গুলিবর্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় গুলিবর্ষণ, আহত অন্তত ১২
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটিতে একটি পার্টিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) রাতে ওকলাহোমার কাছে আর্কেডিয়া লেকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শহরটির পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মকর্তারা ।
এডমন্ড পুলিশের মুখপাত্র এমিলি ওয়ার্ড বলেন, রবিবার রাত ৯টার দিকে আর্কেডিয়া লেকের কাছে তরুণদের একটি মিলানায়তনে এই হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয় কর্তৃপক্ষ, তবে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে খুবই ভয়ের ব্যাপার। আমরা জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বুঝতে পারছি। দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ওয়ার্ড বলেন, ‘আমরা পুরো মেট্রো এলাকায় ছড়িয়ে আছি এবং ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছি।’
তিনি জানান, ১০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েকজন নিজ দায়িত্বে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের স্বাস্থ্যের অবস্থা একেকজনের একেক রকম।
হাসপাতালের এক মুখপাত্রের মতে, ওকলাহোমা সিটির ইন্টেগ্রিস হেলথ ব্যাপ্টিস্ট মেডিকেল সেন্টারে ৯ জন এবং ইন্টেগ্রিস হেলথ এডমন্ড হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি ছিলেন। রবিবার রাত পর্যন্ত রোগীদের সবার অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছিল।
পুলিশ এ সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও গুলির ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা একটি ফ্লায়ারে বোঝা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় লেকের কাছে ‘সানডে ফানডে’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় ১৩ মাইল উত্তরে অবস্থিত আর্কেডিয়া লেক একটি কৃত্রিম জলাধার, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র, যেখানে মাছ ধরা, নৌকা চালানো, পিকনিক ও ক্যাম্পিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এই পার্কটি মূলত ওকলাহোমা সিটির এডমন্ড উপশহরে অবস্থিত।
চল্লিশ বছর আগে এই উপশহরটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গুলিবর্ষণের জায়গা। ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ডাককর্মী প্যাট্রিক শেরিল ২০ জন সহকর্মীর ওপর গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন।
১ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে পুলিশ ক্যাম্পে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মেঘনায় যৌথ বাহিনীর অভিযান
নতুন পুলিশ ক্যাম্পের টহল স্পিডবোটে জলদস্যুদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকাল পৌনে ৪টায় এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে গজারিয়া থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, র্যাব -১১’র সম্মিলিত দেড়শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে অভিযান চালায়।
এ সময় মেঘনা নদীর তীরবর্তী জামালপুর, বালুয়াকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান তারা। ডাকাত চক্রের তালিকাভুক্ত সদস্য আশরাফ উদ্দিন ডাকাত, আবুল কালামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি করে যৌথবাহিনী।
এছাড়াও নৌপথের আতঙ্ক, জামালপুর গ্রামের পিয়াস, নয়ন ও রিপনদের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের ঘর-বাড়ি তালাবদ্ধ দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, অভিযানের খবর পেয়ে তারা ভয়ে বাড়িঘর তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
এসব তথ্য দিয়ে যৌথ অভিযান অভিযান চলাকালীন সময়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ জানান, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আশরাফ উদ্দিন এবং আবুল কালাম ডাকাতের বাড়িতে অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নয়ন পিয়াস শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বাড়িঘরে তালাবদ্ধ দেখা যাচ্ছে। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত কোনো কিছু উদ্ধার বা কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
পড়ুন: সিরাজদিখানে মুখোশধারী দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত ২২ আগস্ট মেঘনা নদীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনার লক্ষ্যে গুয়াগাছিয়ার জামালপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরপর সন্ত্রাসী চক্র নয়ন পিয়াসের নেতৃত্বে একাধিকবার বিরোধিতাসহ ক্যাম্পের স্থান নিয়ে বিরোধিতা করে মানববন্ধন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দির সন্ত্রাসী হৃদয় বেগ গত ৫ আগষ্ট দাউদকান্দি থানায় অস্ত্র লুট করে নয়ন পিয়াস বাহিনীর কাছে বিক্রি করে। বিভিন্ন ঘটনায় নয়ন-পিয়াস গা ঢাকা দেওয়ার পর হৃদয় বেগ নয়ন পিয়াস বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পুলিশের টহলরত স্পিডবোটে গুলিবর্ষণ তার নেতৃত্বেই হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট সোমবার বিকাল ৫টার দিকে মেঘনা নদীতে টহলরত পুলিশের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী নয়ন, পিয়াস গ্রুপের সদস্যদের আধা ঘণ্টাব্যাপী গুলি বিনিময় হয়। নতুন পুলিশ ক্যাম্পের বিরোধিতাসহ পুলিশের উপর একাধিক বার হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৬ আগস্ট স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ঘোষণায় গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়ায় চলে এই যৌথ বাহিনীর অভিযান।
স্থানীয় এলাকাবাসীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, নয়ন, পিয়াস ও লালু সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলায় নিহত হয়েছে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যতম সদস্য ডাকাত বাবলা, শুটার মান্নান ও হৃদয় বাঘ। মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলন ও নৌযানের চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ ও সন্ত্রাসী হামলা।
২৫২ দিন আগে