নাসা গ্রুপ
আদালতের নির্দেশে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকদের আইনানুগ বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রম ও ব্যবসায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পঞ্চদশ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শ্রম উপদেষ্টা জানান, ইতোমধ্যে আদালত দ্বারা নিয়োগকৃত প্রশাসকের মাধ্যমে নাসা গ্রুপের শেয়ার বিক্রি করে তাদের শ্রমিকদের ৭৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নাসা গ্রুমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ৮ টি ব্যাংকের ডাউন পেমেন্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি ১৫টি ব্যাংকের ডাউন পেমেন্ট এবং শ্রমিকদের অবশিষ্ট বকেয়া আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে নাসা গ্রুপের কিছু সম্পত্তি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিক্রি করে পরিশোধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নাসা গ্রুপের প্রশাসকসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
১২ ঘণ্টা আগে
নাসা গ্রুপের মালিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার পাচারের তদন্ত চলছে
নাসা গ্রুপের মালিক নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে বাণিজ্যভিত্তিক ৩০ লাখ ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি সূত্র জানায়, মজুমদারের মালিকানাধীন নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফিরোজা গার্মেন্টস লিমিটেড ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের কাছ থেকে ১৩০টি লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা বিক্রয় চুক্তি গ্রহণ করে। এসব চুক্তির আওতায় পোশাকগুলো যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হলেও তহবিল প্রত্যাবাসন না করেই বাংলাদেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে বলে সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা ব্যাংক থেকে ১২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা উদ্ধারে মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাইল জীবন বীমা
তদন্ত চলাকালীন আরও অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি জানতে পারে যে, মজুমদার তার মেয়ে আনিকা ইসলামের নামে ফিলিমোর গার্ডেন এবং ব্রান্সউইক গার্ডেনে বাড়ি লন্ডনে বিলাসবহুল সম্পত্তি কিনেছেন।
সিআইডির মিডিয়া উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান জানান, নজরুল ইসলাম মজুমদার শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানি করে দেশের বাজারে পণ্য বিক্রি করে শত শত কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছেন।
অধিকতর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নাসা গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন মজুমদার। সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে জড়িত আন্ডার-ইনভয়েসিং এবং ওভার-ইনভয়েসিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তহবিলগুলো বিদেশে পাচার করা হয়েছিল। এসব আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে পৃথক তদন্ত করছে ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
আরও পড়ুন: কামাল নাসের, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও মেসবাহ উদ্দিন গ্রেপ্তার
৪৭৪ দিন আগে