মাহদী আমিন
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলন’-এ তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমি আপনাদের আবেগ ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি কথা দিচ্ছি, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদরা যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তারা এমন একটি সত্যিকার অর্থে সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। এই আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত অনেকেই আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসব আহত ব্যক্তি এবং শহিদ পরিবারের পাশে নির্বাচিত সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা নিয়ে দাঁড়াতে চায় এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তবে তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব অল্প সময়ে সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব নয়। তবুও শহিদদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।
২ দিন আগে
সরকারের মূল লক্ষ্য বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুরক্ষা: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা সুরক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস দেশের জনগণ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা)-এর আয়োজনে এই সম্মেলন হয়।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। বিগত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে সংঘটিত রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নৃশংসতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বিএনপি। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা ভুয়া মামলার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বিএনপি। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, এর একটি বড় কারণ হলো বিএনপি সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।
বিগত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কেবল একটি দলই নয়, বরং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকেও লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল। ক্ষমতার আকার বা শক্তি যা-ই হোক না কেন, গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলা সব অংশীদারই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
গুমের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা ব্যক্তিরাও গুমের শিকার হয়েছিলেন। আল্লাহর রহমতে গুমের শিকার কিছু ভুক্তভোগী ফিরে আসতে পেরেছেন, কিন্তু অনেকের সেই ভাগ্য হয়নি। অনেকেই আর কখনোই ফিরে আসেননি।
তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষের বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হওয়ার পর এখনও ফিরে আসেননি। যে শিশুদের বাবা কিংবা যে স্ত্রীদের স্বামী আর ফেরেননি, তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতির বেদনা নতুন সরকার অনুধাবন করে।
প্রধানমন্ত্রী নিজেও স্বজন হারানোর এই ব্যথা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও এর একজন ভুক্তভোগী। তার বাবা যখন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন দেশের জন্যই প্রাণ হারিয়েছেন। তার মা মারা গেছেন, কারণ তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় জেলে রাখা হয়েছিল। এবং তার ভাইও নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশের জন্য প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বেদনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আত্মিকভাবে যুক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে এমন অবস্থায় ছিলেন যে তাকে কথা পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয়নি। আদালত ও আইন ব্যবহার করে তার বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি কেবল শারীরিক নির্যাতনের শিকারই হননি, দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে পারেননি, তার বাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তার স্ত্রী চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তার চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। সুতরাং, এটি এমন একটি পরিবার যা একদম ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে গুমের শিকার হয়েছিলেন। মন্ত্রিসভার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ প্রতিটি নেতা-কর্মী একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। অনেকের নামে শত শত ভুয়া মামলা দেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, অতীতে একজন নারী ভোটার কেবল বিএনপিকে ভোট দেওয়ার অপরাধে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল। এগুলোই ইতিহাস। তৃণমূল থেকে শুরু করে সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা চরম দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি, যার ক্ষমতার মূল উৎস দেশের সাধারণ জনগণ। এটি বিগত দেড় দশকের শাসন ব্যবস্থার চেয়ে একটি বিশাল পরিবর্তন। অতীতে ক্ষমতার উৎস জনগণ ছিল না, বরং ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের একাংশ— পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন। যেসব প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা, অথচ সেগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছিল স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে এবং জনগণকে দমন করতে
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার একটি ‘রিসেট বোতাম’চেপে সম্পূর্ণ পরিষ্কার এজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। এসব সংস্কার কেবল মুখের কথা নয়, বরং সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কাজের মধ্য দিয়েই তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের জানামতে গত পাঁচ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা গুমের একটি ঘটনাও ঘটেনি। আমরা এই ইতিবাচক ঐতিহ্যটিই ধরে রাখতে ও সামনে এগিয়ে নিতে চাই।
রাজনীতিতে প্রতিশোধের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায্য বিচারের এক নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় বর্তমান সরকার বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, একদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীদারদের ভিন্ন ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে, অন্যদিকে বিগত শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল অপরাধী ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট— কোনো অপরাধী যেন পার না পায়, আবার একইসঙ্গে কোনো নির্দোষ মানুষ যেন একটি গণতান্ত্রিক দেশে মুক্ত মানুষ হিসেবে বাঁচার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না হয়।
বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর থেকে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুনর্মিলন ও সমঝোতার যে পথ তৈরি হয়েছে, তাকেই বর্তমান সরকার তার মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, গত চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশ সরকারবিহীন থাকা অবস্থায় বৃহত্তম দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বে সকল গণতন্ত্রকামী দল রাজপথে থেকে শান্তি ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছিল।
মাহদী আমিন জানান, সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে আমাদের উন্নয়ন এজেন্ডার অংশ হিসেবে লক্ষ্য হলো নারী ও যুবসমাজকে ক্ষমতায়িত করা এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষম উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া, যা কেবল গুটি কয়েকের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে।
বর্তমান সরকার তার ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রথম পাঁচ মাসের সফলতা পুরো মেয়াদেও বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
১১ দিন আগে
১ জানুয়ারি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: মাহদী আমিন
আগামী ১ জানুয়ারি দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
রবিবার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দময় শিখন’ বইটিকে প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের তুলনায় আরও ব্যতিক্রমধর্মী ও ভিন্নধর্মী করা উচিত। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শেখা আরও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, প্রচলিত পাঠ্যবইগুলো সাধারণত লেখানির্ভর হওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের কাছে সেগুলো আকর্ষণীয় মনে হয় না। তাই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটিতে আরও বেশি ছবি, সারণি, চিত্র, ডায়াগ্রাম এবং অন্যান্য দৃশ্যমান উপাদান যুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীদের বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে।
মাহদী আমিন বলেন, বইটির শুরুতে একটি বিস্তারিত ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এতে বইটির উদ্দেশ্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর দার্শনিক ভিত্তি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হলে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে।
কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, এ শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকলেও এখনো এটিকে ঘিরে একটি সামাজিক সংকোচ বা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। ফলে অনেক ভালো পরিবারের শিক্ষার্থীরাও কারিগরি শিক্ষায় আসতে চায় না।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যবইয়ে একটি প্রারম্ভিক অধ্যায় যুক্ত করা যেতে পারে, যেখানে দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং কীভাবে কারিগরি দক্ষতা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারে, তা তুলে ধরা হবে। কারণ, কারিগরি শিক্ষার মূল বিষয়ই হলো মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ ও প্রেরণা সৃষ্টি করা।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের মূল দর্শন, বাংলাদেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের স্কুল থেকে শুরু করে ঢাকার সেরা স্কুল পর্যন্ত প্রত্যেকটি স্কুলে কারিগরি শিক্ষার একটি ল্যাব বাধ্যতামূলক করা হবে। এমনকি বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম সারির শিক্ষার্থীও যেন অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে। সুতরাং, মোটিভেশনের বিষয়টি আনতে হবে যে, কী কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীরই অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, নতুন চারটি বই প্রণয়নের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ে প্রণীত পাঠ্যবইয়ের ভুল ও ইতিহাস বিকৃতির বিষয়গুলোও সংশোধনের কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা বলেছি, ইতিহাসের নির্মোহ বহিঃপ্রকাশ যেন থাকে। আমাদের ইতিহাসকে আমাদের মতো করে সাজানোর প্রয়োজন নেই। নির্বাচিত সরকার, জনগণের সরকার এবং ইতিহাসের প্রতিটি পালাবদলে বিএনপি সঠিক অবস্থানে ছিল এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। আমরা চাই, ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে সত্য, সেটিই উঠে আসুক।’
তিনি বলেন, শিক্ষাক্রম উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি বছরই সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের প্রয়োজন হয় এবং প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি টিম গঠন করে মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করা এবং বইগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়া একটি বড় মহাযজ্ঞ। এজন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বিষয়বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ডেভেলপমেন্ট ইজ অ্যা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। বিশেষ করে এই চারটি বইয়ের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক আবেগ রয়েছে। এটি তার দীর্ঘদিনের কর্মপরিকল্পনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামনে যেহেতু প্রায় এক মাস সময় রয়েছে, তাই রিভিশনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকু কাজ আরও করা উচিত।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশ এই বইগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। অবশ্যই খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ, সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ, কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ; তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস”, কারণ এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’
তিনি বইটির পাঠ্যক্রম আরও আকর্ষণীয়, প্রাসঙ্গিক এবং প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ও ভাবনার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, আগামী ১ জানুয়ারি যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া যায়। সে হিসেবে বই বিতরণের লজিস্টিকসের জন্য প্রায় এক মাস সময় প্রয়োজন হবে।’
মাহদী আমিন জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ৩১ কোটি বই প্রস্তুত রাখতে হবে। এরপর সারা দেশে বই প্রকাশ, মুদ্রণ ও বিতরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কথা দিয়েছি যে, এই মাসের মধ্যেই আমরা বইগুলোর ফাইনাল কপি তার কাছে উপস্থাপন করব। তিনি সেগুলো পর্যালোচনা করবেন এবং আমরা যে কাজ করেছি, তা তার চিন্তাধারা ও প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়ে তার মতামত দেবেন। এরপর তার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হবে।’
২৩ দিন আগে
বন্যা পরিস্থিতিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে যা জানাল প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং
টানা ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকার উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম একযোগে পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নির্দেশনায় কেন্দ্র থেকে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দেশের বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা। এসব জেলার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে উদ্ধার, ত্রাণ ও জননিরাপত্তা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। রবিবার প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানান তিনি।
মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইউএনও, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবিকে যুক্ত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থাও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থান করে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আহ্বানে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দুই কোটির বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করেছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণসামগ্রী ও চাল পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং বিশেষ করে সাপের কামড়ের চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পানি নেমে গেলে দ্রুত সড়ক ও রেলপথ মেরামতের জন্য এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও গবাদিপশু পালনকারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও চালু করা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও কয়েকটি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ায় যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে, তবুও স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে কাজ করছেন।
তিনি জানান, সরকারের কার্যক্রম শুধু উদ্ধার বা ত্রাণে সীমাবদ্ধ নয়; একই সঙ্গে রেসকিউ, রিলিফ ও রিহ্যাবিলিটেশন, অর্থাৎ উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন—এই তিনটি ধাপকে সমন্বয় করেই কাজ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং তার জানা তথ্য অনুযায়ী, ‘১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে’।
তবে তিনি বলেন, তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও জেলাগুলোর জন্য ১৬ জুলাইয়ের পর নতুন সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে তিনি জেনেছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের সময়ে জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচিত সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও মানবিকতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে। ত্রাণ, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, পুনর্বাসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দুর্গত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
২৪ দিন আগে
সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের ১০০ দিন পূর্ণ করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সরকারের অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।’
তিনি বলেছেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’
তিনি দাবি করেছেন, সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের একশ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমন-পীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। অন্যদিকে, বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষোদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলাতেই দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একইসঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন।
তিনি আরও বলেন, গৃহীত বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা। সরকারের রূপকল্পে দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি একসঙ্গে কাজ করে, তরুণ ও নারীরা যদি ক্ষমতায়িত হন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব।
৭১ দিন আগে
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটের ব্যাগ, পোশাক দেবে সরকার
পাটশিল্প রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ রোধে আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে।
রুমন জানান, পাটশিল্পকে রক্ষা এবং পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে মুক্ত করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আগামী জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুইটি করে স্কুলে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের স্কুল নির্বাচন করবে স্থানীয় প্রশাসন।
মাহদী বলেন, প্রথম মাসে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাটের স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেওয়া হবে। সরকারের এই কার্যক্রমে প্রথম ধাপে প্রতি উপজেলার ২টি স্কুল পাবে। পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে।
তিনি আরও জানান, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি স্থানীয় শিল্পের প্রসার ঘটাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও ন্যায্যতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে। এই উদ্যোগ ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ও ব্যয়ে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করে কাজ করবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পাট শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। পলিথিনের কারণে যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, সেখান থেকে জনগণকে সরিয়ে নিয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব পণ্য পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১০৫ দিন আগে
সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছে না বিরোধী দল: মাহদী আমিন
দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা না করে বিরোধী দল উল্টো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময় এবং গত প্রায় দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বহুমুখী অপপ্রচারে লিপ্ত থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য সচেতন নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে এসব মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই জন্য গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যে সমস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি, গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বর্তমান সরকারের মেয়াদ দুমাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দুর্বার গতিতে অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে এবং গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা এক অবিস্মরণীয় অর্জন। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গত দুমাসে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের ও প্রতিটি নাগরিকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যে ৬০টি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
এরপর সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত দুই মাসে নেওয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের তালিকাও উপস্থাপন করেন তিনি। সেগুলো হলো:
১. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
২. প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক কৃষাণীর জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রচলন করা। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, মানবাধিকার হরণের শিকার দল হিসেবে বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
৫. সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল এবং জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় এই কাজ শুরু করা হয়েছে।
৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
৮. জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং প্রজেক্ট ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।
৯. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের একটি অগ্রাধিকার। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাসে এবং এখনও অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
১০. ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানি পাচ্ছেন। এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
১১. ঈদুল ফিতরের সময় সারা দেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্কলার ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২. শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৩. বিগত সময়ের তুলনায় হজযাত্রার খরচ টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে।
১৪. দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্যপদ চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। শূন্যপদ পূরণে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৫. পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।
১৬. স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাইটেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে।
১৭. সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর। এ লক্ষ্য অর্জনে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
১৮. অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০. প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কোনো শ্রমিককে হাহাকার করতে হয়নি। শ্রমিক, মালিক, সরকার ও অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ করা হয়েছে।
২১. দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ।
২২. বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৩. দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার বিদেশে অধিক সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ এবং আধা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে অভিবাসনের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ই বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে দেশজুড়ে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং কারিগরি শিক্ষায় বহুভাষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কারিকুলামে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
২৪. উত্তরবঙ্গকে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের ‘হাব’ বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৫. পেপ্যাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১০৮ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়টি ভিত্তিহীন: মাহদী আমিন
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। এটা সম্পূর্ণ অপপ্রচার। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই বিএনপির রাজনীতি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা করা সম্ভব নয়। যেসব তথ্য একটি নির্দিষ্ট মিডিয়ায় এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর ন্যূনতম বাস্তবতা বা সত্যতা নেই।
গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দলীয় কর্মসূচিতে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেন, ১০ দলীয় জোটের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান আগামী নির্বাচন ঘিরে তিন শর্তে ভারতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
এর জবাবে মাহদী জানান, ‘যদি জামায়াত নেতা ভুল তথ্য পেয়ে অথবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকেন, তা তার অজ্ঞতার পরিচায়ক। আমাদের বিশ্বাস, এটা হয় একটি কৌশল, নয়তো অজ্ঞতার বিষয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনো চুক্তি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি প্রচারণার অংশ।’
তিনি বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে সেটাই বুঝি যে এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে। কোনো অপপ্রচার, অপরাজনীতি সেটা হওয়া উচিত না। কারণ বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের যে রাজনীতি সেটা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের ক্ষমতা এটিকে কেন্দ্র করেই বিএনপির রাজনীতি।
মাহদী আমিন জানান, একটি প্রতারক চক্র বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু কিছু জায়গায় টাকা চাচ্ছে। তারেক রহমানের নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষকের সমৃদ্ধির জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার যে পরিকল্পনা, ইতোমধ্যে তা দেশব্যাপী আলোচিত-সমাদৃত হয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, ইনশআল্লাহ তখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই কার্ডগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি কেউ এই বিষয়ে কোনো অসাধু উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে আপনারা আমাদের অবহিত করবেন এবং অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হবেন।’
মাহদী আমীন বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আজকে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। সফরের শুরুতে তিনি আজ রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমান যোগে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
তারেক রহমান আগামীকাল অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টক’ এ অংশগ্রহণ করবেন। এই পলিসি টকে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পলিসি নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম পোলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।
চট্টগ্রামে সমাবেশের পর বিএনপি চেয়ারম্যান ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়নগঞ্জে সমাবেশে অংশ নেবেন।
১৯২ দিন আগে
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি: মাহদী আমীন
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে বিএনপি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষ নেবে বলে জানিয়েছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের আমরা বলেছি, নির্বাচনি প্রচারণায় গণভোটে আমরা হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নেব।’
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
গণতন্ত্রে ভিন্ন মত ও ভিন্ন পথ থাকবে এটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে মাহদী আমীন বলেন, ‘যেসব নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা সংসদে আলোচনা করব।’
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি মূল রাষ্ট্র কাঠামোর একটা পরিবর্তন করা। সরকারের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ থাকবে, জবাবদিহিমূলক থাকবে সবার আগে কাজগুলো বিএনপি করেছে। আমাদের যে ৩১ দফা রয়েছে সেখানে সংস্কারের সবচাইতে মৌলিক ভিত্তিগুলো ধারণ করে। সুতরাং আমরা বলছি, গণভোটে হ্যাঁ ভোটে অবস্থান নেব।’
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার, কঠোর বার্তা আর বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতা ও আলোচনার পরও ৭৯টি আসনে বিএনপি অন্তত ৯০ জন দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন।
এ বিষয়ে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তার আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা আন্দোলন ছিল। দীর্ঘ সময় দেশের সাধারণ মানুষ যেমন ভোট দিতে পারেন নাই, একইসঙ্গে এটা সত্য, অনেক ত্যাগী সংগ্রামী রাজনীতিবিদ রয়েছেন, যারা কখনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ফলে এতে দীর্ঘ সময় পরে যখন নির্বাচন হচ্ছে, বিএনপির মতো একটা বড় রাজনৈতিক দল, এখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থাকবে; কিন্তু প্রতিটি আসনে তো একজনের বেশি মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয় না!’
তিনি বলেন, ‘অনেক আসনে অনেক প্রার্থী রয়েছেন, অনেক ত্যাগী অনেক সংগ্রামী তারা। দলের জন্য অনেক ভূমিকা রয়েছে। কারো কারো ভেতরে অনুভূতি রয়েছে, উনি আসনটিতে মনোনয়ন পেতে পারতেন। (মনোনয়নপত্র) প্রত্যাহারের সময় চলে গেছে। এখন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে আলাপ-আলোচনা করা হবে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আলোচনা করা হবে। তারপরে যদি কেউ প্রার্থী থাকেন, অবশ্যই দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় নির্বাচন আচরণবিধি পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে জানান তিনি। একইসঙ্গে সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এ নির্বাচন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী বলেন, বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কিছু জায়গায় পোস্টাল ব্যালটের নামে সংগঠিতভাবে আইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করে। এ ছাড়া বিএনপি নেতাদের ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানানো হবে এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলা হবে বলেও জানান মাহদী।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রকৃত অর্থে মূল্যায়িত হলে বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করবে।’
১৯৬ দিন আগে
খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে পরিবার: মাহদী আমিন
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই তাকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যেন আজ পুরো বাংলাদেশের আবেগ, আকাঙ্খা ও অনুভূতির প্রকাশ। এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও, তার চিকিৎসা মূলত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।’
তিনি লিখেছেন, ‘অনেকেই হয়তো জানেন না, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দেশ-বিদেশে সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব পালন করছেন ডা. জুবাইদা রহমান। আর সেখান থেকেই মমতাময়ী মায়ের চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না ঘটে, তার জন্য তারেক রহমান সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অটল দৃঢ়তা নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ তদারকি ও পরিচালনা করছেন।
‘তাছাড়া দেশনেত্রীকে দেখতে বিপুল সংখ্যক মানুষ হাসপাতালে ছুটে গেলেও, সিসিইউর ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। ইনফেকশনের প্রবল ঝুঁকির কারণে সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই। দূর থেকেই মানুষ তার প্রতি ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।’
তারেক রহমানের উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি, দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত আপোষহীন নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে, তাকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার। এই বছরেই লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী। সেই লক্ষ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।’
আশা প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ইনশাআল্লাহ দ্রুত উন্নতি হবে, তিনি আধুনিক চিকিৎসা শেষে সন্তান-স্বজনসহ মুক্ত মাতৃভূমির মানুষকে বরাবরের মতোই অনুপ্রাণিত করবেন, জাতির অভিভাবক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন ও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। আজ দেশের মানুষের প্রত্যাশা, প্রার্থনা ও আবেগ এই দৃঢ় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই।’
মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত ২৩ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা করে খালেদা জিয়ার বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ে। আগে থেকেই থাকা হৃদরোগের সঙ্গে এই সংক্রমণ ফুসফুস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সিসিইউতে তার চিকিৎসা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, মায়ের অসুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
২৪৯ দিন আগে