বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক
স্বাস্থ্যখাতে চীনের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্যখাতে চীনের চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করে তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কীট ও সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা চান।
আশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে ১ হাজার বেডের হাসপাতালে নির্মাণে চীন তার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব (রুটিন দায়িত্ব) খোরশেদ আলম ও ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রস্তাবিত এক হাজার বেডের হাসপাতাল নির্মাণে সহযোগিতা করতে তারা পিছুপা হবেন না, তা সাধারণ হাসপাতাল হোক বা বিশেষায়িত হাসপাতাল।
তিনি বলেন, মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে চীন থেকে চিকিৎসক দল এসেছে। রোবোটিক পুনর্বাসনকেন্দ্রে ৮২টি যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশি মেডিকেল কর্মীদের চীনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, চীনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত এক হাজার বেডের হাসপাতাল উত্তরবঙ্গে হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত, যেহতু উত্তরবঙ্গ অনুন্নত ও অবহেলিত।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাৎ করতে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এ বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত হতে চলা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার’ জোটে বাংলাদেশকে যোগদানের অনুরোধ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘প্লান অব অ্যাকশান অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কর্পোরেশন’-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় রিভিউ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎ-পরবর্তী এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারা বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আমিন বাজার পানি শোধনাগার সচল করার বিষয় কথা হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে চীনের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান আছে। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সে চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন খাতে চীন কীভাবে আরও বেশি সহযোগিতা দিতে পারে সে বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে। চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৯ দিন আগে
মানবিক করিডর ইস্যুতে চীন জড়িত নয়: রাষ্ট্রদূত
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, চীন ‘তথাকথিত মানবিক করিডর’ ইস্যুতে জড়িত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, চীন যেকোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের পাঁচ দশক: নতুন উচ্চতায়’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘করিডর ইস্যু—তথাকথিত মানবিক করিডর ইস্যুতে আমি বলব, চীন এতে জড়িত নয়। আমি যতটুকু বুঝি, এটি (মিয়ানমারে) সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ সরবরাহে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর একটি উদ্যোগ। এ বিষয়ে চীন জড়িত নয়।’
তিনি জানান, চীন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে না। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার যথাযথ সমাধান করবে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পারবে বলে আশাপ্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (টিআরসিএমআরপি) হালনাগাদ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ সংবাদ বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন ওয়েন। ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশ চীনা কোম্পানিগুলোকে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য স্বাগত জানিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান হামলা: নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান চীনা রাষ্ট্রদূতের
তিনি বলেন, ‘আমি বলব, এ বিষয়ে চীন প্রস্তুত রয়েছে। আমরা আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। এখন বাংলাদেশ এগিয়ে আসতে চায় কিনা, সে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।’
‘দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক না কি আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে—সে বিষয়ে বলা যায়, এই প্রকল্পটি কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে চীন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এই প্রকল্পটি শুরু করা যেতে পারে। এটুকুই আমি বলতে চাই।’
৩০১ দিন আগে