মাহদী আমিন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি: মাহদী আমীন
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে বিএনপি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষ নেবে বলে জানিয়েছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের আমরা বলেছি, নির্বাচনি প্রচারণায় গণভোটে আমরা হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নেব।’
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
গণতন্ত্রে ভিন্ন মত ও ভিন্ন পথ থাকবে এটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে মাহদী আমীন বলেন, ‘যেসব নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা সংসদে আলোচনা করব।’
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি মূল রাষ্ট্র কাঠামোর একটা পরিবর্তন করা। সরকারের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ থাকবে, জবাবদিহিমূলক থাকবে সবার আগে কাজগুলো বিএনপি করেছে। আমাদের যে ৩১ দফা রয়েছে সেখানে সংস্কারের সবচাইতে মৌলিক ভিত্তিগুলো ধারণ করে। সুতরাং আমরা বলছি, গণভোটে হ্যাঁ ভোটে অবস্থান নেব।’
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার, কঠোর বার্তা আর বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতা ও আলোচনার পরও ৭৯টি আসনে বিএনপি অন্তত ৯০ জন দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন।
এ বিষয়ে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তার আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা আন্দোলন ছিল। দীর্ঘ সময় দেশের সাধারণ মানুষ যেমন ভোট দিতে পারেন নাই, একইসঙ্গে এটা সত্য, অনেক ত্যাগী সংগ্রামী রাজনীতিবিদ রয়েছেন, যারা কখনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ফলে এতে দীর্ঘ সময় পরে যখন নির্বাচন হচ্ছে, বিএনপির মতো একটা বড় রাজনৈতিক দল, এখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থাকবে; কিন্তু প্রতিটি আসনে তো একজনের বেশি মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয় না!’
তিনি বলেন, ‘অনেক আসনে অনেক প্রার্থী রয়েছেন, অনেক ত্যাগী অনেক সংগ্রামী তারা। দলের জন্য অনেক ভূমিকা রয়েছে। কারো কারো ভেতরে অনুভূতি রয়েছে, উনি আসনটিতে মনোনয়ন পেতে পারতেন। (মনোনয়নপত্র) প্রত্যাহারের সময় চলে গেছে। এখন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে আলাপ-আলোচনা করা হবে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আলোচনা করা হবে। তারপরে যদি কেউ প্রার্থী থাকেন, অবশ্যই দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় নির্বাচন আচরণবিধি পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে জানান তিনি। একইসঙ্গে সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এ নির্বাচন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী বলেন, বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কিছু জায়গায় পোস্টাল ব্যালটের নামে সংগঠিতভাবে আইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করে। এ ছাড়া বিএনপি নেতাদের ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানানো হবে এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলা হবে বলেও জানান মাহদী।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রকৃত অর্থে মূল্যায়িত হলে বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করবে।’
৪ ঘণ্টা আগে
খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে পরিবার: মাহদী আমিন
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই তাকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যেন আজ পুরো বাংলাদেশের আবেগ, আকাঙ্খা ও অনুভূতির প্রকাশ। এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও, তার চিকিৎসা মূলত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।’
তিনি লিখেছেন, ‘অনেকেই হয়তো জানেন না, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দেশ-বিদেশে সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব পালন করছেন ডা. জুবাইদা রহমান। আর সেখান থেকেই মমতাময়ী মায়ের চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না ঘটে, তার জন্য তারেক রহমান সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অটল দৃঢ়তা নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ তদারকি ও পরিচালনা করছেন।
‘তাছাড়া দেশনেত্রীকে দেখতে বিপুল সংখ্যক মানুষ হাসপাতালে ছুটে গেলেও, সিসিইউর ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। ইনফেকশনের প্রবল ঝুঁকির কারণে সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই। দূর থেকেই মানুষ তার প্রতি ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।’
তারেক রহমানের উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি, দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত আপোষহীন নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে, তাকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার। এই বছরেই লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী। সেই লক্ষ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।’
আশা প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ইনশাআল্লাহ দ্রুত উন্নতি হবে, তিনি আধুনিক চিকিৎসা শেষে সন্তান-স্বজনসহ মুক্ত মাতৃভূমির মানুষকে বরাবরের মতোই অনুপ্রাণিত করবেন, জাতির অভিভাবক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন ও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। আজ দেশের মানুষের প্রত্যাশা, প্রার্থনা ও আবেগ এই দৃঢ় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই।’
মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত ২৩ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা করে খালেদা জিয়ার বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ে। আগে থেকেই থাকা হৃদরোগের সঙ্গে এই সংক্রমণ ফুসফুস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সিসিইউতে তার চিকিৎসা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, মায়ের অসুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
৫৩ দিন আগে