মেঘনা নদী
ভোলায় মেঘনার পাড় ধসে বিজিবি সদস্যসহ নিখোঁজ ২
ভোলায় মেঘনা নদীর পাড় ধসে নদীতে পড়ে বিজিবি সদস্যসহ দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল মাছঘাট-সংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতেই অভিযান শুরু হয়, যা আজ (বৃহস্পতিবার) এখনও চলছে।
নিখোঁজরা হলেন ভোলা শহরের ভদ্রপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে ও বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ (২৬) এবং শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বাবুলের ছেলে মো. রাকিব (১৮)।
স্থানীয়রা জানায়, রাত ৯টার দিকে পাঁচ বন্ধু মেঘনা নদীর তীরে বালুভর্তি জিওব্যাগের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জিওব্যাগসহ নদীর পাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে পাঁচজনই পানিতে পড়ে যান। পরে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আমজাদ ও রাকিব নিখোঁজ হন।
আমজাদের স্বজনরা জানান, দুই মাস আগে আমজাদ ছুটিতে বাড়িতে আসেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল তার। বুধবার বিকেলে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে ঘুরতে যান। সন্ধ্যার পর তারা আমজাদ নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু এখনও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাতে তল্লাশি চালানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল থেকেও ডুবুরি এসে উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেন।
ভোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মিরাজুল ইসলাম জানান, বরিশাল থেকে আসা অভিজ্ঞ একটি ডুবুরি দল নিখোঁজ দুই যুবককে উদ্ধারে কাজ করছে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশও ঘটনাস্থলে রয়েছে। তবে এখনও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে।
৯ দিন আগে
মনপুরায় মেঘনা পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মেঘনা নদীর পাড় থেকে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মো. শান্ত (২৫) নামে এক যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারের পূর্ব পাশে মেঘনা নদীর পাড় থেকে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর প্রথমে তাকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী নেওয়া হয়।
শান্ত হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে লিটন মাঝি কয়েকজন জেলেকে নিয়ে মেঘনায় মাছ শিকার শেষে নদীর তীরে নৌকা নোঙর করেন। এ সময় তারা মানুষের গোঙানির শব্দ শুনতে পান। পরে টর্চের আলো জ্বালিয়ে খুঁজতে গিয়ে নদীর পাড়ে একটি খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় কাদামাখা এক যুবককে দেখতে পান।
লিটন মাঝিসহ অন্যরা শান্তকে শনাক্ত করেন এবং রশি কেটে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উদ্ধারকারী লিটন মাঝি বলেন, ‘নদীর পাড়ে গোঙানির শব্দ শুনে টর্চের আলো ফেলি। দেখি, রশি দিয়ে মুখ, হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় কাদামাখা একজন পড়ে আছে। পরে রশি কেটে দেখি, সে আমাদের পরিচিত—শান্ত। তখন সবার সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
শান্তর মামা মিরাজ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় নদীর পাড়ে এভাবে বাঁধা অবস্থায় থাকলে জোয়ারের পানিতে ডুবে শান্ত মারা যেতে পারতেন। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নদীর পাড়ে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে কারা এবং কী কারণে শান্তকে সেখানে বেঁধে রেখেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী নেওয়া হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।
৯ দিন আগে
মেঘনার এক রাজা ইলিশ বিক্রি হলো সাড়ে ৮ হাজার টাকায়
ভোলার মনপুরায় মেঘনায় জেলের জালে ধরা পড়েছে দুই কেজি ওজনের এক রাজা ইলিশ। পরে মাছটি নিলামে সাড়ে আট হাজারে বিক্রি করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাচ্চু চৌধুরীর মৎস্য আড়তে রাজা ইলিশটি বিক্রির জন্য আনেন জেলে কিরন মাঝি।
পরে মাছটি নিলামে সাড়ে আট হাজার টাকায় ক্রয় করেন মৎস্য বেপারি ফিরোজ।
কিরন মাঝি জানান, আজ (সোমবার) মেঘনায় জাল ফেলে মাছ শিকারের সময় অন্যান্য ছোট ইলিশের সঙ্গে এই রাজা ইলিশ মাছটি ধরা পড়ে। পরে অন্যান্য মাছের সঙ্গে রাজা ইলিশটি নিলামে বাচ্চু চৌধুরী মৎস্য আড়তে বিক্রি করেন তিনি।
মৎস্য বেপারী ফিরোজ জানান, তিনিসহ অন্যান্য মৎস্য বেপারিরা নিলামে অংশ নেন। পরে তিনি সাড়ে ৮ হাজার টাকায় রাজা ইলিশ মাছটি কিনে নেন। ঢাকাগামী লঞ্চ করে তিনি রাজা ইলিশ মাছটি বিক্রির জন্য ঢাকার কাওরান বাজারে পাঠাবেন। মাছটি ঢাকায় আরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, এমনিতে মেঘনায় ইলিশের হাহাকার চলছে। এরমধ্যে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়েছে। সামনে বৃষ্টিপাত হলে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২৬ দিন আগে
চাঁদপুরে মেঘনার ঘূর্ণিস্রোতে কার্গোডুবি, ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল পানিতে
চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় উত্তাল মেঘনার প্রবল ঘূর্ণিস্রোতে ৫ হাজার বস্তা ধান ও চালবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুরানবাজার ঘাট-সংলগ্ন মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে কার্গোতে থাকা মাঝিমাল্লাসহ পাঁচ শ্রমিক সাঁতরে অন্য নৌকার সাহায্যে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
কার্গোটির চালক এরশাদ মাঝি জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) পাবনা থেকে ৩ হাজার ৫০০ বস্তা চাল এবং ১ হাজার ৫০০ বস্তা ধান নিয়ে ‘পারবো’ নামের কার্গোটি চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। আজ (বুধবার) সকালে পুরানবাজার ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে তিন নদীর মোহনায় তীব্র ঝড় ও ঘূর্ণিস্রোতের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কার্গোটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় কার্গোতে থাকা পাঁচজন শ্রমিক অন্য নৌকার সাহায্য দ্রুত সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পাটোয়ারী জানান, ডুবে যাওয়া ধান ও চাল পুরানবাজারের সাতজন ব্যবসায়ীর মালামাল। এ ঘটনায় তাদের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে, চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, কার্গোডুবির বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আপডেট জানানো হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছি। দুর্ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি জানতে আমাদের নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্যকে ঘটনাস্থলে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় ঝড় ও সৃষ্ট তীব্র ঘূর্ণিস্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রায়ই নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই এ নৌপথে চলাচলকারী কার্গো ও অন্যান্য নৌযানকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা জারির আহ্বান জানান তারা।
৭৩ দিন আগে
মেঘনা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে শিক্ষার্থী নিখোঁজ, দুই দিনেও মেলেনি সন্ধান
ভোলার মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মাদরাসা শিক্ষার্থী মো. হাসিবের দুই দিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মাছঘাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
১১ বছর বয়সী হাসিব ওই এলাকার বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মো. হাফিজুল্লাহর একমাত্র ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা আশপাশের ১০-১১ জন শিশুর সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায় হাসিব। এ সময় বন্ধুদের সঙ্গে মেঘনা নদীর মাঝের একটি চরে সাঁতরে যাওয়ার পর তীরে ফেরার পথে তীব্র স্রোতে পড়ে নিখোঁজ হয় হাসিব। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড।
নিখোঁজ শিশুটির বাবা মো. হাফিজুল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে অন্য শিশুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। সবাই তীরে ফিরলেও হাসিব আর ফিরতে পারেনি। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। একজন বাবা হিসেবে আমি আমার ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, অন্তত আমার ছেলের মরদেহটি যেন খুঁজে দেয়।’
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে তাদের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসিবের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ভোলা সদরের ইলিশা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে নদীতে যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় হাসিবের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
১০৭ দিন আগে
অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের ছোড়া ছররা গুলিতে চারজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই গ্রামের আলিম মিয়া, নূরু মিয়া, সফর মিয়া ও নুরুল মিয়া।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নবীনগরের মেঘনা নদীতে সামিউল ট্রেডার্স ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। কিন্তু বালু উত্তোলনকারীরা অবৈধভাবে নির্দিষ্ট সীমা ছেড়ে চরলাপাং গ্রামে এসে বালু উত্তোলন করে থাকে। এতে ওই গ্রামের কৃষি জমিসহ আশপাশের এলাকা ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে।
আজ (রবিবার) সকালে চরলাপাং গ্রামে বালু উত্তোলন করার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর এলাকা থেকে স্পিডবোট ও নৌকায় করে আসা একদল ‘বালু সন্ত্রাসী’ এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া গ্রামবাসীর ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
২০৯ দিন আগে
মেঘনার পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলন: হুমকিতে বাঁধ, আতঙ্কে স্থানীয়রা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ সেচ প্রকল্পের ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। ফলে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এই বাঁধের মধ্যে মতলব দক্ষিণের একটি গ্রাম ও মতলব উত্তরের ১৪টি ইউনিয়ন অবস্থিত। সেখানকার জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ।
গত কয়েকদিন উপজেলার মেঘনা নদী অববাহিকার দশানি, ষাটনল, নাছিরাকান্দি, বোরচর এলাকা ঘুরে প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু সন্ত্রাসী কিবরিয়া মিয়াজি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। তাদের এই ধরনের কাজে জড়িত থাকায় দুপক্ষের বিরোধে গোলাগুলিতে একাধিক ব্যাক্তি মারা গেছে, আহত হয়েছে আরও অনেকে। এসব ঘটনায় এখনো মামলা চলছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। এতকিছুর পরও কীভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে?
দশানি গ্রামের মাজেদুর রহমান বলেন, ‘কী বলমু ভাই, দিন-রাইত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলে। পাড় ধসে আমাদের ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বেড়িবাঁধ যদি ভেঙে যায়, তাহলে পুরো মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ শেষ হয়ে যাবে, অথচ কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
আরও পড়ুন: পদ্মায় বালু উত্তোলনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড, একজন মুচলেকায় মুক্ত
ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রশাসনকে বারবার জানালেও কোনো ফল পাইনি। মনে হয় বালু সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনও জিম্মি। সরকার পরিবতর্ন হলেও কোনো কাম হচ্ছে না।’
৩৯৪ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে মেঘনায় প্রাণ গেল তরুণের
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ঈদের ছুটিতে খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবে অপু মিয়া নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে উপজেলার মোহনপুরে মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু (১৯) ঢাকার আগারগাঁও এলাকার বাসিন্দা বকুল মিয়ার ছেলে। তিনি মিরপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে অপু ছিলেন সবার ছোট।
স্বজনরা জানান, ঈদ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে অপু তার বড় ভাই ও মায়ের সঙ্গে খালার বাড়ি মোহনপুরে বেড়াতে আসেন। পরে দুপুরে সে একা নদীতে গোসল করতে গিয়ে মোহনপুর ঘাটে একটি বলগেট (কার্গো নৌকা) থেকে নদীতে লাফ দেন। এ সময় প্রবল স্রোতে তিনি নিখোঁজ হন।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
স্থানীয়রা তল্লাশি চালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক ইউএনবিকে বলেন, এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। লাশটি পরিবারের কাছেহন্তান্তর করা হয়েছে।
৪৬৫ দিন আগে
মেঘনা নদী থেকে রোহিঙ্গা নারীর লাশ উদ্ধার
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বিবিরহাট এলাকায় মেঘনা নদী থেকে হাসিনা খাতুন নামে এক রোহিঙ্গা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (১ জুন) দুপুরে ভাসমান অবস্থায় লাশটি পাওয়া যায়।
নিহত হাসিনা খাতুন একজন রোহিঙ্গা নারী। তার বাবার নাম আবুল হাসান, মায়ের নাম মোহাম্মদ মাহমুদা খাতুন এবং স্বামীর নাম মোহাম্মদ তারেক। তার এফসিএন নম্বর ৫০৫২৩৩ এবং ক্লাস্টার নম্বর ৬১।
আরও পড়ুন: ৬ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে মমতাজ
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ‘বিবিরহাট এলাকায় নদীতে স্থানীয়রা এক নারীর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, নিহত নারী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের। তবে কেউ এসে শনাক্ত না করা পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
৪৭৫ দিন আগে
চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক
মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশা কেটে গেলে চাঁদপুরের হরিণা-শরীয়তপুর আলুর বাজার ফেরি ঘাটের মধ্যে নৌচলাচল শুরু হয়েছে।
ঘন কুয়াশায় নৌদুর্ঘটনা রোধে বুধবার ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে কুয়াশা কেটে গেলে সকাল ১০টায় ফের নৌচলাচল শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৬ ঘণ্টা পর আরিচা-কাজিরহাট ফেরি চলাচল স্বাভাবিক
বিআইডব্লিউটিসির হরিণা ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক ফয়সল আলম চৌধুরী বলেন, সকাল ১০টার দিকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায় এবং কুয়াশাও কেটে গেছে। যে কারণে নৌযান চলাচল শুরু করা হয়েছে।
এরআগে ফেরিঘাটের উভয় পাশে শতাধিক পণ্যবাহী হালকা, ভারী ও মাঝারি যানবাহন আটকা পড়েছিল। ঘন কুয়াশায় চাঁদপুর শহর ও আশপাশ এলাকা ঢাকা পড়ে যায়। এ সময় শহর ও আশপাশের এলাকায় পথঘাটে যাত্রী ও রিকশা-অটোরিকশা কম দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: আরিচা-কাজিরহাট ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার ফেরি চলাচল স্বাভাবিক
৬০৪ দিন আগে