নিহত
রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কাওসার (২৬) ও তার ছেলে রেদোয়ান (৫)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের শলুয়া গ্রামে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক খান জানান, রাজশাহী থেকে নাটোরগামী একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
৫ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ২৩
নাইজেরিয়ার মাইদুগুরি শহরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতপ্রবণ ওই শহরটিতে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।
শহরের বাসিন্দা এবং জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো জানায়, বর্নো রাজ্যের রাজধানী মাইদুগুরির জনবহুল এলাকায় পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণ বড় বাজারে এবং আরেকটি ঘটে মাইদুগুরির টিচিং হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বর্নো পুলিশের মুখপাত্র নাহুম কেনেথ দাসো এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই হামলায় মোট ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন।’ এই হামলার জন্য সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারীদের দায়ী করেছেন তিনি।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে কাজটি জিহাদি সংগঠন বোকো হারাম করেছে বলে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই গোষ্ঠিটি ২০০৯ সালে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় তাদের কট্টর শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্রোহ শুরু করেছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোকো হারাম আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাদের হাজার হাজার যোদ্ধা এবং বিভিন্ন উপদল রয়েছে। এই উপদলগুলোর মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশের ইসলামিক স্টেট’ অন্যতম, যা আইএসের অঙ্গসংগঠন।
মাইদুগুরি শহর দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দু হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে এর আশপাশের গ্রামাঞ্চলগুলো প্রায়ই জঙ্গি হামলার শিকার হয়ে থাকে।
নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী শহরের উপকণ্ঠে জঙ্গিদের হামলা প্রতিহত করার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই আত্নঘাতী বোমা হামলা ঘটেছে। এলাকাবাসীর মতে, এটি পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে পরিকল্পিতভাবে করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে হামলার শিকার এলাকাগুলো এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়, তবে আতঙ্কের কারণে অনেক জনসমাগমস্থল বন্ধ ছিল।
বর্নো পুলিশ জানায়, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।’
৬ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) জেলার সদর ও কটিয়াদী উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে ভৈরব–কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়। এ সময় রাস্তার পাশে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর সময় ইমন মিয়া (২৬) নামে এক যুবক ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই গরুসহ নিহত হন।
নিহত ইমন আচমিতা ইউনিয়নের চাড়িপাড়া এলাকার খালেক মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
অন্যদিকে, দুপুর ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ মোড়ে একটি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঘটে। এতে দুই কিশোর গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্কুল ছাত্র ইরফানকে (১৬) মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া অবস্থার অবনতি হলে অপর কিশোর নৌশাদকে (২০) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তারও মৃত্যু হয়।
নিহত ইরফান শহরের হারুয়া এলাকার ফোরকান মিয়ার ছেলে। কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।
এ ছাড়াও দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকায় কিশোরগঞ্জ–ভৈরব আঞ্চলিক সড়কে একটি বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী অজ্ঞাতনামা এক নারী নিহত হন।
একই দিন বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়। তবে নিহত নারী ও শিশুটির পরিচয় জানা যায়নি।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া এবং কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খুরশেদ আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৬ দিন আগে
পাকিস্তানে ঈদের ভাতা নিতে গিয়ে ছাদ ধসে ৮ নারী নিহত
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে সরকারি কল্যাণ ভাতা নিতে জড়ো হওয়া নারীদের ভিড়ের মধ্যে একটি দোকানের ছাদ ধসে অন্তত আটজন নারী নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) এ ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
উদ্ধারকর্মী আশিক মাহমুদ জানান, শতাধিক নারী ভাতা নিতে সেখানে জড়ো হলে দোকানদার কিছু নারীকে ছাদের ওপর উঠতে বলেন এবং অন্যরা দোকানের ভেতরে অবস্থান করেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে ছাদটি ধসে পড়ে।
পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান জেলায় এসব নারী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আর্থিক সহায়তা নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
২০০৭ সালে বন্দুক ও বোমা হামলায় নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর নামে চালু করা বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামের আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো নিম্নআয়ের পরিবারের নারী নগদ সহায়তা পেয়ে থাকেন। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি তিন মাসে ১৩ হাজার রুপি (প্রায় ৪৫ ডলার) করে পায়।
রমজান মাসে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য ও নগদ সহায়তা বিতরণের সময় পাকিস্তানে প্রায়ই ভিড় ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে করাচিতে একটি কারখানার বাইরে রমজানের খাদ্য ও নগদ সহায়তা নিতে গিয়ে শত শত মানুষ ভিড় করলে পদদলনে অন্তত ১১ জন নারী ও শিশু নিহত হয়েছিল।
৭ দিন আগে
সিলেটে বজ্রপাতে জেলে নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতে রামচন্দ্র তালুকদার (৫৫) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার ধলাই নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার মহানন্দ তালুকদারের ছেলে। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার একটি কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, রামচন্দ্র তালুকদারসহ কয়েকজন মৎস্যজীবী নতুনবাজার এলাকায় ভাড়া থেকে ধলাই নদীতে বেড়জাল দিয়ে মাছ শিকার করতেন। গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যার পর রামচন্দ্র একাই একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ৯টার দিকে নদীতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৭ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা এলাকার বাসিন্দা শরীফুল আনামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাশু রাজনীতির পাশাপাশি কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের পাশে ইট বালুর ব্যবসা করতেন। সোমবার সকালে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে একটি গুলি মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
৭ দিন আগে
রাজবাড়ীতে তেল পাম্পে ট্রাকের চাপায় পৃথক দুই ট্রাকের চালক ও সহকারী নিহত
রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ের একটি পাম্পে তেল নিতে আসা এক ট্রাকের চাপায় অপর ড্রাম ট্রাকের চালক এবং আরেক ট্রাকের সহকারী নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় সপ্তবর্ণা ফিলিং স্টেশন নামক তেল পাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ব্রাকপাড়ার ইদ্রিস পাটোয়ারীর ছেলে ডাম ট্রাকচালক সোবাহান পাটোয়ারী (৪৫) ও অপর আরেক ট্রাকের সহকারী স্বপন মিয়া (২২) ঢাকার ধামরাই উপজেলার নান্নার গ্রামের সরল মিয়ার ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ড্রাম ট্রাকের চালক সোবাহান পাটোয়ারী তেল নেওয়ার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই তেল পাম্পে আসেন। এ সময় ট্রাক থেকে নেমে ডিজেল সরবরাহকারী ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে তিনি দাঁড়ান।
অন্যদিকে, ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী অপর একটি ট্রাকের সহকারী স্বপন মিয়াও ট্রাক সিরিয়ালে রেখে ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে দাঁড়ান। একই সময় মেশিন থেকে তেল নিচ্ছিল একটি মাহেন্দ্র গাড়ি। মাহেন্দ্র গাড়িটির তেল নেওয়া শেষ হওয়ায় ওই সময় পাম্পে তেল নিতে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা অপর আরেকটি ট্রাকের চালক গাড়ি চালু করা মাত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মাহেন্দ্র গাড়িটিকে ধাক্কা দেন। এ সময় গাড়িটি ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে থাকা সোবাহান পাটোয়ারী ও স্বপন মিয়াকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন সোবহান পাটোয়ারী ও স্বপন মিয়া। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ আজ (সোমবার) সকালে বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর ওই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার মধ্যরাতে ফরিদপুর থেকে ট্রাকচালক সোবহানের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি খানখানাপুর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর ট্রাকের সহকারী স্বপনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ধামরাই নিয়ে গেছে তার পরিবার। দাফনের কাজ শেষে নিহতের পরিবারকে আসতে বলা হয়েছে। তারা আসার পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
৭ দিন আগে
চাঁদপুরে প্রতিবেশীর এক ঘুষিতে প্রাণ গেল অটোচালকের
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কলার পাতা কাটাকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার (৬৩) নামে এক ব্যক্তির এক ঘুষিতেই তার প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আজ (শনিবার) গ্রেপ্তার তিনজনকে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দীন।
নিহত বিল্লাল হোসেন (৫০) ইছাপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে ছিলেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, তিন সন্তানের বাবা বিল্লাল ও আবুল বাশার প্রতিবেশী হলেও জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার তা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছিলেন আবুল বাশার।
গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে স্থানীয় রমজান আলীর দোকানের সামনে দুজনের মধ্যে এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল বাশার হঠাৎ পেছন দিক থেকে বিল্লাল হোসেনের ঘাড়ে ঘুষি দেন। এতে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান বিল্লাল। পরে উপস্থিত কয়েকজন তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি হেলাল উদ্দীন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, ঘটনার পরপরই আবুল বাশার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। চাঁদপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সাকের্ল) মুকুর চাকমার দিকনির্দেশনায় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও মামলার এজহারভুক্ত তিন আসামি—আবুল বাশার, তার দুই ছেলে শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমাম হোসেনকে (৩০) আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গতকাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) তাদের চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৯ দিন আগে
পাশাপাশি কবরে শায়িত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ জন
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বাগেরহাট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পোর্ট পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো এনে গোসল শেষে সকাল থেকে একে একে তাদের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। আর কনে পক্ষের বাড়ি কয়রায় ও রামপালের চালকসহ ৫ জনকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রদের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই সেতু এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান। সব মিলিয়ে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য।
নিহতরা হলেন— আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক মেয়ে ঐশী, ৪ নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ। এছাড়া তার এক পুত্রবধু পুতুল বেগম নিহত হন। কয়রা উপজেলার কনের দাদি, নানী, বোন ও কনে এবং রামপাল উপজেলার মাইক্রোবাস চালক এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
মোংলায় বর সাব্বির ও তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ জনের মরদেহ শুক্রবার ভোরে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজায় অংশ নেন মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক জানাজায় অংশ নেয়।
মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোরভাবে কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে বিআরটিএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে কনে মিতু, তার বোন, নানী ও দাদির মরদেহ খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালককে দাফন করা হয় রামপালের তার নিজ বাড়িতে।
১০ দিন আগে
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলার একই পরিবারের চার জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে মিতু, লামিয়া ও রাশিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এছাড়া দাকোপে মিতুর নানী আনোয়ারা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতরা হলেন— কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের সালাম মোড়লের মেয়ে নববধু মার্জিয়া মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া (১০), তাদের দাদী মৃত শামছুউদ্দিন মোড়লের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানী আনোয়ারা বেগম মারা গেছেন। মিতু নাকশা আলিম মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বোলাই সেতু এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নাকশা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরযাত্রী নববধু মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া, বৃদ্ধা দাদি রাশিদা ও নানী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে মাইক্রোবাসে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি রামপাল বেলাই সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোংলা থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা নববধু, বর ও তাদের স্বজনসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের গ্রাম নাকশাসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়িতে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
১০ দিন আগে