সাংবাদিক
মগবাজার মোড় থেকে সাংবাদিককে ‘অপহরণচেষ্টা’
রাজধানীর মগবাজার মোড় এলাকা থেকে আতাউর রহমান নামে এক সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অপহরণে ব্যর্থ হয়ে মব সৃষ্টি করে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয় তাকে। তাতেও ব্যর্থ হয়ে দ্রুত গাড়ি নিয়ে সটকে পড়ে অভিযুক্তরা।
ঘটনাটি সোমবারের (৪ মে)। ওই দিন রাত সোয়া ১০টার দিকে মগবাজার ট্রাফিক সিগন্যালের মতো ব্যস্ততম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে শুরুতে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
আতাউর রহমান অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবির সাবেক কর্মী।
ঘটনার বিবরণে আতাউর জানান, রাজধানীর পান্থপথে অফিস শেষ করে সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বনশ্রীর বাসায় ফিরছিলেন তিনি। সে সময় সঙ্গে ছিলেন তার সাবেক সহকর্মী সাংবাদিক মহির মারুফ। মগবাজার সিগন্যালে রিকশা থেকে নেমে আতাউর যখন ভাড়া মেটাচ্ছিলেন, মারুফ তখন সিগন্যাল অতিক্রম করে আরেকটি রিকশা ভাড়া করতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে ঘটে ঘটনাটি।
সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে এসে আতাউরের দিকে তেড়ে যান। লাঠি হাতে নেমে আসা ওই ব্যক্তি তাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। সে সময় এই সংবাদকর্মী তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে গাড়িটি থেকে আরও তিনজন নেমে আসেন। তবে হট্টগোল দেখে সেখানে লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্তরা আতাউরের বিরুদ্ধে গালি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
অভিযুক্তরা মব সৃষ্টির মাধ্যমে উপস্থিত জনতাকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন আতাউর। তিনি বলেন, ‘তবে কাছাকাছি থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি টের পেয়ে তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে করে ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে, তবে উপস্থিত জনতা তাদের বাধা দিলে অপহরণকারীরা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক মারুফ বলেন, ‘আমি সিগন্যাল ক্রস (অতিক্রম) করে পেছনে তাকিয়ে দেখি, একটি কালো প্রাইভেট কার সিগন্যালে থেমে আছে। সেটির সামনের সিট থেকে একজন বের হয়ে আতাউর ভাইকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি দৌড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে ডেকে নিয়ে সেখানে পৌঁছে দেখি, ইতোমধ্যে চারজন মিলে আতাউর ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় পথচারীসহ আমরা সবাই মিলে তাদের বাধা দিলে উল্টো তারা দোষ দেয় যে তাদের নাকি গালি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আতাউর ভাইকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা গাড়িতে উঠে দ্রুত চলে যায়।’
এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গাড়িটির নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে (এসআই) ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারা কেন একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটালো, তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।
৯ ঘণ্টা আগে
সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশিক্ষণে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস ইউনেস্কোর
পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর প্রকল্প চলমান রয়েছে জানিয়ে ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুসান ভাইজ বলেছেন, বাংলাদেশে পুলিশের প্রশিক্ষণ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললে আগামী জুনের মধ্যেই তারা প্রশিক্ষণ শুরু করতে চান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সুসান ভাইজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন ফারহানা শাহনাজ এবং মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন প্রজেক্ট লিড শাকিল এম ফয়সাল।
সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষের মধ্যে পুলিশ প্রশিক্ষণ ও সংস্কার, মিডিয়া ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী সুসান ভাইজকে স্বাগত জানান। এরপর ভাইজ নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর চলমান প্রকল্প রয়েছে। পুলিশের প্রশিক্ষণ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললে আগামী জুনের মধ্যেই তারা প্রশিক্ষণ শুরু করতে চান।
মন্ত্রী এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে দ্রুত প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সুসান ভাইজ জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে উপপরিদর্শক (এসপি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদমর্যাদার ৭০০ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী ইউনেস্কোর সহযোগিতায় প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে পুলিশ মহাপরিচালক (ডিআইজি) ও এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের পরামর্শ দেন। এতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মিডিয়া শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রশিক্ষণটি ফলপ্রসূ হবে বলে অভিমত জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হলে তা অংশগ্রহণকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে।
সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে সুসান ভাইজ জানান, মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য অনুরূপ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে ইউনেস্কো।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে এর সঙ্গে জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে ইউনেস্কো প্রতিনিধিরা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হলেন সাংবাদিক আবদাল আহমদ
তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) তাকে চুক্তিতে এক বছরের জন্য গ্রেড-১ পদমর্যাদায় এই নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ পেয়েছেন। যোগদানের তারিখ থেকে তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে।
নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
সৈয়দ আবদাল আহমেদ বর্তমানে দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের দুই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক।
১০ দিন আগে
প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
দেশের প্রবীণ সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবসর ভাতা চালুর লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অসুস্থ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবানকে দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
তথ্যমন্ত্রী জানান, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এই খাতের কর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার বাইরে থাকায় নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। বিশেষ করে প্রবীণ সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ছিল। এ বাস্তবতায় সরকার তাদের জন্য অবসর ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক প্রবীণ সাংবাদিক জীবনের শেষ পর্যায়ে আর্থিক কষ্টে দিন কাটান। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার কাজ করছে যাতে সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন তারা।
মন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে। একইসঙ্গে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের মেধাবী ও প্রতিভাবান মানুষদের টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য। সাংবাদিকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।
এ সময় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অসুস্থ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবানের হাতে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন জহির উদ্দিন স্বপন।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খোন্দকার কাওছার হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দিন আগে
সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক হাসান শাহরিয়ারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল শুক্রবার। ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার নিজ বাড়ি সুনামগঞ্জ, ঢাকার সেগুনবাগিচার বাসভবন এবং সিলেটে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে হাসান শাহরিয়ার আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনাম অর্জন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সাময়িকী নিউজউইক, পাকিস্তানের দি ডন, মধ্যপ্রাচ্যের খালিজ টাইমস, চট্টগ্রামের ডেইলি পিপলস ভিউ-এর প্রধান সম্পাদক এবং দক্ষিণ ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ডেকান হেরাল্ড-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক বিষয়ে, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তান সম্পর্কিত বিশ্লেষক হিসেবে তিনি দেশে-বিদেশে সমাদৃত ছিলেন।
তিনি বৈদেশিক সংবাদদাতা সমিতি (ওকাব)-এর সাবেক সভাপতি এবং কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০১২ সালের মাল্টা সম্মেলনে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস’ নির্বাচিত হন। সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি তাকে ফেলোশিপ প্রদান করে এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল তাকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়।
হাসান শাহরিয়ার ‘অতীত অতীত নয়’, ‘যার শেষ ভালো তার সব ভালো’, ‘যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা’ এবং ‘নিউজ উইকে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় এবং অতঃপর’ শীর্ষক গ্রন্থ রচনা করে প্রশংসা অর্জন করেন।
একজন নির্ভীক সাংবাদিক হিসেবে তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। নীতির প্রশ্নে আপস না করায় তিনি একাধিকবার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। সম্পাদকের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি প্রকাশিতব্য ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদকের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়ে তিনি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
১৯৪৬ সালের ২৫ এপ্রিল সুনামগঞ্জ শহরের হাছন নগরে জন্মগ্রহণ করেন হাসান শাহরিয়ার। তার পারিবারিক নিবাস তাহিরপুরের লাউড় পরগনার বিন্নাকুলি গ্রামে। তার পিতা মকবুল হোসেন চৌধুরী তৎকালীন আসামের প্রথম মুসলিম সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি কলকাতার দৈনিক ‘ছোলতান’, সিলেটের সাপ্তাহিক যুগবাণী, যুগভেরী ও সিলেট পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তিনি খেলাফত আন্দোলনের নেতা, আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য ও ভাষাসৈনিক ছিলেন।
পিতার পথ অনুসরণ করে হাসান শাহরিয়ার সাংবাদিকতায় আসেন। তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক, সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে আইএ এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় ঝুঁকে পড়েন তিনি। সুনামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘সুরমা’ পত্রিকার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। তিনি কচি-কাঁচার মেলার সংগঠক ও সুরমা-কাকলী কচি-কাঁচার মেলার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৬৩ সালে বন্যার্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম সফর করেন।
একই বছর রিয়াসত আলী ও রোকনুজ্জামান খান (দাদা ভাই)-এর উদ্যোগে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক শহীদ সিরাজ উদ্দিন হোসেন তাকে সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ দেন।
হাসান শাহরিয়ার সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট প্রেস ক্লাব ও সুনামগঞ্জ জগতজ্যোতি পাঠাগারের আজীবন সদস্য ছিলেন।
২৭ দিন আগে
কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে দুই মামলায় জামিনে মুক্ত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেয়।
কাশিমপুর কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় আনিস আলমগীরের দুটি মামলার মুক্তির অনুমোদন কারাগারে পৌঁছায়। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আজ দুপুরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা এক মামলায় হাইকোর্ট থেকে নিয়মিত জামিন পান তিনি। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই মামলাতেই জামিন মেলায় আজ তিনি কারামুক্ত হলেন।
৫৩ দিন আগে
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি সম্পাদক পরিষদের
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাবন্দি রয়েছেন এবং অনেকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে তাদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
তবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একাধিকবার বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তারা আশ্বস্ত করেছিলেন যে মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্পাদক পরিষদের জোরাল আহ্বান, তারা যেন বিষয়টির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ আরও বলে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার—এই প্রত্যাশাই তারা পুনর্ব্যক্ত করছেন।
৭০ দিন আগে
এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে তুরস্কে ডয়চে ভেলের সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলিজান উলুদাগকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্ক সরকার। ওই অভিযোগ একটি মামলা দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উলুদাগকে তার আঙ্কারার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলিজান উলুদাগগ ডয়চে ভেলের তুর্কি সার্ভিসে কাজ করেন। তার বিরুদ্ধে এক্সে করা পোস্টের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতির মামলার ওপর প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর ইস্তাম্বুলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগ আনেন। এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে উলুদাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার পোস্টগুলো ছিল একজন বিচারবিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে করা বৈধ সমালোচনা। আদালতের নথি উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে কুমহুরিয়েত পত্রিকা।
তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানায়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছে তারা।
অন্যদিকে, ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং উলুদাগের মুক্তি দাবি করে এ গ্রেপ্তারকে ‘ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেমূলক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
ইস্তাম্বুলের চাগলায়ান আদালত ভবনের বাইরে সাংবাদিকরা উলুদাগের আটকাদেশের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান।
সংবাদমাধ্যম বিষয়ক অধিকার সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স তুরস্ককে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে দমনমূলক দেশগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির দাবি, দেশটির অধিকাংশ গণমাধ্যম সরকারি নিয়ন্ত্রণে এবং সাংবাদিকরা প্রায়ই আইনি চাপ বা ভয়ভীতির মুখে পড়েন।
তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী দেশটির কারাগারে আছেন।
৭৪ দিন আগে
জাতীয় প্রেসক্লাবের বাথরুম থেকে সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত জাতীয় প্রেসক্লাবের বাথরুম থেকে এক সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানার ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯ টার দিকে বাথরুমের দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাংবাদিকের নাম আলী মাসুদ। তিনি দৈনিক দিনকালের সাংবাদিক ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আজ (মঙ্গলবার) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে ওয়াশরুমের দরজা খুলে ওই সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। মরদেহ এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
৮৫ দিন আগে
রাজশাহীতে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, সাংবাদিক স্বামী আহত
রাজশাহীতে এক সাংবাদিকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সাংবাদিক নিজেও বাসায় আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
নিহত নারীর নাম রওশন আরা (৫৫)। তার স্বামীর নাম গোলাম কিবরিয়া কামাল (৬০)। তিনি কামাল মালিক নামে সাংবাদিকতা করেন। বর্তমানে স্থানীয় দৈনিক রাজশাহী সংবাদের উপসম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। নগরীর হড়গ্রাম বাজার এলাকার একটি বাসায় তিনি ভাড়া থাকেন। কামাল মালিক ডাক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ বাসা থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন জানান, রওশন আরাকে তারা মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। তার গলায় একটি কাপড় পেচানো ছিল। তবে তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে। সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার হাতে ও পায়ে জখম আছে। তিনি একধরনের রাসায়নিক দ্রব্য পান করেছিলেন। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনতলা বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন গোলাম কিবরিয়া। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে যায়। তাদের বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজা ভেঙে তাদের বের করা হয়েছে। মেঝেতে রওশন আরা পড়ে ছিলেন। আর বিছানায় আহত অবস্থায় ছিলেন গোলাম কিবরিয়া। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দৈনিক রাজশাহী সংবাদের সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরাও হাসপাতালে যাই। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সাংবাদিক কামাল মালিকের অবস্থা সংকটাপন্ন। হাত ও পায়ে জখম আছে। সম্ভবত রগ কেটে গেছে। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পর্যক্ষেণ করেছে। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। ওই দম্পতির বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। যা-ই ঘটুক, তারা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, এটুকু অনুমান করা যাচ্ছে।
৯৫ দিন আগে