ডা. জাহেদ উর রহমান
জ্বালানি তেল মজুদ করে লাভ নেই, দাম বাড়বে না: ডা. জাহেদ
জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে পেট্রোল পাম্পের মালিকসহ কেউ তেল মজুদ করে লাভবান হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশে বলতে চাই, মজুদ করার যদি প্রবণতা কারও থাকে, তারা মনে করছেন যে যেকোনো মুহূর্তে দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং এই মজুদ করে রাখার প্রবণতা তাদের জন্য লাভজনক হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটে পড়েছি, এমনকি ধনী দেশগুলোও এই চাপের মধ্যে রয়েছে।
আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি কেনা ও মজুদের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব মানুষকে বোঝানো—প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা যেন না করা হয়। পাম্প পর্যায়ে কেউ কেউ মজুদ করার চেষ্টা করছেন, সরকার সেগুলো নজরে রাখছে।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, যদি একদিন সকালে সবাই ব্যাংকে গিয়ে একসঙ্গে সব টাকা তুলতে চান, তাহলে ব্যাংক ধসে পড়বে। কারণ ব্যাংক ধরে নেয়, সবাই একসঙ্গে টাকা তুলবে না। একইভাবে জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুদ ও সরবরাহ চেইন বজায় রাখে।
তিনি আরও বলেন, প্যানিক বায়িংয়ের বিষয়টি বাস্তব। আমরা যুদ্ধের খবর শুনছি, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই শুধু ট্যাঙ্ক ফুল করছেন না, অতিরিক্ত মজুদ করার চেষ্টাও করছেন।
ঈদের আগে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যে পরিমাণ তেল কয়েক দিন চলার কথা ছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এটা মূলত সরকারের অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানুষের ভীতি ও অসচেতনতার ফল।
তবে এই আতঙ্ককে অস্বীকার না করে তিনি বলেন, বিশেষ করে বাইক রাইডারদের মতো যাদের জীবিকা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের উদ্বেগটা বাস্তব। কিন্তু সবাই মিলে সচেতন না হলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চাইলে অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারত। আমরা এখন বেশি দামে জ্বালানি কিনছি। নতুন যে সরবরাহ আসবে, তার মূল্য আরও বেশি হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এই অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, সেই কারণে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর পথে যায়নি। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
১২ ঘণ্টা আগে
মিথ্যা তথ্য প্রচার রোধে প্রকল্প নিচ্ছে সরকার: জাহেদ উর রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার রোধে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নীতি নির্ধারণ ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটা নতুন ফেনোমেননের (প্রপঞ্চ) কথা বলি, যেটা আমার কাছে খুবই অ্যালার্মিং (আশঙ্কাজনক) মনে হয়। আমি বিশ্বাস করি, আপনি একমত হবেন। মানে প্রতিষ্ঠিত পরিচিত কোনো একটা নিউজ মিডিয়ার মতো করে একটা লোগো তৈরি করে, দূর থেকে দেখতে মনে হয় ওই মিডিয়ার লোগো, একটা ভিন্ন নাম দিয়ে কতগুলো নিউজ দেওয়া হয়, এক ধরনের স্যাটায়ার (হাস্যরস)।’
তিনি বলেন, এটা মারাত্মক রকম ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) ছড়াচ্ছে, আপনারা খেয়াল করেছেন আশা করি। তাই আমি মনে করি, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে, আপনারা আমাদের সঙ্গে একমত হবেন। কেউ স্যাটায়ার করতেই পারে। কিন্তু সেই স্যাটায়ারের চেহারা কোনো প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের চেহারার মতো হবে না। আমার কাছে এটা একটা অপরাধ বলে মনে হয়। তাই আমরা এই ব্যাপারটায় কাজ করতে চাই, আমরা খুব দ্রুত এটাকে একটা নির্দিষ্ট আকারের মধ্যে আনব।
উপদেষ্টা বলেন, আমি অনেককে দেখেছি এগুলোকে রেফার করে কথা বলছেন, শেয়ার করছেন সচেতন মানুষ। আসলে এই ডিসইনফরমেশন মোকাবিলা করার জন্য তো কয়েকটা কাজ আছে। একটা হলো এই ডিসইনফরমেশন ডিটেক্ট (শনাক্ত) করা, সেটাকে ডিবাঙ্ক (মিথ্যা প্রমাণ করা) করা এবং ডিসেমিনেট (প্রচার) করা।’
তিনি বলেন, আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য একটা প্রকল্প তৈরি করেছি। সেটির নাম হচ্ছে ‘নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার ও স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরির মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা জোরদারকরণ’। একটা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, এটার মাধ্যমে আমরা সেটা প্রচার করব।
তিনি আরও বলেন, আর যেটা বারবার বলছি, আমরা একটা নীতিমালা এবং আইনের অধীনে ডিসইনফরমেশন মোকাবিলা করতে চাই। এর আওতায় মানুষকে সচেতন করা তো আছেই, সঙ্গে এটা বোঝাতে চাই যে এটা অন্যায় এবং অপরাধ।
১২ ঘণ্টা আগে