নিখোঁজ
মুন্সীগঞ্জে পদ্মায় গোসলে নেমে নিখোঁজ ২
মুন্সীগঞ্জে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে লৌহজং উপজেলায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ৪ নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন শরীফ ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের কর্মী মো. মারুফ (৪০) ও মো. রাসেল (৩৫)। মারুফের বাড়ি ঢাকার খিলগাঁওয়ে এবং রাসেলের বাড়ি পটুয়াখালীতে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে খবর আসে, শরীফ ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের দুজন কর্মী পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছেন। তারা মোট আটজন গোসল করতে নেমেছিলেন।
খবর পেয়ে ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নিখোঁজরা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ডুবুরি দলের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
৮ দিন আগে
রাজবাড়ীতে পদ্মায় গোসলে নেমে ৮ বছরের শিশু নিখোঁজ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নুর আমিন (৮) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্রোতের টানে নিখোঁজ হয় সে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল তার সন্ধান করছে।
নিখোঁজ নুর আমিন দৌলতদিয়ার শাহাদত মেম্বার পাড়ার রেজাউল ফকিরের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জানায়, আজ (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নুর আমিনসহ চার বন্ধু বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বাহির চর দৌলতদিয়া ছাত্তার মেম্বার পাড়ার ৬ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় যায়। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে ড্রেজিং চলছিল। ফলে নদীর তলদেশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। সেখানে তিন বন্ধু নুর আমিন, সাব্বির ও রায়হান নদীতে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর স্রোতের টানে নুর আমিন তলিয়ে যায়।
পরে বন্ধুরা বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের পাশাপাশি নৌপুলিশ নদীতে তল্লাশি শুরু করে। দুপুর ২টার দিকে আরিচা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নুর আমিনের দাদা আনোয়ার ফকির বলেন, দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার নাতির কোনো সন্ধান পায়নি তারা।’
আরিচা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুর ২টার দিকে খবর পেয়ে সাত সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে চারজন ডুবুরি নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে কাজ করছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্রোতের কারণে তাদের উদ্ধার অভিযান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
১১ দিন আগে
গাইবান্ধা থেকে নিখোঁজ মা-মেয়েকে ২০ দিন পর বগুড়া থেকে উদ্ধার
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে নিখোঁজ এক নারী ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে ২০ দিন পর বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাদের সুন্দরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন এসআরবি-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের সদস্যরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১৩ গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান।
মনিরুজ্জামান জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে গৃহবধূ মিতু আক্তার ও তার মেয়ে আকসা নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও তাদের না পেয়ে ১ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করে পরিবার। পুলিশও দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর তাদের না পাওয়ায় বিষয়টি আমলে নেয় এসআরবি-১৩।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসআরবি-১৩-এর একটি দল গতকাল (সোমবার) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় আজিজুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে নিখোঁজ মিতু আক্তার ও তার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে তারা কীভাবে নিখোঁজ হলো কিংবা বগুড়ায় পৌঁছাল, সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।
১৪ দিন আগে
রিসোর্টে আগুন: যশোরের একই পরিবারের ৪ সদস্য এখনও নিখোঁজ
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী বিচ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় যশোরের একই পরিবারের চার সদস্য এখনও নিখোঁজ।
এ চারজন হলেন যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১) ও তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই সন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।
নাহিদুর ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়াতে বসবাস করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নাহিদুরের বড় ভাই ও যশোরোর মণিরামপুর পৌরশহরের বাসিন্দা জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে বুকিংয়ের বিল দেখে তারা জানতে পারেন, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ওই রিসোর্টের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। নাহিদুর ১১ অক্টোবর কক্ষটি বুকিং দেন এবং ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।
নাহিদুর শুক্রবার কক্সবাজারে যাবেন বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। তাই শনিবার আগুনের ঘটনা জানার পর ছোট ভাইয়ের মোবাইল ফোনে কল দেন জাহিদুর। তবে তিনি নাহিদুর বা পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
জাহিদুর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাবা এখনও নাহিদুরদের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানেন না। তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে সেটাও নিশ্চিত হতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান তাকে জানিয়েছেন, নাহিদ নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়। এর মধ্যে চারজন নিহতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। ফায়ার সার্ভিসের দল সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
১৬ দিন আগে
নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেল কুমিল্লায়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দাউদকান্দি মডেল মসজিদের পাশের একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, মোহাইমিনুল অন্য একজনের মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে তার বিভাগের শিক্ষার্থী শফিউজ্জামান শাহীনকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি দাউদকান্দি মডেল মসজিদের আশপাশে রয়েছেন বলে জানান এবং তাকে উদ্ধারের অনুরোধ করেন।
বার্তাটি পাওয়ার পর সাভার থানা পুলিশ বিষয়টি দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশকে জানায়। পরে দাউদকান্দি পুলিশ অভিযান চালিয়ে মসজিদের পাশের একটি বাড়ি থেকে মোহাইমিনুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর রাত ১০টার দিকে সাভার থানা পুলিশ দাউদকান্দি থানায় পৌঁছালে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওসি পলাশ বলেন, ‘মোহাইমিনুলকে কেউ আটকে রাখেনি। তিনি নিজেই মসজিদের পাশের একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
উদ্ধার হওয়ার পর মোহাইমিনুলকে শারীরিকভাবে সুস্থ মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গতকাল (সোমবার) বিকেলে মোহাইমিনুলের সন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি মোহাইমিনুলের সন্ধানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগসহ প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান।
গত রবিবার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন মোহাইমিনুল। এরপর তার কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। সেখানে বিভাগের অবহেলার কথা উল্লেখ থাকায় বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নোট পাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছিল না।
২১ দিন আগে
পটুয়াখালীতে মাদরাসা থেকে ১১ বছরের ছাত্র নিখোঁজ
পটুয়াখালীর বাউফলে একটি আবাসিক হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে মো. মিনহাজ খান (১১) নামে এক ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর উপজেলার আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসার হেফজ শাখা থেকে বের হওয়ার পর তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ মিনহাজ খান ওই মাদরাসার হেফজ শাখার তৃতীয় জামাতের ছাত্র। তার বাবা মো. রুহুল আমিন ওরফে ইউনুচ। তাদের বাড়ি পাশের দশমিনা উপজেলার নেহালগঞ্জ এলাকায়।
মাদরাসার শিক্ষক মো. বায়জিদ হোসেন বলেন, মিনহাজ এর আগেও কয়েকবার মাদরাসা থেকে চলে গিয়েছিল। গেল রবিবার দুপুরের পর সে কাউকে কিছু না জানিয়ে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। তারপর বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি জানাতে তার বাবাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আমরা ধারণা করেছিলাম, মিনহাজ হয়তো বাড়িতে গেছে। এ কারণে আর সেদিন ফোন করা হয়নি বলে জানান তিনি।
ওই শিক্ষক আরও বলেন, গতকাল (সোমবার) দুপুরে মিনহাজের বাবার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে তার ছেলে বাড়িতে পৌঁছায়নি। এরপর মাদরাসার শিক্ষক ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
শিক্ষক বায়জিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা মনে করছি, শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে সে এভাবে চলে গিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ তদবির দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তাকে পাওয়া যাবে।’
নিখোঁজ ছাত্রের বাবা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার ছেলে দুই দিন ধরে নিখোঁজ। গতকাল মাদরাসা থেকে ফোন করা হয়েছিল, কিন্তু আমি ফোন ধরতে পারিনি। সবসময় ফোনের কাছে থাকা হয় না। তারা আবার ফোন করবে ভেবেছিলাম।
‘পরে গতকাল দুপুর ১২টার পর ফোন করে শিক্ষকরা জানতে চায়, ছেলে বাড়িতে এসেছে কি না। আমি জানাই, সে বাড়িতে আসেনি। এরপর থেকেই আমরা খোঁজাখুঁজি করছি। এখনও কোনো সন্ধান পাইনি।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪২ দিন আগে
কুবি শিক্ষিকার নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া গেছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
৪৫ দিন আগে
ভোলায় মেঘনার পাড় ধসে বিজিবি সদস্যসহ নিখোঁজ ২
ভোলায় মেঘনা নদীর পাড় ধসে নদীতে পড়ে বিজিবি সদস্যসহ দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল মাছঘাট-সংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতেই অভিযান শুরু হয়, যা আজ (বৃহস্পতিবার) এখনও চলছে।
নিখোঁজরা হলেন ভোলা শহরের ভদ্রপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে ও বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ (২৬) এবং শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বাবুলের ছেলে মো. রাকিব (১৮)।
স্থানীয়রা জানায়, রাত ৯টার দিকে পাঁচ বন্ধু মেঘনা নদীর তীরে বালুভর্তি জিওব্যাগের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জিওব্যাগসহ নদীর পাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে পাঁচজনই পানিতে পড়ে যান। পরে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আমজাদ ও রাকিব নিখোঁজ হন।
আমজাদের স্বজনরা জানান, দুই মাস আগে আমজাদ ছুটিতে বাড়িতে আসেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল তার। বুধবার বিকেলে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে ঘুরতে যান। সন্ধ্যার পর তারা আমজাদ নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু এখনও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাতে তল্লাশি চালানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল থেকেও ডুবুরি এসে উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেন।
ভোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মিরাজুল ইসলাম জানান, বরিশাল থেকে আসা অভিজ্ঞ একটি ডুবুরি দল নিখোঁজ দুই যুবককে উদ্ধারে কাজ করছে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশও ঘটনাস্থলে রয়েছে। তবে এখনও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে।
৫৪ দিন আগে
লিবিয়ায় যাওয়ার পথে তিন বছর ধরে নিখোঁজ যশোরের ৫ যুবক
উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের শার্শার পাঁচ যুবক। তারা প্রত্যেকে স্থানীয় দালালদের ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছিলেন। তবে লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজ যুবকেরা হলেন শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত, আনোয়ার হোসেন, রানা হোসেন, শাহিন আলম ও মেহেদী হাসান।
স্বজনদের অভিযোগ, লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার তিন বছর পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। উল্টো জমি-জমা বিক্রি ও ধার-দেনা করে দালালদের দেওয়া টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলো চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি নিখোঁজদের জীবন নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্বজনরা। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে তারা যৌথভাবে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান্যখোলা গ্রামের সোহাগ নামের এক দালাল লিবিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এই টাকার একটি বড় অংশ সোহাগের বাবা, মা ও বোনের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
নিখোঁজ যুবকরা লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই স্বজনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে সোহাগ কথা বলিয়ে দেওয়া, টাকা ফেরত দেওয়া ও যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কিছুই হয়। একপর্যায়ে তিনি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এদিকে নিখোঁজ শাহিন আলমের মা আমেনা বেগম ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের নামে সুবিধা নিয়েও কোনো সমাধান দিতে পারেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগের বাবা মফিজুর রহমান জানান, তার ছেলে তিন বছর ধরে লিবিয়ায় রয়েছেন। তিনি বিদেশে লোক পাঠালেও বর্তমানে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি নিজে কোনো টাকা নেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন এবং ছেলের কোনো অপরাধের দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মানবাধিকার কর্মী নাজমুল ইসলাম জানান, কেবল শার্শার এই পাঁচ যুবকই নন, একই সময়ে লিবিয়া যাওয়ার পথে নড়াইল, বাগেরহাট ও ফরিদপুরের আরও অন্তত ৩৫ জন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তার মারাত্মক ইঙ্গিত দেয়। সরকারি উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তাদের উদ্ধারের আশা দেখছেন তিনি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা ও জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫৭ দিন আগে
নেপালে নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন স্বজনরা
নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় এখনও যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের আর জীবীত উদ্ধারের আশা পরিত্যাগ করেছেন স্বজনররা। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন শোকাস্তব্ধ নেপালবাসী।
নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে নিখোঁজ স্বজনদের মৃত ধরে নিয়ে কয়েকটি পরিবার এ ধরনের প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করেছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ গুরুত্বপূর্ণ শেষকৃত্য। স্বজনের মরদেহ না পেলেও এই আনুষ্ঠানিকতা পালন কিছু পরিবারের জন্য আধ্যাত্মিক স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নুয়াকোটের মুকুন্দ রিজাল জানান, তার কয়েকজন চাচাতো ভাই ও তাদের মেয়েদের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে পরিবার তাদের প্রতীকী শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।
ত্রিশূলী নদীর তীরে এক পুরোহিত নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের প্রতীক হিসেবে খড় দিয়ে তৈরি অবয়ব তৈরি করেন। পরে সেগুলো ছোট ছোট কাঠের স্তূপ দিয়ে ঢেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতীকী চিতাগুলোর চারপাশে হিন্দু দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয় এবং স্বজনরা শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
নিখোঁজ পর্যটকদের কেউ কেউ যোগাযোগ করেছেন
এদিকে, আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত কয়েকজন বিদেশি পর্যটক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মা জানিয়েছেন, আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত অন্তত আরও পাঁচ পর্যটক সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ই-মেইল বা ফোনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
৬১ দিন আগে