জেনেভা
বাস্তুচ্যুতির ৯ বছর: রোহিঙ্গাদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান
এ বছর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পূর্ণ হবে। বিশেষ এই দিনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা—ইউএনএইচসিআর ও মানবিক সহায়তা অংশীদাররা।
মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভার পালে দে নাসিওঁতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচ তার বক্তব্য এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এ বছর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পূর্ণ হবে। ইউএনএইচসিআর তার অংশীদারদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যেন তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভুলে না যায়। এদের বেশিরভাগই কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করছেন।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে আসছেন। বাংলাদেশ সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে পর্যায়ক্রমে আসা এই শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। সবচেয়ে বড় ঢলটি আসে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে, যখন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, এমন এক সময়ে ইউএনএইচসিআর এই আহ্বান জানাচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা এবং মানবিক সংকটের চাপ বাড়ছে। এর ফলে সীমিত সম্পদের মধ্যে কঠিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবাগুলো হুমকির মুখে পড়ছে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, গত মাসে বাংলাদেশে জাতিসংঘ এবং এর অংশীদাররা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদন করেছে। প্রয়োজন বাড়তে থাকলেও এই অতিগুরুত্বপূর্ণ চাহিদাভিত্তিক আবেদনটি গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী কার্যক্রমে মানবিক অর্থায়ন বাংলাদেশকে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা বজায় রাখতে এবং শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য মানবিক চাহিদা রয়ে গেছে এবং অব্যাহত আন্তর্জাতিক সংহতি ছাড়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর দুর্দশা আরও বাড়বে।
বাবর বালোচ বলেন, মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁটের প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখনও ব্যাপকভাবে ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। সীমিত অর্থনৈতিক সুযোগ এবং কমে যাওয়া সহায়তা পরিবারগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা আরও প্রায় দেড় লাখ নতুন আগত মানুষের জন্য।
তিনি আরও জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা, নিপীড়ন এবং সংঘাত অব্যাহত থাকায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। ফলে অনেক শরণার্থী মরিয়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন, প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও অনেক শরণার্থী ভালো জীবনের আশায় অন্য দেশে যেতে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন।
তার মতে, ২০২৫ সাল ছিল এ ধরনের যাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে সহায়তার আবেদনটি সবচেয়ে জরুরি মানবিক প্রয়োজনগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ।
ইউএনএইচসিআর জানায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অতি জরুরি সহায়তা আবেদনে ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের ৬০ শতাংশ পাওয়া গেছে। তবে শুধু ন্যূনতম সহায়তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে শরণার্থীদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলায় আরও বেশি ব্যয় ও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মিয়ানমারে সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে হবে। একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে প্রচেষ্টা চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
২ দিন আগে
জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে: ইরান
চলমান উত্তেজনার মাঝেও পরমাণু আলোচনায় নির্দেশিকা নীতিমালা সম্পর্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ কূটনীতিকরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে যে কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপই বিকল্প।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উভয় পক্ষের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মাঝে ওমানের মধ্যস্থতায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দ্বিতীয় ধাপের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাগচি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা কিছু নির্দেশনামূলক নীতির ওপর বিস্তৃত সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছি, যার ভিত্তিতে আমরা এগোব এবং সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ শুরু করব।’
তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুতে ওমানে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের আলোচনার তুলনায় এবার ভালো অগ্রগতি হয়েছে। এখন আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট পথ রয়েছে যা আমি ইতিবাচক বলে মনে করি।’
তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্পর্কের ব্যবধান কমাতে যে সময় লাগবে, তা তিনি স্বীকার করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা। আরাগচির বরাত তিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, উভয় পক্ষ যখন চুক্তির খসড়া তৈরি করবে, তখন খসড়া বিনিময় করা হবে এবং তৃতীয় দফা আলোচনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার দেশ কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এ বিষয়ে একটি মিশ্র চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।
দ্য স্টোরি উইথ মার্থা ম্যাককালাম অনুষ্ঠানে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘কিছু দিক থেকে আলোচনা ভালো হয়েছে। তারা (তেহরান) পরবর্তীতে আবারও বসতে (আলোচনায়) রাজি হয়েছে। কিন্তু অন্য দিক থেকে খুব পরিষ্কার ছিল যে প্রেসিডেন্ট কিছু সীমা নির্ধারণ করেছেন, যেগুলো ইরান এখনো স্বীকার করতে বা তা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত নয়।’
ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ‘আমরা কাজ চালিয়ে যাব। তবে কখন কূটনীতি স্বাভাবিক সীমায় পৌঁছেছে, প্রেসিডেন্টই তা ঠিক করার ক্ষমতা রাখেন।’
চ্যালেঞ্জের সামনে ইরান
বছরের পর বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি চেয়ে আসছে ইরান, যার মধ্যে রয়েছে অন্যান্য দেশ থেকে তেল কেনার ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা।
তেহরান বলেছে, চলমান আলোচনা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত এবং যেকোনো চুক্তিতে ইরানের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা থাকতে হবে, পাশাপাশি তাদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বজায় থাকতে হবে।
ওয়াশিংটন চায়, ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। এ ছাড়াও ওয়াশিংটন তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের মতো অপারমাণবিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনার পরিধি প্রসারিত করার চেষ্টা করেছে।
জবাবে ইরান বলেছে, তারা শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রস্তাব মেনে নেবে না। সেই সঙ্গে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও এই আলোচনার বিষয় নয়।
১০৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা আগে সামরিক মহড়ার জন্য সাময়িকভাবে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ ঘোষণা দেয় তেহরান।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার প্রথম পর্বে ইরানের জলসীমায় বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছিল মার্কিন প্রশাসন। ওই ঘটনার জের ধরেই এবার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথটি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অবশ্য প্রণালিটি আসলেও বন্ধ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। কিন্তু ইরানের এমন পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরুর পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং ‘নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উদ্বেগের’ কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য এটি বন্ধ রাখা হবে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনও কখনও এমন এক ধাক্কা খেতে পারে, যেখান থেকে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’
আলোচনায় ‘নতুন সম্ভাবনার সুযোগ’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। সেই সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ‘একটি নতুন জানালা খুলে গেছে।’
জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আলোচনা একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এবং বৃহত্তর পরিসরে এই অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’ তবে ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তার পরিণতি শুধু দেশটির সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও এ সময় হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে সামরিক মহড়া বা হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছুই বলেননি আরাগচি।
প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরানের সঙ্গে করা আগের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি বারবার হুমকি দিয়েছিলেন যে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে বাধ্য করার জন্য তিনি শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। তবে ইরান জানিয়েছে, তেমন কিছু হলে তারাও পাল্টা হামলা চালাবে। ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড ঘিরেও তেহরানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
‘কিছু দিক দিয়ে’ আলোচনা ভালো হয়েছে
সর্বশেষ পরোক্ষ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। বৈঠকটি জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী ওমান গত ৬ ফেব্রুয়ারি আলোচনার প্রথম দফার বৈঠকও আয়োজন করেছিল।
জনসমক্ষে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও বহু বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তারিত প্রস্তাব উপস্থাপন করবে যাতে সমঝোতার পর্যায়ে আসা যায়।
ফক্স নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কথা বলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘কিছু দিক থেকে আলোচনা ভালোই হয়েছে। তবে অন্য দিক থেকে এটা স্পষ্ট যে প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) কিছু বিষয়ে কঠোর সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন, যা ইরান এখনও স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ও বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের দূতদের মধ্যেও আলোচনার আয়োজন করে। প্রতিবেশী ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানি পক্ষের নেতৃত্বদানকারী আরাগচি জানান, তিনি সোমবার জেনেভায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইরানের মন্ত্রী বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।
১০৬ দিন আগে
জেনেভায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সোমবার
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ইউনিভার্সাল পিরিউডিক রিভিউ (ইউপিআর) বা সর্বজনীন পুনর্বীক্ষণ পদ্ধতির আওতায় সোমবার (১৩ নভেম্বর) চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: জেনেভায় নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ধারাবাহিকভাবে চতুর্থবার ইউপিআর প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইউপিআর সভায় অংশ নিতে জেনেভায় রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিগত চার বছরে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরাসহ এ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেবেন।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রতি চার বছর পরপর ইউনিভার্সাল পিরিউডিক রিভিউ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিগত চার বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।পর্যালোচনায় বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র পর্যালোচনাধীন রাষ্ট্রকে মানবাধিকার সংক্রান্ত নানা বিষয়ে প্রশ্ন ও সুপারিশ করে।
এর আগে বাংলাদেশ ২০০৯ সালে প্রথমবার, ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার এবং ২০১৮ সালে তৃতীয়বার ইউপিআর-এ অংশ নিয়েছিল।
মূলত তিনটি প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
যথা-
(ক) সরকার দেওয়া জাতীয় প্রতিবেদন।
(খ) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন বা সংগঠনের জোটগুলোর দেওয়া প্রতিবেদন এবং
(গ) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের কার্যালয়ের প্রতিবেদন।
আরও পড়ুন: জেনেভা থেকে বিমান বাংলাদেশের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী
৩ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশের উদ্দেশে জেনেভা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
৯৩৫ দিন আগে
বুকের দুধের বিকল্পগুলোর বাজারজাতকরণের মান নির্ধারণে মঙ্গলবার জেনেভায় বসবে গ্লোবাল কংগ্রেস
জেনেভায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার (২০-২২ জুন) পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল কংগ্রেসে ফর্মুলা বা প্যাকেটজাত দুধের ক্ষতিকর শিল্প বিপণনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে যাচ্ছে প্রায় ১৩০টি দেশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লুএইচও) এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বুকের দুধের বিকল্পগুলোর বিপণনের আন্তর্জাতিক কোড বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রথম গ্লোবাল কংগ্রেসের আয়োজন করবে।
এই ইভেন্টে ১৩০টি দেশ বুকের দুধের বিকল্পগুলোর অনৈতিক বিপণন বন্ধে জ্ঞান ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করবে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যসেবার পরিপূরক মেডিটেশন ছড়িয়ে যাক সর্বত্র
দেশে প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে টোটাল ফিটনেস ডে
প্যাকেটজাত আলুর চিপস কেন শরীরের জন্য ক্ষতিকর?
১০৮৩ দিন আগে
জেনেভা থেকে বিমান বাংলাদেশের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের যাত্রীদের চমকে দিয়েছেন।
জেনেভা থেকে দেশে ফেরার পথে তিনি বিমানটির ভেতরে ঘুরে দেখেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
যাত্রীতে পরিপূর্ণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটটিতে প্রধানমন্ত্রী যখন তাদের সিটের কাছে যান এবং কুশল বিনিময় করেন, তখন সবাই একদিনে বিস্ময় ও অন্যদিকে আনন্দ অনুভব করেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম ইউএনবিকে বলেন, ‘ফ্লাইটে আসনের পাশেই তাদের (যাত্রী) প্রধানমন্ত্রীকে দেখে অনেকেই অবাক ও বিস্মিত হয়েছিলেন।’
আরও পড়ুন: ৩ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশের উদ্দেশে জেনেভা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা যাত্রীদের ছবি তোলার অনুরোধ গ্রহণ করেন।
তিনি খুব স্নেহ নিয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বেশ কয়েকজনকে তার কোলেও নেন।
যাত্রীদের কেউ কেউ গত সাড়ে ১৪ বছরে দেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত ১৪ ও ১৫ জুন অনুষ্ঠিত 'ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল' এ যোগ দিতে গত ১৩ জুন জেনেভা যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইট শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: জেনেভায় নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী
১০৮৪ দিন আগে
সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
সুইজারল্যান্ডে তিন দিনের সরকারি সফর শেষ করে জেনেভা থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইট শুক্রবার দিবাগত রাতে (সকাল ১টা ৫৫ মিনিটে) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৫০ মিনিট) জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করে।
প্রধানমন্ত্রী বিমানে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।
আরও পড়ুন: ৩ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশের উদ্দেশে জেনেভা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত ১৪ ও ১৫ জুন অনুষ্ঠিত 'ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল' এ যোগ দিতে গত ১৩ জুন জেনেভা যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বুধবার প্যালাইস ডি নেশনস-এ 'ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট ২০২৩' এর প্লেনারি সেশনে ভাষণ দেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) শীর্ষ সম্মেলন সামাজিক ন্যায়বিচারের সমর্থনে বর্ধিত, সমন্বিত ও সুসঙ্গত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা মোকাবিলায় বৈশ্বিক কণ্ঠস্বরের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম।
সম্মেলনে এক ডজনেরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘ, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শেখ হাসিনা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট মাতামেলা সিরিল রামাফোসা ও মাল্টার প্রেসিডেন্ট ড. জর্জ ভেলার সঙ্গে পৃথক দুটি বৈঠক করেন।
এছাড়া ওইদিন তিনি ইউএনএইচসিআর প্রধান ফ্লিপ্পো গ্র্যান্ডি, প্রিন্স রহিম আগা খান, সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বার্সেট এবং আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হাউংবোর সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন।
সুইস প্রেসিডেন্ট বার্সেটের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
আরও পড়ুন: আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: জেনেভায় নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী
সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী আইএলও'র সদর দপ্তরে এর মহাপরিচালক আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।
গত ১৫ জুন তিনি 'আ টক অ্যাট দ্য ডব্লিউইএফ' এ যোগ দেন এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অফিসে এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ক্লাউস শোয়াবের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তিনি ডব্লিউইএফ আয়োজিত 'নিউ ইকোনোমি অ্যান্ড সোসাইটি ইন স্মার্ট বাংলাদেশ' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
এছাড়া কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিক আল মারি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. ওকোনজো ইওয়েলা পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় একটি নাগরিক সংবর্ধনায়ও যোগ দেন।
আরও পড়ুন: সংক্রামক রোগ থেকে বিশ্বব্যাপী শিশুদের রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
১০৮৪ দিন আগে
৩ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশের উদ্দেশে জেনেভা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
সুইজারল্যান্ডে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে দেশের উদ্দেশে জেনেভা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৫০ মিনিট) জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
ফ্লাইটটি শনিবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত ১৪ ও ১৫ জুন অনুষ্ঠিত 'ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল' এ যোগ দিতে গত ১৩ জুন জেনেভা যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিটে যোগ দিতে জেনেভা পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বুধবার প্যালাইস ডি নেশনস-এ 'ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট ২০২৩' এর প্লেনারি সেশনে ভাষণ দেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) শীর্ষ সম্মেলন সামাজিক ন্যায়বিচারের সমর্থনে বর্ধিত, সমন্বিত ও সুসঙ্গত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা মোকাবিলায় বৈশ্বিক কণ্ঠস্বরের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম।
সম্মেলনে এক ডজনেরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘ, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শেখ হাসিনা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট মাতামেলা সিরিল রামাফোসা ও মাল্টার প্রেসিডেন্ট ড. জর্জ ভেলার সঙ্গে পৃথক দুটি বৈঠক করেন।
এছাড়া ওইদিন তিনি ইউএনএইচসিআর প্রধান ফ্লিপ্পো গ্র্যান্ডি, প্রিন্স রহিম আগা খান, সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বার্সেট এবং আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হাউংবোর সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন।
সুইস প্রেসিডেন্ট বার্সেটের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী আইএলও'র সদর দপ্তরে এর মহাপরিচালক আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।
গত ১৫ জুন তিনি 'আ টক অ্যাট দ্য ডব্লিউইএফ' এ যোগ দেন এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অফিসে এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ক্লাউস শোয়াবের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তিনি ডব্লিউইএফ আয়োজিত 'নিউ ইকোনোমি অ্যান্ড সোসাইটি ইন স্মার্ট বাংলাদেশ' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
এছাড়া কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিক আল মারি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. ওকোনজো ইওয়েলা পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় একটি নাগরিক সংবর্ধনায়ও যোগ দেন।
আরও পড়ুন: আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: জেনেভায় নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী
সংক্রামক রোগ থেকে বিশ্বব্যাপী শিশুদের রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
১০৮৪ দিন আগে
আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: জেনেভায় নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ‘জনগণ তাদের ভোট দেবে, জনগণ তাদের ভোটের একমাত্র মালিক হিসেবে তারা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে। আর যে জনগণের ভোট পাবে সে সরকার গঠন করবে।’
বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হিলটন হোটেলে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সংক্রামক রোগ থেকে বিশ্বব্যাপী শিশুদের রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বরে অথবা আগামী জানুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে কারচুপি করা হবে বলে ভোট বর্জনের অঙ্গীকার করেছে, যদিও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর পরিবর্তে বিরোধী দলটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নিরপেক্ষ প্রশাসনের পথ প্রশস্ত করতে শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ দাবি করে।
শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু বিএনপি এটা ভালো করেই জানে যে তাদের খারাপ কর্মকাণ্ডের জন্য তারা জনগণের কোনো ভোট পাবে না এবং সে কারণে তারা এখন নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটার বাহানা খুঁজছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘আসলে তারা (বিএনপি) চোরের ও ভোট কারচুপিকারীদের দল। ভোট ডাকাতি করা ছাড়া তাদের পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ তাদের আর চায় না এবং সে কারণে তারা জনগণের কাছ থেকে ভোট পায় না।’
সরকার পতনের জন্য বিএনপির বারবার হুমকি প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার অতটা দুর্বল নয়।
নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে বিএনপির দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে অবদানের জন্য প্রিন্স রহিম ও আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ককে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ
১০৮৫ দিন আগে
বাংলাদেশকে মৎস্য খাতে ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বাংলাদেশকে মৎস্য খাতে ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেনেভায় হোটেল প্রেসিডেন্টের সভাকক্ষে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ডব্লিউটিও'র মহাপরিচালক ড. ওকোনজো ইওয়েলা এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান।
তিনি ডব্লিউটিও মহাপরিচালকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তার সংস্থা এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী।
মোমেন বলেন, যদিও বাংলাদেশ মৎস্য খাতে ব্যাপক ভর্তুকি দেয় না, আমরা বলেছি যে আমরা এটা (ভর্তুকি ইস্যু) বিবেচনা করব।
আরও পড়ুন: সংক্রামক রোগ থেকে বিশ্বব্যাপী শিশুদের রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ডব্লিউটিও প্রধান সংস্থাটির বিরোধ নিষ্পত্তিকারী সংস্থার কথা উল্লেখ করেন যা কয়েকটি বড় দেশের কারণে কয়েক বছর ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
মোমেন জানিয়েছেন, ওকোনজো ইওয়েলা আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলনে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি উত্থাপনের অনুরোধ করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে তিনি যেভাবে বলেছেন- ‘এটাই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান শক্তি।’
ডব্লিউটিও’র মহাপরিচালক বাংলাদেশকে এর বিশেষজ্ঞদের ঝুড়িতে বৈচিত্র্য আনতে বলেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি চেয়েছেন যে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতার অভাব রয়েছে।
তিনি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে জাপান, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে মালদ্বীপ ও জাপানের সঙ্গে কথা বলেছেন।
এর আগে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিক আল মারি একই স্থানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, তার দেশে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের পারফরম্যান্সে তারা সন্তুষ্ট।
মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার। তারা এই উদ্দেশ্যে একটি চুক্তি সই করবে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে অবদানের জন্য প্রিন্স রহিম ও আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ককে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ
১০৮৫ দিন আগে