সংঘবদ্ধ পিটুনি
রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনি, নিহত ২
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরি করে পালানোর অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা (৪২) ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (৩২)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক সিদ্দিকুর রহমান সোহেলের বাড়ি থেকে অটোরিকশা চুরি করে পালানোর সময় তিনি টের পেয়ে যান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং মসজিদে মাইকিং করা হয়।
এরপর স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে তিস্তা সেচ ক্যানেলের কাছে অটোরিকশাটি রেখে ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন রেজাউল ও সাদিকুল। এ সময় তাদের আটক করে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেওয়া হলে তারা মারা যান।
সোহেল বলেন, স্ত্রী চোরদের অটোরিকশা নিয়ে যেতে দেখে তাকে ডাকেন। তিনি বের হয়ে অটোরিকশাটি টেনে ধরার চেষ্টা করলে চোররা তাকেসহ অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি চিৎকার করলে মসজিদের মুসল্লিরা বের হয়ে তাদের ধাওয়া দেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, পুলিশ সুরতহাল শেষে দুজনের মরদেহ থানায় নিয়ে এসেছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।
৯ দিন আগে
ভোলায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত
ভোলায় এক স্থানীয় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনগণের সংঘবদ্ধ পিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসিফ (২৫) নামের ওই যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. দলু মিয়া ও হালিমা বেগমের ছেলে।
অন্যদিকে আহত রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হোসেন ম্যানেজার বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় রাজাপুরের আনন্দবাজার এলাকায় হোসেন ম্যানেজারের ওপর হামলা হয়। এ সময় তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনগণ সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত আসিফকে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
১৬ দিন আগে
চোর সন্দেহে ভালুকায় পিটুনি, শ্রীপুরে ফেলে যাওয়া যুবকের মৃত্যু
চোর সন্দেহে ময়মনসিংহের ভালুকায় মো. সুজন মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুরের শ্রীপুরে এনে ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সুস্থ করার চেষ্টা করলেও তার মৃত্যু হয়।
নিহত সুজনের বাড়ি শেরপুর জেলায়।
ঘটনাটি গেল সোমবারের (৭ সেপ্টেম্বর)। ওই দিন সন্ধ্যায় ভালুকার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানে চুরির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় সুজনকে চোর সন্দেহে কয়েকজন মারধর করেন। মারধরে সুজন গুরুতর আহত হলে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়। পরে কয়েকজন তাকে শ্রীপুরের জৈনা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে যান বলে জানান স্থানীয়রা।
রক্তাক্ত অবস্থায় ময়লার স্তূপে পড়ে থাকা সুজনকে স্থানীয়রা দেখতে পান। তারা তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে সোমবার দিবাগত রাতে শ্রীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, চুরির সন্দেহে ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সুজনকে মারধরের পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জৈনা বাজারে ফেলে যাওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫৬ দিন আগে
মাদকাসক্ত যুবকের অগ্নিসংযোগে পুড়ল ১১ পরিবারের ঘর
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগে সোহেল হোসেন নামের এক যুবককে সংঘবদ্ধ পিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ১১টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে রায়পুর উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকার আশক আলী ব্যাপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাদকের টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সোহেলের প্রায়ই ঝগড়া হতো। তারই জেরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে আগুন দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়রা সোহেল হোসেনকে আটক করে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার দাস আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে মাদকাসক্ত যুবক সোহেল নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ১১টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
৫৯ দিন আগে
ঝিনাইদহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত: জোড়া মামলায় আসামি ২ শতাধিক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিহত ও সুমন নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২ শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়। কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
পুলিশ সূত্র জানায়, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন গরু চুরিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা ইয়াসমিন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই ও যশোর শহরের আরাপপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন।
উল্লেখ্য, গেল শুক্রবার ভোর রাতে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন হাবিব ও সুমন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের একটি বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে।
সংঘবদ্ধ পিটুনির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলা ও তদন্তের বিষয়ে এসআই আবুল কালাম আজাদ জোড়া মামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ‘দুই শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করবে।’
৭২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জ আদালতে হত্যা মামলার আসামিকে সংঘবদ্ধ পিটুনি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আদালত চত্বরে হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশের সামনেই মাটিতে ফেলে মারধর করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, আজ (মঙ্গলবার) চাঁনমারী এলাকার ক্যাবল টিভি ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি শরীফকে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে ওঠানো হয়। এ সময় তাকে কোর্ট হাজত থেকে আদালতে নেওয়ার পথে নিহত মো. নাছির উদ্দিনের এলাকার মানুষজন পুলিশের সামনেই হামলা করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আসামি শরীফ আদালতের দরজার সামনে পড়ে যায়। আর এতেই বিক্ষুদ্ধ জনতা শরীফকে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করে।
পরে আরও পুলিশ ও অন্যান্য আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ বলেন, এ হত্যা মামলার আসামি অনেক বড় অপরাধী। এলাকাবাসী তার ওপর অনেক ক্ষুদ্ধ। তাই তাকে সরাসরি দেখে বিক্ষুদ্ধরা নিজেদের ঠিক রাখতে না পেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে আমরা আইনজীবীরা ও পুলিশ বিক্ষুদ্ধ জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।
আদালত পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে একটি পক্ষ হামলা করার চেষ্টা করেছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রেখেছি।
গত ১৪ মে চাঁনমারী মাউড়াপট্টি এলাকার ফ্রেন্ডস ক্যাবল অফিসে মো. নাছির উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় ফতুল্লা থানায় শরীফকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে।
১২৬ দিন আগে
মানিকগঞ্জে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে চোর নিহত
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে রাজীব (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) ভোরে সায়েস্তা ইউনিয়নের বান্দাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজীব ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দত্তখন্ড গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জিয়ানগর (বান্দাইল) গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাকিম আলীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজীব বাড়ির টিনশেড ঘরের উত্তর পাশের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার আরও ৪ থেকে ৫ জন সহযোগী বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরে প্রবেশের পর নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাইরে থাকা সহযোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ সময় গৃহকর্তা মোহাম্মদ হাকিম আলী বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকাবাসী রাজীবকে আটক করে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
১৪৮ দিন আগে
যশোরে জমির বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত খুনি
যশোরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের একজনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) নামের অন্যজন সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আবুল বাশার।
নিহত রফিকুল যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে এবং পলাশ একই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ও পলাশের মধ্যে জমিজমা নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সলুয়া কলেজের সামনে রফিকুল ইসলামকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন পলাশ। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী পলাশকে ঘিরে ফেলে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে পলাশও গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন, আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রফিকুলকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে রফিকুলেরও মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২৮৬ দিন আগে
চোর সন্দেহে নাটোরে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত ১
নাটোরের সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে স্থানীয়দের সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নবীর আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার নেপালদিঘী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নবীর রাজশাহীর বাঘা এলাকায় বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নেপালদিঘীর পার্শ্ববর্তী ইসলাবাড়ি গ্রামে শশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
আরও পড়ুন: লালবাগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত
স্থানীয়রা জানান, রাত ২টার দিকে নেপালদিঘী গ্রামের ইদ্রিস আলীর বাড়ি থেকে কিছু মালামাল চুরি করে পাশের আব্দুল আওয়ালের বাড়িতে প্রবেশ করছিলেন নবীর। সে সময় গ্রামের লোকজন টের পেয়ে চিৎকার শুরু করে। এরপর তাকে ধরে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয় গ্রামবাসী। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
খবর পেয়ে আজ (রবিবার) সকালে মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট ও গ্রামবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে হত্যা বলে মনে হচ্ছে, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
৪৩০ দিন আগে
রাজশাহীতে আলোচিত এসআই মাহবুব হাসানকে সংঘবদ্ধ পিটুনি
ভুক্তভোগী ও উত্তেজিত জনতার হাতে সংঘবদ্ধ পিটুনির শিকার হয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বরখাস্ত হওয়া আলোচিত উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হাসান।
উপপরিদর্শক মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষকেও আটক করে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে রাজশাহী নগরের হাজির মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। এরপর সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ এসআই মাহবুব হাসান আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মাহবুব হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে দলীয় প্রভাবে তিনি পুলিশে চাকরি পান এবং আরএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পোস্টিং নেন। এ সময় তিনি বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও পঙ্গু করেছেন।
তবে শুধু রাজনৈতিক বিরোধীরাই নয়, সাধারণ মানুষও তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি হুদার গণপিটুনিকে সমর্থন করে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন
মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে নগরের শিমলাবাগান এলাকা থেকে রাজীব আলী রাতুল (৩১) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে যান। এরপর রাজীবের বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ছেলেকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। ভয়ে শিমলাবাগানে গিয়ে মাহবুব হাসানের হাতে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন বাবা মাসুদ রানা। এ সময় মাহবুব হাসান রাজীবের বাবাকে বাড়ি চলে যেতে বলেন এবং রাজীবকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরদিন রাজীবকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করার পর জামিন পান রাজীব। এর এক মাস আগে নগরের রেলগেট এলাকায় মাহবুব হাসানের সঙ্গে দেখা হলে তিনি টাকা ফেরত চান। তখন মাহবুব হাসান মারমুখী আচরণ করে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছেন। টাকা চাইলে মেরে ফেলা হবে বলে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখান।
এ ছাড়া গত বছর গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীতে দুজন শহীদ হন—আলী রায়হান ও সাকিব আনজুম। ডিবির বরখাস্ত হওয়া এসআই মাহবুব হাসান দুটি হত্যা মামলারও আসামি।
৪৩৬ দিন আগে