শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
শুধু পাঠ্যবই নয়; নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক ও রেমিডিয়াল গাইড: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এ ব্যবস্থায় শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে থাকবে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক, রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিও লেসন, যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে সমানভাবে শেখার সুযোগ পায়।
রবিবার (১২ জুলাই) ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ২০২৮ সালের জন্য একটি যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে। বর্তমানে যে পাঠ্যবইগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাত্ত্বিক শিক্ষার তুলনায় ব্যবহারিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষা নতুন প্রজন্মের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, জাতীয় পরিচয় এবং সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, দলগত কাজ এবং সুস্থ জীবনাচারের চর্চা গড়ে উঠবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলা। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
৪ ঘণ্টা আগে
প্রাথমিকের আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করে স্বাভাবিক গতিতেই চলমান রয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলন স্থগিত করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে নিয়োগপত্রের দাবিতে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী আন্দোলনরত শিক্ষকদের ৭ জনের একটি প্রতিনিধিদল প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাত সদস্যের এই প্রতিনিধ দল তাদের নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন এবং বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে স্বাভাবিক গতিতেই চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
তিনি আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে চলমান প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে অযথা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে আন্দোলন স্থগিত করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৭৭ দিন আগে
নিয়োগপত্রের দাবিতে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শাহবাগে অবস্থান
নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
এদিন বেলা ১১টায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে পরে তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যান।
আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে জেলা ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনও তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, যদিও পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
আন্দোলনে আসা সুনামগঞ্জের এক প্রার্থী বলেন, ‘আমরা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও খুব অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা মানসিক চাপে আছি। আমাদের দাবি পূরণ না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাব।’
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জানান, তিনি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
৭৭ দিন আগে
প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার পরিকল্পনায় সরকার: প্রতিমন্ত্রী
৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হবে জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করব।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, ব্যয় কাঠামো ও নীতিগত অগ্রাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ‘শিক্ষা বাজেট: বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষা খাতের বিদ্যমান প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করব। ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা হবে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। মিড-ডে মিল আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীর জন্য চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নতুন কারিকুলামের বিষয়ে তিনি বলেন, আর্থিক প্রণোদনা বৃদ্ধি করা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং নতুন কারিকুলাম নিয়ে সরকার কাজ করছে। আমরা নতুন কারিকুলাম তাড়াহুড়ো করে করব না। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা খেলতে খেলতে শিখবে, গল্পের মাধ্যমে শিখবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গল্পের মাধ্যমে আনন্দদায়ক শিক্ষাপদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোচিং, নোটবুক, গাইড—এসব আমরা বন্ধ করব। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। শিক্ষাটা হবে ক্যারিয়ার-কেন্দ্রিক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষকদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাস। শিক্ষা বাজেটের প্রবণতা, বরাদ্দের কার্যকারিতা এবং বাস্তবায়ন ঘাটতির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বেসরকারি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে গণসাক্ষরতা অভিযানের ২১ দফা দাবি-সম্বলিত একটি স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন।
এই ২১ টি দাবির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ অথবা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষার জন্য বিনিয়োগ করা। সরকারের প্রথম তিন অর্থবছরে জিডিপির ৫ শতাংশ এবং পর্যায়ক্রমে ৫ বছরের মধ্যে ৬ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা প্রণয়ন করা।
এ ছাড়াও প্রাথমিকে শিক্ষার্থীপ্রতি মাসে ন্যূনতম ৫০০ টাকা, নিম্ন মাধ্যমিকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৭০০ টাকা এবং মাধ্যমিক ও তার ওপরের শ্রেণিতে ১ হাজার টাকা করা, সমন্বিত শিক্ষা আইন করা, শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, স্থায়ী শিক্ষা কমিশন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে স্বল্পমেয়াদী কোর্সের ওপর জোর দেওয়া, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান, দুর্যোগপ্রবণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে শিক্ষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত প্রণোদনা প্রদান, প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলগুলোকে সমাজকল্যাণের আওতায় আনা, জাতীয়ভাবে গবেষণার তথ্যসম্বলিত ডেটা ব্যাংক করা, শিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণ, নোটবই, গাইডবই ও কোচিং বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া, উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল সর্বজনীন করার জোর দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর)-এর ৩০ শতাংশ ব্যবহার ও ‘এডুকেশন সেইজ’ চালু করা যেতে পারে। প্রতিবেশি দেশ ভারতে এডুকেশন সেইজ (সারচার্জ) প্রবর্তন করে লক্ষাধিক কোটি টাকার ‘শিক্ষা সহায়তা তহবিল’ গঠন করা হয়েছে। আমরা যমুনা সারচার্জ দিয়ে যমুনা সেতু করেছিলাম, সেরকমই এটা।
অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ, ইএলসিজি বাংলাদেশ এর কো-চেয়ার এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার এডুকেশন অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলর্মী।
উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অংশীজন শিক্ষা গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সহযোগী, প্রতিবন্ধী শিক্ষক সংগঠনের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা বাজেট নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
৮১ দিন আগে
নারীদের আইসিটিতে দক্ষ করে তুলতে হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
নারীদের তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম শামসুন নাহার চাঁপা।
তিনি বলেন, দেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের চাহিদা বাড়লেও এই সেক্টরে নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত কম। নারীদের এই সেক্টরের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সমাজ এবং দেশের অগ্রগতির জন্য নারীদের কর্মক্ষম হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের আয়োজনে ‘এমপাওয়ারিং গার্লস উইথ আইসিটি স্কিলস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে নারীদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: পলক
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে প্রযুক্তিতে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই ডিজিটাল প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা আছে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে সরকার আইসিটি খাতে নজর দিচ্ছে এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছে। বাংলাদেশে প্রযুক্তির বিকাশ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং সামগ্রিকভাবে দেশের সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ( শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক তানিয়া হক।
সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন, আরএমজি ও রেমিট্যান্সের পরে বাংলাদেশের জিডিপিতে আইসিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই সেক্টরে কম বিনিয়োগ লাগে তাই এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত।
ড. মনজুর আরও বলেন, ‘নারীদের আইসিটি ক্ষেত্রে অবদান রাখা খুবই সহজ, কারণ এখানে কাজের সময়টা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ (ফ্লেক্সিবল)। নারীরা চাইলেই দিনের যেকোনো সময় কাজ করতে পারে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের আইসিটি খাতে অংশীদারিত্বে সৌদির আগ্রহ প্রকাশ
৮০৯ দিন আগে