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, মোট চারটি টারবাইন স্থাপনের মাধ্যমে প্রতি ঘন্টায় ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত একটি টারবাইন চালু করার বিষয়ে।
আরও পড়ুন: রাস্তা বাড়াতে জায়গা ছাড়ার আহ্বান ডিএনসিসি মেয়রের
খাল পাড়ের অবৈধ স্থাপনা সরাতে হুঁশিয়ারি দিল ডিএনসিসি মেয়র
১০৫৩ দিন আগে