কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ৪ দিন পর তরুণীর মৃত্যু, সাবেক স্বামী আটক
কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারায় অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তমা খাতুন (২০) নামের এক তরুণী চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়।
তমা খাতুন ভেড়ামারার ফকিরাবাদ বখশিপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে গোলাপনগর এলাকা থেকে ফকিরাবাদ বখশিপাড়ায় বাড়িতে ফিরছিলেন তমা। এ সময় রাস্তায় একটি মোটরসাইকেলের আরোহী তার গতিরোধ করে তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, কোনো অজ্ঞাত স্থানে তাকে নিয়ে গিয়ে অন্তত ৪-৫ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল উপর্যুপরি ধর্ষণ করে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। এরপর সেদিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে বখশিপাড়ার নির্জন মোড়ে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
পরে রাত সাড়ে ১২টার পর পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে উদ্ধার করে রাত একটার দিকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে রাতেই তাকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ৪ দিন চিকিৎসা শেষে গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অপহরণের পরদিন নিহতের মা কাজলী খাতুন বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত তমার দেড় বছর আগে বিয়ে হয় গোলাপনগর এলাকার আবু বক্করের সঙ্গে। তবে গত দেড় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
তাদের ধারণা, তমাকে অপহরণ করে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক স্বামী বক্করের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
ভেড়ামারা থানা পুলিশ ইতোমধ্যে তার স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
নিহত তমার মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব জানিয়েছেন, তমা অত্যন্ত ভালো একটা মেয়ে। ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর গোলাপনগর বাজার থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। ৪ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল উপর্যুপরি ধর্ষণ শেষে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফেলে দেয় বাড়ির পাশের একটি নির্জন মোড়ে। এর চার দিন পর রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান হাবিব।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে নিহত তমার সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করা হয়েছে। থানায় তাকে জিজ্ঞেসাবাদ চলছে।
৮ ঘণ্টা আগে
কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুর, দুই চিকিৎসক আহত
কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন। এতে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবায় সাময়িক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম রাফি (৩)। সে ওই গ্রামের সাব্বির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ (শুক্রবার) সকালে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় রাফি। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মিরপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাদের অবহেলায় রকির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে অসদাচরণ করেন। পরে ১১ নম্বর মেডিকেল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় ডা. আব্দুস সামাদ ও ডা. জান্নাতুল রিয়া নামে দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে রকির মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন তারা।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল রিয়া বলেন, স্বজনদের প্রিয়জন হারানোর বেদনা আমরা সহানুভূতির সঙ্গে দেখি। তবে হাসপাতালে জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে, ভাঙচুরের পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী।
মিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) আব্দুল আজিজ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১ দিন আগে
প্রায় ৪ বছর পর গড়াই নদীর বুকে ফিরল ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, উৎসবে মাতল কুষ্টিয়া
প্রায় চার বছর পর কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর বুকে আবারও ফিরেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। সারি-সারি নৌকা, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টান আর তীরে লাখো দর্শকের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নদীর দুই পাড়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকেই তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচকে ঘিরে কুষ্টিয়ার ঘোড়াই ঘাট থেকে হরিপুর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
দুপুর থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ নৌকাবাইচ দেখতে নদীর তীরে জড়ো হতে থাকেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে ছুটে আসেন এ আয়োজন উপভোগ করতে।
বিকেল ৪টার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। নৌকা নদীর বুকে ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। প্রিয় দলের নৌকা এগিয়ে গেলে তীর থেকে করতালি ও স্লোগানে মাঝিদের উৎসাহ দেন দর্শকরা। মাঝিদের বৈঠার ছন্দ, নৌকার গতির সঙ্গে দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে গড়াই নদীর পাড়।
নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে বসেছে গ্রামীণ মেলাও। মেলায় দেশীয় খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে দেখা যায় অনেককে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান হোসেন ইউনুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহবার উদ্দিন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। প্রধান বক্তা ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি, কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক মুক্তমঞ্চ পত্রিকার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ প্রমুখ।
এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় বজ্রাঘাতে নিহত ২, হাসপাতালে আরও ২
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও সদর উপজেলায় বজ্রাঘাতে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে বাড়ির পাশে বিলের ধারে বসে থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে আরোজ আলী (৩০) নামের একজন মারা যান। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, দুপুর ১২টার পর থেকে দৌলতপুরের আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। একপর্যায়ে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে মেঘের প্রচণ্ড গর্জন শুরু হয়। ওই সময় আরোজ আলী বাড়ির পাশে বিলের ধারে বসে ছিলেন। আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
বজ্রপাতের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, এদিন দুপুর ২টার দিকে আরোজ আলী নামের ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখ করে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি বজ্রাঘাতেই মারা গেছেন।
অন্যদিকে বেলা আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের দহকোলা মাঠে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে একজন নিহত ও দুজন গুরুতর আহত হন।
তাদের দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন মো. রওশন আলী নুশু (৪৫) মারা যান।
নিহত রওশন দহকোলা কারিগরপাড়ার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।
আহত কারিগরপাড়ার মৃত হারেজ আলীর ছেলে সমেজ আলী ও জোতপাড়ার মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন বজ্রাঘাতে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২ দিন আগে
দৌলতপুরে পদ্মার পানি বাড়ার গতি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার গতি কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি বেড়েছে মাত্র ১ সেন্টিমিটার। তবে পানি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও উপজেলার চরাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে ১৮ টন চাল ও শুকনা খাবারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১০ কেজি করে ১৮ টন চাল পাবেন ১ হাজার ৮০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এছাড়া ২ লাখ টাকার শুকনা খাবার দেওয়া হবে আরও ২৫০ পরিবারকে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস জানান, আগামীকাল সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে এসব সহায়তা বিতরণ করা হবে।
সরকারি হিসাবে, দুর্গত এলাকায় প্রায় ৮ হাজার পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, দুই ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগ জানায়, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ১৩ দশমিক ০৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি।
গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ওই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। সে হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১ সেন্টিমিটার।
৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় পদ্মায় নিখোঁজের ৩৫ ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে বাল্কহেডের সঙ্গে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের ধাক্কায় নিখোঁজের ৩৫ ঘণ্টা পর ঝিনাইদহের শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুজ্জামান রকির (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত এবং ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গেল শুক্রবার রাতে পদ্মা নদীতে যাত্রী বহনকারী বাল্কহেডটির সঙ্গে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে ধাক্কা লাগে। এ সময় রকিসহ তিনজন নিখোঁজ হন। পরে দুজনকে উদ্ধার করা হলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন। ওই রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝিনাইদহের শৈলকূপার কাতলা গাড়িঘাট থেকে ১২৩ জন ভ্রমণকারী নিয়ে বাল্কহেডটি ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজারে আসে। নৌযানটিতে মাঝিসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
ভ্রমণকারীদের মাজারে বেড়ানো শেষে রাত সোয়া ৯টার দিকে বাল্কহেডটি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পৌঁছায়। এ সময় স্রোতের প্রচণ্ড ধাক্কায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৪ নম্বর পিলারের সঙ্গে বাল্কহেডের পেছনের অংশের ধাক্কা লাগে। এতে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। সে সময় লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন।
উদ্ধার কাজ চলাকালে বাকি ভ্রমণকারীরা পদ্মা নদীর বাহিরকচর অংশের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান নেন।
ঘটনাস্থলে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে নিখোঁজ রকিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
৬ দিন আগে
হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে নৌকার ধাক্কা, ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা লেগে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকি নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নদীতে পড়ে যাওয়া আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে ১২৩ জন যাত্রী বহনকারী বাল্কহেডটি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের চার নম্বর পিলারে ধাক্কা দিলে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা হলেও রাত ১টা পর্যন্ত রকির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নৌকায় থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলাগাড়ি ঘাট থেকে একটি ব্যবসায়িক গ্রুপের ১২৩ জন ভ্রমণকারী নিয়ে বাল্কহেডটি ভেড়ামারা উপজেলার সোলেমান শাহ মাজারে যায়। নৌকায় মাঝিসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
মাজারে বেড়ানো শেষে রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পৌঁছালে নদীর প্রবল স্রোতের ধাক্কায় বাল্কহেডটির পেছনের অংশ ব্রিজের চার নম্বর পিলারে আঘাত করে। এতে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান।
লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
রকির বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সে যখন নৌকা থেকে পড়ে গেল, আমি তাকে ধরতে গিয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। সে যথেষ্ট শক্ত-সামর্থ্যবান ছেলে, সাঁতারে যথেষ্ট দক্ষতা আছে। আশা করছি ফিরে আসবে।’
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, রকিকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। বিষয়টি তারা নজরদারিতে রেখেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, এটি শৈলকুপার কবিরপুর এলাকার একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা। তারা ভেড়ামারার সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে নিখোঁজ দুজন লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রকিকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। রাত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হচ্ছে। রকিকে উদ্ধারের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিভিন্ন ইউনিট। আমরা প্রশাসনের সব ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছি।’
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোলিং অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, নৌকাটিতে প্রায় ১২৩ জন বা তার চেয়ে কয়েকজন বেশি যাত্রী ছিলেন। রাতে উদ্ধার অভিযান সম্ভব না হলে খুলনা থেকে বিভাগীয় ডুবুরি দল এনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রেখে ‘ডাকাতি’
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রেখে তিনটি স্বর্ণের দোকানসহ আরও কয়েকটি দোকানে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি ডাকাতি নয়, শতভাগ চুরির ঘটনা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার একতারপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীদের অভিযোগ, রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রানোতোষ বিশ্বাসের পূর্ণ জুয়েলার্সের দুটি শোরুম ও কারখানা, মানিক বিশ্বাসের মানিক জুয়েলার্স, সঞ্জয় বিশ্বাসের ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, পাখি ভ্যানের মিস্ত্রী হান্নান শেখ ও চায়ের দোকানি ওবায়দুলের দোকান থেকে রুপা, সোনার পুরনো গহনা, মুঠোফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা।
নৈশপ্রহরীরা জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের সশস্ত্র দলটির প্রত্যেকের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাদের কাছে রাইফেল ও ধারালো অস্ত্র ছিল। প্রথমে দুই ব্যবসায়ীকে ও নৈশপ্রহরীদের গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে তারা। এরপর কয়েকজন মিলে তাদের পাহারা দিতে থাকে এবং অন্যরা দোকানগুলোর তালা ভেঙে মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী প্রানোতোষ বিশ্বাস বলেন, রাতে দোকান বন্ধের সময় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে রেখে যান। তারপরও ডাকাতরা তার দোকানের সবগুলো সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে। এছাড়া তার দুই শোরুম ও কারখানার লকারের কয়েকটি ড্রয়ার ভেঙে কয়েক ভরি পুরনো গহনা, ২০ ভরি খাঁটি রুপা ও ড্রয়ারে থাকা ২৫ হাজার টাকা ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একজন তাকে ফোন দিয়ে তার দোকানে ডাকাতির ঘটনা জানান। তিনি বাজারে এসে দোকানের শাটার বন্ধ পান। পরে ভেতরে ঢুকে ডাকাতির ঘটনা টের পান।
প্রত্যক্ষদর্শী পাখি ভ্যানের মিস্ত্রী আব্দুল হান্নান শেখ জানান, ডাকাতরা তাকে নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল। এ সময় ডাকাতরা তার কাছে থাকা ধার করে আনা পাঁচ হাজার টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যায়।
বাজারের পাহারা ব্যবস্থাপনা কমিটির অর্থ সম্পাদক গ্রাম্য চিকিৎসক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের পাঁচজন পাহারাদারের চারজনকে আটকে রেখে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি চলেছে। রাতেই পুলিশ এসেছিল। মামলা এখনও হয়নি।’
এদিকে এ ঘটনাকে শতভাগ চুরি বলে উল্লেখ করে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, একতারপুর বাজারের তিনটি দোকানে চুরি হয়েছে।
১১ দিন আগে
বিষমুক্ত সবজি চাষ: ফলনে খুশি হলেও দামে মলিন কৃষক
জমির আলের চারপাশে নীল জালের বেড়া। ভেতরে বাঁশ ও জালের মাচা। মাচার ওপরে সবুজ লতা, আর নিচে থোকায় থোকায় ঝুলছে তরতাজা করলা। কিন্তু এই করলায় নেই কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক বিষ।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রথমবারের মতো উত্তম কৃষি চর্চা বা গ্যাপ পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে সাড়া ফেলেছেন দুই কৃষক। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম পাওয়ায় হাসি নেই তাদের মুখে।
উত্তম কৃষি চর্চা বা গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেসস হলো এমন কিছু পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি পদ্ধতি, যার মূল লক্ষ্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা। পরিবেশের ভারসাম্য ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা। কৃষকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ ও সুঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
এর একটি পদ্ধতি ‘মালচিং’। এটি এমন একটি কৃষি পদ্ধতি যার মাধ্যমে গাছের গোড়ায় বা মাটির উপরিভাগে খড়, পাতা, কচুরিপানা বা প্লাস্টিকের শিট দিয়ে একটি সুরক্ষা স্তর বা ঢাকনা তৈরি করা হয়, যা আর্দ্রতা রক্ষা, আগাছা দমন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে।
উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধলনগর গ্রামের জমারত আলীর ছেলে দবির উদ্দিন ফারাজী ও মৃত তোয়াজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারী তিন বিঘা জমিতে আলিসা জাতের করলা চাষ করেছেন। গত ১০ দিনে তারা ২ হাজার ২০০ কেজি করলা বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে পাইকারি দর ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫৫ টাকা। এতে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়েছে তাদের।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আরও ৪ হাজার কেজির বেশি করলা বিক্রির আশা করছেন তারা, যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা।
কিন্তু তাদের অভিযোগ, বাজারে বিষমুক্ত এবং বিষযুক্ত সবজির আলাদা বাজার বা হাট নেই। ফলে সমান দামে বিক্রি হওয়ায় লাভবান হতে পারছেন না তারা। তাদের ভাষ্য, গতবছর এই সময়ে প্রতি কেজি করলা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমান দাম তার অর্ধেক। গতবারের মতো দাম থাকলে কয়েক লাখ টাকা লাভবান হতেন তারা।
বাড়তি খরচ, কিন্তু দাম কম
শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দুরের ধলনগর মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জমি নীল রঙের জাল দিয়ে ঘেরা। পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক। মাটিতে দেওয়া হয়েছে জৈব সার। একজন খেতের পরিচর্যা করছেন, অপরজন তুলছেন করলা।
এ সময় উদ্যোক্তা দবির উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাপ পদ্ধতিতে চাষ করতে খরচ বেশি। জাল, ফাঁদ, জৈব সার—সবই কিনতে হয়। ফলন ভালো এবং সবজিও স্বাস্থ্যকর। তবে ক্রেতারা এখনও বিষমুক্ত সবজির দাম দিতে চান না।’
১২ দিন আগে
দেড়শ কিলোমিটার দূরে ডুবুরি, কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে
নদীতে কেউ নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছে ফায়ার সার্ভিসের দল। কিন্তু শুরু করা যাচ্ছে না উদ্ধার অভিযান। কারণ, কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসে নেই প্রশিক্ষিত ডুবুরি। প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরত্বের খুলনা থেকে ডুবুরি দল আসার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যাতে সময় লেগে যায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
নদীবেষ্টিত কুষ্টিয়ায় এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসনা, কালীগঙ্গা, কুমার ও সাগরখালীসহ জেলার ওপর দিয়ে ছোটবড় মিলিয়ে অন্তত আটটি নদ-নদী বয়ে গেছে। এসব নদীর সঙ্গে জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা ও চলাচল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ নদীতে দুর্ঘটনা বা কেউ নিখোঁজ হলে উদ্ধারের জন্য কুষ্টিয়াকে নির্ভর করতে হয় খুলনার ওপর।
এর ফলে দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ঘণ্টা কেটে যায় শুধু ডুবুরি দলের অপেক্ষায়। এতে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা যেমন কমে, তেমনি মরদেহ উদ্ধারের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কোনো কোনো ঘটনায় স্বজনদের এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও সেই চিত্রই সামনে এনেছে। শুধু আগস্ট মাসেই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন নদীতে ডুবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত ঘাটে পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্র মোস্তাকিম হোসেন। স্থানীয়রা আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করলেও মোস্তাকিমকে সেদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়ায় নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় ব্যাহত হয় উদ্ধার অভিযান। পরে খুলনা থেকে ডুবুরি দল পৌঁছালে পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার আগে ৫ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড় ধসে নদীতে পড়ে যায় পাঁচ বছরের নূরী খাতুন ও আট বছরের জামিলা খাতুন। স্থানীয়রা জামিলাকে জীবিত উদ্ধার করলেও নূরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় পরদিন মিরপুর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে।
১৪ আগস্ট কুমারখালীর শিলাইদহ পদ্মা নদীর ঘাটে নিখোঁজ হয় আট বছরের শিশু আলিফ হোসেন। একই দিন সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর ২৪ আগস্ট কুমারখালী পৌরসভার এম এন বাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে গড়াই নদীতে ডুবে মারা যান জেলে পরিমল মণ্ডল (৩৮)।
শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা নয়, এসব ঘটনায় উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছালেও প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারেন না। স্থানীয়রা নৌকা, জাল কিংবা দেশীয় উপকরণ নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব ব্যবস্থা প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জামের বিকল্প নয়।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেনের বক্তব্যে সমস্যাটির প্রশাসনিক দিকটিও উঠে এসেছে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় এখানে নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। জেলা পর্যায়ে আলাদা ডুবুরি দল না থাকায় বিভাগীয় শহর খুলনার ওপর নির্ভর করতে হয়। খবর পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে খুলনা থেকে ডুবুরি দলকে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
ওয়াদুদ হোসেন বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খুলনার ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয়। জেলার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ডুবুরি দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, সমস্যাটি যে নতুন নয়, তা ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব বক্তব্যেই স্পষ্ট। ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথ, নিয়মিত দুর্ঘটনা এবং দীর্ঘদিনের দাবির পরও কুষ্টিয়ায় কেন স্থায়ী ডুবুরি দল গঠন হয়নি—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সামাজিক সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাহাব উদ্দীন মিলন বলেন, ‘যে জেলায় পদ্মা ও গড়াইয়ের মতো প্রমত্তা নদী রয়েছে, সেখানে স্থায়ী ডুবুরি দল না থাকা হতাশাজনক। অবিলম্বে কুষ্টিয়া জেলায় স্থায়ী ডুবুরি দল নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ফায়ার স্টেশনে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা দরকার।’
পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কায় থাকেন, অন্যদিকে কখন উদ্ধারকারী দল আসবে, সেই অপেক্ষাও করতে হয়। স্থানীয়রা নৌকা, জাল ও দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক সরঞ্জামের বিকল্প তারা হতে পারেন না।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোমিন ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সুযোগ থাকে। কিন্তু দূরের জেলা থেকে ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে সেই সম্ভাবনা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।’
মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুনের আহাজারিতেও সেই অপেক্ষার অসহায়তা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমার ছাওয়াল ছুটির দিন বন্ধুগোরে সাথে নদীর পাড়ে খেলতে যায়ে ডুবে গেল। এখনও ছাওয়ালটার খোঁজ পালাম না। খুলনা থেকে লোক আসপে, তারপরে উদ্ধার হবে—এই অপেক্ষা করতি হচ্ছে।’
কুষ্টিয়ার মতো নদীবেষ্টিত একটি জেলায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানের প্রথম কয়েক ঘণ্টাই যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে দেড়শ কিলোমিটার দূর থেকে ডুবুরি দলের আসার ওপর নির্ভরতা কতটা কার্যকর—এ প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আর ততদিন নদীতে নিখোঁজ হওয়ার প্রতিটি ঘটনায় স্বজনদের অপেক্ষার সময়টিই হয়ে থাকছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
১৬ দিন আগে