নির্বাচন
ফ্যাসিবাদের পরিণতির কথা মাথায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বীজ বপন হয়েছিল অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মদদদাতা, ইন্ধনদাতা, পক্ষপাতিত্বকারী, সহায়তাকারী, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ অনেকেরই পূর্বপরিচিত। তারা সরকার যন্ত্রেরই অংশ ছিল। আজকে তাদের অনেকের করুণ পরিণতি সম্পর্কে সবাই অবহিত আছেন। অনেকে চাকরিচ্যুত, অনেকে পলাতক, দেশান্তরিত, জেলে আছেন, আইন-আদালত সামলাচ্ছেন। এমনকি তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরাও আজ কঠিন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি আশা করি।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
তিনি বলেন, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
উপদেষ্টা এ সময় সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি যাতে নির্বাচন তথা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে না পারে এবং জনগণের আস্থা হারাতে না পারে, সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগ এই সেলে করা যাবে।
তিনি জানান, এই সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার, যেটি জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) প্রস্তুত করেছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষও যুক্ত থাকবে। অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং এর দ্রুত প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান সম্পন্ন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদেরও দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারেন। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের ‘স্টিল ফ্রেম অব ব্যুরোক্রেসি’ নিশ্চিত করতে হবে যাতে কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ফাঁকি দিতে না পারে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকে বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। বেশিরভাগ কর্মকর্তারাই বিদেশ সফর ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স—এসআইএফ-এর (সাবেক র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
সভায় খুলনা বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আঞ্চলিক,জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবির খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনি প্রস্তুতি ভালো। সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপতথ্য বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবারে তিনটি বিষয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সম্ভব হয়নি। সেগুলো হলো: নির্বাচন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও এনটিএমসি প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার।
উপদেষ্টা এগুলোর সফল প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
নির্বাচন ও গণভোটের তথ্য পেতে ৩৩৩-এ বিশেষ তথ্যসেবা চালু
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নাগরিকদের জন্য সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত তথ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সহযোগিতায় এটুআইয়ের উদ্যোগে জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩-এর মাধ্যমে বিশেষ তথ্যসেবা চালু করা হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও নাগরিকবান্ধব করা।
দেশের যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে টোল-ফ্রি নম্বর ৩৩৩-এ কল করে ৯ প্রেসের মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবেন।
এ সেবার আওতায় ভোটাররা ভোট দেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্য, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রদানের নিয়ম, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ জরুরি নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ ও ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।
গত ১৬ জানুয়ারি থেকে পাইলট আকারে চালু হওয়া এ বিশেষ সেবার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ জন নাগরিক তথ্য ও সহায়তা গ্রহণ করেছেন বলে তথ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ, সম্ভাব্য অস্থিরতা আগাম শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ৩৩৩-এর ৯ নম্বর ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এটি সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুম হিসেবে কাজ করবে না; বরং একটি ‘তথ্য গ্রহণ, আগাম সতর্কতা ও প্রেরণ ব্যবস্থা’ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য ৯৯৯ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩-এর এই তথ্যসেবা নির্বাচনসংক্রান্ত বিভ্রান্তি, গুজব ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
১৫ ঘণ্টা আগে
বাদলের মৃত্যু: শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই আসনে এখন নতুন করে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হবে।
আসনটিতে নির্বাচন স্থগিতের ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সেই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হয়।
আইন অনুযায়ী, মৃত প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। প্রার্থীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেবেন। পরে কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করবে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদল কিডনি জটিলতায় গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান স্ত্রী ও এক সন্তান রেখে মারা গেছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং শ্রীবরদীর তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আজ ৪ ফেব্রয়ারি দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের শহিদ দারোগ আলী পৌরপার্ক মাঠে প্রথম এবং বিকেল ৫টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শ্রীবরদীর পোড়াগর এলাকায় পারিবারিক কবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বাদলের মৃত্যুর সংবাদে তার নির্বাচনি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেখানকার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানও বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ, চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে শেষ সময়ে জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ। এতে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। শেষ মুহুর্তের প্রচার ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা; চষে বেড়াচ্ছেন শহর থেকে গ্রামে; হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে করছেন ভোট প্রার্থনা।
প্রার্থীরা নিজের বিজয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মাঠে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাল্টাচ্ছেন নির্বাচনি কৌশল। বিজয়ের জন্য প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দেশে ও বিদেশে থাকা সমর্থকরাও প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন।
জগন্নাথপুর প্রবাসী-অধ্যূষিত উপজেলা হওয়ায় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভূমিকা সব সময়ই থাকে। এবারের নির্বাচনেও তার প্রভাব পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় ভোটারদের অধিকাংশ প্রবাসী স্বজনদের কথায় ভোট দিয়ে থাকেন। তবে এবার আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে চলছে নতুন সমীকরণ।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় দলটির সমর্থকদের ভোট নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা।
স্থানীয়রা জানান, এই অঞ্চল সব সময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল। এই আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদসহ আরও কয়েকজন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের পকিল্পনামন্ত্রী ছিলেন এম এ মান্নান। তাদের কারণে এ আসনটি মর্যাদার আসন বলে পরিচিতি পায়।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: ইসলামী ঐক্যজোট তথা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন (তালা), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুস্তাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার (টেবিল ঘড়ি) ও হোসাইন আহমদ (ফুটবল)।
এর মধ্যে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, সৈয়দ তালহা আলম ও শেখ মুস্তাক আহমদ জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। অপরদিকে, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার ও হোসাইন আহমদ শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হিসাব-নিকাশে সব সময়ই আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়ে থাকে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের আমল থেকে দীর্ঘকাল জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা এ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে এম এ মান্নানের আমল থেকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সংসদ সদস্য ছিলেন। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই এলাকায় আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়ে থাকে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ভোটারদের সঙ্গে পৃথকভাবে নির্বাচনি আলোচনা হয়। এসব আলোচনায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটার তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী জমিয়তে থাকতে হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। তিনি আবদুস সামাদ আজাদ ও এমএ মান্নানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে বিগত নির্বাচনে দল বদল করে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে নির্বাচন করায় তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবুও এবারের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হওয়ায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তিনি।
এছাড়া কয়ছর এম আহমদ জগন্নাথপুর পৌর শহরের ছিলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও রাজনীতি করেছেন যুক্তরাজ্যে। তিনি তার ক্ষমতার দাপটে নিজ পছন্দের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাজিয়েছেন। ফলে বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবুও নির্বাচনি আলোচনায় তিনি প্রথম সারিতে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
অপরদিকে ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ‘বিশেষ এক ব্যক্তির’ ছত্রছায়ায় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া কয়ছর আহমদের বিরোধিতা করে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীই তাকে সমর্থন করছেন। শুধু তাই নয়, বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থীও তাদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে আনোয়ার হোসেনের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ‘তালা’ প্রতীকের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম বিগত জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে সবাইকে রীতিমতো চমকে দিয়েছিলেন। আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন নির্বাচনি ফলাফলে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তার ভাবমূর্তি উন্নত হয়েছিল বটে, কিন্তু সম্প্রতি দল বদল করায় তার সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবুও এবারের নির্বাচনে ব্যক্তি হিসেবে ভোটারদের পছন্দের তালিকায় থাকায় তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ও সৈয়দ তালহা আলমের মধ্যে জমে উঠেছে চতুর্মুখী লড়াই। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের মত অন্তত তা-ই।
১ দিন আগে
জামায়াতের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। জামায়াতে ইসলামের বিজয়ও আমি চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সে বিজয় আমাদের সবার।’
তিনি বলেছেন, ‘দল-গোষ্ঠী ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিজয় আমাদের কাছে নেই। এই ভোটে পুরোনো রাস্তায় যারা হাঁটতে চাইবে, অন্ধকার গলিতে তারা তাদের রাস্তায় তারা হাঁটুক। আমরা সদর রাস্তায়, আলোকিত রাস্তায় হাঁটব।’
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার কটিয়াদি সরকারি কলেজ মাঠে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনতার রায়কে আপনারা সম্মান করুন। সুষ্ঠু নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হয়ে আসবেন, আমরা তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হবে না এবং দেওয়া হতে যাবে না। সমস্ত চোরাই পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ দেশকে নিয়ে তোমরা সামনের দিকে এগোবে। এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। পেছন দিয়ে যারা কামড়াকামড়ি করে, তাদের আমরা কামড়াকামড়ি করতে দেব। ওরা কামড়াকামড়ি করুক, আমরা জাতিকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
জামায়াত আমির বলেন, যারা আমাদের দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে গেছে, ওদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনব। এই টাকাগুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এ দিয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের উন্নয়ন সাধন করা হবে।
জনসভায় কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে আমির অধ্যক্ষ রমজান আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ জি এস সাঈদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
পরে তিনি কিশোরগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে মার্কা তুলে দিয়ে ভোট চান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আমির অধ্যাপক রমজান আলী। ভোর হওয়ার আগ থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শরিক বিভিন্ন দলের জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গার দুই আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি, ইতিহাস গড়তে চায় জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদীয় আসনের নির্বাচনি মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপে সরগরম গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা। উঠান বৈঠক, পথসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা—কোনো দিক থেকেই প্রচারণায় ঘাটতি রাখতে চান না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
প্রচারণায় প্রার্থীরা অঙ্গীকার করছেন, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক ও টেন্ডারবাজিমুক্ত একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকলেও জেলার দুই আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে দলটির কর্মী-সমর্থক ও নিরপেক্ষ ভোটাররা।
চুয়াডাঙ্গা-১: বিএনপির ঘাঁটিতে দ্বিমুখী লড়াই
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে এখানে আওয়ামী লীগ জয়ী হয় এবং ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি নির্বাচনে বিতর্কের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয় পান।
এবার এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াত ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী।
গণসংযোগে বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই করে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে এসেছি। এবারের নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। আমরা শুধু নিজেদের পক্ষে ভোট চাইছি না, সব দলের, এমনকি নির্দলীয় ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভোট কাকে দেবেন সেটাই মুখ্য নয়, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়লে সেটিই বড় সাফল্য হবে।’
তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অবহেলিত চুয়াডাঙ্গাকে উন্নয়নের শিখরে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গাকে একটি রোল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজী বলেন, ‘বড় দলগুলোর রাজনীতির বাইরে গিয়ে আমরা পরিষ্কার ভাবমূর্তির নেতৃত্ব দিতে চাই। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছি।’
তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিএনপির শক্ত অবস্থানের কারণে জামায়াতের জয় কঠিন হলেও তারা সম্মানজনক ভোট ও নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৩ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭০৪ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।
চুয়াডাঙ্গা-২: জামায়াত অধ্যুষিত আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা
দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনটি জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই জয় পেয়েছে।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজিএমইএর সভাপতি, দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি নির্বাচিত হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে তার ব্যক্তিগত ইমেজ এই আসনে আলোচিত বিষয়।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘নির্বাচিত হলে কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, খাদ্য হিমাগার স্থাপন, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।’
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য, আয়কর আইনজীবী রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগের সকল বাধা উপেক্ষা করে ২০১০ সাল থেকে তিনি এ আসনে কাজ করছেন। জেল-জুলুম, হামলা-মামলা মাথায় নিয়ে এলাকায় অবস্থান করে দলকে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকায় তাকে হারানো সহজ হবে না।
রুহুল আমিন বলেন, ‘এই জনপদের মেঠো পথেই আমার বেড়ে ওঠা। মানুষের চাওয়া-পাওয়া আমি জানি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্থলবন্দর বাস্তবায়ন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিকায়ন, চুয়াডাঙ্গা–কালীগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’
এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব বলেন, ‘সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই এবার বড় ফয়সালা দেবেন। আমি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করব। আমার বিশ্বাস মানুষ হাতপাখার প্রতি বিশ্বাস রাখবেন।’
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩১ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
নেতৃত্বহীন ও নিরপেক্ষ ভোটারই বড় নিয়ামক
এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য নিজেদের নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের বাইরে থাকা ভোটাররা। বিশেষ করে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটাররা। দলীয় প্রার্থী না থাকায় এই ভোটারদের একটি অংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে মরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
চুয়াডাঙ্গা শহরের এক ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দল নেই, তাই ভাবছি কাকে ভোট দিলে এলাকার জন্য ভালো হবে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।’
একই ধরনের কথা শোনা গেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী গ্রামেও। সেখানকার এক ভোটার বলেন, ‘তিন প্রার্থীর মধ্যে কাউকে না কাউকে ভোট দিতে হবে। কিন্তু কাকে দেব, এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় আছি।’
একই কথা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও মুখেও। তাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও তাদের সমর্থক ভোটাররা এখনও বড় ফ্যাক্টর।
চুয়াডাঙ্গা শিক্ষাবিদ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, ‘এটা আসলে নিজস্ব ভোটব্যাংকের নির্বাচন নয়, এটা মন জয়ের নির্বাচন। শেষ মুহূর্তে কে কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন, সেটাই ফল নির্ধারণ করবে।’
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে এবারের জয়পরাজয়ে নিয়ামক ভূমিকায় থাকবে নেতৃত্বহীন ও নিরপেক্ষ ভোটার। এ ছাড়াও ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনসম্পৃক্ততাও বড় প্রভাব ফেলবে। শুধুমাত্র দলীয় ভোট ব্যাংক দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। বিশেষ করে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যায়, সেটাও হতে পারে জয়-পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট।
সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিএনপি হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া, জামায়াতে ইসলামী নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে, আর বিকল্প রাজনীতির বার্তা নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
১ দিন আগে
যারা নারীদের অসম্মান করে, তারা কখনও দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল প্রকাশ্যে নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ওই দলের এক নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের প্রভাতী স্কুল মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে তারেক রহমান বলেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা কখনও দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন, অথচ তাদেরই আজ অপমান করা হচ্ছে।
২ দিন আগে
পূজার মতো নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে, আশা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘পূজা যেমন শান্তিপূর্ণ হয়েছে, নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, পুলিশের দেড় লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার, র্যাবের ১০ হাজার, কোস্ট গার্ডের প্রায় ৫ হাজার এবং আনসারের প্রায় ৬ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে।
সভায় উপদেষ্টা বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়ন করা হচ্ছে। সেখানে বডি ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হচ্ছে। আর ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ তো থাকছেই। গত দুর্গাপূজায়ও এ অ্যাপের মাধ্যমে আমরা সাফল্য পেয়েছি। সুতরাং, কেউ কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঘটানোর চেষ্টা করলে পার পাবে না।
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এদেশের আপামর জনসাধারণ ও রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক আর সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
২ দিন আগে
নাটোরে এনসিপির নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর, ২ কর্মী আহত
নাটোরের সিংড়ায় এনসিপির নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর ও ২ কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রামে এনসিপি প্রার্থী জার্জিস কাদিরের নির্বাচনি ক্যাম্পে খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জলির মেম্বারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরাও জলির মেম্বারের সঙ্গে যোগ দিয়ে এনসিপির কর্মীদের পিটিয়ে তাদের নির্বাচনি কার্যালয়ের চেয়ার ভাঙচুর করে।
এনসিপি কর্মী আশিক রহমান অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, এনসিপি কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহাদ ও সুলতান নামে আহত ২ এনসিপি কর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। তদন্তের পর সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা যাবে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।
২ দিন আগে
কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচন করতে পারবেন না বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
রবিবার (১ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর আগে, মঞ্জুরুল মুন্সীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। সেই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন।
মঞ্জুরুল মুন্সীর বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপন এবং ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ উত্থাপন করলে ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল করে।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল মুন্সী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তবে ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট সরাসরি রিটটি খারিজ করে দেন।
অন্যদিকে, কুমিল্লা-১০ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে একই আসনের অপর প্রার্থী আবদুল গফুর ভূইয়ার প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে তিনিও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
৩ দিন আগে