মন্ত্রিসভায় রদবদল
সরকারের ১৮০ দিনে মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে বলে কোনো সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মন্ত্রিসভার রদবদল ১৮০ দিনের পর হবে, সরকারের দিক থেকে এ ধরনের কোনো কিছু বলা বা ইঙ্গিত করা হয়নি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হতে পারে। কারও কাছে অনেক বেশি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকলে সেখানেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব ১৮০ দিন পূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এই ইভালুয়েশন (মূল্যায়ন) চলতে থাকবে। এটা ১৮০ দিন নয়; দ্বিতীয় বছর, তৃতীয় বছর বা যেকোনো সময় হতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার চাইবে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে। কোথাও কোনো সমস্যা তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন।’
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন বলেও এ সময় জানান ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, ‘১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিকে অ্যাড্রেস করবেন—এমন একটি সম্ভাবনা আছে এবং সেটার বেশিই আছে, সম্ভাবনা হচ্ছে সেটা করতে যাচ্ছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি সবকিছু।’
এদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ব্রিফ করেছেন। ওই ব্রিফিং থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত শক্তভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের যে রিয়েল অ্যালাইনমেন্টের (সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস) কথা বলছি, সেটার অনুকূল পরিবেশ ভারতের দিক থেকে তৈরি করতে হবে।’
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি ধারণা ও সন্দেহ রয়েছে যে, তার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে ভারতের সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ ও সহযোগিতা পেয়েছে।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘যাকে আমরা দেশে এনে বিচার করতে চাই, তিনি সেখানে বসে সংবাদ সম্মেলন করছেন। তাকে প্রত্যর্পণের কথা ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তি আছে। একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আমরা দেশে এনে আইনের আওতায় আনতে চাই। এই বিষয়গুলো ভারতকে আন্তরিকভাবে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, দুই দেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত।
৪ ঘণ্টা আগে