টিউবওয়েল
ছাতকে ৮০ শতাংশ টিউবওয়েল পানিশূন্য, তীব্র পানিসংকটে লক্ষাধিক মানুষ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ভয়াবহ পানিসংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়া, তাপদাহ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ টিউবওয়েল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় সূত্র ও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ছাতক উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫৩১টি গ্রামের মধ্যে তিন শতাধিক গ্রামে তীব্র পানিসংকট বিরাজ করছে। উপজেলার প্রায় ১৮ হাজার টিউবওয়েলের মধ্যে অন্তত ১২ হাজারটিতেই পানি উঠছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২০০ থেকে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ভাতগাঁও, কালারুকা, চরমহল্লা, সিংচাপইড়, দোলারবাজার, ছৈলা-আফজলাবাদ, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, উত্তর ও দক্ষিণ খুরমা, নোয়ারাই, ইসলামপুর, ছাতক সদর ও জাউয়াবাজার ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই একই চিত্র। টিউবওয়েল চাপলেও পানি না আসায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
অনেকেই দূষিত পুকুরের পানি ফুটিয়ে পান করছেন। ফলে ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।
জাউয়াবাজার ইউনিয়নের মুলতানপুর গ্রামের ক্বারী মাওলানা জুনায়েদ আহমদ বলেন, ‘১৫ বছর আগে ৫০০ ফুট গভীরতায় পানি পাওয়া যেত, এখন ৭০০ ফুটেও পাওয়া যাবে কিনা নিশ্চিত নয়। দিনে বহুবার চাপ দিলেও টিউবওয়েলে পানি ওঠে না।’
উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গিলাছড়া গ্রামের গাড়িচালক আরজদ আলী বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পুকুরের পানি ফুটিয়ে খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষক জানান, প্রায় এক মাস ধরে স্কুলের কোনো টিউবওয়েলে পানি নেই। শিক্ষার্থীরা তৃষ্ণায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল দখল, পুকুর ভরাট, হাওর-বিলের প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস এবং নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি সরকারি গভীর নলকূপ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইছহাক আলী বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক নিচে নেমে গেছে। আগে যেখানে ৪০০ ফুটে পানি পাওয়া যেত, এখন ৭০০ ফুটেও পাওয়া অনিশ্চিত। সরকারিভাবে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, পানি সংকটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ দিন আগে
টিউবওয়েলে পানি পানের সময় পড়ে গিয়ে শিশুর মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় টিউবওয়েলে পানি পান করার সময় পড়ে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলায় মজলিসপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
মৃত মরিয়ম খাতুন ঋতু (৮) একই এলাকার বর্গাচাষি হারুনের মেয়ে ও মজলিসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে ভবনের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু
শিশুটির বাবার বরাত দিয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, তিন মেয়ের মধ্যে মরিয়ম ছিল ছোট। তার হার্টের সমস্যা ছিল। টিউবওয়েলে পানি পান করার সময় হঠাৎ মাথাঘুরে পড়ে যায় শিশু মরিয়ম। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে আগুনে পুড়ে শিশুর মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোহানা আহম্মেদ জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মরিয়মকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তার নাকের উপরে একটি আঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।
১৪৫৮ দিন আগে
মাগুরায় পানির জন্য হাহাকার
গ্রীষ্মের টানা খড়া ও দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পানির সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে কোনো টিউবওয়েলে পানির দেখা নেই। গুটি কয়েকটি টিউবওয়েলে পানি উঠলেও তাও একেবারে অল্প পরিমাণে আর পানি তুলতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
আরও পড়ুন:ঘেরের পানির ওপর মাচায় ঝুলছে রসালো তরমুজ
উপজেলার সব থেকে বড় গ্রাম ৩নং শ্রীকোল ইউনিয়নের বরিশাট গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামটি পানিশূন্য। গ্রামের লোকজন পায়ে হেঁটে ১ কিলোমিটার দূর থেকে পানি এনে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করছে।
এলাকার মসজিদ, মাদরাসাগুলোতে পানি না থাকায় স্থানীয় মুসল্লিদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে পানি সরবরাহ উন্নয়নে জাপান ও ইউএনএইচসিআরের সহায়তা
ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বরিশাট মাদরাসা মসজিদের ইমাম, মাওলানা মো. আকিদুল ইসলাম জানান, এক মাস ধরে গ্রামের অনেক টিউবওয়েলে পানি নেই। তাদের বরিশাট পূর্বপাড়া মাদরাসা জামে মসজিদের টিউবওয়েলের বর্তমান খুবই দুর্দশা। পবিত্র মাহে রমজান মাস শুরু হয়েছে কিন্তু পানির বা অযুর কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না। বাহির থেকে ওযু করে এসে নামাজ পড়তে হয়। একবার ওযু ভেঙে গেলে আর মসজিদে নামাজ আদায় করা সম্ভব হয় না।
আরও পড়ুন: পানি নেই হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে, দুর্ভোগে রোগীরা
এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছিন কবীর ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিয়া মাহমুদুল গনি শাহীন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অবিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৭৮৬ দিন আগে
শৌচাগার ও টিউবওয়েল নেই লক্ষ্মীপুরের ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শৌচাগার ও টিউবওয়েল না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে বিদ্যালয়গুলোর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
২১৯৯ দিন আগে