কর্মসংস্থান
দেশে-বিদেশে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। প্রথম ৩০ মিনিটে তারেক রহমান সরাসরি চারটি লিখিত প্রশ্ন ও ছয়টি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন।
মনিরুল হকের একটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামী’য়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে সরকার ২০১৮ সালে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমান দিয়ে একটি আইন প্রণয়ন করে এবং ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই ছয়টি বোর্ড হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ (কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড), আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তাঅলীম বাংলাদেশ বোর্ড, তানজিমুল মাদারিসিদ্বীনিয়া বাংলাদেশ ও জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ।
তারেক রহমান জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধনের পর গত ২৩ জুন ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদ স্বীকৃতি পায়।
এর ফলে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমুল কিরাত বা হিফজুল কোরআন সনদধারীরা সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সাধারণ শিক্ষা কারিকুলামে আরও আরবি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ইতোমধ্যে নিয়মিত কারিকুলামের অংশ এবং সরকার এটিকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় তা পর্যালোচনা করে দেখতে পারে।
এছাড়া ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান তাকে এ বিষয়ে আলাদা নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আপনি আমাকে একটি আলাদা নোটিশ দিলে আমি বিষয়টি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব এবং বিস্তারিত তথ্য সংসদে উপস্থাপন করব।
২ দিন আগে
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসর সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত নীতিমালা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপ যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে অতুল কেশাপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো শীর্ষে রয়েছে। এসব কোম্পানি বাংলাদেশে উচ্চমানের ব্যবস্থাপনা, নৈতিক মানদণ্ড ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে যে পরিকল্পনা, বিশেষ করে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য, তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহলের আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
২২ দিন আগে
কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশে ভিসার প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসার একটি প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার বা গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টার বাংলাদেশে স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কার্পিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বকে স্বাগত জানান।
তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিসার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় স্টিফেন কার্পিন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ভিসার আগ্রহের কথা জানান। তিনি বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
বৈঠকে কার্পিন বাংলাদেশে যেসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারী এখনো কার্ড ব্যবহারের আওতায় নেই, তাদের কার্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়াতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে ভিসার আগ্রহের কথা জানান।
২৪ দিন আগে
বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে ‘চায়না অর্থনৈতিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতে এক নতুন ও ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের (জি-টু-জি) যৌথ উদ্যোগে এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর নীতিমালার আলোকে গৃহীত এই প্রকল্পটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সহজীকরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই অংশ হিসেবে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বিশাল বিনিয়োগ অর্জিত হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদান নিশ্চিতে সরকার খুব শিগগিরই শতভাগ কার্যকর ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালুর পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও মূলধনি খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন, আধুনিক জীবনযাত্রার মান এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, সাপ্লাই চেইন জোরদারকরণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ স্থাপনে চায়নিজ অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আনোয়ারার এই উর্বর মাটিতে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আমরা কেবল এক কোদাল মাটিই তুলছি না, বরং বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের এক নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা করছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, গভীর বন্ধুত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি এবং যৌথ সনদের আলোকে গৃহীত এই জি-টু-জি প্রকল্পটির মাধ্যমে দুদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো।
প্রকল্পটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রায় ৭৭৬ একর (৩১৪.৩৯ হেক্টর) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল চট্টগ্রাম অঞ্চলেই ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা স্থানীয় যুবসমাজের ভাগ্যোন্নয়নে এক অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলবে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি এই অঞ্চলে বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রসেসিং এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো উচ্চ-মূল্যের শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে—যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী করবে।
ভৌগোলিক ও লজিস্টিক দিক থেকে সিইআইজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এর পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা হবে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এখানে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা টেকসই শিল্পায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিইআইজেড-এর সার্বিক নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন করিডোর এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। একই সাথে বেজা-এর ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস)’-এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত অনুমোদন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা নিশ্চিত করে একটি সহজ ও সমৃদ্ধ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বেজা, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি), ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং বিশেষ করে আনোয়ার ও চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিল্প অঞ্চলটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার স্থায়ী অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বের এক টেকসই সেতু হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান লি চাংগুই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তৃতা দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিসিএলের চেয়ারম্যান ওয়ানং পেইন-ছিয়েন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৯ দিন আগে
ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।
তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা আসে, তখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।
দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার কেবল যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তি সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ১০ হাজার নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ার পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশকে শুধু রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবেই শক্তিশালী করা আমাদের লক্ষ্য নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভূমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক সুবিশাল মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার সফল বাস্তবায়নে প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই প্রকল্পের সফলতার জন্য দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে নতুন করে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সঙ্গে জানান, আজ সকালেই তিনি প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের একটি অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
দুর্নীতির টুঁটি চেপে হলেও নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর সরকার
এ সময় দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই দেশের সার্বিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও জনজীবনের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে বদ্ধপরিকর।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আমরা বাহিনীকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিক, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান চাওয়া একটি নিরাপদ পরিবেশ। প্রত্যেক মানুষ চায় দিনশেষে কাজ শেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে সময় কাটাতে। জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদ বরদাশত করবে না এবং এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখতে বিরোধী দলেরও সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনি ৩১ দফাকে জনগণের ম্যান্ডেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের রায়ে এটি এখন সমগ্র দেশের উন্নয়ন রূপরেখায় পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা এবং ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ এবং পাঁচ বিভাগে পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়—ন্যায়পরায়ণতাই হবে রাজনীতির ভিত্তি।
৫১ দিন আগে
যুবসমাজের চাওয়া-পাওয়াকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আর আপনাদের (যুবসমাজের) মাধ্যমেই আমরা পেয়েছি একটি স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ। এই স্বাধীন বাংলাদেশে এখন সবাই স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারছেন। বর্তমান সরকার যুবসমাজের চাওয়া-পাওয়াকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে। এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বুধবার (২০ মে) সাভারে অবস্থিত জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে ‘যুব সমাবেশ-২০২৬’ এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বিষয়। পুরো পৃথিবী আজ ডিজিটাল প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতার যুগে আমাদের যুবসমাজকে এআইয়ের ইতিবাচক ও ভালো দিকগুলোকে গ্রহণ করতে হবে।
তিনি যুবকদের উদ্দেশে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবসময় ন্যায়ের পক্ষে কাজ করতে হবে এবং সৎ থাকতে হবে। যেকোনো ভুল ও অন্যায় কাজকে রুখে দিতে হবে।
বেকারত্ব দূরীকরণ ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, বিগত ১৭ বছরে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারিনি। তবে বর্তমান সরকার যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বেকারত্ব দূরীকরণে যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট কাজ করছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে কর্মসংস্থান তৈরি করা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিদেশে ‘কেয়ার গিভার’-এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যাদের বিদেশে পাঠানো হবে, তাদের দক্ষ করে পাঠানো হবে এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যুবসমাজকে আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করতে প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ সেন্টারে এআই প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের যুব কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তৃণমূলমুখী করার লক্ষ্যে ‘যুব সমাবেশ’ কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে তা পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় জেলা পর্যায়ে আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন।
১০৭ দিন আগে
৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামে প্রাণ-আরএফএল আয়োজিত চাকরি মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দেশে বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ধীরে ধীরে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এতে হতদরিদ্ররা কাজের সুযোগ পাচ্ছে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।
এ সময় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক ও প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
চাকরি মেলায় জেলার কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে এক হাজার কর্মসংস্থানহীন তরুণ-তরুণীকে চাকরি প্রদান করা হবে।
১১৬ দিন আগে
জাপানি শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ভাষা শিখবে বাংলাদেশিরা
জাপানে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে জাপানি মাতৃভাষাভাষী শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার (৩০ মার্চ) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেছে।
সাক্ষাতে তারা জাপানের ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়াও জাপানি মাতৃভাষাভাষী শিক্ষকদের মাধ্যমে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রস্তাবিত বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জাপানি প্রতিনিধিদের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে দেশজুড়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত চমৎকার প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। আপনারা এই অবকাঠামোসমূহ ব্যবহার করে আমাদের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পারেন।’
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই জাপান অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পাশে রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারা আরো সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ ও যুগ্মসচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
১৫৮ দিন আগে
পাটশিল্পের উন্নতি কর্মসংস্থান বাড়াবে: পাট প্রতিমন্ত্রী
বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে পাটশিল্পের উন্নয়ন ঘটালে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) জাতীয় পাট দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইজারা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব পাটকল চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ইজারায় দেওয়া নয়টি পাটকলে প্রায় ৭ হাজার ২০০ জন কাজ করছেন, যা দেশের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মো. শরীফুল আলম বলেন, কাঁচাপাট রপ্তানি তুলনামূলকভাবে অলাভজনক হওয়ায় সরকার প্রক্রিয়াজাত পাটপণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড় সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পাটের সঙ্গে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনীতি গভীরভাবে জড়িত। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪১৮ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।
সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে পাটখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমিসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ৬ মার্চ থেকে নয় দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
১৮২ দিন আগে
তরুণদের কর্মসংস্থান করতে না পারলে ৫ আগস্ট, একাত্তরের প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে: তারেক
দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ তরুণ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই তরুণদের জন্য যদি আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারি, তাহলে ৫ আগস্ট হোক, কিংবা ৯০ বা ৭১, সব প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এ দেশে ২০ কোটির মতো মানুষ, যার মধ্যে একটি বড় অংশ তরুণ সমাজের সদস্য। এই তরুণ সমাজের জন্য কীভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, দেশের ভেতরে হোক কিংবা বাইরে, তা আমাদের ভাবতে হবে। আমরা যদি কাজটি করতে সক্ষম না হই, তাহলে আমরা ৫ আগস্ট বলি, ৯০ বলি আর ৭১, আমাদের প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ভোকেশনাল (কারিগরি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আমরা আধুনিকায়ন করতে চাই। এসব প্রতিষ্ঠানে ২০০ থেকে ২৫০ বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়, যার সবগুলোর প্রয়োজন আমাদের নেই। দেশের বাইরে কর্মী পাঠাতে যেসব দক্ষতা অত্যাবশ্যক, সেগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তারেক বলেন, সাধারণভাবে আমাদের দেশের মানুষ যেসব দেশে যেতে পারে বা পারবে, যেমন: মধ্যপ্রাচ্য। সেখানে বর্তমানে কী কী কাজের সুযোগ আছে বা আগামী ৫-১০ বছরে কী কী কাজের সুযোগ তৈরি হবে, সে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়ে দেশের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাপান, ইউরোপ, এমনকি চীনেও দক্ষ কর্মী পাঠানোর একটি বড় বাজার তৈরি হচ্ছে। সেসব জায়গায় কোন কোন বিষয়ে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে আমরা রিসার্চ করে দেখেছি। সেই অনুযায়ীই আমরা আমাদের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন করতে চাই।
সম্প্রতি আমার সঙ্গে যেসব বিদেশি কূটনীতিকের সাক্ষাত হয়েছে, তাদের কাছেও আমি এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছি। তারা খুশি মনে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন বলে তিনি জানান।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কাজের উদ্দেশ্যে আমাদের দেশ থেকে যারা দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তাদের যদি আমরা সেই দেশের ভাষাটা শিখিয়ে দিতে পারি, সেখানে যে কাজগুলোতে তারা যাচ্ছেন, তাদের যদি সেসব কাজে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠাতে পারি, তাহলে সেখানে গিয়ে আরও ভালো করতে সক্ষম হবে।
ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, আমরা গবেষণা করে শ্রমবাজারগুলো যদি বের করতে পারি, তাহলে এখন যে আট থেকে দশ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছে, সেটাকে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ লাখে উন্নীত করতে পারি। এর সঙ্গে যে মানুষগুলো যাচ্ছেন, তাদের যদি আমরা প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিখিয়ে পাঠাতে পারি, তাহলে আরও মূল্য বাড়বে। এখন যদি তারা মাসে ১০০ ডলার আয় করেন, তাহলে সেটাকে সহজেই ৩০০ ডলারে নিয়ে আসতে পারব। তাহলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও অনেক বাড়বে, যা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে।
এর আগে, দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেন সেগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেয়, সে বিষয়ে নিজেদের বক্তব্যে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সম্পাদকেরা।
নিজের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অতিথিদের বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে। ভবিষ্যৎকে আমরা যদি দুই-তিনটি ভাগে ভাগ করি, তাহলে দেখতে পাচ্ছি, ব্যক্তি হিসেবে হোক কিংবা সংবাদকর্মী হিসেবে, আপনার স্বাধীনতা, আপনার নিরাপত্তা। আরেকটি বিষয় আমার চোখে যেটা পড়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকারের ব্যাপারে আপনার, আমার, আমাদের সকলের উদ্বেগ বক্তারা প্রকাশ করেছেন। একজন বক্তা বলেছেন যে আগামী দিন, অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন দেশে থাকতে না পারলেও দেশের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ ছিল। আমরা অবশ্যই আর ৫ আগস্টের আগে (আগের পরিস্থিতিতে) ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।
হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার কারণে একটি মানুষ, একটি দলের কী পরিণতি হতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা আমরা দেখেছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে পাশে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কোনোভাবেই মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। বিভেদের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে, আমরা দেখেছি। আজকে আমরা অনেক বিভেদ, হতাশার কথা শুনি। তবে হতাশা থাকলেও অনেক পরিকল্পনাও কিন্তু আছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আমি যতটুকু যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি, আমার মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স (দিকনির্দেশনা) চাইছে, একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম কেন, আসলে সবাই একটি গাইডেন্স চাইছে বলে মনে হয়েছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের কাছে সবার অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা রাজনীতিকরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০, ২০০৪, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই সবগুলোকে সমানে রেখে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার আছে মনে হয়, আমরা জাতিকে একটি সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হব।
একজন সংবাদকর্মীর নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে বলা বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা শুধু নারীর নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে হওয়া উচিত। বাংলাদেশে গত বছর ৭ হাজারের মতো মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। বিষয়টি আপনার-আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগলেও ঘটনাটি ঘটছে, কোনো বছর বেশি, কোনো বছর কম। এটি কেন ঘটবে?
সড়ক দুর্ঘটনায় যে মানুষটি মারা যাচ্ছে, তিনি হয়তো ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের কী হচ্ছে? বা যারা দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যায়, তাদের পরিবারের কী হচ্ছে—এই বিষয়টি আমাদের নজরে আনা উচিত। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর পাশাপাশি দেশের কৃষি ও কৃষকদের নিয়েও আলোচনা, চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত বলে জানান এই নেতা।
নারীর উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া নারীর শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে জিতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যেসব নারী শিক্ষিত হয়েছে, তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
এ সময় নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে ফিরে যে ‘প্লানের’ কথা আমি বলেছিলাম, তার একটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। আমাদের দেশে গড়ে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা একটা পরিবারকে সারাজীবন সহায়তা করে যাব, এমনটি নয়। ৫ থেকে ৭ বছর আমরা ওই পরিবারটিকে সাপোর্ট দিয়ে যাব, সেটা টাকার হিসাবে কিংবা অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে। আমরা দেখেছি, একজন নারীকে যদি এই সাপোর্টটা দেওয়া যায়, তাহলে তিনি সেটি তার পরিবারের জন্য সঠিকভাবে খরচ করেন।
আমরা রিসার্চ করে দেখেছি, ৫-৭ বছর যদি এই সাপোর্টটা দেওয়া যায়, তাহলে যে অর্থটা তার (নারী) হাতে জমা হয়, সেটা তিনি মূলত তিনটি কাজে খরচ করেন: প্রথমত, তার পরিবারের স্বাস্থ্যের পেছনে, দ্বিতীয়ত, ছেলেমেয়েদের শিক্ষার পেছনে এবং তৃতীয়ত, জমা করা অর্থ তিনি ছোট ছোট খাতে বিনিয়োগ করেন। এভাবে বিনিয়োগের ফলে ধীরে ধীরে গ্রামের, সমাজের অর্থনীতি মজবুত হবে। এভাবে একটি উপজেলা, জেলার অর্থনীতি মজবুত হবে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এভাবে পরিবার শিক্ষিত হলে, সুস্থ থাকলে গ্রামের জনস্বাস্থ্য, উপজেলা, জেলা, একসময় গিয়ে দেশের জনস্বাস্থ্যে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তারেক রহমান বলেন, চার কোটি পরিবারকে একবারে এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব নয়। যারা প্রান্তিক, যাদের জন্য এটি আগে দরকার, তাদের দিয়ে আমরা শুরু করব। দুর্নীতি এড়াতে এই পরিকল্পনাটি কোনো প্রকল্পের আওতায় রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা সর্বজনীন রেখেছি। একজন কৃষকের স্ত্রী, ইমাম সাহেবের স্ত্রী যেমন পাবেন, একজন ডিসির স্ত্রীও পেতে পারেন। তবে ডিসির স্ত্রী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলে মনে করেন তিনি।
পাশাপাশি কৃষি কার্ড, এমনকি জনস্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নিয়েও একইরকম পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
দেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সৌদি আরব-কুয়েতের সবগুলো তেলের খনিও এখানে নিয়ে আসি, তারপরও আমরা হয়তো এত রিসোর্স (সম্পদ) দিয়েও এত মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারব না। সেজন্য আমাদের অবশ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দিকে যেতে হবে।
সরকার গঠন করতে পারলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১ লাখের মতো কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মী নিয়োগ করতে চাই, যাতে তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের বোঝাতে সক্ষম হন যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, সদস্যদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা ইত্যাদি কী কারণে প্রয়োজন।
২৩৭ দিন আগে