স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পোশাক খাতে অস্থিরতা: উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো কোনো মহল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দিয়ে কারখানা বন্ধের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চিংড়িমহাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার জন্য কোনো রকমের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়, আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’
কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কারখানা খুব শিগগিরই খোলার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কিছু দুষ্কৃতকারী হামলার চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের যেসব দাবি-দাওয়া ছিল, সেগুলো পূরণ করা হয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং শ্রমিকরাও সন্তুষ্ট হয়েছেন।
গার্মেন্টস ও নিট খাতের শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মালিকপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সবাই সন্তুষ্ট বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, এখন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে দর-কষাকষি হবে।
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকার বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বোর্ডেই আলোচনা হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ নেই বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কোনো মহল অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমরা এটা কঠোর হাতে দমন করব।’
১৬ ঘণ্টা আগে
মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শিগগিরই পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শিগগিরই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
শ্রমিক সংগঠন, গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন ও সরকারের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি ছিল বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই এ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলো নাম দিতে কয়েক দিন সময় নেয়। সর্বশেষ গত পরশু রাতে তারা প্রতিনিধিদের নাম দেয়।
মজুরি বোর্ড রবিবার গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়, তাদের জীবনমানের উন্নতি হয় এবং তাদের সব বিষয় বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে মজুরি নির্ধারণ করা হয়।’
আগামী ডিসেম্বরে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা তিন বছর পূর্ণ হবে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবতার নিরিখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবে। এ নিয়ে অসন্তোষের কোনো কারণ নেই।
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগও করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদে সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু শিল্প মালিক, মিল মালিক জড়িত আছেন। কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারেও, যারা শ্রমিকদের কল্যাণ চায় কি না, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। রাস্তায় আন্দোলনের নামে তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, যা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কাজ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রবিবারই এ ধরনের কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ ও কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। অডিও, ভিডিও ও বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সচিত্র ভিডিও ক্লিপ সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে শ্রমিক নন, এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সরকার ও মালিকপক্ষের আলোচনায় এসেছে। মালিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে যেসব শিল্পমালিক ও কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, তাদের তালিকা দিতে মালিকপক্ষকে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এসব সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের তালিকাও মালিকপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না।
যারা অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, তারা শ্রমিক নয়; বরং পতিত শক্তির চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা কখনও নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক, তা চাইতে পারেন না। গত কয়েক দিনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জড়িত নন বলে সরকার বিশ্বাস করে।
কেউ ভুলক্রমে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকলে তাদের তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর জানা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সব বিষয় জেনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর সরকার সফলভাবে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করছে, তদন্ত পরিচালনা করছে এবং বিচার নিশ্চিত করছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমা হামলা কিংবা হেফাজতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে একই দিনে নৌ পুলিশ জানায়, ঢাকার তুরাগ নদী থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
ফিরোজ উদ্দিন জানান, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহিনুর জামান জানান, বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। বিষয়টি নৌ পুলিশের আওতাধীন হওয়ায় তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি নিয়ে গেছেন।
নৌ পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারের সময় তাহসিফ সাউরির পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো শার্ট। তার হাতে একটি হাতঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
৫ দিন আগে
পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতায় পুলিশকে সেবার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরের (২০০৬ ব্যাচ) ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পুলিশকে ভয়ভীতি, পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনগণকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষের পাশে থেকে, মানুষকে সেবা দিয়ে, জনগণের আস্থা অর্জন করে, সত্যিকার অর্থেই জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করে দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক সেবামুখী বাহিনীতে রূপান্তর করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও লজিস্টিক সরবরাহের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এই ব্যাচের সদস্যরা দেশসেবার মহান পেশায় যোগ দিয়েছেন।
নিজেদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো প্রকার বৈষম্য ও অন্যায়ের চর্চা না করার জন্য তিনি তাদের নির্দেশ দেন।
পুলিশের পোশাক ও অর্পিত দায়িত্বকে কেবল সাধারণ চাকরির গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এক মহান অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
৫ দিন আগে
ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার খবরে অস্থিরতার সুযোগ দেবে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা নিয়ে সরকার কাউকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুনছি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ডিসেম্বরে আসতে চান। আমরা তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে প্রতিবেশী দেশকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।’
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি শুরু থেকেই এ ধরনের অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।
এ সময় দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ সরকার দেবে না বলে সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেব না। কোনো অপশক্তিকে না, কোনো পতিত শক্তিকে না, কোনো ফ্যাসিস্টকে না, কোনো পলাতক অপরাধীকে না, কোনো গণহত্যাকারীকে না।’
গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া এবং শত শত নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে কোনো অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগাম সতর্কতায় শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা
এবার ১৫ থেকে ১৭ বছর পর দেশে শান্তিপূর্ণভাবে, উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, সাংবাদিক এবং দেশের সব স্তরের মানুষের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা, অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটেছে। এবার এসব অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়েছে।
সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কেন্দ্র পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতি মুহূর্ত মনিটরিং করা হয়েছে।
এছাড়া দুর্গোৎসব ঘিরে দুই-একটি ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা আগেই উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সে অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিয়েছে।
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের কিছু কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। টহলরত পুলিশ সদস্যরা সেখানে গেলে তারা হামলার শিকার হন। পুলিশ সদস্যরা সংখ্যা কম ছিলেন।
ঘটনাটির ভিডিও দেখেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
রাঙ্গামাটির সাজেকের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ ছাড়াও একই ধরনের নামে আরও কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে।
পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পাহাড়ের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আরও নেবে।
এছাড়া স্থানীয় হেডম্যান ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
৯ দিন আগে
ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানোর বিষয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিভিন্ন বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
এছাড়া চলমান দুর্গোৎসব যেভাবে নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও একইভাবে শান্তিপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অভ্যন্তরীণ, ছোটখাটো ও ব্যক্তিগত, জায়গা বা পরিচালনা কমিটি-সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা করা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা এবং তার পর থেকে মাসব্যাপী আয়োজিত কঠিন চীবর দান উৎসবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন এবং নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।
সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা, বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান) এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এছাড়া চলমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কেউ অপকর্ম করে পার পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন-চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস ওড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। এ সময় তারা সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোর একটি তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরের আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী জানান, তালিকা পেলে তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।
এ সময় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ৮ সদস্যের কমিটি
দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে সুপারিশ দিতে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।
এ বিষয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
আগামী দুই মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে কমিটিকে বলা হয়েছে।
কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
১৩ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
১৯ দিন আগে
চিকিৎসকদের বদলি-পদায়নে অটোমেশন চালু
স্বাস্থ্য খাতে বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। প্রথম ধাপে ৯৫ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টকে বদলি ও পদায়ন করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সব পদের বদলি ও পদায়ন পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে অটোমেশন ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
এ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা উপজেলা লেভেলে ৯৫ জন চিকিৎসককে অটোমেশন পদ্ধতিতে বদলি করতে চাচ্ছি, যেখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে।
চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা পরবর্তীতে করব। ডাক্তারদের সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী যার যার উপজেলায় দেওয়ার একটা নির্দেশনা আছে। অটোমেশনের যদি অন্যখানে পড়ে, আমরা খুঁজে দেখব কার উপজেলা কোনটা, নিজ নিজ উপজেলায় আমরা দেব।’
এ প্রক্রিয়ায় ৯৫ জন চিকিৎসককে বদলির ফলাফল দেখে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুরো মন্ত্রণালয়কে আমরা অটোমেশন পদ্ধতিতে আনতে পারি।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্বাস্থ্য খাতে বিরাট পরিবর্তন, সংস্কার এবং অনিয়ম থেকে নিয়মে ফেরত আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বদলি-পদায়ন অটোমেশন চালু করছি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. উম্মেহানী বলেন, সরকারি কার্যক্রমে অটোমেশন নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও গতিশীল করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বদলি ও পদায়ন পরিচালিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
১৯ দিন আগে
অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই মুহূর্তে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর দামপাড়ায় মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসে ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘঠিত এসব নতুন অপরাধ দমনে দেশের আটটি বিভাগে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও বিচারপ্রার্থীদের চাওয়া পূরণে এসব ল্যাব সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে অপরাধের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, সহিংসতায় উসকানি, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলসহ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘঠিত অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমন করতে গেলে পুলিশ মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হয়, এটি নতুন কিছু নয়। অপরাধ দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। তবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালানোর মতো কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের নেই।
চট্টগ্রামের দামপাড়ায় ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ নির্মাণে সহযোগিতা করেছে ‘কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি’। প্রায় ৫৯ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অ্যাডিশনাল আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, অ্যাডিশনাল আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
২০ দিন আগে
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রতিনিধি দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়ন দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কমিটির সপ্তম বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার রক্ষায় সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন এগিয়ে নেওয়ার ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষকদের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সংবিধান সংশোধনের কার্যকর পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেন।
রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন এবং প্রস্তাবিত এই কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী ইতোমধ্যে তাদের লিখিত মতামত জমা দিয়েছেন। অন্যদের কোনো প্রস্তাব থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তা কমিটির কাছে জমা দিতে অনুরোধ জানানো হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
২১ দিন আগে