প্রিসাইডিং কর্মকর্তা
সিলেটে কেন্দ্রের ভেতরে জামায়াত-বিএনপির হাতাহাতি, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর
সিলেট-৩ আসনের বালাগঞ্জ উপজেলায় এক প্রার্থীর এজেন্টের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মহিশাষী কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাতের বেলা কারও কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘এক প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়ার জন্য ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক পরিচয়ে ঢোকার চেষ্টাকালে তিন তরুণকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী।
এছাড়া গভীর রাতে নগরীর চৌখিদিখি পেট্রোল পাম্প থেকে কিছু বাঁশের লাঠি উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তবে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, ‘দুয়েকটি কেন্দ্রে রাতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব বড় কোনো ঘটনা নয়। দ্রুতই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনের আছে।’
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেটের সব আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচনি কাজের সমন্বয়ক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ভোটে জিততে পারবে না জেনেই জামায়াত সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সারা রাত এসব কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
জামায়াতের দলীয় নেতা-কর্মীরা কোনো কেন্দ্রে যায়নি জানিয়ে সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ‘বরং সিলেট নগরের কয়েকটি স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন। ভোট চলাকালে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই।’
৩ ঘণ্টা আগে
শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ নিহত ২
শেরপুরে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালনের জন্য আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর-জামালপুর সড়কের সদর উপজেলার শিমুলতলি এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান (৩১) ও গৃহবধু মাহফুজা বেগম (১৯)।
রোকনুজ্জামান জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে চাকরি করছিলেন। শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব ছিল তার। অপরজন মাহফুজা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কাতলামারি গ্রামের নীরব মিয়ার স্ত্রী ছিলেন।
আহতরা হলেন— শ্রীবরদী উপজেলার দয়ারচর গ্রামের শাহীন মিয়া (৩০), শহরের চকপাঠক এলাকার রায়হান মিয়া (৩০), নিহত মাহফুজার ৩ মাস বয়সী ছেলে আব্দুর রহমান, সদরের গাজীর খামার এলাকার মোহাম্মদ আলী (২৮) ও জামালপুরের উপজেলার খইর এলাকার সুরাইয়া বেগম (২২)। আহতদের মধ্যে ৩ জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ও ২ জন শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পুলিশ ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ (বুধবার) রোকনুজ্জামান জামালপুর ব্রিজ মোড় থেকে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে শেরপুর শহরে আসছিলেন। পথিমধ্যে শিমুলতলি এলাকায় একটি পিকআপের সঙ্গে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগে। এ সময় অটোরিকশার যাত্রী রোকনুজ্জামান ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাহফুজা নিহত হন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, শিমুলতলির ওই দুর্ঘটনায় একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২০ ঘণ্টা আগে
ফেনীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার হাতাহাতি, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
ফেনী-৩ আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী রহিম উল্ল্যাহর সঙ্গে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই কমিটিকে ঘটনাটি সরে জমিনে তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে অনুরোধ করেছেন।
আরও পড়ুন: ইবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের হাতাহাতি, শ্রদ্ধাঞ্জলি ভাংচুর
রবিবার (৭ জানুয়ারি) নির্বাচনি এলাকা সোনাগাজীর নবাবপুর ইউনিয়নের ভোরবাজার আইনজীবী বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ৯ নম্বর নবাবপুর ইউনিয়নের ভোরবাজার আইনজীবী বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আমির হোসেনকে ডেকে বের করে এনে মারধর করেন। চোখে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে ফেনী-৩ আসনে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী হাজী রহিম উল্যাহর বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
আরও পড়ুন: বরিশালে আ.লীগ-ছাত্রলীগের হাতাহাতি, ছবি তোলায় ৩০ সাংবাদিককে অবরুদ্ধ
ঈগল মার্কার প্রার্থী হাজী রহিম উল্যাহ বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার জাল ভোট দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য উনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কমিটির কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রিজাইডিং অফিসার আমির হোসেন বলেন, এই কেন্দ্রে তিন হাজার ৬৫৮ মহিলা-পুরুষ ভোটার রয়েছে। ভোট গ্রহণের নারী-পুরুষের জন্য আটটি বুথ রাখা হয়েছে। সকাল থেকে ভোটাররা এসে ভোট দিচ্ছিলেন, হঠাৎ করে ঈগল মার্কার প্রার্থী হাজী রহিম উল্যাহ সাত থেকে আটজন যুবকসহ অতর্কিতভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে আমাকে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে জিজ্ঞেস করলেন, জাল ভোট কেন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন?
আরও পড়ুন: এসসিবিএ ইফতার পার্টিতে হাতাহাতির ঘটনায় বিএনপিপন্থী ২৪ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা
এমন কথা বলে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোন করে আমার বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ দেন। আমি এমন নির্দেশ দেয়নি বলা মাত্রই ঈগল মার্কার প্রার্থী হাজী রহিম উল্যাহ আমার মুখে থাপ্পড় মেরে আমার ডান চোখে আঘাত করেন এবং কয়েকবার থাপ্পড় মারার জন্য হাত তুলেন। পরে তিনি গালাগালি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান।
ওই কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) আহ্বায়ক, সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব ও পুলিশের সোনাগাজী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, সোনাগাজী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে উক্ত ঘটনার সরেজমিন তদন্ত পূর্বক বিস্তারিত প্রতিবেদন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট দাখিলের অনুরোধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় বিজয় দিবসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের হাতাহাতি
৭৬৬ দিন আগে