ডা. জাহেদ উর রহমান
শেখ হাসিনাকে সমর্থনকে অপরাধ গণ্য করতে আইন লাগবে: ডা. জাহেদ
শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলা বা তাকে সমর্থন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হলে এ বিষয়ে আইন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী বানানো যাবে না। আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিকদের একাংশ শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং সেই অপরাধের আওতায় নেওয়ার মতো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে। কয়েকজন সাংবাদিক এরই মধ্যে এ ধরনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কোনো কিছুকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আগ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা যায় না। আইন করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগই ছিল—সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না এবং আইনের ভিত্তিতে কাজ করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে আইন থাকলেও তা পরিকল্পিতভাবে খারাপ আইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার বা ভবিষ্যতের কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গোপনে বৈঠক বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, কোনো গোপন বৈঠক হয়েছে কি না, সেটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেখার বিষয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে—এমন কোনো তৎপরতা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামলা বা নির্যাতনের ঘটনায় প্রচলিত আইনেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন আইন করা যেতে পারে, তবে শুধু নতুন আইন করলেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন নয়। তার মতে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর বিচার বিদ্যমান আইনেই অব্যাহত রাখা উচিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংস্কৃতিক কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত চলাকালে কারও নাম নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা করা উচিত নয়।
প্রধান প্রসিকিউটর কোনো সাংস্কৃতিক কর্মীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেন্সেশনালিজমের (চাঞ্চল্য সৃষ্টি) জন্য যে কারও একটা নাম বলে ফেলা উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হলে গণমাধ্যম তখন বিষয়টি জানতে পারবে।’
৩ দিন আগে
খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে চলমান লোডশেডিং কমে আসবে: তথ্য উপদেষ্টা
দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার বোঝা এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, লোডশেডিং নিয়ে একটা বিস্তারিত ডেটা আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। লোডশেডিং, জ্বালানি নিয়ে অনেক কথাবার্তা চলছে। তবে আশা করছি, যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা বেশ খানিকটা কমে আসবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে।
তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে এমন লোডশেডিং দেখছেন, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একটি বড় শহরে পাওয়ারফুল মানুষরা থাকে বলে বিদ্যুৎ বেশি দেওয়া হয় তা কিন্তু না, বরং বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকে বলেই লোডশেডিং কম দেওয়া হয়। সেই কারণে নীতিগতভাবে একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু সরকার যেহেতু এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে, তাই ঢাকায় এখন লোডশেডিং দেখছি আমরা।
তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং আসলে ছিল, কত মেগাওয়াটের লোডশেডিং হয়েছে, আগামী সপ্তাহে আপনাদের সেই ডেটাটাও দেব। ওই ডেটা নিয়ে আমি কাজ করছি। পাশাপাশি দেশবাসীকেও ওই তথ্য খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপদেষ্টার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সরকার সরে এসেছে। জনগণ সরকারের এই সিদ্ধান্ত বুঝবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে এই চাহিদা কম ছিল বলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা মন্তব্য করেন।
চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকশ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের চাপ কমছে এবং সামগ্রিকভাবে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এই সংকটটা আমাদের সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে। এই কষ্টটা যে খুব দীর্ঘ সময় হবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিতব্য লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া প্রকল্প এলাকায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।
সার সংকট নেই, বিতরণে সাময়িক সমস্যা ছিল
দেশে সার সংকট নেই বলেও দাবি করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সারের সরবরাহে কোনো সংকট নেই, বিতরণ পর্যায়ে দুয়েকটি স্থানে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, যা সরকার সমাধান করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, আমি আবারও বলি, সংকট নেই। আমি গত ব্রিফিংয়েও বলেছি। বিতরণ পর্যায়ে দুয়েকটা জায়গায় সমস্যা হয়েছিল।
সারের বর্তমান মজুতের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে বর্তমানে মোট ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ টন সার মজুত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল ১২ লাখ টন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার সার মজুত সমান বা কিছুটা বেশি রয়েছে।
সার বিতরণে যে সমস্যা হয়েছিল সেটা ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৩ দিন আগে
সাকিব ভালো খেলোয়াড়, তবে মানুষ হিসেবে ‘নষ্ট ও পচে যাওয়া’: তথ্য উপদেষ্টা
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ‘নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সাকিব দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে চাইলে সরকার তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাকিব আল হাসান সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি বাংলাদেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে ওঠা মামলা মোকাবিলা করতে চান। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাকিব দেশে এলে তার নিরাপত্তাহীনতায় পড়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, ‘ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, উনি একজন নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ। যে মানুষ হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইনড (সংযুক্ত) হয় এবং এখনও অ্যালাইনড থাকেন, ৫ তারিখের পরও তার বক্তব্য এসেছে।’
সাকিবের নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়টিকে সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘উনি কত নামী, কত সুনাম তার আছে, এসব ফালতু কথা উনি বলেন আসলে সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘উনি বাংলাদেশে আসবেন মামলা ফেস করার জন্য, আইন ফেস করার জন্য, বিচার ফেস করার জন্য। উনি এয়ারপোর্টে নামলে কি লোকজন মব করে তার কিছু করে ফেলবে? উনি কি সেটা মনে করেন? আমরা কেউ মনে করি? নো ওয়ে (কোনোভাবেই না)!’
সাকিব দেশে এলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি আসবেন এবং নিরাপত্তার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ আছে তা মোকাবিলা করবেন। আইনগত যে ব্যাপার আছে, সব যদি তিনি মেনে নিয়ে আসেন, তাতে কোনো সমস্যা আমি দেখি না।
সাকিবের বক্তব্যকে সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রোপাগান্ডা’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই প্রত্যেকটা কথা আসলে আমাদের এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা।’
একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলেও তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২৪ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার আদালতের রায়ের লঙ্ঘন, ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ
আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য বা নিউজ প্রচার আদালতের রায়ের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।
তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতির জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনও আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে—এমন দাবির জবাবে ডা. প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনও রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।
৩১ দিন আগে
ঢাকার বর্জ্য থেকে দিনে পাওয়া যাবে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: উপদেষ্টা জাহেদ
ঢাকা শহরের প্রতিদিনের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসি গ্রুপের বিনিয়োগে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প থেকে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছেন। গত রবিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জানানো হয়, চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কেন্দ্র থেকে টানা ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে নগর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ‘ক্লিন কেয়ার’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। আজ (মঙ্গলবার) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন, যা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তার নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই এলাকায় বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণ এবং মহাসড়কের দুই পাশে নিমগাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৫২ দিন আগে
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতা-কর্মীরা: উপদেষ্টা জাহেদ
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শর্ত মানলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে কি না জানতে চাইলে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো রকমের সমস্যা নেই। একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের হয়েও নির্দলীয় থাকেন তাও পারবেন। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়, এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না।
‘একজন নির্দলীয় ব্যক্তি আসলেন, কিন্তু তিনি যদি তার প্রচারণায় আওয়ামী লীগ বা তাদের দলের যা যা বলার সেগুলো বলেন, সেটা কিন্তু সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি নির্বাচনটা করার জন্য যে ক্রাইটেরিয়া (শর্ত) আছে, সেটা যদি তিনি পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। নিশ্চয়ই পারেন।’
যদি নির্বাচনে আসা কারও আওয়ামী লীগের দলীয় পদ-পদবি থাকে তাহলে কী হবে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সংগঠনের কর্মসূচি যেহেতু নিষিদ্ধ আছে এই পোস্ট পজিশন তিনি তো আসলে ব্যবহার করছেন না, তিনি করতে পারেন না। ব্যক্তি হিসেবে কেউ যদি নির্বাচনের শর্তে যা আছে সেটা পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
৮৭ দিন আগে
র্যাব আগের মতো থাকছে না, হচ্ছে আলাদা আইন: উপদেষ্টা জাহিদ
র্যাব আগের মতো থাকছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। পুলিশ থেকে বেরিয়ে র্যাবের জন্য পূর্ণাঙ্গ আইন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে আগের মতোই থাকছে না—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, গতকাল র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল এবং ঘটনাচক্রে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। র্যাব বিলুপ্তি নিয়ে যেটা বলা হয়েছে, এখনও এক অর্থে র্যাব আগের মতো করে থাকছে না। আমি আবারও বলছি, আগের মতো কেন বলছি? কারণ গতকালই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন এবং আপনারা সংবাদ প্রচার করেছেন, র্যাবের জন্য একটা নতুন আইন হবে।
তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত র্যাব পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটা অপশনের অধীনে কাজ করছিল। তাই একটা পূর্ণাঙ্গ আইন হচ্ছে। যে আইনের মধ্যে র্যাবের সবকিছু অনেক বেশি সুস্পষ্ট থাকবে। সুতরাং, র্যাব বিলুপ্তির যে দাবি বিএনপি করেছিল, এক অর্থে, আবারও বলছি, এক অর্থে সেইভাবে র্যাব থাকছে না এবং নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। সম্ভবত বলছি কারণ এই ধরনের অপশন গতকাল (সোমবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। এবং তিনি এটাও জানিয়েছেন যে এই আইনটা করার জন্য তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের যে বৈঠক ছিল, সেখানে আমাদের সম্পাদকরা—আমাদের এই সমসাময়িক অনেক ইস্যু এনেছিলেন। এর মধ্যে ব্যাংকের আইনের প্রসঙ্গ এনে খেলাপি ঋণের আলাপ এনেছিলেন। তখন আমি সম্পাদকদের উদ্দেশে এটা বলেছিলাম যে একটা আইন আসলে কীভাবে প্রযুক্ত হয়, সেটি নির্ভর করে ওই সরকারের চিন্তা কী।
তিনি বলেন, এই সরকার খেলাপি ঋণকে পেট্রোনাইজ (পৃষ্ঠপোষকতা) করবে না। হাসিনার সময়ে যেভাবে লুট হয়েছে, সেটা শেখ হাসিনার এন্ডোর্সমেন্টে (সমর্থনে) হয়েছে। ঠিক একইভাবে র্যাব যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মানবাধিকার মারাত্মক লঙ্ঘনের জন্য, সেটা হয়েছিল শেখ হাসিনার কারণে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে হয়নি, কেউ কেউ বলবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তো যেহেতু দলীয় সরকার না, এখন দলীয় সরকার। একই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বলেছেন যে, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ অর্থাৎ তিন মাসে কী হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, একইভাবে আমরা বলছি একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার, আবার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায়, সে একটা বাহিনীকে কোনোভাবে ব্যবহার করবে না। তবে একটা রাষ্ট্রে একটা এলিট ফোর্স থাকা দরকার আছে। কারণ র্যাবের সমালোচনা যদি সরিয়ে রাখি, আমরা দেখব যে র্যাব অত্যন্ত সক্ষমভাবে নানা ধরনের সন্ত্রাস, অপরাধ মোকাবেলা করতে পেরেছে, যেটা আমাদের প্রচলিত পুলিশ বাহিনী পেরে ওঠেনি।
তিনি আরও বলেন, তাদের অনেক ভালো ইকুইপমেন্টস (যন্ত্রপাতি) আছে, ভালো প্রশিক্ষণ আছে। সেজন্য একটা এলিট ফোর্স থাকবে, সেটা র্যাব নামেই হোক বা ভিন্ন নামে, সেটার সুস্পষ্ট আইন থাকবে। ফলে আগের যে ঝুঁকিগুলো আছে, সেগুলো থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১০৮ দিন আগে
জঙ্গিবাদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমার বক্তব্যে খুব বেশি ভিন্নতা নেই: ডা. জাহেদ
জঙ্গিবাদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার বক্তব্যের মধ্যে খুব বেশি ভিন্নতা নেই বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জঙ্গিবাদের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
গত ২৮ এপ্রিল দেশে জঙ্গি রয়েছে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছিলেনন, সরকার এটাকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে কোনো জঙ্গিবাদ নেই। এ নিয়ে দেশের গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের বিষয়ে গতকাল (সোমবার) জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা উনি কীভাবে বলেছেন জানি না। হয়তো আপনাদের লেখার মধ্যেও মিস-ইন্টারপ্রেট (ভুল ব্যাখ্যা) হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যেটা ডিসিপ্লিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী বলেছে, সেটাই তো শুনতে হবে।’
এ নিয়ে আজ সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি একটা মন্তব্য করেছি (দেশের জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আছে), প্রায় একই সময়ে বা একটু পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে কোনো জঙ্গি নেই। আপনারা যদি পড়ে দেখেন, দেখবেন উনার বক্তব্য আর আমার বক্তব্যের মধ্যে খুব বেশি ভিন্নতা ছিল না; এটা হলো প্রথম কথা।’
তিনি বলেন, “আমি এভাবে বলেছি যে, জঙ্গিবাদ একটা অতিরঞ্জন ছিল আওয়ামী লীগের সময়। তারা এটা দিয়ে ক্ষমতায় থাকার ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করেছে। আবার কেউ কেউ ‘কিছুই নেই আমাদের দেশে’ এ ধরনের কথা বলে; দুটোই কিন্তু নেগেটিভ! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কিন্তু বলেছেন যে কিছু এক্সট্রিমিজমের (উগ্রবাদের) অস্তিত্ব আছে। মানে এই যে জঙ্গিবাদ, আসলে উনি শব্দটা ব্যবহার করতে চাননি, মোটামুটি আমি যা বলেছি, উনার বক্তব্যের সঙ্গে আসলে খুব বেশি ভিন্নতা নেই।
“তাই এটাকে আপনি জঙ্গিবাদ নামে বলুন অথবা উগ্রবাদ নামে বলুন, একটা লো ইনটেনসিটি (সীমিত পরিসরে) তো আছে, না হলে তো আমরা এই এলার্ট (সতর্ক) করতাম না, আনতাম না। এটা (জঙ্গিবাদ) আছে, এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচুর কার্টুন-টার্টুন হয়েছে যে আমি নাকি উনার চাইতে বেশি গোয়েন্দা তথ্য রাখি। ঠিক আছে, আমার ভালো লেগেছে দেখে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, কিন্তু রেড এলার্ট যেহেতু এখনও আছে, তার মানে, আপনাকে একটা জিনিস বুঝতে হবে যে এই ধরনের ঘটনায় সবসময় যে সব কথা সরকার প্রকাশ্যে বলবে, সেটা সবসময় হবে না। সরকার এগুলোর যে ঝুঁকি আছে, এগুলোর ব্যাপারে যে পদক্ষেপ নেওয়ার, সেগুলো নিচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা জানি। সুতরাং যখন গ্রেপ্তার বা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে যেটা সরকার মনে করবে আপনাদের জানাবে, সেটা সময়মতো জানানো হবে।
তিনি বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি, যে ঝুঁকির কথা আগে বলা হয়েছিল, সেটি নিশ্চয়ই এখন তার চাইতে অনেক কম এবং আরও কমে যাচ্ছে।
তবে এই জায়গাগুলো অনেক বেশি সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই এখন পর্যন্ত এটা (সতর্কতা) বহাল রাখা হয়েছে। তবে এটা খুব বেশিদিন থাকবে বলে আমি মনে করি না।
১২২ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে: ডা. জাহেদ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আসলে বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আপনারা খেয়াল করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপ দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার আমরা দেখছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন যে, পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে। সাম্প্রতিক অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ চলাচলে বাধা বা অবরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় ধরে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য আসলে কঠিন।
তিনি বলেন, আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করব না। ইতোমধ্যে বলেছি, যদি এটা চলতে থাকে তাহলে দামের কিছু সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি প্রয়োজন হতে পারে মানে এটা হবেই—এরকম কথা না। আমি আশা করি, কোনো ভুল ফটোকার্ড বানাবেন না। আবার ওই যে বলছি যে, ট্রাম্পের বিষয়ে তো আগাম কিছু বলা যায় না। যদি উনাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়ে যায়, যদি একটা চুক্তি মোটামুটি হয়ে যায়, তাহলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে ইস্টার্ন রিফাইনারির বন্ধ, তেল নাই; এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বিষয়ে যদি আমাদের জানাতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। সাধারণত এই রিফাইনারি থেকে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেলের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ে। তবে নতুন করে আরেকটি চালান মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংকট হবে কি না, কারণ আমরা আমাদের পেট্রোল এবং অকটেন প্রধানত পাই আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে। রিফাইনারিতে যে সংকট আছে, তা নিয়ে আপনারাই পত্রিকায় সংবাদ করেছেন—আর এতদিনের মতো মজুদ আছে, এতদিন রিফাইনারি চালানো যাবে। সুতরাং সরকার যে কাজটা করেছে, সরকার পেট্রোল পরিশোধন এবং আমদানি যথেষ্টই করেছে। এ কারণে একদম কোনো সমস্যা যে হবে না তা না। সরবরাহ সংকট তো খানিকটা আছে আসলে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই যানবাহন বারবার তেল সংগ্রহ করছে বা প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছে। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এক পেট্রোল পাম্পের বিক্রয়কর্মী বলেন, আগে সারা দিনে যত তেল বিক্রি হতো, এখন তা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো হয়নি, তবুও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই পাম্পভিত্তিক সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে।
১৪২ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবে সরকার
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার তদন্ত করবে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবে। আপনারা জানেন, আমাদের দুদক এখনও পুনর্গঠিত হয়নি। পুনর্গঠিত হলে এই কাজগুলো দুদকের মাধ্যমে শুরু হবে। দুর্নীতি মানেই কে করেছে, শুধু সেই বিষয় নয়; এই সরকারের সময়েও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, সেটিও দেখা হবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির লাগাম টানতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হবে।
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়, সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান মূলত অলিগলিতে চলাচল করলেও ৫ আগস্টের পর প্রধান সড়কেও চলাচল করছে যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগুলো খুব ফিট নয়। অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান জানান, আগের সরকারের সময়ে এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে; তবে পুনর্গঠনের কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দ্রুত বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করলেও সরকার বলছে, ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। হঠাৎ বড় পরিবর্তন আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংক খাত ঠিক করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একইসঙ্গে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, যারা শুরু থেকেই ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে না, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
১৫০ দিন আগে