রহস্য উন্মোচন
গাজীপুরে মাদরাসাছাত্র হত্যার রহস্য উন্মোচন, ভাইসহ গ্রেপ্তার ২
গাজীপুরে মাদরাসাছাত্র আব্দুর রাহিমকে (১৩) হত্যার পর গভীর শালবনে গর্ত করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটন করে এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাইসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।
তিনি জানান, জেলার জয়দেবপুর থানার ডগরি নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রাহিম স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তার বাবা ৩ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানাধীন বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকায় বাঁশরী রিসোর্টের দক্ষিণ পাশে সরকারি শালবনের গভীরে গর্তের ভেতর মাটি চাপা দেওয়া অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে মরদেহটি শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হলে পোশাক দেখে রাহিমের বাবা তার ছেলেকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাহিম তার বাবার কাছে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল। এ বিষয় নিয়ে বড় ভাই আলামিন হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধু আশিক আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তারা রাহিমকে শালবনের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মাফলার দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগানো হয়। একপর্যায়ে রাহিম বিষয়টি বাবাকে জানিয়ে দেবে বললে আলামিন তাকে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই গর্ত করে মাটি চাপা দেওয়া হয় এবং আলামত নষ্ট করতে তার জ্যাকেট আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
পরবর্তী সময়ে গতকাল (৩ মার্চ) ভোরে জয়দেবপুর থানার মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলামিন হোসেন (২৩) ও আশিক আহমেদকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার বিকে বাড়ি এলাকার বাঁশরী রিসোর্টের দক্ষিণ পাশে শালবানের ভেতর বেশ কয়েকজন কিশোর টিকটক ভিডিও করতে যায়। শুটিং করার সময় বনের ভেতরে তীব্র দুর্গন্ধ তাদের নাকে আসে। পরে তারা সামনে এগিয়ে মাটিতে চাপা দেওয়া ও কিছু অংশ বের হওয়া অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পায়। তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
২ দিন আগে
বড় ভাইয়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে মুরাদনগরের সেই ঘটনার ভিডিও ছড়ানো হয়: র্যাব
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে ছিল দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব। ওই নারীকে নিয়েই পূর্বশত্রুতার জেরে বড় ভাই ফজর আলীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে ওই ঘটনা ঘটান ছোট ভাই শাহ পরান (২৮)।
শুক্রবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) কুমিল্লার বুড়িচং থানার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১ এর একটি দল। সে সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহ পরান গত ২৬ জুন সংঘটিত এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। বড় ভাই ফজর আলীর হাতে আগে প্রকাশ্যে অপমানিত হওয়ায় প্রতিশোধ নিতে একটি মব গঠন করে এই নারকীয় ঘটনা ঘটান তিনি। পরে সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বসতঘরের দরজা ভেঙে নারীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৫
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, বেশ কিছুদিন ধরে ওই নারীকে উত্যক্ত করে আসছিলেন ফজর আলী ও শাহ পরান। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে কয়েক মাস আগে গ্রাম্য সালিশে জনসম্মুখে শাহ পরানকে চড়-থাপ্পড় মারেন ফজর আলী। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে সুযোগ খুঁজতে থাকেন শাহ পরান।
ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফজর আলী ৫০ হাজার টাকা সুদের লেনদেনের অজুহাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। টের পেয়ে ইমো অ্যাপে মেসেজ দিয়ে অন্যদের ডেকে আনেন শাহ পরান। এর প্রায় ২০ মিনিট পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাহ পরান ও তার সঙ্গে থাকা আবুল কালাম, অনিক, আরিফ, সুমন, রমজান এবং আরও আট থেকে দশজন অজ্ঞাত সহযোগী ওই ঘরে হানা দেন। তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ফজর আলীকে মারধর করেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে ফজর আলীকেও তারা এই কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করেন। এরপর নৃশংস ওইসব দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে পুলিশ ও র্যাব মিলে এ পর্যন্ত অভিযুক্ত ফজর আলীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ধর্ষণ শিকার নারীর ভিডিও সামাজিকমাধ্যম থেকে সরাতে নির্দেশ
এরপর গত ২৯ জুন মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে ভুক্তভোগীর পরিবার।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন অভিযুক্তরা। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, শাহ পরান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায় স্বীকার করেছে। তাকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২৪৫ দিন আগে