জৈবপ্রযুক্তি কারখানা
চীনে জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮
মধ্য চীনের শানসি প্রদেশে একটি জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (ফেব্রুয়ারি) ভোরে শানসি প্রদেশের শানইন কাউন্টিতে জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানির একটি কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানাটি শানইন শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি বায়ো-ফিড, কয়লা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং রং উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শানইন কাউন্টি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোম্পানির আইনগত প্রতিনিধিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থল শুয়োঝৌ শহরের কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, রবিবারও জরুরি পরিষেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও গাঢ় হলুদ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী এক ব্যক্তি বেইজিং নিউজকে বলেন, বিস্ফোরণে দুর্ঘটনাস্থলই শুধু নয়, আশপাশের এলাকাও কেঁপে ওঠে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন যে ভূমিকম্প হচ্ছে। তার ঘরের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। পরে বাইরে বেরিয়ে দূরে আকাশছোঁয়া আগুনের শিখা ও সাদা ধোঁয়া দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনা বুঝতে পেরে আমি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। এরই মধ্যে পথে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি তাকে অতিক্রম করে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ জুন জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নিবন্ধিত ঠিকানা এমন একটি গ্রামের কাছে যেখানে আগে খনিশিল্পের কার্যক্রম চলত। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স এখনও পায়নি।
ওই জায়গাটি লিজ নিয়ে বার্ষিক ১৫ হাজার টন বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য ৮৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১২ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করে সেখানে কর্মশালা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল কোম্পানিটি।
১ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি উৎপাদন কারখানা, ৫০০ বর্গমিটারের একটি গুদাম, ২০০ বর্গমিটারের অফিস ও আবাসন সুবিধা এবং দুটি বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদন লাইনসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনা কোম্পানিটির পরিকল্পনায় ছিল।
কোম্পানির ভবনের বিন্যাসচিত্র অনুযায়ী, উৎপাদন কারখানা গোটা জায়াগার মাঝখানে অবস্থিত। এর আর চার কোণে রয়েছে অফিস ভবন, গুদাম, পয়ঃশোধন কেন্দ্র ও অস্থায়ী বিপজ্জনক বর্জ্য সংরক্ষণাগার।
এদিকে, এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বায়ো-ফিড উৎপাদন কোনোভাবেই ‘স্বল্পঝুঁকির’ কাজ নয়। বিশেষ করে ধুলিকণা ঝমে বিস্ফোরণের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
তারা বলছেন, শস্য ও প্রোটিন পাউডারের মতো উপকরণ থেকে সৃষ্ট জৈব ধুলা বদ্ধ স্থানে জমে থাকে। এরপর তাতে সামান্য আগুন বা বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গও বিস্ফোরণের সূত্রপাত করতে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে