কিশোর
লালমনিরহাটে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে উপজেলার সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়াকত আলী লাদেন উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের আশরাফুলের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের রাব্বি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিতর্কের জেরে লিয়াকত আলী লাদেনকে গাঁজাখোর বলে গালি দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে লাদেন রাব্বিকে চড়-থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি রাব্বি তার পরিবারকে জানালে তার বাবা ও বড় ভাই রকি লাদেনকে আক্রমণের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। এর পরেও রাব্বির পরিবারের লাদেনের প্রতি ক্ষোভ থেকে যায়।
সোমবার রাত ৮টার দিকে লিয়াকত আলী লাদেন তার বাড়ির পাশের সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একা বসে ছিলেন। এ সময় রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে স্থানীয়রা লাদেনকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত রকিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
১১ দিন আগে
বরিশালে লঞ্চ থেকে পড়ে কিশোর নিখোঁজ
বরিশাল, ২ জুন (ইউএনবি)— বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় কালাবদর নদীতে লঞ্চ থেকে পড়ে মো. রানা (১৭) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ রানা বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। বাবা-মায়ের সঙ্গে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছিল ছেলেটি। সেখান থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুই দিন আগে রানার পরিবার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কামরুল মোল্লার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে আজ (মঙ্গলবার) সকালে তারা লঞ্চে করে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর অসাবধানতাবশত রানা পা পিছলে নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় মুহূর্তেই তিনি স্রোতের টানে তলিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা জাল ও নৌকা নিয়ে তাকে খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু দ্রুত স্রোতের কারণে তাকে আর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার পর নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে কালীগঞ্জ নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
কালীগঞ্জ নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল বলেন, ‘নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় জেলেরা যৌথভাবে নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এ ঘটনায় লঞ্চটির চলাচলের সময়সূচি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সলেমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি মেসার্স মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিক আব্দুস সালাম মোল্লার কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মেসার্স মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির এমএল লিমা এক্সপ্রেস ৪ লঞ্চটি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লেঙ্গুটিয়া থেকে বরিশালের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ভোলাইবাড়ির সামনে লঞ্চের ছাদে অবস্থানরত এক যাত্রী নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়। লঞ্চের ছাদে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে যাত্রী বহন করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
১৮ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে হত্যা, আটক ৩
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাজুল ইসলাম (১৬) নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। এ ঘটনায় তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তাজুল ওই গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে ছিল। আটকরা হলেন— ওই গ্রামের রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮)
স্থানীয়দের বরাত পুলিশ জানায়, রাতে ওই এলাকার কামাল মৃধার বাড়িতে তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠান থেকে তাজুলকে বাড়ির পেছনের বিলে ডেকে নিয়ে তলপেটে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা সন্দেহভাজন হিসেবে ওই তিন যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওই তিন যুবককে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।
২০ দিন আগে
রংপুরে পুকুরে গোসলে নেমে প্রাণ গেল দুই কিশোরের
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাঠালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— উপজেলার কাঠালপাড়া গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে তামিম (১৩) ও সুরুজ মিয়ার ছেলে সাদমান (১৪)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে চার বন্ধু একসঙ্গে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। তাদের মধ্যে তামিম ও সাদমান সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা অপর দুই বন্ধু চিৎকার শুরু করে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান বলেন, ‘তারা সব সময় একসঙ্গে খেলাধুলা করত। বিকেলে গোসল করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি।’
চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহিন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দুই কিশোরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক ঘটনার বলেন, তাদের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
২৯ দিন আগে
নড়াইলে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা
নড়াইলের কালিয়ায় মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় মো. বাদল মোল্যা (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের কালডাঙ্গা গ্রামে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করে ওই কিশোর। আজ (বুধবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।
বাদল কালডাঙ্গা গ্রামের মিঠু মোল্যার একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
স্থানীয়রা জানান, বাদল মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। তবে তার পরিবার মোটরসাইকেল কিনে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে ছেলেটি বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করে। এরপর বাড়ি ফিরে কোনো একপর্যায়ে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস নেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে ওই ঘরে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি জানান, বাদল আর বেঁচে নেই।
পরে কালিয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে গতকাল রাতেই মরদেহটি হেফাজতে নেয়। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পরবর্তী সময়ে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
ওসি ইদ্রিস আলী জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৫৭ দিন আগে
শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পর মুখে অ্যাসিড: অপরাধীদের সবাই কিশোর
নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা করে অ্যাসিডে মুখ ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় ৫ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।
তিনি জানান, অপরাধীদের ধরতে নাটোর জেলা পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা দল মাঠে ছিল। তারা অভিযান চালিয়ে প্রথমে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার পাঁচ কিশোরের মধ্যে চারজনের বাড়ি বড়াইগ্রাম উপজেলার গারফা ও আশপাশের গ্রামে। আরেকজনের বাড়ি চাটমোহরের রামপুর।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিশুটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে শিকার করেছে। নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারদের কেউই প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তাদের পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তাদের মধ্যে স্কুল ও মাদরাসার ছাত্র রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) শিশুটি বেড়াতে বের হয়। পাশেই দাদিবাড়ি গিয়ে তার সেমাই খাওয়ার কথা ছিল বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বিকাল হয়ে গেলেও দুই বাড়ির কোথাও সে না গেলে স্বজনরা খোঁজাখুজি শুরু করেন। তবে কাল তাকে খুঁজে পায়নি কেউ। এরপর আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে কয়েক শ’ গজ দূরে চাটমোহর উপজেলার কাটাখালী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের একটি ভুট্টাখেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রথমে তারা শিশুটির পরিবারে খবর দেন, এরপর পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে নাটোর ও পাবনা জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় শিশুটির মুখমণ্ডল অ্যাসিডে ঝলসানো এবং শরীর বিবস্ত্র ছিল। পরে পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে লাশটি পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সেদিন প্রতক্ষ্যদর্শী ও শিশুটির প্রতিবেশী এমদাদুল হক বলেন, এলাকার কৃষকরা খেতে কাজ করতে গিয়ে প্রথম তার লাশ দেখতে পায়। পরে পরিবারে খবর দিলে আমরা সেখানে যাই। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ভুট্টাখেতে শিশুর ঝলসানো বিবস্ত্র লাশ, ধর্ষণ সন্দেহ পুলিশের
তিনি বলেন, তার মুখের পুরোটাই পোড়া ছিল। গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। আমাদেরও ধারণা, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে পাষণ্ড দুর্বৃত্তরা। লাশের মুখ যাতে চেনা না যায়, তার জন্য অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে নিজের ধারণার কথা জানান বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহনাজ পারভীনও।
লাশ উদ্ধারের পর থেকেই অপরাধীদের শনাক্ত ও ধরতে পুলিশের গোয়েন্দা দল মাঠে নেমেছে বলে জানিয়েছিলেন বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
সেদিন তিনি জানান, শিশুটির বাড়ি বড়াইগ্রাম উপজেলায় (নাটোর) হলেও লাশটি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাবনার চাটমোহর এলাকায় পাওয়া গেছে। ফলে সংঘটিত অপরাধটির মামলা চাটমোহর থানায় লিপিবদ্ধ হবে। তবে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে।
৪২৭ দিন আগে
ফরিদপুরে নিখোঁজ কিশোরের লাশ মিলল ঘাসখেতে
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঘাসখেত থেকে মো. মাহবুবুর রহমান (১৭) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মাহবুবুর দহিসারা গ্রামের বাসিন্দা এবং সাইফুল্লাহ মোল্যার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরযোশরদী ইউনিয়নের দহিসারা গ্রামের মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে সে নিখোঁজ হয়।
নিহতের বাবা সাইফুল্লাহ মোল্যা বলেন, ‘মাহবুবুর মাদকাসক্ত ছিল। তাকে নেশা থেকে বিরত রাখতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরিতে দেওয়া হয়। গত তিন বছর সে গার্মেন্টসে চাকরি করলেও নেশা করা থেকে বিরত হতে পারেনি। বুধবার রাত ১০টার দিকে মাহবুবুর আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আর ফেরেনি। আমরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খবর পাই মাহবুবুরের লাশ ঘাসখেতে পড়ে আছে।’
আরও পড়ুন: খুলনায় ইউপি চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে হাতবোমা নিক্ষেপ
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফর আলী বলেন, ‘ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে নেশা খেয়ে মারা গেছে। তারপরও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।’
৪৪২ দিন আগে
ফতুল্লায় কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, যুবক আটক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জিহাদ (১৭) নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরমান নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাত পৌঁনে ৮টার দিকে ফতুল্লার লামাপাড়া দরগাহ মসজিদ এলাকায় ছুরিকাঘাতে হত্যার এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জিহাদ পটুয়াখালীর আউলিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পরিবারসহ ফতুল্লা মডেল থানার পশ্চিম লামাপাড়ার বাল্লক চিশতিয়ের বাসায় ভাড়া থাকতেন।
আটক মো. আরমান ফতুল্লা মডেল থানার পশ্চিম লামাপাড়ার বাসিন্দা।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, দরগাহ মসজিদের সামনে আরমানের চাচা শাহিন মিয়ার একটি ফলের দোকান আছে। ঘটনার সময়, শাহিন ইফতারের পর রাত পৌঁনে ৮টার দিকে দোকান থেকে বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখতে পান, দোকানে থাকা ব্যাটারি চুরি হয়ে গেছে। এ সময়, দোকানের সামনে জিহাদসহ আরও দুই কিশোর দাঁড়িয়ে ছিল।
আরও পড়ুন: যশোরে বাড়িতে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা
ব্যাটারি চুরির ঘটনায় সন্দেহের ভিত্তিতে আরমান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে, আরমান ক্ষুব্ধ হয়ে বাসা থেকে সুইচ গিয়ার এনে জিহাদকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা আহত জিহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা আরমানকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।’
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন।
৪৫৮ দিন আগে
অটোরিকশাচালককে হত্যা, কিশোরকে ১০ বছরের আটকাদেশ
নাটোরে আসাদ মোল্লা নামের এক চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই মামলায় এক কিশোরকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোহম্মদ হাসিবুল ওরফে মোহম্মদ আলী সদর উপজেলার হালসা এলাকার কামাল জোয়াদ্দারের ছেলে।
২০১৮ সালে ঘটনার সময় আসামির বয়স ছিল ১৬ বছর আর বর্তমানে ২২। রায় ঘোষণার সময় মোহম্মদ আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
আরও পড়ুন: বন্ধুকে হত্যা মামলার প্রায় ১০ বছর পর যুবককে আটকাদেশ
নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের সরকারি কৌঁসুলি আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, ২০১৮ সালের ১১ মে রাতে আসাদ অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন উপজেলার হালসা এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে আসাদের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সিরাজ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ওই মামলায় প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক আজ (রবিবার) এ রায় দেন।
৪৬১ দিন আগে
দেশে ফিরল ভারতে পাচার হওয়া ১৬ কিশোর-কিশোরী
ভারতে পাচারের শিকার ১৬ বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভারতের ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করেন।
১৬ কিশোর-কিশোরী হলেন- নুরঅনকিষ, কাওছার আলী, দিপু সরকার, পূজা, মিথিলা দাস, সোনিয়া খাতুন, অমৃতা ঘোষ, রাবিয়া খাতুন, নয়ন বিশ্বাস, সামাদ মোল্লা, মোমিন মোল্লা, আশিকুল ইসলাম, দেব দাস, রাশিদুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, জিয়াদ মোল্লা।
তাদের বাড়ি খুলনা, নড়াইল, বান্দবান ও নেত্রকোনা জেলায়। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, ১৬ কিশোর-কিশোরীকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের হাতে মা-ছেলে আটক, পরে ফেরত
পরে রাইটস যশোর সেখান থেকে ওই ১৬ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য নিয়ে যান বলেও জানান ওসি ইমতিয়াজ ভূঁইয়া।
রাইটস যশোরের সাইকোসোস্যাল কাউন্সিলর মো. জাওয়াদুল করিম জানান, এরা দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতে যায়। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে আদালত তাদেরকে শুকন্য কিশোলয় সুবায়ন সেল্টার হোম নামের ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদেরকে নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখে। পরে ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফিরেছেন।
তিনি আরও জানান, তাদেরকে বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৫ জনকে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। পরে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৫০৫ দিন আগে