আইআরসি
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আইআরসি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ বৈঠকে বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালক হাসিনা রহমান। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির আঞ্চলিক অ্যাডভোকেসি বিশেষজ্ঞ এবং অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন প্রধান শাবিরা নূপুর।
এ সময় বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইআরসির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা বাড়ানো, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাণহানি ও জীবিকার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।’
আলোচনায় উভয় পক্ষ দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটির সক্ষমতা উন্নয়ন এবং টেকসই সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি বাংলাদেশ ও আইআরসির মধ্যকার সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২ দিন আগে
দুর্যোগের সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ বোধ করেন না প্রায় ৬৭ শতাংশ নারী
যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা নীরবে যৌন সমস্যা নিয়েই জীবনযাপন করছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠেছে।
এতে বলা হয়, পরে বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা ও যথাযথ সুবিধার অভাবে ৬৬ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ও কিশোরীরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে খুব বেশি আগ্রহী না।
ঢাকার গুলশানের ক্রাউন প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল রেস্কিউ কমিটির (আইআরসি) তথ্য অনুসন্ধানমূলক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বা যৌন হয়রানির মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব ঘটনা নারী ও শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক পীড়া দিচ্ছে।
গবেষণার তথ্য অনুসারে, মূলত দারিদ্র্য (৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং জীবিকা হারানোর (৬৮ শতাংশ) মতো বিষয়গুলো পারিবারিক ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা হওয়ার পেছনে মূল কারণ। দুর্যোগের পর দারিদ্র্যের কারণে জোরপূর্বক গর্ভপাতের শিকারও হচ্ছেন নারীরা।
আরও পড়ুন: শুক্রবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন ৫ জন জয়িতা
আইআরসি জানায়, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে হাসপাতাল থাকলেও পর্যাপ্ত সেবার সুযোগ না থাকায় অনেকেই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব অঞ্চলের ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ সঠিক সময়ে চিকিৎসা পান না। কারণ হিসেবে দেখা গেছে ৭০ শতাংশ সময়ে দুর্যোগের কারণে হাসপাতাল বন্ধ থাকে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা গত কয়েক বছরে আরও অনেক বেড়েছে, এরই সঙ্গে বেড়েছে জলাবদ্ধতা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাসহ আরও অনেক ধরনের সমস্যা।
বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরা ও ভোলা অঞ্চলের ওপর এই প্রতিবেদন করা হয়। এতে বলা হয়, শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া, বাল্য বিবাহ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, জীবিকার অভাবসহ নানা দিক, প্রতিনিয়ত যেগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে মায়েদের জন্য আমরা শিশুদের দুধপান করানোর আলাদা ব্যবস্থা করেছি। আমরা দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে সহনশীল অবকাঠামো তৈরি করছি, যেন সেগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।‘
আরও পড়ুন: জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে গ্রামীণ নারী, দরিদ্র ও বয়স্কদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব পড়ছে: এফএও
আইআরসির কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিনা রহমান বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগগুলো যেন সবার কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়, যেন সব ধরনের, লিঙ্গের, জাতির মানুষেরা সুযোগ-সুবিধাগুলো পায় এবং তাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত হয়।’
উপকূলীয় অঞ্চলে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা এনজিও ‘জাগো নারী’র প্রধান হোসনে আরা হাসি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি বড় অংশ উপকূলের সাথে জড়িত, এই অংশটির মানুষ নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এক্ষেত্রে সরকার ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের এখনও অনেক অভাব রয়েছে। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে এই মানুষগুলোর জন্য।’
গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা কম হলে আমরা সেটাকে সাফল্য হিসেবে ধরে নেই, কিন্তু যেই মানুষগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে, তাদের অধিকার সম্পর্কে আমরা এখনও সচেতন নই। আমাদের এই বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
আরও পড়ুন: নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের বিশেষ তহবিল চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
৮৩৫ দিন আগে