স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ইউনিসেফের সহায়তায় দেশে আসছে সাড়ে ৯ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শক্তিশালী করতে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে ১০ ধরনের সাড়ে ৯ কোটি (৯৫ মিলিয়ন) ডোজ ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে।
বুধবার (৫ মে) দুপুর পৌনে বারোটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্যাকসিন গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সফল এই কর্মসূচির স্বীকৃতি হিসেবে গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফের যৌথ গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, কারণ এটি সরাসরি শিশুদের জীবন রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি জানান, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেটি বাতিল করা হয়েছিল। তবে আমরা সরকার গঠনের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, সরকার দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ ইউনিসেফকে পরিশোধ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের মোট ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ প্রদানের পর ইউনিসেফ ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। এছাড়া ৬ মে ইউনিসেফ আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি ভ্যাকসিন (৯০ হাজার ভায়াল) সরবরাহ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ মে এর মধ্যে আরও প্রায় ১.৮ কোটি ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি এবং পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে বলে জানান মন্ত্রী। ইউনিসেফ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইউনিসেফের বৈশ্বিক সক্ষমতার কারণে ওপেন টেন্ডার বাতিলের পর অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। এ প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নতুন সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইপিআই কার্যক্রমের জন্য স্বল্প সময়ে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা এই সরকারের একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ।
যেহেতু ভ্যাকসিন ক্রয় একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্বমানের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদনকারী থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ভ্যাকসিনের গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফ নিয়মিত কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে, যার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোপ্ল্যানিং, প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় ৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৬০৫টি শিশু টিকা পেয়েছে। আমরা ৯৩ শতাংশ ভ্যাকসিন প্রদান সম্পন্ন করেছি। বাংলাদেশ এখন ১০০ শতাংশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ সময় সকল অভিভাবক, কমিউনিটির নেতা, শিক্ষক এবং ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা শিশুদের এক ডোজ এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করুন, যাতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মারাত্মক ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারি।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্যাভি, ইউনিসেফ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ (এডিবি) সকল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রতিটি শিশু হামসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
১ ঘণ্টা আগে
ইতোমধ্যে ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হামের টিকা নেওয়ার উপযোগী ৮১ শতাংশের বেশি শিশুর টিকাদান ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই শতভাগ টিকাদান সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হামের ক্ষেত্রে আমরা ৮১ শতাংশ টিকা কভার করেছি। বাকিটাও খুব শিগগিরই কভার করে ফেলব। দ্রুত আমরা শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে হাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মৃত্যুহারও কমেছে। পর্যাপ্ত টিকা আছে এবং সারা দেশে টিকার সরবরাহও ঠিক আছে।’
এদিকে, দেশে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬১টি শিশু।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও একটি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৪৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫০টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ২৯৪টি শিশু মারা গেছে।
২ দিন আগে
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট সক্ষম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার থেকে প্রাপ্ত যক্ষ্মা পরীক্ষার কীট এবং শিশুদের জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ৬ লাখ ‘জিন এক্সপার্ট কার্ট্রিজ’ এবং শিশুদের জন্য ১১ হাজার কোর্সের যক্ষ্মার (টিবি) ওষুধ হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের কার্যক্রমের কথা উল্লখ করে বলেন, নির্ধারিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি। এর ফলে কিছু কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ভ্যাকসিনসহ মানবসম্পদে কোনো কিছুরই সংকট নেই। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শতভাগ শিশু টিকার আওতায় আসবে। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে। কাজেই শিগগিরই হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন জোরদারে কাজ করছে।
তিনি ভবিষ্যতে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে কিছু পদক্ষেপের কথা জানান। সেগুলো হচ্ছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ডিজিটাল এক্স-রে প্রবর্তন, নতুন প্রজন্মের জিন সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার ও শিশুবান্ধব ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আশ্বাস দেন, বাংলাদেশকে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে হামের জটিলতা বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে জটিলতা বাড়ছে। তাই শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং মায়ের দুধ নিশ্চিত করা জরুরি।
মায়ের দুধের পুষ্টিগুণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, শুধু ভিটামিন বা সম্পূরক খাদ্য দিয়ে একটি সুস্থ জাতি গঠন সম্ভব নয়। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের ভূমিকা অনন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি ভিটামিন বা একটি ফাইল ওষুধ খেয়ে জীবন চলে না। মায়ের দুধ এমন একটি প্রাকৃতিক পুষ্টি, যা শিশুর শরীরের গঠন তৈরি করে এবং এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
তিনি জানান, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে অনেক মা বুকের দুধ খাওয়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক। গ্রামীণ নারীরা এখনো দুই বছর পর্যন্ত শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান, কিন্তু শহুরে ও শিক্ষিত মায়েদের মধ্যে এই প্রবণতা কমছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ এবং এরপর দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর সম্পূরক খাবার দেওয়া উচিত। পুষ্টিকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সবকিছু ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। পুষ্টি মানেই শুধু শরীর নয়, এটি মেধা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিরও শক্তি।
দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে জটিলতা বাড়ছে। তাই পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং মায়ের দুধ নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, শুধু সেমিনার বা কাগজে-কলমে নয়, পুষ্টি বার্তাগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, পুষ্টিকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মন্ত্রী অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিতে হবে। ফাস্টফুড নির্ভরতা কমিয়ে শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ সুষম খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
১৩ দিন আগে
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ৫০০ হাসপাতালে মোতায়েন হচ্ছে ১০ জন করে আনসার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য বড় হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিকাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মানিত ডাক্তারদের ওপর মাঝেমধ্যেই আঘাত আসে। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। উনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫০০ হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগ করতে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়োগ হবে। আগামী কিছুদিনের ভেতরেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হামের টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আগামী ছয় মাসের টিকা মজুত আছে। পরবর্তী ৬ মাস এটি দিতে কোনো সমস্যা হবে না। যক্ষ্মাসহ কোনো ধরনের টিকার সংকট নেই। লোকবল সংকট নিরসনে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ উপলক্ষে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আজ (বুধবার) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে চীনের সহায়তা কামনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতিফলন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীন সরকার ও হাসপাতাল প্রশাসনকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই সমঝোতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা প্রসার করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। আমরা জানি, চীনের সেবা ও শিক্ষা অনেক উন্নত। আজকে যে দুই প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠিত হলো, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই অনুষ্ঠানটি শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বই নয়, বরং সীমান্ত অতিক্রম করে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সার্জিকাল উৎকর্ষতা উন্নয়নের একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোগ আমাদের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতায় একটি নতুন ও মূল্যবান মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন এবং বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশদুটি একসঙ্গে কাজ করছে। চীন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন, কার্ডিওভাস্কুলার ক্লিনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়তেও ভূমিকা রেখেছে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় একটি অত্যাধুনিক মানের মেডিকেল প্রতিষ্ঠান। আমরা চীন-বাংলাদেশ মেডিকেল সহযোগিতার নতুন অধ্যায় রচনা করব।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়াকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী অর্জন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রোগীরা উপকৃত হবেন। দেশে জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা হলো। শুরুতে ইউরোলজিক্যাল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হলেও পর্যায়ক্রমে সকল ধরনের জটিল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে চীনের সহায়তায় রোবটিক ফিজিওথেরাপি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। আগামীতে রোবটিক সার্জারির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হবে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে জটিল সার্জারি, ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, চিকিৎসাসেবা ও মেডিকেল শিক্ষায় পারস্পরিক জ্ঞানের জ্ঞানের আদান-প্রদান হবে যা বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউরোলজি বিষয়ের অধ্যাপক লি জিয়ংমিং, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির পরিচালক অধ্যাপক লি ওয়েনলিয়াং, ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক হি ইয়ংওয়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
দেশব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু
হাম-রুবেলার সংক্রমণ রোধে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কের লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা প্রদান করা।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ১৮টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলার ১২ লাখেরও বেশি শিশুকে (৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী) সুরক্ষা দিতে সরকার ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং গ্যাভির সহায়তায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সকল বাবা-মা এবং অভিভাবকদের তাদের শিশুদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সহযোগিতা করতে সংস্থাটি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
১৬ দিন আগে
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের বাকি অংশে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ (রবিবার) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে যদি আমরা সফলভাবে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই আমরা এই আত্মঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পাব। তিনি প্রতিটি অলিগলিতে এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
তবে হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রিত হলেও সামনে ডেঙ্গুর বড় চ্যালেঞ্জ আসছে বলে সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনেই ডেঙ্গুর একটি ধাক্কা আসতে পারে। আমরা দুই-তিন দিন আগেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।
মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক মিশ্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ওষুধের মান ঠিক থাকলে তবেই পূর্ণবয়স্ক মশা মারা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের বিস্তার রোধে আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিকে একটি আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যকর্মীর পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল অ্যাব্রিউক্স। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ করে এ বিষয়টা (হামের প্রাদুর্ভাব) এসেছে এমন নয়। বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণে আজকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এমআর টিকা পাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার- চালানো হচ্ছে। অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২৪ দিন আগে
জেলা পর্যায়ে পুনরায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালুর প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
করোনা মহামারিকালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত ও পরবর্তীতে মেয়াদ শেষ হওয়া ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটগুলো আগামী সপ্তাহ থেকে পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) বার্ষিক সম্মেলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে জেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিট চালু করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে তা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিকতায় একজন ভালো ডাক্তার হিসেবে তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মেডিকেল শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে বাঁচাতে হলে ভালো ভালো ডাক্তার প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আরও বেশি উৎসাহ দিতে হবে। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করতে হবে, যেন তারা চাপের মুখে পড়ে হতাশায় না ভোগেন।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি খাতগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের প্রত্যাশা আপনারা আপনাদের দায়িত্ব মানবিকতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবেন। রোগীরা সৃষ্টিকর্তার পরে ডাক্তারকে সবচেয়ে বেশি আস্থার স্থানে রাখেন। তাই মেডিকেলে নৈতিকতাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য শিক্ষার আধুনিকায়নের উপায় খুঁজছি। শিক্ষার্থীরা যেন ভালো শিক্ষা পায় কিন্তু অতিরিক্ত চাপ অনুভব না করে সেটাও নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অধিক হারে আত্মহত্যা প্রবণতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মেডিকেল শিক্ষায় ঋণের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের নানা দেশে এই ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক, কিন্তু আমাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। একইসঙ্গে রিকোভারির বিষয়টিও ভাবতে হবে। আমি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২০ এপ্রিল সারা দেশে টিকা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যথেষ্ট ত্যাগ ও ধৈর্য নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালেও তারা রোগীদের জন্য অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়। বিপিএমসিএর সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহম্মদ প্রমুখ।
২৪ দিন আগে
হাম মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, ২.১৯ কোটি ডোজ টিকা নিশ্চিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তায় প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রোমিন ফারহানার করা হাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা জরুরি কেনাকাটার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্যাভির সহায়তায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪১৯ কোটি টাকার অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিলম্ব এড়াতে সরকার প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুকে সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে যাচাই করে নিশ্চিত করেছে।
টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রাথমিক তালিকায় ঢাকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ না থাকলেও সরকার আগাম পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানীজুড়ে এই কর্মসূচি চালাচ্ছে।
পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান প্রশাসন প্রায় শূন্য টিকার মজুদ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল উল্লেখ করে সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নেওয়া জরুরি আর্থিক পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্টোরেজ বা মজুদ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘কোল্ড চেইন’ মান বজায় রাখতে এখন মাল্টি-ডোজ ভায়াল (একই শিশিতে একাধিক ডোজ) ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সব বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে হামে আরও বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বেশ কিছু রুটিন টিকার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জবাবে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। টিকার মজুত এখন স্থিতিশীল হচ্ছে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
২৮ দিন আগে
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে সরকারি দলের সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর (নওগাঁ-৪) টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৪৮তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ২ হাজার ৯৮৪ জন সহকারী সার্জন, ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন এবং ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ৯৮ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস) ও ২২ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৬২ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস ডাক্তার) নিয়োগ দেওয়া হয়।
ফেনী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের টেবিলে উত্থাপিত আরেক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২০-২১ থেকে এ যাবৎ করোনা ভাইরাস মৌসুমে মহামারি মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক ভ্যাকসিনসহ করোনা সরঞ্জাম আমদানি ও কেনাকাটায় ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই বরাদ্দ থেকে ভ্যাকসিন ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সিরিঞ্জ ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভ্যাকসিন এবং সিরিঞ্জ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে পরিবহন ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা। সিরিঞ্জ শিপিং চার্জ হিসেবে খরচ হয়েছে ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯৮০ টাকা।
তিনি জানান, ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে সরকার সর্বদা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৯ দিন আগে