অনুদান
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ার ২ কোটি ৫২ লাখ ডলারের অনুদান
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতিবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে আজ অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার (৩ জুলাই) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত এই গুরুত্বপূর্ণ, নমনীয় এবং বহুবর্ষী অর্থায়ন বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
এমন এক সময়ে এই সহায়তা এসেছে, যখন বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন অনিশ্চয়তা ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই সময়োপযোগী সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য সহায়তার উৎস হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদাররা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগপ্রবণ ও নাজুক পরিবেশে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো চালিয়ে যেতে পারবে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, প্রায় ৯ বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি। আমি যেসব শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলি, প্রত্যেকেই তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তাসহ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রতি অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া এই সর্বশেষ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা নারী, কন্যাশিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নিরাপত্তার আশায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশ কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছেন। তাদের বেশিরভাগই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকট তাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং অনেককে টিকে থাকার জন্য ক্ষতিকর বিকল্পের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন বা প্রাণ হারান। রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা সুরক্ষা ও অপরিহার্য সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসইভাবে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থায়নের ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বয়স্ক মানুষের ওপর। ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে ক্যাম্পে এসেছে। তাদের অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত আশ্রয় এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানিসহ মৌলিক সেবার পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বহু বছর ধরে বাস্তুচ্যুত থাকার কারণে অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনও প্রায় সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাৎক্ষণিক মানবিক চাহিদা পূরণ জরুরি হলেও, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং বাস্তুচ্যুতি-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।
সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার এই সহায়তা সেই সংহতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস এবং তাদের জরুরি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১ দিন আগে
বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় রেড ক্রিসেন্টকে ১ লাখ ডলার অনুদান দিল চীন
সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (বিডিআরসিএস) ১ লাখ মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এ অনুদান হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বিডিআরসিএসের পক্ষে অনুদান গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই দুর্যোগে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি চীনের জনগণ গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, চীনা রেড ক্রস সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা আজ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে ১ লাখ ডলার জরুরি নগদ সহায়তা হস্তান্তর করছি। এই অনুদান বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীনা সরকার ও জনগণের আন্তরিক উদ্বেগ ও সংহতির বহিঃপ্রকাশ।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখনই দুর্যোগ বা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই চীন দ্রুততম সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবছর দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং বন্যা মোকাবিলার সরঞ্জাম দিয়ে বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে চীন। গত বছর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে উদ্ধারসামগ্রী প্রদান করা হয়েছিল, যা চলমান বন্যা মোকাবিলায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম চীন সরকার, চীনের জনগণ এবং চীনা রেড ক্রস সোসাইটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা চীন সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা ইতোমধ্যে সবচেয়ে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চীনের এই সহায়তার মাধ্যমে আমরা জরুরি খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, অস্থায়ী আশ্রয়, হাইজিন কিট এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সংকটময় সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা চীন সরকার ও জনগণের প্রতি আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই অনুদানের প্রতিটি ডলার সর্বোচ্চ দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা হবে।
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মানবিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে বিডিআরসিএস চলমান বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় ২১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত জরুরি কার্যক্রম তুলে ধরে। এতে জানানো হয়, সংস্থাটি ইতোমধ্যে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরুরি তহবিল ছাড় করেছে। এছাড়া ২ হাজার ৫০০টির বেশি খাদ্য প্যাকেজ বিতরণ, ২২ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ২ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান, ৩৭ হাজার লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, ১২টি রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবককে মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম রানা, মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম এনডিসি, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তা, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্টের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো দিচ্ছে ফিনল্যান্ড
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিচ্ছে ফিনল্যান্ড সরকার।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিসহ এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে, যেখানে এত দিন অর্থের ঘাটতি ছিল।
মিয়ানমারে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসার প্রায় এক দশক পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সীমিত জীবিকার সুযোগের কারণে তারা মূলত মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ শরণার্থী পরিবার ‘কাজের বিনিময়ে অর্থ’ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করেছে, যা তাদের জন্য অনুমোদিত একমাত্র আনুষ্ঠানিক জীবিকামূলক কার্যক্রম। ৪২ শতাংশ পরিবারের আয়ের উৎস ছিল অস্থায়ী এবং অনিশ্চিত, আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের আয়ের কোনো উৎসই ছিল না।
তহবিল সংকোচনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বয়স্ক মানুষ। পাশাপাশি ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাও এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোতে জায়গার অভাবে তাদের অনেকেই এখনও আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা এখন একটি নাজুক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ক্রমহ্রাসমান তহবিল, ক্যাম্পের অবনতিশীল পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান সুরক্ষা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতা এর প্রমাণ। এই পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের বর্ধিত প্রতিশ্রুতি তাদের অসাধারণ উদারতার পরিচয় বহন করে।’
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’
নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, ‘ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগণের পাশে রয়েছে। বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পরও রোহিঙ্গারা এখনও তাদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগের অপেক্ষায় আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক সহায়তার পাশাপাশি একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দক্ষতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং তাদের দুর্দশা যেন বৈশ্বিক দৃষ্টি থেকে হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’
এই অনুদান এমন সময়ে এল, যখন জাতিসংঘ ও এর মানবিক অংশীদাররা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। গত ২০ মে তারা রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) ২০২৬ সালের হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করে।
পরিকল্পনাটির আওতায় শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জেআরপির তুলনায় এ অর্থের পরিমাণ ২৬ শতাংশ কম। এটি মূলত জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, বছরের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় এই আবেদনের ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষায় ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৬ সালে দেশটি ইউএনএইচসিআরের মূল তহবিলে আরও ৭০ লাখ ইউরো দিচ্ছে, যা সংস্থাটি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে।
ইউএনএইচসিআরের মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতে এবং মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখা জরুরি।
৬৫ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সহায়তায় ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার দিচ্ছে কানাডা
পরিবেশ রক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই রান্নার জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে দেশটি এ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেওয়া এ অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি তাদের দৈনন্দিন রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পসংলগ্ন নাজুক পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করবে। এর ফলে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা উন্নত হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেছেন, ‘কানাডা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও অবিচল অংশীদার হিসেবে রয়েছে। জলবায়ু-সচেতন এই মানবিক সহায়তা পরিবেশগতভাবে নাজুক একটি অঞ্চলে বন উজাড় ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। এটি শরণার্থী, স্থানীয় বাংলাদেশি এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকারে আসবে। পাশাপাশি, অসহায় মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি কমাবে, যার মধ্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকিও অন্তর্ভুক্ত। কানাডা আনন্দের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর ও আইওএমকে ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নত করা যায়।’
কক্সবাজার দেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও পরিবেশগত অবক্ষয়ের ঝুঁকি রয়েছে। এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমেছে এবং বছরে প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের সহকারী প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, ‘নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের অন্যতম কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কানাডার এই সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে এবং এর জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। শরণার্থীদের মর্যাদার সঙ্গে বসবাস নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
বাংলাদেশে আইওএমের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিট বলেন, ‘নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সেই পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য মৌলিক, যারা গত নয় বছর ধরে চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছে। আমরা কানাডাকে তাদের উদার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই সহায়তা নিশ্চিত করবে যে শরণার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।’
২০১৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বায়ুর মান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে।
কানাডার এই অনুদানের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষায় সহায়তা করবে। এর ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি কমবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত হ্রাস পাবে, একই সঙ্গে স্থানীয় সক্ষমতাও জোরদার হবে বলে মনে করছে ইউএনএইচসিআর।
১১৪ দিন আগে
রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের কৃষকদের সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৬৭ লাখ ডলার দিল জাপান
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় জাপান সরকারের কাছ থেকে ৬৭ লাখ ডলার নতুন অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সহায়তার মাধ্যমে ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টি সেবা প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের আশপাশের স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও সহনশীলতা বাড়াতে ‘অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার’ মডেলের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য একত্র করে সহজে স্থানীয় বাজারে যুক্ত হয়ে মানবিক সহায়তায় অংশগ্রহণও করতে পারেন। এর ফলে তাজা শাকসবজি, ডিম ও চালসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের পাশে থাকতে জাপান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডব্লিউএফপির সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নত পুষ্টি এবং রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখতে চাই। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাজারে প্রবেশ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে স্থানীয় বাংলাদেশিদের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
ডব্লিউএফপির সহায়তায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রতি মাসে খাদ্য ভাউচার পান, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারেন। পাশাপাশি তাজা শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও সংগ্রহ করতে পারেন।
পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং ছোট শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে ডব্লিউএফপি। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ পুষ্টিপণ্য বিতরণ, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, পুষ্টি শিক্ষা ও আচরণ পরিবর্তন যোগাযোগ কার্যক্রম।
১৫২ দিন আগে
২১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেইজিংয়ের
চীন সফরকালে দেশটির সরকার ও চীনা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্য ২১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা চীনের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর পর দেশটির প্রায় ৩০টি কোম্পানি (বাংলাদেশের) বিশেষ চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে।
এছাড়া মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণ প্রকল্পে আরও প্রায় ৪০ কোটি ডলার, চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নে ৩৫ কোটি ডলার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা হিসেবে আরও ১৫ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাকি অর্থ অনুদান ও অন্যান্য ঋণ সহায়তা হিসেবে আসবে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ১ চুক্তি, ৮ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
প্রধান উপদেষ্টার চার দিনের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক সফর।’
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এই সফর বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে চীনের প্রেসিডেন্টকে চীনা বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়ার অনুরোধ জানান ড. ইউনূস।
শি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের উৎপাদন কারখানা স্থানান্তরে উৎসাহিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন আশিক চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এই সফর অনেক চীনা কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।’
আরও পড়ুন: সুদহার কমাতে ইতিবাচক সাড়া চীনা প্রেসিডেন্টের, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার আশ্বাস
আজ (শুক্রবার) বেইজিংয়ে ড. ইউনূস ও আশিক চৌধুরী বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তমসহ শতাধিক চীনা কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে বাংলাদেশে উৎপাদন খাতে বিশেষ করে উন্নত টেক্সটাইল, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে তারা বক্তব্য রাখেন। এ ব্যাপারে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।’
৪৯৪ দিন আগে
জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ইউএসএআইডি ১৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে: পরিবেশ উপদেষ্টা
বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ইউএসএআইডি ১৫ মিলিয়ন ডলার দেবে বলে ঘোষণা করেছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
এই অনুদান ইউএসএআইডির ক্লিমঅ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় ব্যবহৃত হবে। যা বাংলাদেশে সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল পথ অনুসরণে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
প্রকল্পটি মূলত ৩টি ক্ষেত্রের ওপর গুরুত্ব দেবে। সেগুলো হলো- নীতি ও পরিকল্পনা, অর্থায়ন প্রাপ্তি এবং জলবায়ু কার্যক্রমের শাসন ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে সহায়তা বাড়াবে চীন: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বুধবার (২৩ অক্টোবর) ইউএসএআইডির পরিচালক জোসেফ লেসার্ডের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পরিবেশ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করার পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে ক্লিমঅ্যাক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ক্লিমঅ্যাক্ট প্রকল্প আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং ইউএসএআইডির এই সহযোগিতা আমাদের দুর্বল জনগোষ্ঠী ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রচেষ্টা আরও জোরদার করবে।
তিনি আরও বলেন, ইউএসএআইডির মতো বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে, বিশেষ করে বন্যাপ্রবণ, নদীভাঙন ও উপকূলীয় অঞ্চলে।
জোসেফ লেসার্ড বাংলাদেশে পরিবেশগত উদ্যোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইউএসএআইডির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জলবায়ুবিষয়ক কার্যক্রমে দেশের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উপস্থিত ছিলেন- মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ ইউএসএআইডির টিম লিডার ব্রনউইন লুয়েলিন, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ’র ফরেস্ট্রি ও ন্যাচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট পরিচালক রবার্ট কেনি, উইনরকের পরিবেশ ও শক্তি বিভাগের সহযোগী পরিচালক ফিরাস ট্রাইশ এবং কেটি লাজার।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘের তদন্ত দলের প্রস্তাব অনুযায়ী পুলিশে সংস্কার আনা হবে: উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
৬৫০ দিন আগে
বন্যার্তদের জন্য ২ লাখ টাকা অনুদান দিলেন খালেদা জিয়া
দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে দুই লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ত্রাণ সংগ্রহ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের হাতে এ টাকা তুলে দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া তাকে তার গুলশানের বাসায় আসার অনুরোধ করার পর মঙ্গলবার তার সঙ্গে দেখা করেছি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, 'আমি যখন তার সঙ্গে দেখা করি, তখন তিনি আমাকে দলের ত্রাণ তহবিলে দুই লাখ টাকা দেন এই বলে যে, এটা বন্যার্তদের জন্য তার ব্যক্তিগত সহায়তা।’
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশের সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার মিথ্যা অভিযোগে তাকে ছয় বছর আটকে রেখেছে। কারাগারে থাকাকালীন তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এখনও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।’
খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহের জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে আট সদস্যের কমিটি গঠন করে বিএনপি।
সে সময় ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরসহ পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বন্যার্তদের জন্য নগদ প্রায় ২০ কোটি টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ করে দলটি।
উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দলটি এখন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘবে আবারও তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: হিন্দুদের নিপীড়নের ঘটনাগুলোর বিচারের প্রতিশ্রুতি বিএনপির
৬৬৪ দিন আগে
শি-হাসিনার বৈঠক: বাংলাদেশকে অনুদান ও ঋণ সহায়তা দেবে চীন
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বাংলাদেশকে চারটি ক্ষেত্রে- অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ, রেয়াতি ঋণ ও বাণিজ্যিক ঋণ সহায়তা দেবে চীন।
তিনি বলেন, এজন্য চীনের একটি টেকনিক্যাল কমিটি বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে খুব শিগগিরই দেশটিতে যাবে।
বুধবার(১০ জুলাই) বিকালে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে শি জিনপিং এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, বৈঠকটি 'ফলপ্রসূ' ও 'অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে' অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ করতে চায় চীন।
বাংলাদেশ ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে শি 'কৌশলগত ও গভীর সম্পর্ককে দ্বিতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
শেখ হাসিনা গত কয়েক দশকে চীনের অভূতপূর্ব উন্নয়নকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সংক্ষিপ্ত হয়নি, কর্মসূচি অপরিবর্তিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যু উল্লেখ করার আগে শি বলেন, 'আমি জানি আপনারা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন। এটি আপনার জন্য একটি চলমান সমস্যা। আমরা এটি সমাধানে আপনাকে সহায়তা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’
মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শি বলেন, প্রয়োজনে তারা মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করে এ সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মোহাম্মদ নাইমুল ইসলাম খান প্রেস ব্রিফিংয়ে ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা চীনা প্রধানমন্ত্রীর: হাছান মাহমুদ
৭৫৫ দিন আগে
হবিগঞ্জে জাপানি অনুদানের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন রাষ্ট্রদূতের
হবিগঞ্জে জাপানি অনুদানের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) হবিগঞ্জে একটি কমিউনিটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হবিগঞ্জ সফর করেন তিনি।
এই প্রকল্পটি জাপান সরকারের গ্রান্ট অ্যাসিসটেন্স ফর গ্রাস-রুটস হিউম্যান সিকিউরিটি প্রজেক্টের (জিজিএইচএসপি) মাধ্যমে ‘কমিউনিটি ইনিশিয়েটিভ সোসাইটি (সিআইএস)’ এনজিওকে দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় একটি দোতলা কমিউনিটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে এক হাজারের বেশি ঝুঁকিতে থাকা তরুণ-তরুণী বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জাপানকে আরও দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান বাংলাদেশের
রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা বলেন, ‘আমি আশা করি এই কেন্দ্র ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে, আয়ের উৎস তৈরি করতে এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা কমাতে সক্ষম করবে।’
তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মানব নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮৯ সাল থেকে জাপান তার গ্রান্ট অ্যাসিস্ট্যান্স ফর গ্রাস-রুটস হিউম্যান সিকিউরিটি প্রজেক্টের (জিজিএইচএসপি) মাধ্যমে ২১৩টি এনজিও প্রকল্পকে সহায়তা করেছে।
এই জিজিএইচএসপি অনুদানের আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এনজিওকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রকল্পে জাপানের ৬৯ লাখ টাকা অনুদান
জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান
৯৯৯ দিন আগে