স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঈদে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য শিক্ষা দেয়।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ঈদের এই আনন্দ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জীবনে অনাবিল সুখ ও শান্তি বয়ে আনবে। তিনি বলেন, ‘সাম্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের এবারের ঈদের অঙ্গীকার।’
বার্তায় দেশ ও জাতির কল্যাণে ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সেই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন এবং সবাই যেন নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
২ দিন আগে
গ্লোবাল ফ্রড সামিটে অংশ নিতে ভিয়েনায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গ্লোবাল ফ্রড সামিটে অংশ নিতে ভিয়েনায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) ও ইন্টারপোলের যৌথ আয়োজনে আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ এ সামিট অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হবে।
রবিবার (১৫ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য এ সামিটে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সামিটের উদ্বোধনী ও প্লেনারি সেশনসহ ‘গ্লোবাল ফ্রড রেসপন্স মেকানিজম’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক ও ‘ন্যাশনাল কমিটমেন্টস/প্লেজেস অন কমবেটিং ফ্রড’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।
এছাড়া সাইডলাইন ইভেন্টের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক জন ব্র্যান্ডোলিনো এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তিনি।
সালাউদ্দিন আহমদ সামিটে অংশ নিতে আজ বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ইটি ৬৭৯ ফ্লাইট যোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। সামিট শেষে তিনি আগামী ২০ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।
৭ দিন আগে
সংবিধানে ‘সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। এ ধরনের পরিষদ কেবল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, কোনো ‘সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন আহ্বান করেননি। আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় যে পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে রুল জারি রয়েছে। বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের বিবেচনায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে যদি এমন কোনো পরিষদ গঠন করতে হয়, তবে আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংসদে আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধন হলে তবেই সেটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পরে প্রয়োজন হলে পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসতে পারে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংক্রান্ত অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা দুজনই এখনও তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদ বজায় রেখেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা তাদের দল থেকে পদত্যাগ করেননি। তাই এখানে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য নয়। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই বিধান কেবল তখনই প্রযোজ্য হয়, যখন কোনো সদস্য তার দল থেকে পদত্যাগ করেন।
৭ দিন আগে
শুধু জুলাই সনদ নয়, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শুধু জুলাই জাতীয় সনদ নয়, আমরা নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যে সমস্ত বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হয়েছি, সকল বিষয় বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি শব্দ ও অক্ষরকে আমরা ধারণ করি। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি এবং প্রতিশ্রুতির বাইরেও যে সমস্ত নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন করে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করেছি, তা বাস্তবায়ন করব।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমরা শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। এটা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ও আমরা এতে সই করেছি। বরং যারা সমালোচনা করছে, তারা সই করেছে নির্বাচনের পরে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি প্রস্তাব যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে নোট অব ডিসেন্টসহ সেখানে বলা আছে—যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে যে সমস্ত দফায়, সেই সমস্ত রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হন, তাহলে সেটা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চারটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কারণে জুলাই সনদে সই করতে পারেনি। পরে তাদের মধ্য থেকেও দুয়েকটি দল সই করেছে। কিন্তু যারা বেশি সমালোচনা করেছে, তারা সই করেনি। জুলাই জাতীয় সনদে নুকতা লাগানোর কিছু নেই, সেটা যা আছে তা হয় সই করতে হবে, নতুবা যদি রিজারভেশন থাকে সেক্ষেত্রে সই না করার কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে।
সংবিধান মান্য করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত এসেছি, সংবিধান মেনে চলছি এবং সামনেও সংবিধান মেনে চলার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আমরা যদি গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে চাই জাতীয় সংসদে আগে যেতে হবে, সেখানে আলাপ-আলোচনা করতে হবে, আইন প্রণয়ন করতে হবে, সংবিধানে সেটা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারপরে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয়, সেটা সেখানে নির্ধারণ করা হবে; সিদ্ধান্ত হবে এবং কোন ফরমে শপথ হবে সেটা তৃতীয় তফসিলে আনতে হবে। কে শপথবাক্য পাঠ করাবেন সেটা নির্ধারিত হবে, তারপরে সেটা বিধিসম্মত হবে।
তিনি বলেন, আজকে যাদের জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ানো হলো, যিনি জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ালেন, সেটাতে সংবিধান রক্ষণ হয়েছে কি না, অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের দেখার দায়িত্ব রয়েছে। কেননা, বিচারকগণ সংবিধান সংরক্ষণের শপথ নিয়েছেন।
এ রাজনীতিক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টা অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। সংবিধানে বাধ্যবাধকতা আছে—যেদিন জাতীয় সংসদ বসবে, প্রথম সেশনেই আমাদের সাংবিধানিকভাবে এ ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু সেই ১৩৩টি অধ্যাদেশের কোনটা কীভাবে গৃহীত হবে, কোনটা সংশোধন হবে, কোনটা ল্যাপস হয়ে যাবে, কোনটা হুবহু অনুমোদন করা হবে—সেটা জাতীয় সংসদের এখতিয়ার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদ সার্বভৌম। এমপিরা সার্বভৌম নয়, কিন্তু তারা সার্বভৌম প্রতীকের প্রতিনিধি; তাদের ভোট সাংবিধানিক ভোট। গণভোটের ভিত্তিতে যে ভোট, সেটা তো আইনের ভোট, সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে। আইনের ভিত্তিতে যে ভোট, তার মর্যাদা হচ্ছে সাংবিধানিক ভোটের পরে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়দতাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
১১ দিন আগে
গোপনে মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মাদক কারবারিদের তালিকা অত্যন্ত পেশাদারভাবে প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করা হবে না। কারণ প্রকাশ্যে তালিকা প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তাতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় প্রথম আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ভারতে আটকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী যাতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
মব সৃষ্টির মতো কোনো ঘটনা দেশে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনা হবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মাদক কারবারিদের তালিকা অত্যন্ত পেশাদারভাবে প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করা হবে না। কারণ প্রকাশ্যে তালিকা প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তাতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র সৈকতে বালিয়াড়িতে বসানো স্থায়ী-অস্থায়ী অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে দখলমুক্ত করা হবে। সেই সঙ্গে সৈকতসহ পর্যটন এলাকা পরিষ্কার রাখা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের সহায়তায় তা জেলা পুলিশ বাস্তবায়ন করবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হবে। কক্সবাজার শহরে ব্যাটারিচালিত টমটম ও অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা আর বাড়তে দেওয়া হবে না। লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না এবং একটি লাইসেন্সের অধীনে একাধিক যানবাহন পরিচালনা করলে সেই লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
এ সময় বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আরা স্বপ্নাসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
২৬ মার্চে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জ্বালানি সংকট মাথায় রেখে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্দেশ্যে এবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হলেও এ বছর জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে তা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ফুয়েল ক্রাইসিস (জ্বালানি সংকট) এড়ানো এবং কৃচ্ছতা সাধন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।’
তিনি জানান, ঈদযাত্রা ও জনজীবনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন চলাচল, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস যথারীতি ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হবে। এ আয়োজনের প্রধান দায়িত্বে থাকবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও এতে ভূমিকা রাখবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। এ সময় সেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি স্মৃতিসৌধ এলাকায় যাতায়াত সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ বা শিল্পাঞ্চলে সম্ভাব্য সমস্যা মোকাবিলায় সরকার একটি ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করেছে বলেও জানান তিনি। শিল্প পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি শ্রমিক ও মালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বয় করবেন যাতে ঈদের আগে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়।
পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও বোনাস পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে সমস্যা থাকলে, তা আগেভাগেই সরকারকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
সাম্প্রতিক ‘মব’ বা গণপিটুনির ঘটনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মব এবং স্পট ক্রাইম এক বিষয় নয়। সব ঘটনাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেখলে সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে না।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি নরসিংদীর একটি হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সেখানে প্রথমে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে তদন্তে দেখা যায়, হত্যার সঙ্গে ভুক্তভোগীর সৎ বাবা জড়িত। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে হেফাজতে রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সরকার মব কালচারের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের প্রবণতা এক সময় বিলুপ্ত হবে।’
১৩ দিন আগে
সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
খুব শিগগিরই দেশব্যাপী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় দুটি বিষয়ে অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো— আমরা চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী, বিশেষ করে ঢাকা থেকে অভিযান শুরু করব। সেজন্য চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে সেই হিসেবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করে সে হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং এর মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি প্রদান করা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিবাদী সরকারব্যবস্থার মধ্যে ছিল, সে সময় অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন পুলিশকে সত্যিকার অর্থেই জনগণের বন্ধু মনে করে, আমরা পুলিশ বাহিনীকে সে লক্ষ্যে পরিচালিত করছি। আজকের মতবিনিময় সভায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ রাজনীতিক বলেন, ‘পুলিশ কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক নির্দেশে চলবে না বা কোনো পিতৃতান্ত্রিক সিস্টেম এখানে চলবে না; পুলিশ চলবে আইনানুগভাবে।’
মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে বিষয়ে তারা আজ সংকল্প ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো আছে, তা স্মরণ করে দিয়েছি। আমি আশা করছি, তারা জনগণের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ বাহিনীকে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। তবে মন্ত্রী যদি চান, যেকোনো স্তরের কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু ‘চেইন অব কমান্ড’ ভঙ্গ করে একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
ঢাকার যানজটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারকে আমরা একটা সেল বা কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বসে যানজট নিয়ন্ত্রণে করণীয় ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করে আমাকে একটি প্রতিবেদন দেবেন।
এ সময় ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ঢাকার প্রধান ও ভিআইপি সড়কে, যেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থাকার কথা নয়, সেখানেও তারা চলাচল করছে। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা এয়ারপোর্ট রোড থেকে সচিবালয় পর্যন্ত রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করব। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রধান ও ভিআইপি সড়কে এটি করা হবে।
ব্রিফিংয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দিন আগে
পুলিশ পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মাধ্যমে দেশটি মেট্রোরেল ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। দেশটির সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জাপান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপান সহযোগিতা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকটি উপযুক্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে।
বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ পুনর্গঠন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পদে নিযুক্তির জন্য অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ডিএমপির সড়ক নিরাপত্তা প্রজেক্টটি গত বছর শেষ হয়েছে। আমরা পুলিশ ও ডিএমপির সঙ্গে আরও কাজ করতে আগ্রহী।
চলতি বছর হলি আর্টিজান হামলার দশ বছর পূর্তি হবে উল্লেখ করে সাইদা শিন-ইচি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানের নাগরিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ীসহ বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাপানের নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, জাপানের পক্ষ থেকে যেকোনো অনুরোধ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) কোমিনে কেন, প্রথম সচিব (অর্থনীতি) মোচিদা ইউতারোসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯ দিন আগে
মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (২ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়, অবৈধ অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ দমন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দূতাবাস সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম জোরদারকরণে বিশেষ কর্মসূচি (এসপিইএআর), ইলেকট্রনিক জাতীয়তা যাচাই (ইএনভি) বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি শুরু থেকেই বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হয়ে কাজ করে আসছে।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসসহ সমগ্র কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে এসপিইএআর প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দ্রুত সমঝোতা স্মারক সই করা প্রয়োজন। অন্যথায়, যুক্তরাষ্ট্রের এ তহবিল ফেরত বা অন্যত্র চলে যেতে পারে।
রাষ্ট্রদূতের আহ্বানে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাই।
রাষ্ট্রদূত এ সময় মন্ত্রীকে তার নতুন পদে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ অভিবাসন রোধে বাংলাদেশে ইএনভি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে চায়। এটি বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন খাতে বাংলাদেশ গ্রিন জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সন্ত্রাস দমন খাতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। সন্ত্রাস দমন কর্মসূচিতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পর্যায়ের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছে। কিন্তু কর্মকর্তাদের অবসর ও বদলিজনিত কারণে এটি আশানুরূপ ফলপ্রসূ হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি সভা বা কর্মশালা আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর এরিক গিলান, রাজনৈতিক কর্মকর্তা শেন স্যান্ডারস, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ তানিক মুনির ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা রিলে পালমারট্রি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
সীমান্ত হত্যা যেন আর না শুনতে হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা জানান। এর আগে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, ‘এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের হাইকমিশনারকে সীমান্ত নিয়ে কথা বলেছি। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়, সেজন্য বিজিবি ও বিএসফ যেন সব সময় এ বিষয়ে বৈঠক করতে থাকে। যতটুকু সম্ভব সীমান্ত হত্যা এড়িয়ে চলার জন্য বলা হয়েছে।
‘এ বিষয়ে ভারত বলেছে, তারাও আন্তরিক এবং তাদের সব সংস্থাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
ভারতে ভ্রমণ ভিসার কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত এক-দেড় বছরে ভারতের কনস্যুলেট ও ভিসা অফিসগুলো আক্রমণের শিকার হয়েছে। যার জন্য তারা পুরোদমে সেই ভিসা কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, ধারাবাহিকভাবে চালু করবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। নতুন একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকে, এটি তারই অংশ। এছাড়া প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে আমাদের লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার কথা বলতে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, মর্যাদা ও লাভের ভিত্তিতে ভারতের কাছে আমরা একটি সহযোগিতা চেয়েছি। উভয় দেশ এ সম্পর্ক বজায় রাখব। ব্যবসা-বাণিজ্য, কুটনীতিকসহ সব ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। আমরা আশা করি, ভারত সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্কটা বহাল রাখবে।
২১ দিন আগে