সম্প্রচার কমিশন
আসছে সম্প্রচার কমিশন: অনিয়ম হলে তিন বছর জেল, ৫০ লাখ টাকা জরিমানা
দেশের সম্প্রচার খাতে নিয়ন্ত্রণ ও মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য নতুন একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। খসড়া অনুযায়ী, সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট অনিয়মের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত গ্রহণ চলছে।
সম্প্রচার ক্ষেত্র ও আওতা
খসড়া অনুযায়ী, টেরিস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট, ক্যাবল টেলিভিশন, রেডিও, আইপি টিভি, ডিটিএইচ, এফএম ও কমিউনিটি রেডিও, ওটিটি, স্ট্রিমিং এবং ভিডিও অন ডিমান্ড (ভিওডি) প্ল্যাটফর্মকে সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টাল, অ্যাপস ও ভিডিও স্ট্রিমিং কার্যক্রমও এর আওতায় আসবে। তবে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অপেশাদার কনটেন্ট এই অধ্যাদেশের বাইরে থাকবে।
কঠোর শাস্তির বিধান
লাইসেন্স বা কমিশনের অনুমতি ছাড়া সম্প্রচার, সরকারের নির্দেশনা অমান্য, গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচার, অনুমোদনহীন বিজ্ঞাপন সম্প্রচার এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্যপণ্য ব্যবহার করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা বা কমিশনের সুপারিশ না নিলে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ১০–৫০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয়ই হতে পারে। জাতীয় ইস্যু ও জনস্বার্থে নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
সরকারি অনাপত্তি ছাড়া সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানি করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫–২০ লাখ টাকা জরিমানা, গোপন সামরিক/বেসামরিক তথ্য প্রচারে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা এক থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ ও শাস্তি
অনুমোদনহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাজি ও জুয়া, তামাকজাত ও মদ্যজাত পণ্য, বিভ্রান্তিকর বা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারে বিজ্ঞাপনদাতা ও সম্প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫–৩০ লাখ টাকা জরিমানা প্রস্তাব করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্যপণ্য ব্যবহার করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
অপরাধে আরোপিত অর্থদণ্ড ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট-১৯১৩’ অনুযায়ী আদায় করা হবে।
সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল ও বিচার প্রক্রিয়া
অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার করতে এক বা একাধিক সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজদের মধ্য থেকে একজন বিচারক নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং অভিযোগ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, সম্প্রচার কমিশন গঠনে একটি বাছাই কমিটি কাজ করবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেবে। পাঁচ সদস্যের কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার রাখা বাধ্যতামূলক। সদস্যরা কোনো লাভজনক পদে বা সম্প্রচার/মিডিয়া ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।
কমিশনের দায়িত্ব ও ক্ষমতা
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে কমিশনের দায়িত্ব হিসেবে সম্প্রচার লাইসেন্সের বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করা, আচরণবিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন, সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি এবং দর্শক-শ্রোতার অভিযোগ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। কমিশন বিটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করে কারিগরি বিষয়গুলো দেখবে এবং প্রয়োজনে জরিমানা, সংশোধিত প্রচারের নির্দেশ বা লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত খসড়া অধ্যাদেশের বিষয়ে মতামত দেওয়া যাবে।
৬ ঘণ্টা আগে