দ্বৈত নাগরিক
এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপিদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ ইসির
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক এবং ঋণখেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের দ্বাদশ সভায় এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়। অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি পারবেন না, এই বিষয়ে কমিশন মনে করে, না; এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন।
তিনি বলেন, ঋণখেলাপির যে বিষয়টি আছে, এখানে দুটি ক্ষেত্র রয়েছে। একটি হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং অন্যটি জামিনদার। যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা, তিনি তো আছেনই; কিন্তু যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করার একটি প্রস্তাবে আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি। পাশাপাশি বিল খেলাপি, যেমন ধরুন আপনার বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসার বিল; এ ধরনের সেবা প্রদানকারী সংস্থার কোনো বিল খেলাপি থাকলে, সেটা ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ধরুন, আমি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার, কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠানই বিল খেলাপি করেছে। সেক্ষেত্রে এটি অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না। আবার দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদেরও আমরা মনে করি, কমিশন মনে করে, তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। আপনারা জানেন, সংবিধানে এ বিষয়ে একটি সীমাবদ্ধতা দেওয়া আছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
ফরিদপুর-৩ আসনে আ. লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক- এমন অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রার্থীতা বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) এ কে আজাদের পক্ষে তার আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া আপিল আবেদন জমা দেন।
৫ ডিসেম্বর মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ লিখিত অভিযোগ করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম হকের মনোনয়নপত্র বাতিল না করে বৈধ ঘোষণা করেন।
রিটরিং কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত না থাকায় তা আমলে আনা হয়নি।’
আরও পড়ুন: মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ৩৩৮ প্রার্থীর আপিল: ইসি
রিটার্নিং কর্মকর্তার এই আদেশের বিরুদ্ধে শুক্রবার আপিল দায়ের করা হয়েছে।
আব্দুল কাদের আজাদের আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শামীম হকের নেদারল্যান্ডসের পূর্ববর্তী পাসপোর্ট নম্বর ‘BESHC8751’, জন্ম তারিখ ২১ অক্টোবর ১৯৬০ লেখা আছে। শামীম হক সম্প্রতি তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করার জন্য ফরিদপুর পাসপোর্ট কার্যালয়ে এক দরখাস্ত দাখিল করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দরখাস্তের ২৫নং কলামে দ্বৈত নাগরিকত্বের ঘরে তিনি টিক মার্ক দিয়েছেন। ২৬নং কলামে অন্য দেশের নাগরিক থাকলে সেই দেশের নামের জায়গায় নেদারল্যান্ডস উল্লেখ আছে। ২৭নং কলামে তার বর্তমান নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট নম্বর ‘BY60F0J74’ উল্লেখ করা আছে।’
আরও পড়ুন: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: নওগাঁয় ২ প্রার্থীকে শোকজ
আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া বলেন, সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১) (৬) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে শামীম হক একজন বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে না, তিনি অযোগ্য প্রার্থী।
এছাড়াও, তিনি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(২)(ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রদত্ত এফিডেভিটে এই বিষয়টি গোপন করায় তার ঘোষণাটি মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে কারণেও তার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৬৬(২) (গ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন।’ সংবিধানের উক্ত অনুচ্ছেদের অনুরূপ বিধানই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১)(৬) অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: ফেনীতে নৌকার প্রার্থীকে শোকজ
৯৫৬ দিন আগে