তিস্তা সেতু
তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। সড়কের একাধিক জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। বর্ষা মৌসুমের আগে দ্রুত এটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বৃষ্টিতেই সরছে মাটি, সড়কে গভীর গর্ত
সরেজমিনে দেখা যায়, মহিপুর এলাকায় সেতুর উত্তর প্রান্তের সড়কের অন্তত আটটি স্থানে ধস নেমেছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার যোগাযোগের জন্য এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে এ পথে চলাচল করেন প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। তিস্তা নদীর ওপর সেতুটি চালুর পর থেকে এই রুটে ভারী যানবাহন চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সেতু এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, এই সড়কটি রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মানুষের চলাচল ও যানবাহন পারাপারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেতুর উত্তর পাশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের
স্থানীয় সংবাদকর্মী রুহুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই নদী ভাঙন শুরু হয়। আর এই সড়কের অবস্থা আগে থেকেই নাজুক। কয়েকটি স্থানে পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আরও কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হলে সড়কের বড় অংশ ভেঙে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও সেতুপারে এমন ভাঙন বেশ কয়েকবার দেখা গেছে এবং তড়িঘড়ি করে সংস্কারও হয়েছে। কিন্তু পুরো সেতু প্রকল্পে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, তা বারবার ধসে যাওয়ার ক্ষতচিহ্ন দেখলেই বোঝা যায়।
সড়ক-সেতুসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নিয়াজ আহমেদ বলেন, সড়ক সংস্কারের নামে শুধু অর্থের অপচয়ই হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বারবার সড়ক ধসে পড়ছে আর ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ রংপুর-লালমনিরহাটের সংযোগে ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু ও সড়কে বারবার এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
২৮ কোটির সংস্কারেও মিলল না টেকসই সমাধান
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০২৪ সালে রংপুরের বুড়িরহাট থেকে গঙ্গাচড়ার শেষ প্রান্ত সিরাজুল মার্কেট পর্যন্ত তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের (আঞ্চলিক মহাসড়ক) প্রায় ১১ কিলোমিটার অংশ সংস্কার ও বর্ধিতকরণে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়। কাজটি যৌথভাবে করেছিল মেসার্স খায়রুল কবির রানা, কে কে আর লিমিটেড ও বরেন্দ্র লিমিটেড নামের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একই সময়ে লালমনিরহাট অংশের সিরাজুল মার্কেট থেকে কাকিনা পর্যন্ত ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ করে শাহাদাত এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু এত বিপুল টাকা ব্যয়ের পরও সড়কটি টেকসই রূপ পায়নি।
উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, এটি রংপুর-লালমনিরহাট অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। বন্যা মৌসুমের আগেই সেতুপাড়ে এমন ভাঙন যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার শুরু না হলে পুরো সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, ধসের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার উন্নয়ন এবং লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এই দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে সংযোগ সড়কে ধস ও খানাখন্দ সৃষ্টিসহ নানা ত্রুটির কারণে বহুবার এই সেতুতে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
লালমনিরহাটে ব্রডগেজ লাইন ও তিস্তা সেতুর মহাপরিকল্পনা রয়েছে: রেলওয়ে মহাপরিচালক
লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে জেলার রেলওয়ে বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও ঐতিহাসিক তিস্তা রেলসেতু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ পরিকল্পনার কথা জানান রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।
রেলওয়ের মহাপরিচালক বলেন, লালমনিরহাট বিভাগে বর্তমানে মিটারগেজ রেললাইনের আধিক্য বেশি। রেল সেবাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে পার্বতীপুর থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইন স্থাপন করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
তিস্তা রেলসেতুটি নিয়ে আফজাল হোসেন জানান, সেতুটির আয়ুষ্কাল ২৫ বছর আগেই পার হলেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এটি এখনো সচল রাখা হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল অব্যাহত আছে। তবে ব্রডগেজ লাইন স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে, বর্তমান সেতুর স্থলে একটি আধুনিক নতুন রেলসেতু নির্মাণের বিষয়টিও সেই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
রেলওয়ে মহাপরিচালক তিস্তা রেলসেতুর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও মালামাল চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি কঠোরভাবে মনে করিয়ে দেন যে, রেলওয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা শুধু রেল কর্তৃপক্ষের কাজ নয়, বরং আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা, বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান হাবিব, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
১১৫ দিন আগে