সংঘবদ্ধ পিটুনি
মানিকগঞ্জে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে চোর নিহত
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে রাজীব (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) ভোরে সায়েস্তা ইউনিয়নের বান্দাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজীব ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দত্তখন্ড গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জিয়ানগর (বান্দাইল) গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাকিম আলীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজীব বাড়ির টিনশেড ঘরের উত্তর পাশের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার আরও ৪ থেকে ৫ জন সহযোগী বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরে প্রবেশের পর নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাইরে থাকা সহযোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ সময় গৃহকর্তা মোহাম্মদ হাকিম আলী বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকাবাসী রাজীবকে আটক করে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৭ দিন আগে
যশোরে জমির বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত খুনি
যশোরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের একজনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) নামের অন্যজন সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আবুল বাশার।
নিহত রফিকুল যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে এবং পলাশ একই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ও পলাশের মধ্যে জমিজমা নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সলুয়া কলেজের সামনে রফিকুল ইসলামকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন পলাশ। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী পলাশকে ঘিরে ফেলে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে পলাশও গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন, আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রফিকুলকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে রফিকুলেরও মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১৪৫ দিন আগে
চোর সন্দেহে নাটোরে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত ১
নাটোরের সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে স্থানীয়দের সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নবীর আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার নেপালদিঘী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নবীর রাজশাহীর বাঘা এলাকায় বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নেপালদিঘীর পার্শ্ববর্তী ইসলাবাড়ি গ্রামে শশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
আরও পড়ুন: লালবাগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত
স্থানীয়রা জানান, রাত ২টার দিকে নেপালদিঘী গ্রামের ইদ্রিস আলীর বাড়ি থেকে কিছু মালামাল চুরি করে পাশের আব্দুল আওয়ালের বাড়িতে প্রবেশ করছিলেন নবীর। সে সময় গ্রামের লোকজন টের পেয়ে চিৎকার শুরু করে। এরপর তাকে ধরে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয় গ্রামবাসী। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
খবর পেয়ে আজ (রবিবার) সকালে মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট ও গ্রামবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে হত্যা বলে মনে হচ্ছে, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
২৮৮ দিন আগে
রাজশাহীতে আলোচিত এসআই মাহবুব হাসানকে সংঘবদ্ধ পিটুনি
ভুক্তভোগী ও উত্তেজিত জনতার হাতে সংঘবদ্ধ পিটুনির শিকার হয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বরখাস্ত হওয়া আলোচিত উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হাসান।
উপপরিদর্শক মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষকেও আটক করে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে রাজশাহী নগরের হাজির মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। এরপর সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ এসআই মাহবুব হাসান আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মাহবুব হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে দলীয় প্রভাবে তিনি পুলিশে চাকরি পান এবং আরএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পোস্টিং নেন। এ সময় তিনি বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও পঙ্গু করেছেন।
তবে শুধু রাজনৈতিক বিরোধীরাই নয়, সাধারণ মানুষও তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি হুদার গণপিটুনিকে সমর্থন করে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন
মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে নগরের শিমলাবাগান এলাকা থেকে রাজীব আলী রাতুল (৩১) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে যান। এরপর রাজীবের বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ছেলেকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। ভয়ে শিমলাবাগানে গিয়ে মাহবুব হাসানের হাতে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন বাবা মাসুদ রানা। এ সময় মাহবুব হাসান রাজীবের বাবাকে বাড়ি চলে যেতে বলেন এবং রাজীবকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরদিন রাজীবকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করার পর জামিন পান রাজীব। এর এক মাস আগে নগরের রেলগেট এলাকায় মাহবুব হাসানের সঙ্গে দেখা হলে তিনি টাকা ফেরত চান। তখন মাহবুব হাসান মারমুখী আচরণ করে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছেন। টাকা চাইলে মেরে ফেলা হবে বলে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখান।
এ ছাড়া গত বছর গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীতে দুজন শহীদ হন—আলী রায়হান ও সাকিব আনজুম। ডিবির বরখাস্ত হওয়া এসআই মাহবুব হাসান দুটি হত্যা মামলারও আসামি।
২৯৫ দিন আগে
লালবাগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত
রাজধানীর লালবাগের শহীদনগর লোহার ব্রিজ এলাকায় সংঘবদ্ধ পিটুনিতে মো. তৌফিকুল ইসলাম ওরফে কিলার বাবু (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রোববার (১৭ আগস্ট) সকাল পৌনে ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ আগস্ট শহীদনগর লোহার ব্রিজ এলাকায় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে তৌফিকুল জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করেন স্থানীয়রা। এরপর শনিবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে মারধর করে উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে আজিমপুর আর্মি ক্যাম্পের একটি দল। পরে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলায়েত হোসেন জানান, তৌফিকুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৩০২ দিন আগে