সাংবাদিক
বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২২ সাংবাদিককে পুনর্বহালের দাবি ডিআরইউর
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে ২২ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ইতিবাচক উদ্যোগ না নিলে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি এ ধরনের আকস্মিক ও গণহারে চাকরিচ্যুতি শুধু অমানবিকই নয়, এটি শ্রম আইন, পেশাগত মর্যাদা এবং গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।
তারা বলেন, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের অধিকাংশই বাংলাদেশ প্রতিদিনে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন। আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করেই তাদের চাকরিচ্যুত করায় অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
ডিআরইউ নেতারা আরও বলেন, সংগঠনটির কাছে এমন তথ্য এসেছে যে, দীর্ঘদিন কর্মরত সাংবাদিকদের সরিয়ে নতুন করে জনবল বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সত্য হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত স্থিতিশীলতা এবং কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের অবদান, শ্রম অধিকার ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ডিআরইউ জানায়, অন্যথায় সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
একই সঙ্গে দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার, পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বার্থ, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ডিআরইউ সবসময় সোচ্চার ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। গণমাধ্যমকর্মীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
৭ ঘণ্টা আগে
ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা সাংবাদিকের কাজ: কাদের গনি চৌধুরী
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার মূল কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সত্য বলার সাহসিকতাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র। গণমাধ্যমের জন্য দরকার সৎ, সত্যনিষ্ঠ, পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতা। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে এসবের বড্ড অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।’
দলবাজি, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ও তথ্যসন্ত্রাস সাংবাদিকদের মর্যাদা ম্লান করে দিচ্ছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা চলবে না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে দখল করে নিয়েছে স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, বস্তুনিষ্ঠ, সৎ, নির্ভীক সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনে। একটি আদর্শ গণমাধ্যমের কোনো দল, গোষ্ঠী, সরকার, বিদেশি রাষ্ট্র বা কোনো এজেন্সির কাছে দায়বদ্ধতা থাকে না। দায়বদ্ধতা থাকে শুধু দেশের জনগণের কাছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম নানা সংকটে আবর্তিত। এই সংকট তৈরি করেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। গণমাধ্যমকে সব সময় জনগণের পক্ষে থাকার কথা ছিল, কিন্তু জনগণের সঙ্গে গণমাধ্যমের একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে গুম–খুনের কথা জিজ্ঞেস না করে তৈলমর্দন করতেন অনেক দালাল সাংবাদিক। ফলে সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা সভায় পরিণত হতো। এভাবে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার থেকে মহাস্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট থেকে মহাফ্যাসিস্ট বানানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে দালাল সাংবাদিকেরা। এ সত্য আমাদের স্বীকার করতে হবে।’
তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে ‘গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, আর জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়।’ তাই গণমাধ্যমকে পরাজিত হতে দেওয়া যাবে না।
২ দিন আগে
পেশাদারত্ব বজায় রাখতে সাংবাদিকদের তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা এমন একটি প্রক্রিয়া, যা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, বরং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন হওয়া উচিত।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬-এর একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মনি দীক্ষিত, দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো বিষয় সংবাদ নয়, সেটি কেবল মতামত হতে পারে। তিনি সমাজকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ ও চ্যালেঞ্জের ধরন ভিন্ন হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে একই রকম। তারা স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
পরে দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র, শিল্প ও সেবা খাতের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই নিয়ে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। এ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনে প্রযুক্তিবিদ প্রণব যোগেন্দ্র ব্রহ্মভট্ট, ব্যারিস্টার তাসমিয়া রহমান প্যাটেল, টেরি কে রুপার্টসহ দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
১০ দিন আগে
কে সাংবাদিক আর কে নয়, তা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি।’
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার মানসিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যাতে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
গণমাধ্যম একটি বহপাক্ষিক ক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেই নিহিত।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়। এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক বিষয়ের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্যদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার ওপরই সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত এবং আলোচনা ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আমাদের কিছু অঙ্গীকার আছে। তার মধ্যে ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি, সেটি বাস্তবায়নেরও অঙ্গীকার আছে। আমরা এগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, আমার খুব খারাপ লাগে, যখন দেখি যে কতগুলো বিষয় নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তার মধ্যে একটি জুলাই সনদ।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে গেলে তারা নিজ নিজ নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সেসব বিষয়ে কাজ করবে। ‘এ বিষয়টি আমরা কেন যেন এড়িয়ে যাচ্ছি। এ নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত’, বলেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ আলোচনার মধ্যেই বিষয়গুলোর সমাধান হতে পারে। সংসদে সুযোগ এসেছে, একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আমার আহ্বান থাকবে, সবাই সেই কমিটিতে যোগ দিয়ে সংবিধানের যেসব বিষয় পরিবর্তন করা প্রয়োজন, সেগুলোতে সহযোগিতা করবেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন আমরা অনেক করেছি, অনেক রক্তও দিয়েছি। এবার দেখা যাক, আলোচনার মাধ্যমে সংসদে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় কি না। এটাই আমার আহ্বান। তিনি বলেন, আমার এই শেষ বয়সে আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে আগামী প্রজন্মকে আর মারামারি, কাটাকাটি বা প্রাণ দিতে হবে না। সবকিছু একেবারে নাকচ করে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে আলোচনার মধ্য দিয়ে এগোনো উচিত।
১৬ দিন আগে
সংগ্রাম শেষ হয়নি, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংগ্রাম শেষ হয়নি; ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিহাসের এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশে বারবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের লুটপাট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয় অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেই প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই অগ্রযাত্রা সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং সমাজের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
১৬ দিন আগে
নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ছাড়া সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সম্মানজনক বেতন-ভাতা এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম শিল্পের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। তাহলেই সাংবাদিকরা নিরাপদ কর্মপরিবেশে স্বাধীনভাবে মেধা, সৃজনশীলতা ও পেশাগত দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর একটি মিডিয়া গ্রুপের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনকালে সেখানে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করা না গেলে পেশাদার সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অপসাংবাদিকতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকৃত ও মেধাবী সাংবাদিকদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংবাদপত্র শিল্পের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে এমন নীতিগত সহায়তা দিতে হবে, যাতে গণমাধ্যম শিল্পে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, গণমাধ্যম সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় কমিশন গঠনের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সরকারের লক্ষ্য অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের প্রধান চ্যালেঞ্জ সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে নয়; বরং ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত লড়াই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যম বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতাদের উত্থানের ফলে বিজ্ঞাপনের বড় একটি অংশ ডিজিটাল মাধ্যমে স্থানান্তরিত হচ্ছে। তাই মূলধারার গণমাধ্যমকে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে।
তিনি সরকারি বিজ্ঞাপনের বিষয়ে দর্শক ও পাঠক সংখ্যাই গণমাধ্যমের স্ট্যান্ডার্ড নিরূপণের মূল ভিত্তি উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়টি নির্ধারণে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, কালের কন্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, নিউজ ২৪-এর বার্তা প্রধান শরিফুল ইসলাম খান, বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ কে এম মনজুরুল ইসলাম মনজু ও কালের কন্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান বক্তব্য রাখেন।
১৯ দিন আগে
সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি, খুলনা প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ
খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা প্রেসক্লাবের নেতারা।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশের একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক পথচারী বলেন, প্রতিদিন অফিসের কাজ শেষে রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঐ দোকানের পাশে চেয়ারে বসে কয়েকজন সাংবাদিক আড্ডা দেন। আজও এখানে বসে ৬ জন সাংবাদিক গল্প করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই যুবক তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন, তবে গুলিটি চেয়ারের পায়ায় বিদ্ধ হয়।
এসএ টিভির সাংবাদিক মতি বলেন, রাতে আমরা কয়েকজন সাংবাদিক এখানে আাড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে দুজন যুবক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে চেয়ারে বিদ্ধ হয়। এ ঘটনার পর পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ আসে।
দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ রানা কবির বলেন, দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিটি চেয়ারে বিদ্ধ হয়। এর একটি স্প্রিন্টার সাংবাদিক আওয়ালের বুকে লেগে কিছু অংশ ছিলে যায়। তবে তিনি সুস্থ আছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা প্রেসক্লাবের নেতারা। যাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, তাদের মধ্যে খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্যসচিব ও স্টার নিউজের খুলনা ব্যুরো প্রধান রাফিউল ইসলাম টুটুল, প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি এবং ক্লাবের অস্থায়ী সদস্য ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার খুলনা ব্যুরো প্রধান আওয়াল শেখ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক অওয়াল আহত হয়েছেন।
এক বিবৃতির মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর গুলি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান প্রেসক্লাবের নেতারা।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীরা যেন পার পাওয়ার সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নির্ভয়ে, নিরাপদ পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিও আহ্বান জানান তারা।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বুলেটের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর আমার জানা নেই। কী কারণে এখানে গুলির ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
২০ দিন আগে
দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা: সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ৩
দিনাজপুরের হাকিমপুরে একজন যুবককে অপহরণ এবং ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় নাগরিক টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি তাহাকিক হাসানসহ আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলা এলাকা থেকে ওই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, গত ২ জুলাই ইউসুফ ও মোজাম্মেল হোসেন মুকুল নামে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার তাহাকিক হাসান হাকিমপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)অভা জাকির জানান, জীবনানন্দ সরকার নামের একজন ‘টি বয়’-কে গত ৩০ মে অপহরণ করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটারে তালা মেরে ভেতরে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন অপহরণকারীরা। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন জীবনানন্দের বাবা মনিন্দ্রনাথ সরকার। এরপর প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর অভিযান চালিয়ে ওই দোকানের ভেতরে আটকাবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ সময় জিম্মিকে পাহারা দেওয়া ইউসুফ এবং মোজাম্মেল হোসেন মুকুল নামে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। এরপর মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্যরা আত্মগোপন হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার সাংবাদিক তাহাকিক হাসানের ভাই মেহেদি হাসান ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে স্বর্ণ চোরাচালানেরর মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, অপহরণের শিকার জীবনানন্দ সরকার ‘টি বয়’ হিসেবে কাজ করতেন। তার পরিবারের পক্ষে ১৮ লাখ দূরের কথা ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার সক্ষমতা নেই। তাছাড়া জীবনানন্দ সরকারের কাছে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নিয়েছেন অপহরণকারীরা। সব বিষয় মাথায় রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবির পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার ৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
৩১ দিন আগে
মিডিয়া শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে: মির্জা ফখরুল
সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিডিয়া শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকরা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবেন। রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে সঠিকভাবে পথ দেখানোই সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, আর সেই ভুল তুলে ধরা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তিনি বলেন, অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকরা হামলা-হয়রানির শিকার হন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মন্ত্রী বলেন, যে দেশের গণমাধ্যম যত শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী। গণতন্ত্রের সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর।
সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, দক্ষ ও সৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন উপজেলা পরিচালনায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের সাফল্য যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, মো. আব্দুল লতিফ, লুৎফর রহমান মিঠু।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত সদস্যরাসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে