নিখোঁজ
কুবি শিক্ষিকার নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া গেছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
১০ ঘণ্টা আগে
ভোলায় মেঘনার পাড় ধসে বিজিবি সদস্যসহ নিখোঁজ ২
ভোলায় মেঘনা নদীর পাড় ধসে নদীতে পড়ে বিজিবি সদস্যসহ দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল মাছঘাট-সংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতেই অভিযান শুরু হয়, যা আজ (বৃহস্পতিবার) এখনও চলছে।
নিখোঁজরা হলেন ভোলা শহরের ভদ্রপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে ও বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ (২৬) এবং শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বাবুলের ছেলে মো. রাকিব (১৮)।
স্থানীয়রা জানায়, রাত ৯টার দিকে পাঁচ বন্ধু মেঘনা নদীর তীরে বালুভর্তি জিওব্যাগের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জিওব্যাগসহ নদীর পাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে পাঁচজনই পানিতে পড়ে যান। পরে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আমজাদ ও রাকিব নিখোঁজ হন।
আমজাদের স্বজনরা জানান, দুই মাস আগে আমজাদ ছুটিতে বাড়িতে আসেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল তার। বুধবার বিকেলে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে ঘুরতে যান। সন্ধ্যার পর তারা আমজাদ নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু এখনও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাতে তল্লাশি চালানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল থেকেও ডুবুরি এসে উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেন।
ভোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মিরাজুল ইসলাম জানান, বরিশাল থেকে আসা অভিজ্ঞ একটি ডুবুরি দল নিখোঁজ দুই যুবককে উদ্ধারে কাজ করছে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশও ঘটনাস্থলে রয়েছে। তবে এখনও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে।
৯ দিন আগে
লিবিয়ায় যাওয়ার পথে তিন বছর ধরে নিখোঁজ যশোরের ৫ যুবক
উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের শার্শার পাঁচ যুবক। তারা প্রত্যেকে স্থানীয় দালালদের ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছিলেন। তবে লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজ যুবকেরা হলেন শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত, আনোয়ার হোসেন, রানা হোসেন, শাহিন আলম ও মেহেদী হাসান।
স্বজনদের অভিযোগ, লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার তিন বছর পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। উল্টো জমি-জমা বিক্রি ও ধার-দেনা করে দালালদের দেওয়া টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলো চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি নিখোঁজদের জীবন নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্বজনরা। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে তারা যৌথভাবে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান্যখোলা গ্রামের সোহাগ নামের এক দালাল লিবিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এই টাকার একটি বড় অংশ সোহাগের বাবা, মা ও বোনের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
নিখোঁজ যুবকরা লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই স্বজনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে সোহাগ কথা বলিয়ে দেওয়া, টাকা ফেরত দেওয়া ও যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কিছুই হয়। একপর্যায়ে তিনি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এদিকে নিখোঁজ শাহিন আলমের মা আমেনা বেগম ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের নামে সুবিধা নিয়েও কোনো সমাধান দিতে পারেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগের বাবা মফিজুর রহমান জানান, তার ছেলে তিন বছর ধরে লিবিয়ায় রয়েছেন। তিনি বিদেশে লোক পাঠালেও বর্তমানে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি নিজে কোনো টাকা নেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন এবং ছেলের কোনো অপরাধের দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মানবাধিকার কর্মী নাজমুল ইসলাম জানান, কেবল শার্শার এই পাঁচ যুবকই নন, একই সময়ে লিবিয়া যাওয়ার পথে নড়াইল, বাগেরহাট ও ফরিদপুরের আরও অন্তত ৩৫ জন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তার মারাত্মক ইঙ্গিত দেয়। সরকারি উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তাদের উদ্ধারের আশা দেখছেন তিনি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা ও জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১২ দিন আগে
নেপালে নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন স্বজনরা
নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় এখনও যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের আর জীবীত উদ্ধারের আশা পরিত্যাগ করেছেন স্বজনররা। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন শোকাস্তব্ধ নেপালবাসী।
নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে নিখোঁজ স্বজনদের মৃত ধরে নিয়ে কয়েকটি পরিবার এ ধরনের প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করেছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ গুরুত্বপূর্ণ শেষকৃত্য। স্বজনের মরদেহ না পেলেও এই আনুষ্ঠানিকতা পালন কিছু পরিবারের জন্য আধ্যাত্মিক স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নুয়াকোটের মুকুন্দ রিজাল জানান, তার কয়েকজন চাচাতো ভাই ও তাদের মেয়েদের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে পরিবার তাদের প্রতীকী শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।
ত্রিশূলী নদীর তীরে এক পুরোহিত নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের প্রতীক হিসেবে খড় দিয়ে তৈরি অবয়ব তৈরি করেন। পরে সেগুলো ছোট ছোট কাঠের স্তূপ দিয়ে ঢেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতীকী চিতাগুলোর চারপাশে হিন্দু দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয় এবং স্বজনরা শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
নিখোঁজ পর্যটকদের কেউ কেউ যোগাযোগ করেছেন
এদিকে, আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত কয়েকজন বিদেশি পর্যটক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মা জানিয়েছেন, আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত অন্তত আরও পাঁচ পর্যটক সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ই-মেইল বা ফোনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
১৬ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৭৬, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
গেল বুধবারের ভয়াবহ বন্যার চার দিন পর আজ শনিবারও নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় চাপা পড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে সাতজন নিহত এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দুই অঞ্চলে মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৬ এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর অন্যতম নুয়াকোটে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। তবে দুপুরের আগে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসার পর আবারও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, কিছু হেলিকপ্টারে পোশাক, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বিস্কুট ও চালসহ ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়। অন্য হেলিকপ্টারগুলো বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষদের নিয়ে ফিরে আসে।
২১ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ ২৯৮০
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়ে ২ হাজার ৪২৬ জন হয়েছে।
এছাড়া চীনের অংশে হতাহত ও জীবিতদের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া গেলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে ৫৫৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে উদ্ধারকর্মী ও সামরিক সদস্যরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শনিবার আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা এবং চীনের তিব্বত অংশে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং সীমান্ত ক্রসিংসহ কয়েকটি স্থানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
বাসনেত বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে ঘন কাদায় ভরা একটি সুড়ঙ্গে ১০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা ঝুড়ি ও দড়ির সাহায্যে কয়েকজনের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর কাদা এবং হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য সীমিত জায়গা থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নতুন বন্যার সতর্কতার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিতে হয়েছে।
বুধবারের প্রাথমিক বন্যার পর হিমালয়ের উঁচু এলাকায় হিমবাহ ধসের ফলে একটি নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়। হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
তবে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত হ্রদটির আয়তন কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার বা ৩২ ফুট নেমেছে।
এদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে।
নেপালের বন্যাকবলিত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে শনিবার নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন বহু মানুষ। একটি ত্রাণকেন্দ্রে সামরিক সদস্যরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামসংবলিত কাগজ দেওয়ালে টাঙিয়ে দেন। স্বজনরা সেগুলো ঘিরে প্রিয়জনদের নাম খুঁজতে থাকেন। অনেকে তালিকার ছবি তোলেন এবং নাম খুঁজতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চীনের সঙ্গে নেপালের সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরেও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা হেঁটে ও ভেলায় করে সেখানে পৌঁছাচ্ছেন। ড্রোনের সাহায্যেও কিছু উদ্ধারকর্মীকে এলাকায় নামানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তারা জীবিতদের সন্ধানে ডাকাডাকি করছেন।
বন্যার সময় ওই সীমান্ত চেকপোস্টের ভবনটিতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা সেখানে কাজ, ট্রেকিং অথবা একটি পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।
২১ দিন আগে
পদ্মায় ফুটবল খেলতে গিয়ে শিশু নিখোঁজ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে মোস্তাকিম হোসেন (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। এ সময় স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া ইব্রাহিম হোসেন (১২) নামে আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ মোস্তাকিম উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হায়দারের চর এলাকার রতন জমাদারের ছেলে। উদ্ধার হওয়া ইব্রাহিম একই গ্রামের জিয়ারুল শাহের ছেলে। তারা দুজনই সোনাতলা দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ছয়জন শিশু ভাগজোত ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর পানিতে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে তীব্র স্রোতের টানে মোস্তাকিম ও ইব্রাহিম গভীর পানির দিকে চলে যায়। তারা দুজনই পানিতে ডুবে যেতে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে প্রবল স্রোতের কারণে মোস্তাকিমকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ঘটনাস্থলে মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। সকালে খাওয়াদাওয়া শেষে মাদ্রাসায় না গিয়ে ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে খেলতে গিয়েছিল। পরে নদীতে পড়ে ডুবে যায়। এখনও আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাইনি।’
মাদ্রাসার শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, সকালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে খাওয়া শেষে মোস্তাকিম বন্ধু ও স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে আসে। পরে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমিসহ আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় শিশুটি ভেসে অন্যত্র চলে যেতে পারে।’
২২ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: নিহত বেড়ে ৫৪৩, নতুন হ্রদ থেকে ফের বন্যার আশঙ্কা
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে চীন। দুই দেশের এ দুর্যোগে দেড় হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্যে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায় যে বন্যায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫৩৮। তবে দেশটির পুলিশ জানায়, এর সংখ্যা ৫৪৭ জন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৯০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এর মধ্যেই বন্যার উজানে নতুন তৈরি হওয়া ও উপচে পড়া একটি হ্রদ থেকে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ।
বুধবারের ওই ভয়াবহ দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে আজ শুক্রবারও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নতুন হ্রদ থেকে ফের বন্যার শঙ্কা
বুধবারের দুর্যোগের পর উজানে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নেপাল ও চীনের কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে। হ্রদটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে বলে জানিয়ে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানায়, হ্রদটিতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এতে জমা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি শুক্রবার সকালে জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ গিরং বন্দরের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ অবস্থিত। কাদা ও বন্যার পানিতে গিরং বন্দরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিসিটিভির তথ্যমতে, হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৯৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, যা গিরং বন্দরের চেয়ে প্রায় ১ হাজার মিটার উঁচুতে।
সম্ভাব্য নতুন বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় নেপাল সেনাবাহিনী ভোতেকোশি নদীর পরিস্থিতি পরিদর্শনে সীমান্ত এলাকায় একটি দল পাঠিয়েছে।
২২ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে নিখোঁজ জুবায়েল ও শংকর মিত্রের সন্ধান চায় তাদের পরিবার
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার গান্দাইল ইউনিয়নের উদগাড়ি গ্রাম থেকে গত ২৩ আগস্ট সকালে হারিয়ে গেছে স্কুলছাত্র জুবায়েল হোসেন। ওই দিন থেকে তার কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না তার পরিবারের সদস্যরা।
নিখোঁজ জুবায়েল উদগাড়ি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে। সে উদগাড়ি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
জুবায়েলের চাচা মোতালেব হোসেন বলেন, গত ২৩ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি জুবায়েলের সন্ধান পেয়ে থাকলে বা তার বিষয়ে কোনো তথ্য জেনে থাকলে আমার মোবাইল নম্বরে ০১৩২৩৬১৫৫৩৫ যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করছি।
অপরদিকে, গত ২১ আগস্ট সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুকুন্দগাঁতী মহল্লার মৃত গৌর মিত্রের ছেলে শংকর মিত্র (৭৪) টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর উপজেলার নিকরাইল গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান। এর দুই দিন পর ২৩ আগস্ট বিকেলে নিকরাইল এলাকা থেকে হারিয়ে যান তিনি। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় শংকর মিত্রের ভাগ্নে রাজীব চন্দ্র ভৌমিক ভুঞাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন।
রাজীব বলেন, কোনো সহৃদয় ব্যক্তি শংকর মিত্রের সন্ধান পেলে দ্রুত আমার মোবাইল নম্বর ০১৭৬৬০২২৩২৮-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।
২৩ দিন আগে
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৬৫, নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন নিহত হাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপালের সরকারি কর্তৃপক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশ’ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ নেই বলে জানিয়েছে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় কম্পন শনাক্ত হওয়ার তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রবল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকার জনবসতি, সড়ক, সেতু, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
রাসুয়ার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও রাসুওয়াগাধি এবং নুওয়াকোটের বেত্রাবতী, ত্রিশূলী ও দেবীঘাট এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২৩ দিন আগে