কারিগরি শিক্ষা
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনায় সরকার
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শিল্প অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং মান্দারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে চীনের গুয়াংডংয়ে ‘কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।
কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের মূল অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখতে মান্দারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষক সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বসহ দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা বিনিময় জোরদার করা উভয় দেশের সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তার মতে, এ ধরনের সহযোগিতা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরও টেকসই ও পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বকে টেকসই করতে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সীমান্তপারের ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি ও আধুনিক লজিস্টিকসে পারদর্শী মানবসম্পদ তৈরি করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
চীনের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এমন যুগোপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা হবে, যারা সরাসরি বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে জানান তিনি।
এ লক্ষ্যে উভয় দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, নিয়মিত ফ্যাকাল্টি সহযোগিতা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চীনের আধুনিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে বৃত্তি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়ানোও সরকারের অন্যতম পরিকল্পনা বলে জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, চীনের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আধুনিক শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার আলোকে কারিগরি পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাস, আন্তর্জাতিক মানের কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন এবং যৌথ সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
পাশাপাশি চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারদের সঙ্গে বাংলাদেশের পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চীনা শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে দুই দেশের মধ্যে আধুনিক কর্মসংস্থান বিনিময় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরপরই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চীনা শিল্পাঞ্চলগুলোতে ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
১৯ দিন আগে
কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮৪৮৬ শিক্ষকের পদ শূন্য: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী
দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৫ হাজার ৮৪৪টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে আট হাজার ৪৮৬টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক।
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বৈঠকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াতের সদস্য মো. নুরুল ইসলাম এবং কুমিল্লা–৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য মো. আবদুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) পৃথক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ৮৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে ৮ হাজার ৭৪ জন কর্মরত আছেন, আর ৮ হাজার ৪৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এরই মধ্যে ২ হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইনস্ট্রাক্টর (নবম গ্রেড) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (দশম গ্রেড) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরইমধ্যে ২ হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে পিএসসিতে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে। ৪৫তম বিসিএসে পিএসসি ৯৭ জন ক্যাডার এবং ৩৪৯ জন নন-ক্যাডার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পদোন্নতির মাধ্যমেও শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে। তবে পদোন্নতিযোগ্য ৪ হাজার ১৩১টি শিক্ষক ও কর্মচারীর পদে কর্মরত জনবল না থাকায় সেসব পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ে নতুন পাঠ্যপুস্তক চালু করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা পাবে।
যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, একই শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তকও চালু করা হবে। বইটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, আত্মপ্রকাশের সক্ষমতা এবং বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিখনপ্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে যেসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে তাদের ভাষাগত প্রতিবদ্ধকতা নিরসনের লক্ষ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ৫টি ভাষার (চাকমা, গারো, মারমা, ত্রিপুরা ও সাদারি) শিক্ষকদের মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু হয়েছে। যার ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।
বাগেরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগসরকারের সময়ে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার কারণে যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার বকেয়া সৃষ্টি হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বিধি-বিধান অনুসরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বকেয়া এমপিও পরিশোধের ব্যবস্থা নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে বিধি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
কক্সবাজার–৩ আসনের সরকারদলীয় সদস্য লুৎফুর রহমান এবং ময়মনসিংহ–৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে এহছানুল হক জানান, বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭৪ টি। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬টি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৬টি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ২ টি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ৩০ টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮টি এবং প্রকৌশল, কৃষি, মেডিকেল ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ৮টি রয়েছে।
৭৯ দিন আগে
১২ বছরে কারিগরি শিক্ষা ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু বার বার বলেছেন ও এশিক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাই করছেন। ২০০৯ সালে কারিগরি শিক্ষার হার ছিল এক শতাংশেরও কম।
বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী মেধা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের স্মার্ট ক্লাস রুম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃতে আমরা ১২ বছরে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৭ শতাংশ উন্নীত করেছি। এটি সম্ভব হয়েছে সঠিক নেতৃত্বের কারণে।
আরও পড়ুন: আগামী বছর জাতীয় মেধাক্রম তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: দীপু মনি
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আজকে যারা টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনালে শিক্ষায় পড়ছে, অনেক সময় সমাজের আশপাশে দেখবেন অনেকে বলে ‘তুমি ভোকেশনালে পড়ছ? ’ তার মানে ভোকেশনালে যারা পড়ে তাদের মেধা কম বলে মনে করে। আবার মনে করে তাদের আর্থিক অবস্থা ভাল না।কথাটা একেবারে সঠিক নয়। সারা পৃথিবীতে যে দেশ যত বেশি উন্নত হয়েছে, সে দেশ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় পারদর্শী হয়েছেন। আমাদের পিছিয়ে থাকার কোন উপায় নেই। তাই আমাদের কারিগরি বিদ্যায় আরও জোর দিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। সারাবিশ্ব এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিশ্ব। এখন শিখতে হবে। তাই আমরা এই শিক্ষা কারিকুলাম চালু করেছি। আমাদের আরও অনেক সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে দেশের সব স্কুলগুলো ডিজিটাল করতে হবে।
দীপু মনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের উন্নত প্রযুক্তির শিক্ষা দিতে চাই। যেন তারা উন্নত বিশ্বে সমান তালে চলতে পারে। বর্তমান সরকার প্রধান শিক্ষায় বিনিয়োগ করছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, চাঁদপুর পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান ও চাঁদপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান।
হুয়াওয়েই টেকনোলজিস্ট বাংলাদেশের ম্যানেজার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নাজিয়া শামান্তা ইসলাম এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন হুয়াওয়েই টেকনোলজিস্ট বাংলাদেশের সিইও পেন জুনপেং।
পরে মন্ত্রী অতিথিদেরকে নিয়ে ফিতা কেটে ক্লাস রুমের উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: করোনাকালে শিশুদের লেখাপড়ার ওপর ডিজিটাল-বৈষম্যের ভয়াবহ প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে জরিপে: ইউনিসেফ
১২৭৮ দিন আগে
২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার
কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর বর্তমান সংখ্যা ১৭ শতাংশ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
একটি সরকারি নথি অনুসারে, সেই লক্ষ্যে সরকার স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) ভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার শ্রেণিকক্ষে উপযুক্ত প্রযুক্তি-ভিত্তিক বিষয় পড়ানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবি-তে বাজেট বরাদ্দ করছে।
এছাড়া দক্ষ আইটি জনবল তৈরির লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের চাহিদা মেটাতে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬০ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এক লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
ইতোমধ্যে ৩৬ হাজারের বেশি লোককে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) আয়োজিত প্রকল্পটি প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার লোককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে এবং তাদের বেশিরভাগই দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন আইসিটি কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে।
উদ্দীপিত বাস্তবতা এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটিসহ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নথিতে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে এবং এ ধরনের ৫৭টি বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে।
৬৪টি জেলায় এবং ১৬টি ডিজিটাল ভিলেজে শেখ কামাল আইটি প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে যাতে তরুণদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া যায়।
পাশাপাশি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ব্লক-চেইন, রোবোটিক্স, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি তার কার্যালয়ে (পিএমও) অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ লোক চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। এই বিশাল জনশক্তিকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সঠিকভাবে গড়ে তোলা গেলে তা দেশের জন্য বিরাট সুফল বয়ে আনবে।
তিনি আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্সূচিতে মনোযোগ দেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সরকারি নথি অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ১২ বছর আগে ছিল ১ দশমিক শুন্য শতাংশের কম, বর্তমানে এখন ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষার তালিকাভুক্তির হার হল শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিসহ কারিগরি-বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমে নথিভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের শতকরা হার।
২০২২ শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ২৬ হাজার ৮৪৬ জন শিক্ষার্থী প্রাক-ভোকেশনাল কোর্সে নথিভুক্ত হয়েছে এবং ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩৪টি কারিগরি স্কুল ও কলেজের ৯ম শ্রেণির ২০ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
আরও পড়ুন: করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা নিশ্চিতের সুপারিশ কারিগরি কমিটির
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কারিগরি কমিটির ৫ সুপারিশ
প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
১৪৬৯ দিন আগে
চাকরি স্থায়ী হলো ৭৮৬ শিক্ষক-কর্মকর্তার
কারিগরি শিক্ষা ধারায় শিক্ষার্থীর হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজনীয় শিক্ষকের চাহিদা পূরণে ৭৮৬ (সাতশত ছিয়াশি) জন শিক্ষক-কর্মকর্তার চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে।
দেশের টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলোতে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকরা বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ নিয়ে সন্তোষজনক কর্মদক্ষতা অর্জন করায় তাদেরকে চাকরিতে স্থায়ী করে রবিবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে এ খাতে শিক্ষক সংকট পূরণ করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি ৪০২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট পূরণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭৮৬ জনের চাকরি স্থায়ী করা হয়।
স্থায়ী হওয়া শিক্ষকরা ‘এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল কোর্স প্রবর্তনের লক্ষ্যে ১৩টি নতুন ভোকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট স্থাপন এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে কর্মরত ছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাদের চাকরি স্থায়ী করা হলো।
আরও পড়ুন: গ্রামীণফোন ও এটুআই’র উদ্যোগে শিক্ষকদের স্বীকৃতি প্রদান
ছাত্রীর শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে শিক্ষকের পাঠদান: মিশ্র প্রতিক্রিয়া
গাজীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিহত
১৮০০ দিন আগে
সরকার আর শিক্ষিত বেকার তৈরি করতে চায় না: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা অনেকেই চাহিদা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না এবং কোনো কারিগরি শিক্ষা না থাকায় তারা বেকার থেকে যাচ্ছেন। সরকার আর এ ধরণের শিক্ষিত বেকার তৈরি করতে চায় না।
২২৫৩ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের নোট ও গাইড বই কিনতে বাধ্য না করার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষার্থীদের নোট ও গাইড বই কিনতে বাধ্য না করতে শিক্ষকদের প্রতি রবিবার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
২৩৯৬ দিন আগে
দক্ষ জনশক্তির জন্য কারিগরি শিক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর ‘সর্বোচ্চ’ গুরুত্বারোপ
আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২৪১৭ দিন আগে