নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রলিচালক নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানন্দা ট্রেনের ধাক্কায় একটি ছাগলবোঝাই ট্রলির চালক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সোয়া ৬টার দিকে নাচোল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে নাচোল-খলসি সড়কের দেওপাড়া রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম আজাদ (৩৫)। তিনি উপজেলার বান্দ্রা গ্রামের মহিবুর রহমানের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আবুল কালাম আজাদ একটি ট্রলিতে ছাগল নিয়ে দেওপাড়া এলাকা থেকে নিজ বাড়ি বান্দ্রায় ফিরছিলেন। পথে দেওপাড়া রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় রহনপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী মহানন্দা ট্রেনের সঙ্গে ট্রলিটির সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
৪ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ১৭ জন নিহত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা।
স্থানীয় সময় বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়।
এ বছর গ্রীষ্মে রাশিয়ার বড় আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। গতরাতের (বুধবার) হামলাটি ছিল সেই ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ একটি ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ইউক্রেনের হাতে সীমিত। একমাত্র ইন্টারসেপ্টরের মাধ্যমেই রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব। বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের হাতে নেই। তাই রাশিয়া একসঙ্গে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে সেগুলো প্রতিহত করা ইউক্রেনের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এ হামলায় রাজধানী কিয়েভের আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলে ১৪ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির ব্রোভারি, বুচা ও ফাস্টিভ জেলায় একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে হাব্রোভারি শহর ও ভেলিকা ডাইমেরকা, কভিটনেভে ও পেরেমোহা গ্রামের বড় বড় গুদামঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ফাস্টিভ জেলায় একটি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে লাগা আগুন পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অন্যদিকে, বুচা জেলার সোফিইভস্কা বরশচাহিভকার একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে আগুন নেভানো হয়। পরে চাইকি গ্রামের আরেকটি গুদামঘরে আগুন নেভান দমকলকর্মীরা।
হামলায় রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, কিয়েভ সিটি মিলিটারি প্রশাসন জানিয়েছে, ওবোলনস্কি, সভিয়াতোশিনস্কি, হলোসিয়িভস্কি ও দেসনিয়ানস্কি এসব জেলায় হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন জরুরি সেবা কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ বলেন, ‘এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। শত্রুপক্ষ নির্বিচারে সবকিছুতে হামলা চালাচ্ছে। খুচরা পণ্যের গুদাম, খাদ্য সংরক্ষণাগার, লজিস্টিকস হাব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণসামগ্রীর গুদামঘর কোনো কিছুই তারা বাদ রাখেনি।’
রাশিয়ার বড় ধরনের হামলার শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘এপিসেন্টর’। এটি ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রয় ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশক ধরে যা গড়ে তুলেছিল, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তা ধ্বংস করে দিয়েছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মী নিহত ও আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়াও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রতিষ্ঠানটির সিরামিক টাইলস কারখানার উৎপাদন বিভাগ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে কোম্পানিটি সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে তা বিদেশে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে তাদের প্রায় ২ বছর সময় লাগতে পারে।
এপিসেন্টর আরও জানায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ইউক্রেনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিও তারা সংহতি প্রকাশ করছে। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে কত বছরের পরিশ্রম, চেষ্টা, বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা তারা ভালোভাবেই জানে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার খুচরা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটি রাশিয়ার অ্যামাজন নামে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছে। বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে মস্কোর অর্থনীতিতে ক্ষতি করা ও রাশিয়ার জনগণকে যুদ্ধের মূল্য উপলব্ধি করাতে ইউক্রেন এসব হামলা চালাচ্ছে।
১ দিন আগে
উগান্ডায় ট্রাক-যাত্রীবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১৪
উগান্ডায় যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যান ও বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দেশটির কালুঙ্গু জেলার কামুঙ্গা ট্রেডিং সেন্টার এলাকায় একটি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এক বিবৃতিতে দেশটির পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (সোমবার) রাতে কালুঙ্গু জেলার একটি মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যানের সঙ্গে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই ট্যাক্সি ভ্যানটির যাত্রী ছিলেন। এছাড়া আরও ৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। তারা ট্রাকচালককে খুঁজছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো উগান্ডাতেও সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা। সেখানে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এসব দুর্ঘটনার জন্য যানবাহনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত গতি ও সড়কের বেহাল অবস্থাকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে, জুলাই মাসে পূর্ব উগান্ডায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বাস মনোরম এক জলপ্রপাত এলাকা থেকে ফেরার পথে সড়ক থেকে ছিটকে উল্টে যায়। ওই বাসটিতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসফর শেষে ফিরছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ শিশু ও ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়েছিল।
২ দিন আগে
বাগেরহাটে একই পরিবারের তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় মা, মেয়ে ও নাতিসহ একই পরিবারের তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউনিয়নের চাঁদেরখোলা গ্রামে নিহতদের বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
নিহতরা হলেন—চাঁদেরখোলা গ্রামের রশিদ শেখের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৮৫), তার মেয়ে মনিরা বেগম (৫৫) এবং মনিরার ছেলে আহাত হাওলাদার (২৫)।
কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহামুদ হাসান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই নারী ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তিনি জানান, কাঠের তৈরি ঘরের একটি কক্ষ থেকে মনিরা বেগম ও তার ছেলে আহাত হাওলাদারের মরদেহ এবং অপর কক্ষ থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এক থেকে দুই দিন আগে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আজ (মঙ্গলবার) সকালে এক প্রতিবেশী বাড়িটিতে গিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে ডাকাডাকি করেন। তবে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই বাড়িতে নিহত তিনজন ছাড়া আর কেউ বসবাস করতেন না। নিহত আহাত হাওলাদার পেশায় একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি ছিলেন।
এসআই মাহামুদ হাসান জানান, কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
২ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৫
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কার পাহাড়ি অঞ্চলে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই দুর্যোগে আরও অন্তত ৩ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চা-বাগানসমৃদ্ধ পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
গত দুদিনের ভারী বর্ষণে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই বৈরী আবহাওয়ায় দেশটির মধ্যাঞ্চলের চা-বাগানসমৃদ্ধ পাহাড়ি এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে দুটি বাড়ির ওপর ভূমিধসে মাটিচাপা পড়ে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি জানান, বৃষ্টি ও বন্যায় ১২৯টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নৌ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিরু টিভির সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বন্যায় বাড়িতে আটকে পড়া ও কাদার স্রোতে চাপা পড়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সেনাসদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন প্রধান সড়কে বড় বড় পাথর, ভূমিধসের মাটি ও উপড়ে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে থাকায় অনেক স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে, গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিতওয়া’র তাণ্ডবে দেশটিতে প্রায় ৬৪০ জন নিহত হন। ওই দুর্যোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং আনুমানিক ৪১০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সর্বশেষ এই দুর্যোগের সময়ও এখনও শ্রীলঙ্কা সরকার ডিতওয়ার ফলে সৃষ্ট সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
ডিতওয়া ঘূর্ণিঝড়েও শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই অঞ্চলের সড়ক, রেলপথ ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে এখনও কাজ করে যাচ্ছে দেশটির সরকার।
শ্রীলঙ্কায় প্রতি বছর বন্যা ও ভূমিধস ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। বর্ষা মৌসুমের ভারী বৃষ্টিতে মূলত সেখানে মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হয়। একই সঙ্গে দেশটিতে নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা হয়। ফলে প্রতিবছর হাজারো মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
২ দিন আগে
নড়াইলে পৃথক ঘটনায় ২ জন নিহত
নড়াইলে পৃথক ঘটনায় এক যুবক ও এক মাদ্রাসাছাত্র নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে লোহাগড়া উপজেলায় রহমত শেখ (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
আজ (সোমবার) সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চর-মল্লিকপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রহমত শেখ চর-মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুল হাই শেখের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, রহমত শেখের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। রবিবার রাতে তিনি খাবার খেয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। আজ সকালে তাকে ডাকাডাকি করলেও তার কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের দরজা ভেঙে জানালায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রহমতের মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতের কোনো এক সময় তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারেননি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, নড়াইলে কালিয়া পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ তানভীর (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিহত হয়েছে।
আজ সকাল ৮টার দিকে কালিয়া পৌর এলাকার বেন্দা গ্রামে একটি চায়ের দোকানে চা বানাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তানভীর বেন্দা গ্রামের মো. আজগার শেখের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
জানা গেছে, তানভীর তার বাবার চায়ের দোকানে বাবাকে সহায়তা করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক কেতলিতে চা বানাতে যায়। এ সময় কেতলিতে সমস্যা দেখা দিলে তানভীর নিজেই তা সারার চেষ্টা করে। এ সময় সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, নিহত ৫, নিখোঁজ বহু
ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ঠিক কতজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন দেশটির উদ্ধারকারীরা। গতকাল (রবিবার) সকাল ৬টা থেকে ৭টার দিকে সুমেনেপ রিজেন্সির জলসীমায় ফেরিটিতে আগুন লাগে।
‘মুতিয়ারা সেন্টোসা-২’ ফেরিটি ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরের উদ্দেশে যাচ্ছিল।
উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির ম্যানিফেস্ট অনুযায়ী এতে ২৩২ জন যাত্রী ও ৩৯ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
এদিকে, সোমবার সকালে কর্মকর্তারা জানান, ফেরিটিতে ম্যানিফেস্টে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ছিলেন। এখন পর্যন্ত ২২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে প্রকৃতপক্ষে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা নির্ধারণে কর্মকর্তারা নিহত ও জীবিতদের পরিবারের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন।
সুরাবায়া উদ্ধার কার্যালয়ের প্রধান নানাং সিগিত জানান, ইন্দোনেশিয়ায় নৌযান বা ফেরিতে যাত্রীর প্রকৃত সংখ্যার সঙ্গে অনেক সময় ম্যানিফেস্টে উল্লেখিত সংখ্যার মিল থাকে না। নৌযানগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে এমন অসঙ্গতি দেখা দেয়। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়ে।
এদিকে, ফেরিতে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ফেরিটিতে ১৮০টি যানবাহনও ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ট্রাক। এছাড়া এতে একটি এক্সকাভেটরও বহন করা হচ্ছিল।
উদ্ধার হওয়া যাত্রী আহমাদ আবদুল করিম জানান, সম্ভবত নিচতলার যানবাহন ডেকে থাকা একটি ট্রাক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘বাতাসের কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সবাইকে ফেরির সামনের অংশে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’
ঘটনাস্থলটি সুমেনেপ রিজেন্সির বুরুয়ান সাপুদি দ্বীপের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এ দুর্ঘটনার পর সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধারকারী নৌযান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ ও ঘটনাস্থলের আশপাশ দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি জাহাজও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
ফেরিটি ১৯৯২ সালে জাপানে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে কয়েক বছর চলাচলের পর ২০১৫ সালে এটি ইন্দোনেশিয়ায় বিক্রি করা হয়। প্রায় ১৬০ মিটার (৫২৫ ফুট) দীর্ঘ এ ফেরিতে ৬৮৯ জন যাত্রী, ৪৯ জন ক্রু সদস্য এবং সর্বোচ্চ ১৮১টি যানবাহন বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
মুতিয়ারা সেন্টোসা-২ নিয়মিত সুরাবায়া-মাকাসার রুটে চলাচল করে। সাধারণত এ যাত্রাপথ অতিক্রম করতে প্রায় ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। জাভা ও সুলাওয়েসি দ্বীপের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এ রুটটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি চলাচল অন্যতম প্রধান যাতায়াত ব্যবস্থা। তবে দেশটিতে প্রায়ই নৌদুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার জন্য দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২ দিন আগে
চট্টগ্রামে পিকআপের চাপায় ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ে পিকআপের চাপায় মোটরসাইকেল-আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তারা একই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন ছিলেন বলে জানা গেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকার পুরাতন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের চরশরৎ এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে জয়নাল আবেদিন (৩৫) এবং চরশরৎ এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে জহির উদ্দিন (৫২)। জয়নাল আবেদিন উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ওলামা দলের সভাপতি এবং ওই এলাকার দরগাহপাড়া কালা পীরশাহ জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। জহির উদ্দিন একই মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, মীরসরাইয়ের বারইয়ারহাটে জরুরি একটি কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ইমাম ও মুয়াজ্জিন। পথে চৌধুরীহাট এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি মাছবাহী পিকআপ তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাফায়াত হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
মীরসরাই জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩ দিন আগে
রাজধানীতে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ২
রাজধানীর মুগদা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় এক রাজমিস্ত্রি ও এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) মুগদা জেনারেল হাসপাতালের নির্মাণাধীন নতুন আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে মো. ইউসুফ (৩০) নামে এক রাজমিস্ত্রি নিহত হয়েছেন।
আজ (রবিবার) দুপুর সোয়া ২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইউসুফের বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার খনচপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম পিয়ার মোল্লা।
হাসপাতালে নিহতের ভাতিজা মো. শাকিল জানান, ‘আমার চাচা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। আজ দুপুরের দিকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের নির্মাণাধীন নতুন আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলায় কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, আমার চাচা আর বেঁচে নেই।’
অন্যদিকে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মো. সোলায়মান দেওয়ান (৪৩) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে শনির আখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মো. সোলায়মান পেশায় স্টিলের আলমারির মিস্ত্রি ছিলেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সোলায়মান দেওয়ানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল মজিদ দেওয়ান।
নিহতের শ্যালক লিটন জানান, সোলায়মান একটি প্রতিবেশীকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে গ্রামে ফিরছিলেন। পথে শনির আখড়া এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত ঢামেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও ঘাতক কাভার্ড ভ্যানটি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে এই দুই মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
পাকিস্তানে তুষারধসে নিখোঁজ ১০ পর্বতারোহীর সবাই নিহত
পাকিস্তানের ব্রড পিকে তুষারধসে খ্যাতিমান ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ (নিমস দাই) ও আরও ৯ পর্বতারোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারীরা মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) নির্মল পুরজার অভিযাত্রী প্রতিষ্ঠান এলিট এক্সপেড এ তথ্য নিশ্চিত করে।
এক বিবৃতিতে এলিট এক্সপেড জানায়, পর্বতারোহণের জগৎ তাদের অন্যতম সেরা একজন পর্বতারোহীকে হারিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহত অন্য পর্বতারোহীদের প্রতিও গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অকল্পনীয় ক্ষতির বেদনা লাঘব করার মতো কোনো শব্দ তাদের কাছে নেই।
গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ব্রড পিকে পর্বত আরোহণের সময় ১০ সদস্যের ওই পর্বতারোহী দলটি তুষারধসে নিঁখোজ হন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের খোঁজে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ব্যাহত হয়। এরপর শুক্রবার উদ্ধারকারীরা দলটির চারজনের মরদেহ শনাক্ত করেন এবং তার মধ্যে তিনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। শনিবার থেকে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারের সহায়তায় বাকি সদস্যদের অনুসন্ধানে আবারও অভিযান শুরু হয়।
এ বিষয়ে পাকিস্তানের আলপাইন ক্লাবের সভাপতি ইরফান আরশাদ খান বলেন, ‘পর্বতের টানে বিভিন্ন দেশ থেকে একত্রিত হওয়া এই সাহসী পর্বতারোহীদের মৃত্যু বিশ্ব পর্বতারোহণ অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
এ সময় তিনি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক উদ্ধারকারী এবং শেরপাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘পর্বতের সৌন্দর্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তবে একই সঙ্গে এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, হিমালয় ও কারাকোরামের দুর্গম পর্বতে অভিযান চালানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।’
এর আগে, শনিবার স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা তাহির খান জানান, ওমানের পর্বতারোহী নাথিরা আহমেদের মরদেহ পাকিস্থানের ইসলামাবাদে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন পর্বতারোহী ম্যালোরি গেইস ও নেপালের বাহাদুর গুরুঙের মরদেহ পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের প্রধান শহর স্কার্দুর একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
গেইসের পরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ম্যালোরি একজন প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন। তাকে তার পরিবার ও বন্ধুরা গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তাকে আমাদের ভীষণ মনে পড়বে।’
এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নেপালে জন্ম নেওয়া সাবেক ব্রিটিশ সেনাসদস্য নির্মল পুরজা, যিনি ‘নিমস দাই’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি মাত্র ১৮৯ দিনে বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তার এই অসাধারণ কীর্তি নিয়ে ‘ফোরটিন পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত করেছিল নেটফ্লিক্স।
পুরজার প্রতিষ্ঠান তাকে স্মরণ করে জানায়, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের সাহস, বিনয়ের মাধ্যমে লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি এই বিশ্বাসে অটল ছিলেন যে মানুষের সামর্থ্য আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি।
অপরদিকে, ম্যালোরি গেইস প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে ৮ হাজার মিটার উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া মুভিং মাউন্টেইনস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির গাইড, ভূগোলবিদ ও পাহাড়ি বা উঁচু অঞ্চলের আলোকচিত্রী সাখির জন্য এটিই তার জীবনের শেষ পর্বত অভিযান হওয়ার কথা ছিল। তিনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেছেন।
উত্তর পাকিস্তানে তুষারধস, বরফ ও পাথর ধসে পড়া এবং অতিরিক্ত উচ্চতা ও দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে পর্বতারোহণ অভিযানে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।
৪ দিন আগে