রাজশাহী
নেশার টাকা না পেয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে গেল ছেলে
রাজশাহী নগরীতে নেশা করার টাকা না পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সুমন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। মরদেহ রাস্তায় ফেলে বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে অবস্থান নেন সুমন। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পেরে সুমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খড়খড়ি এলাকার পুরাতন কৃষি ব্যাংক মোড়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত ওই নারীর নাম সোহাগী খাতুন (৫৫)। তিনি ওই এলাকার আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মাদকাসক্ত সুমন রাতে নেশার করার টাকার জন্য তার মাকে চাপ দেন। কিন্তু টাকা দিতে রাজি না হলে ধারালো হাসুয়া দিয়ে তিনি তার মায়ের বুকে ও পেটে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মা নিহত হন। পরে মায়ের মরদেহ রাস্তায় ফেলে রেখে বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে অবস্থান নেন সুমন। বিষয়টি স্থানীয়রা জানার পর ওই ঘর থেকে তাকে আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। নিহত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
প্রতিবেশী মোজাম্মেল হক জানান, সুমন নিয়মিত নেশা করতেন। তিনি এলাকায় নিয়মিত ছোটখাট চুরিও করতেন। সুমন সব সময় হাসুয়া বা রামদা নিয়ে ঘুরতো বলেও জানান তিনি।
নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই যুবক মাদকাসক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
রাজশাহীতে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, সাংবাদিক স্বামী আহত
রাজশাহীতে এক সাংবাদিকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সাংবাদিক নিজেও বাসায় আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
নিহত নারীর নাম রওশন আরা (৫৫)। তার স্বামীর নাম গোলাম কিবরিয়া কামাল (৬০)। তিনি কামাল মালিক নামে সাংবাদিকতা করেন। বর্তমানে স্থানীয় দৈনিক রাজশাহী সংবাদের উপসম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। নগরীর হড়গ্রাম বাজার এলাকার একটি বাসায় তিনি ভাড়া থাকেন। কামাল মালিক ডাক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ বাসা থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন জানান, রওশন আরাকে তারা মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। তার গলায় একটি কাপড় পেচানো ছিল। তবে তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে। সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার হাতে ও পায়ে জখম আছে। তিনি একধরনের রাসায়নিক দ্রব্য পান করেছিলেন। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনতলা বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন গোলাম কিবরিয়া। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে যায়। তাদের বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজা ভেঙে তাদের বের করা হয়েছে। মেঝেতে রওশন আরা পড়ে ছিলেন। আর বিছানায় আহত অবস্থায় ছিলেন গোলাম কিবরিয়া। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দৈনিক রাজশাহী সংবাদের সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরাও হাসপাতালে যাই। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সাংবাদিক কামাল মালিকের অবস্থা সংকটাপন্ন। হাত ও পায়ে জখম আছে। সম্ভবত রগ কেটে গেছে। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পর্যক্ষেণ করেছে। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। ওই দম্পতির বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। যা-ই ঘটুক, তারা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, এটুকু অনুমান করা যাচ্ছে।
৪ দিন আগে
রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ পুনরুজ্জীবিত করার আশ্বাস তারেক রহমানের
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লবকে টেকসই করতে থমকে যাওয়া পদ্মা ব্যারেজ ও বরেন্দ্র প্রকল্প উন্নয়ন পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উত্তরবঙ্গের কৃষি ও অর্থনীতি নিয়ে এই মেগা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে গৃহীত বিশাল সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে যে বিশাল সেচ প্রকল্পের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা, গত ১৬ বছরে সেটি পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে আজ সেই প্রকল্প বন্ধপ্রায়। আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটিকে আবার পূর্ণ শক্তিতে সচল করা।
উত্তরবঙ্গের কৃষকদের আশ্বস্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই সেচব্যবস্থা শুধু রাজশাহীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই প্রকল্পের সুবিধা রাজশাহী থেকে শুরু করে সেই পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা যেন পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।
তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, আর কৃষক হাসলে হাসবে বাংলাদেশ। আমরা চাই উত্তরের প্রতিটি প্রান্তরে সেচের পানি পৌঁছে যাক, যাতে আমাদের মায়েরা ও কৃষাণীরা সমৃদ্ধির মুখ দেখতে পান।
তারেক রহমান বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। এজন্য আমরা কৃষি কার্ড দেব। আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সূদসহ মওকুফ করব।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই। আমরা ক্ষমতায় গেলে আমের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ বা গুদাম তৈরি করব। এতে চাষিরা মৌসুমে আম পচে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তি পাবেন এবং নায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।
সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি তারেক রহমান এই অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, এটি হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এছাড়া প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন, যা দিয়ে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আজ কারো সমালোচনা করতে চাই না। কিন্তু একটি কথা বলতে চাই, বিএনপির বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সরকাকে বলবো, আপনারা সঠিক তদন্ত করে বের করুন।
২২ বছর পর রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিতি নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। জনসভায় তিনি উপস্থিত দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন এই উন্নয়নের বার্তা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে। তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।’
সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন পর্যায় থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।
এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানে করে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে পৌঁছান তারেক রহমান। এরপর নগরীর দরগাপাড়ায় হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন।
৬ দিন আগে
২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান, নেতা-কর্মীতে পূর্ণ নগরী
দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর পর রাজশাহী বিভাগ সফরে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উত্তরাঞ্চলে তিন দিনের সফরের অংশ হিসেবে আজ রাজশাহীতে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরইমধ্যে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছেছেন।
তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সকাল থেকেই দূর-দুরান্ত থেকে তারা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকেই কানায় কানায় পূর্ণ হতে শুরু করে মাদরাসা মাঠ। দুপুর ১২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সভা শুরু হয়েছে।
তারেক রহমানের রাজশাহী সফর উপলক্ষে সকাল থেকেই মাদরাসা মাঠে ঢাক-ঢোল, পতাকা হাতে নিয়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, ঢল নেমেছে সমর্থকদের। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দলীয় সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমান তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকার বাসভবন ছাড়েন। পরে বিমানযোগে রাজশাহী পৌঁছান দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে। সেখানে তার শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজারে নামাজ জিয়ারত করার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে একটি বড় জনসমাবেশের আয়োজন করেছে। মাঠের চারপাশে টাঙানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার। স্লোগান আর মিছিলের মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
রাজশাহী বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত বলেন, রাজশাহী ছাড়াও আশপাশের জেলা ও উপজেলার নেতা-কর্মীরাও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর কমিটি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য তিনি আসছেন, জনগণের জন্য তিনি আসছেন। তিনি আসছেন এই জন্য আমাদের যে ভোট ছিল তার চেয়ে আমাদের দ্বিগুণ ভোট বৃদ্ধি পাবে।’
সব মিলিয়ে সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহে মাদরাসা মাঠ ইতোমধ্যে পরিণত হচ্ছে এক বিশাল জনসমুদ্রে। দলের নেতারা আশা করছেন, এই সমাবেশ বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সর্বশেষ, ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা স্টেডিয়ামে বিএনপির রাজশাহী বিভাগের তৃণমূলের প্রতিনিধি সভায় যোগ দিতে রাজশাহী গিয়েছিলেন তারেক রহমান।
৬ দিন আগে
রাজশাহীতে অস্ত্রসহ দুই জন আটক
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘সিক্স স্টার গ্রুপের’ দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি সেট ও একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মথুরাপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল হালিম (২৯) ও আবু বাশার (২৭)।
পুলিশ জানায়, সেনাবাহিনীর বাগমারা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর আসিফ রায়হানের নেতৃত্বে একটি দল ভোরে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে হালিম ও বাশারকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি সেট এবং একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়। পরে সেনাবাহিনী আটক দুজনকে বাগমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাহেরপুর এলাকায় ‘সিক্স স্টার গ্রুপের’ আত্মপ্রকাশ ঘটে। তারা ওয়াকিটকি ব্যবহার করে এলাকায় চলাচল ও প্রভাব বিস্তার করত। পুকুর খননসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, সেনাবাহিনীর অভিযানের শেষ পর্যায়ে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। গতকাল (শুক্রবার) সকালে আটকদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও অপরাধের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাদের।
১১ দিন আগে
রাজশাহীতে জাপা প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা এনসিপি নেতার
রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ চলাকালে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আফজাল হোসেনের অংশগ্রহণের সময় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
প্রতীক বরাদ্দের সময় আফজাল হোসেনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হাতে উঁচু করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু।
এ সময় মাইক নিয়ে নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ কীভাবে খুনি ও দোষীদের সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সহযোগিতা করেছে, তাদের যদি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা ডিসি অফিস ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেব। জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রতীক বরাদ্দ দিলে রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ করব।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার তার অভিযোগ গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দেবে, আইন মেনে সেই অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতীক গ্রহণ করেন। এ সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সভাকক্ষে কিছু সময়ের জন্য হৈচৈ সৃষ্টি হয়।
পরে নাহিদুল ইসলাম সাজু সাংবাদিকদের জানান, তারা লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা প্রতিহত করার কর্মসূচি নেবেন।
১৪ দিন আগে
ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধের জন্যই আইনসভায় উচ্চকক্ষ: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতে ব্যক্তিবিশেষের স্বৈরাচার হওয়া রোধের জন্যই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বার বার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে।
এ কারণেই জুলাই সনদে সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন জনগণ ও সকল দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে সেইসঙ্গে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সকলের মতামত প্রতিফলিত হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান ও রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করেন।
অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সকল মানুষের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও আমরা সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় বিবেচনায় ব্যক্তিতান্ত্রিক ক্ষমতার লোভে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ আমাদের তরুণরা তৈরি করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে আর যেন ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয় তা নিশ্চিতে দায়িত্ব আমার, আপনার, সকলের।
এই গণভোট আমাদের ভিত্তি তৈরি করার নির্বাচন উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, যদি আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনগুলো দেখতে চাই এবং একে আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে চাই তাহলে গণভোটের মাধ্যমে রায় দিতে হবে।
সভার বিশেষ অতিথি মনির হায়দার বলেন, গণভোট যদি ব্যর্থ হয় তাহলে আপনার-আমার সন্তানকে আবার জীবন দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ পথ চিনে গেছে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, পরেরবার খুব দ্রুতই ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে।
প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, আপনার আমার সন্তানের ভবিষ্যতকে নিরাপদ রাখতেই জুলাই সনদ ও গণভোটে জনগণের সম্মতি প্রয়োজন।
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ভোটের পক্ষে প্রচারণায় কোনো বিধিনিষেধ নেই আশ্বস্ত করে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মনির হায়দার বলেন, গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই। গণভোট আমাদের সবার এজেন্ডা। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ তার বক্তব্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি উল্লেখ করে তিনি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
২২ দিন আগে
রাজশাহীতে হাটের মধ্যে ট্রাকচাপায় নিহত বেড়ে ৫
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলার হাট এলাকায় বালুবাহী ট্রাক উল্টে চাপা পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। ঘটনাস্থলে চারজন নিহতের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান জলিল নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৭টার দিকে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম (১৫), পাইকপাড়া গ্রামের আক্কেল প্রামাণিকের ছেলে মুনকার প্রামাণিক (৩৫), নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে সেন্টু (৪০) এবং রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৬০)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত রায়হান আলী জলিল (৪৫) উপজেলার খুটিপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝলমলিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে প্রতিদিনের মতো কলার হাট বসেছিল। ঘন কুয়াশার কারণে সকালে নাটোরগামী একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে একজনের লাশ স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নিহতরা সবাই কলা ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. সারওয়ার হোসেন জানান, সকাল সোয়া ৭টার দিকে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক ছেড়ে ব্যস্ত বাজার এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং পরে উল্টে যায়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রায়হান জলিলকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পরে সেখানে তিনি মারা যান বলে জানা গেছে।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে শুরু করে। এরই মধ্যে চারটি লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুনলাম, তিনিও মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি উদ্ধারে নাটোর ও রাজশাহীর পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। কেন এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
৩৪ দিন আগে
বালুভর্তি ট্রাক ঢুকে গেল বাজারে, রাজশাহীতে নিহত ৪
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এত আহত হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ঝলমলিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিস জানায়, বালুভর্তি একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাজারের ভেতরে ঢুকে গিয়ে উল্টে যায়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে নাটোর ফায়ার স্টেশনের আরও একটি ইউনিট উদ্ধারকাজ করতে আসে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুঠিয়া থানার পরিদর্শক ওসি (তদন্ত) বারি মুনশি বলেন, এখন ঘটনাস্থলে আছি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
৩৪ দিন আগে
৪২ ফুটেও খোঁজ মেলেনি, সাজিদকে উদ্ধারে যতটুকু দরকার খুঁড়বে ফায়ার সার্ভিস
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধানে রাত পেরিয়ে সকাল, সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে ৪২ ফিট খুঁড়েও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে উদ্ধার করতে যতটুকু খোঁড়া দরকার, খোঁড়া হবে বলে জানয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয়রাও কাটিয়েছেন নির্ঘুম রাত।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। খনন চলছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রাশাসন ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তা করছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট অবিরাম উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সাজিদ ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের যে গর্তে পড়ে গেছে, তার পাশে বড় গর্ত খুঁড়ে সেখান থেকে সুড়ঙ্গ পথে তার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সেখানেও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি তার। এখনো বিভিন্ন কৌশলে চেষ্টা চলছে শিশুটিকে সেখান থেকে উদ্ধারের।
শিশুটির অবস্থান শনাক্তে সেই গর্তে ফায়ার সার্ভিস ফেলেছিল বিশেষ ক্যামেরা। কিন্তু ৩৫ ফুট যাওয়ার পর ক্যামেরা আটকে গেলেও দেখা মেলেনি সাজিদের। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা, হয়তো ৪২ ফুটের নিচেই রয়েছে শিশুটি। পুরোটা সময় অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুর্ঘটনার পর পাইপের ভেতর থেকে শিশুটির সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় শিশুটি এখনো বেঁচে আছে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
তবে স্থানীয়দের ধারণা, এই এলাকা খরাপ্রবণ হওয়ায় পানির স্তর ১৩০ থেকে ১৪০ ফুট নিচে। তাই ৪০ ফুট নয়, আরেও নিচে চলে গেছে সাজিদ।
৫৫ দিন আগে