মীর শাহে আলম
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতেই নতুন উপজেলা করা: মীর শাহে আলম
মোকামতলা উপজেলা গঠনের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আমার ইচ্ছা ছিল যে, এটা আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। এই ইতিহাসের সাক্ষী হবার কারণেই নতুন উপজেলা করা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় নিজের সম্পদ, পারিবারিক প্রতিষ্ঠান, ছেলের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে পদত্যাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও তিনি কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিবগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে, মোকামতলায় একটি আলাদা উপজেলা করার। আমি এমপি এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ডিও দিয়ে দুই মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম যে পাঁচটি উপজেলা হয়—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাননীয় মহাসচিবের ওখানে দুটি, কক্সবাজারে একটি, লক্ষ্মীপুরে একটি এবং আমার নির্বাচনে একটি নতুন উপজেলা হয়—মোকামতলা উপজেলা। এই উপজেলাতে আজ হোক, কাল হোক, কেউ না কেউ করতই। আমার ইচ্ছা ছিল যে, এটা আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। এই ইতিহাসের সাক্ষী হবার কারণেই নতুন উপজেলা করা।’
তিনি বলেন, ‘আমার উপজেলায় নতুন কিছু ইউনিয়ন ছিল, যেগুলো অনেক বড় বড় ইউনিয়ন। যে ইউনিয়নগুলোকে বিভক্ত করার প্রয়োজন ছিল, সেই ইউনিয়নগুলোকে আমরা বিভক্ত করেছি। আমি নতুন চারটি ইউনিয়ন তৈরি করেছি। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে হয়তো অনেক প্রশ্ন ছিল, অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে, তার অনুশাসন অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে নতুন করে আবার ওই এলাকার জনগণ যেভাবে চাইছে, সেভাবে নামকরণের ব্যবস্থা হয়েছে।’
বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত ছিল দাবি করে তিনি বলেন, জেলার উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে তিনি মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট না করার আহ্বান
শুরুতেই ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা হলে রাষ্ট্রীয় কাজে নিজের মেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নিজেকে লক্ষ্যবস্তু করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। কিন্তু আমরা কাজ তো শুরু করেছি। আমাদের কাজ করবার যোগ্যতা আছে কি না, এটা তো কিছুদিন আপনাদের দেখতে হবে। শুরুতেই যদি আমাকে ধাক্কা মারা হয়, শুরুতেই যদি আমাকে টার্গেট করা হয়, তাহলে তো যেটুকু মেধা মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, আপনাদের চেয়ে কম অথবা বেশি বা সমান, এইটুকু মেধার বিকাশ তো আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বা আমার মন্ত্রণালয়ে দেখাতে পারব না। এইটুকু সুযোগ তো আমাকে করে দিতে হবে কাজ করার।
নিজের অর্থে প্রতিষ্ঠানের দাবি
এলাকায় নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, উন্নয়নের ব্যাপারে আমার একটা পাগলামো রয়েছে। আমি এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করি, কাজ করি দীর্ঘদিন যাবত। আপনারা জানেন যে, এবার অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আমি প্রথম চেয়ারম্যান হওয়ার পরে আমার গ্রামে কিন্তু প্রাইমারি স্কুল করি আমার নামে, ১৯৯৭ সাল, যেটি এখন সরকারি।
তিনি বলেন, ২০০৩ সালে কারিগরি শিক্ষাকে মাথায় রেখে আমি ‘মীর শাহ আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করি। এরপরে আমার নামে ওখানে কৃষি এবং মৎস্য কলেজ রয়েছে, আমার নামে মাদরাসা রয়েছে, ভেটেরিনারি স্কুল রয়েছে। এরপরে মোকামতলা নতুন উপজেলায় আমার নামে নতুন একটি কলেজ রয়েছে, শিবগঞ্জে আরেকটি কলেজ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি ১৯৯৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিজের সম্পত্তি, পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে, কোথাও সম্পত্তি কিনে, নিজের অর্থ দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিয়ে আস্তে আস্তে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি দাঁড় করিয়েছি। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আমি বিএনপি করার কারণে এমপিওভুক্ত হয়নি। নতুন করে সরকার আসার পরে আবেদন করেছি, চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এমপিওভুক্ত হয়। কারণ, দীর্ঘদিন এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন পাননি; কারণ হচ্ছে আমি।
‘জাতীয় রাজনীতিতে আমার ভূমিকা ছিল’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক যে জাতীয় রাজনীতিতে আমার কোনো পদ-পদবি ছিল না। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে আমি অনেক কাজ করেছি। আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমি বহুবার কাজ করেছি এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রকাশ্যে হোক, অপ্রকাশ্যে হোক, আমার বহু ভূমিকা ছিল। যেহেতু আমি ঢাকা শহরেই বসবাস করতাম, ঢাকা শহরই পরিবারসহ আমার বসবাস।’
‘সমালোচনা পরিবার নিতে পারে না’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে একটা পত্রিকায় দেখলাম, আমি ওই প্রসঙ্গে যেতে চাই না, একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে হাইড করে কিছু নিউজ করা হয়। এগুলো আসলে হয় কি, আমরা হেয় প্রতিপন্ন মাঝে মাঝে হলে খুব একটা খারাপ লাগে না। কারণ রাজনীতি করি তো; সবাই আমাদের খুশি করবে তা না, কখনও গালি দেবে, কখনও ভালো বলবে। কিন্তু আমাদের সম্বন্ধে নেগেটিভ কিছু গেলে এটা পরিবার নিতে পারে না, আত্মীয়-স্বজনের কাছে এটা খারাপ লাগে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সন্তানরা কিছু করলে এটা বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়। যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাউদ্দিন সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, বা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে। আমার নিজেরও সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে। আমি তাকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, বাবা, এটা নিয়ে নানা কথা হবে, তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে, তুমি দয়া করে পদত্যাগ কর।’
তিনি বলেন, ‘যেদিন বোর্ড নির্বাচিত হয়েছে, ফার্স্ট বোর্ড মিটিং করেছে, পরের দিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজটা আপনারা কেউ হাইলাইট করেন না যে একজন মন্ত্রী তার সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে নিয়ে আসছেন।’
তার ভাষায়, ‘আমাদের সন্তানরা বিরোধী দলের থাকার সময় সরকারের রোষানলে পড়বে, আবার ক্ষমতায় আসার পরে সমালোচকদের রোষানলে পড়বে; তাহলে এরা উচ্চ শিক্ষিত হয়ে, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে, রাজনৈতিকভাবে, ব্যবসায়িকভাবে মেধার বিকাশটা তাহলে ঘটাবে কোথায়? এরা সমাজে অবদানটা রাখবে কীভাবে? এই বিষয়গুলো মনে হয় আপনাদের নোটিশে আনা দরকার।’
সম্পদ নিয়ে ব্যাখ্যা, তদন্তের আহ্বান
সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনি হলফনামায় তার সব সম্পদের তথ্য রয়েছে। ‘তাহলে সমস্ত হলফনামাকে আপনি হাইড করে একটা চিহ্নকে গোল চিহ্ন দিয়ে যদি বলেন যে, আমি প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আমার সম্পত্তির পরিমাণ আট গুণ বেড়েছে, তখন কিন্তু কষ্ট লাগে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি ওখানে সম্পত্তিতে দেখালেন ৩১ শতক, কিন্তু আমার হলফনামাতে তো সম্পত্তি দেওয়া আছে এক হাজার ৮৩৫ শতক। তাহলে কোথায় এক হাজার ৮৩৫ শতক আর আপনি হাইলাইট করলেন ৩১ শতক। হ্যাঁ, আমার উপজেলায় আমি মন্ত্রী হওয়ার পরে সম্পত্তি কেনা হয়েছে, এ তো আমি অস্বীকার করছি না। আমার কোম্পানির নামে সম্পত্তি আমার সন্তান কিনেছে। নতুন ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য সম্পত্তি কেনার প্রয়োজন হলে সম্পত্তি কিনবে না? অবশ্যই কিনবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু সেটার আয়ের উৎসটা কী, সেটা আপনারা দেখেন, সেটা তদন্ত করুন। ট্যাক্স অফিস আছে, তারা দেখবে যে সেটা বৈধ না অবৈধ। ব্যক্তিগত নামে তো কোনো সম্পত্তি কেনা হয়নি; রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলের নামে, ফাউন্ডেশনের নামে সম্পত্তি কেনা হচ্ছে, কারণ সেখানে আমরা নতুন ইন্ডাস্ট্রি করব, নতুন ব্যবসা করব।’
টাকার উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি যে ৪২ কোটি টাকা দিয়ে একটা অটো রাইস মিল বিক্রি করলাম, নগদ টাকার উৎস তো এখানেই বের হয়ে আসে। আমি অন্য জায়গায় না-ই গেলাম, আমার অন্যান্য ব্যবসাগুলো নাহয় আমি বাদই দিলাম।’
‘মন্ত্রী আমাকে ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন না’
মন্ত্রণালয়ের কাজের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার মন্ত্রণালয়ে কাজ করছি, খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কারণ আমার সৌভাগ্য যে আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দলের মহাসচিব। উনি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি, আমার পরম শ্রদ্ধেয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং শ্রদ্ধেয় স্যার কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত... আমি ওনার বয়সে অনেক ছোট, নবীন হিসাবে উনি আমাকে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। যেকোনো বিষয়ে উনি আমাকে ডাকেন অথবা খবর দেন, আমি গিয়ে উনার কাছে বসলে উনি বলেন যে আমরা এটা এভাবে করতে চাচ্ছি, আমরা এক সমন্বিতভাবেই পরিচালনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘আর আমার নিরাপত্তার জায়গা, ফাইল স্বাক্ষরের শেষ জায়গা হচ্ছে মাননীয় মন্ত্রী। আর উনি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাহলে আমার নিরাপত্তা, আমার প্রোটেকশনের দেওয়ালটা তো এখানে আছে, আমি তো ফাইনাল অথরিটি না আমার মন্ত্রণালয়ের। আমার পরেও ফাইলটা তার কাছে যায়। যদি ওখানে কোনো অন্যায় থাকে, নেগেটিভ কিছু থাকে আমার স্বাক্ষরের পরে, তাহলে তো মাননীয় মন্ত্রী সেটা ফেরত দিতে পারবেন বা ওটা এলাউ করবেন না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি
স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচনের জন্য চলতি বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন—এই নির্বাচনগুলো করার জন্য তারাও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সব মিলিয়ে এই বছরটি সরকারের এই বড় একটি বাজেট বাস্তবায়নে যেমন একটা চ্যালেঞ্জ হবে, আমাদের সামনে নির্বাচনগুলো আসবে। এখানেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করবার জন্য সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়েছে।’
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১২ দিন আগে
‘তারেক রহমানের বন্ধু’ পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু নন; বরং বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে ‘তারেক রহমানের বন্ধু’ পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমি বন্ধু না। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী।’
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু নিউজে আসে, আমি মাঝখানে একটা সাক্ষাৎকারে বলেছি যে তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহে আলম দুর্নীতি করবে, তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহ আলমের সম্পদ আট গুণ বাড়ল—এই যে কথাগুলি। তারেক রহমান শ্রদ্ধেয় তারেক রহমান বড় হয়েছেন, পড়াশোনা করেছেন ঢাকা শহরে। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা বগুড়া এবং শিবগঞ্জে। উনার সঙ্গে আমার রাজনৈতিকভাবে সাক্ষাতই হয়েছে ১৯৯৩-৯৪ সালে, আমি ছাত্রদলের সেক্রেটারি হবার পরে, যখন উনার বগুড়ায় যাওয়া-আসা শুরু করলেন।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করি যে এই বিষয়টি কখনোই কেউ নোটিশে বা নজরে নিয়ে আসবেন না। কোনো কারণেই কোনোভাবেই আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমি বন্ধু না। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির কর্মী হিসেবে আমার বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া। বগুড়া জেলার দায়িত্ব পালন করার কারণে যেহেতু বগুড়ায় বাড়ি শ্রদ্ধেয় নেতা তারেক রহমানের, তার সঙ্গে বহুবার আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, দেখা হয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই তিনি আমাদের স্নেহ করেন এবং বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়ার মানুষ হিসেবে এইটুকু যোগাযোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আছে। তিনি আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন—এইটুকুই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তার সঙ্গে আমার বয়সেরও অনেক তারতম্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এই যে মানুষের সামনে তিনি উপস্থাপন করেন যে তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহ আলম এটা করল, এই জিনিসটা আমি এবং আমার পরিবার বা সমাজের অন্য মানুষ নিশ্চয়ই ভালোভাবে নেবেন না। অনুগ্রহপূর্বক এই জিনিসটা থেকে, এই বিষয়টা থেকে আপনারা একটু দূরে থাকবেন বা সবাইকে সজাগ করবেন—এইটুকু আমি অনুরোধ করছি।’
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১২ দিন আগে
তারেক রহমানকে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসেন ড. ইউনূস: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ট্রফি তুলে দিতে এবং নির্বাচনের তারিখ নিশ্চিত করতে লন্ডন সফর করেছিলেন।
তিনটি আন্দোলনের ট্রফি বিএনপির ঘরে বলে দাবি করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং জুলাই-আগস্ট; তিনটি আন্দোলনের ট্রফিই আমাদের ঘরে। এরকম ট্রফি শুধু বিএনপির ঘরে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল দেখাতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে, কিন্তু জুলাই-আগস্টের ট্রফি তাদের ঘরে নেই। বিরোধীদলের বন্ধুরা জুলাই-আগস্ট বলতে পারবে, কিন্তু ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে না।
এ সময় বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে হৈচৈ শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বক্তাকে বক্তব্যে কোনো বাধা দেবেন না। আপনাদের যখন সময় আসবে, আপনারা আপনাদের বক্তব্যের মধ্যে বলবেন।
মীর শাহে আলম বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছাত্র-জনতার সঙ্গে আমরা সবাই ছিলাম। ট্রফি আমরা কারও কাছে নিতে যাইনি। ক্যাপ্টেন কে, এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূস চেনেন। এই কারণে উনি লন্ডনে গিয়ে আমাদের ক্যাপ্টেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, ক্যাপ্টেন একজনই থাকে। সে ক্যাপ্টেনের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন বলেই এ দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।
স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি ১৯৭১ সালকে রিপ্রেজেন্ট (প্রতিনিধিত্ব) করছেন।
এ সময় সরকারি দলের বেঞ্চে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন তুলে ধরে কয়েকজনের নাম বলার পাশাপাশি তিনি বলেন, বিরোধী দলের বেঞ্চে সে ধরনের উপস্থিতি নেই।
সঙ্গে সঙ্গে স্পিকার তাকে থামিয়ে বলেন, বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমি নিজেই রণাঙ্গনে দেখেছি। গাজী নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা; তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
বিরোধী দলের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, আমরাও আন্দোলন করেছি, আপনারাও আন্দোলন করেছেন। কিন্তু মাঝপথ থেকে আপনারা আমাদের কাছ থেকে চলে গিয়েছিলেন ২০১৪ সালের পরে।
তার ভাষায়, দীর্ঘদিন চার দলীয় জোট ও ২০ দলীয় জোটে একসঙ্গে আন্দোলন করলেও কোনো এক অজানা কারণে তারা সরে যান এবং পরে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে এমনভাবে ধারণ করতে চান, মনে হয় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধই হয়নি, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনই হয়নি।
এ সময় সরকারের কাজে বিরোধী দলের সহযোগিতাও চান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী পাঁচ বছরে এই দেশকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যাতে মানুষ মনে করে যে একসময়কার জোটবদ্ধ বিএনপি-জামায়াত যদিও আজকে আলাদা আলাদা, কিন্তু তারা আবার ভেতরে ভেতরে এক হয়ে দেশটিকে একটি ভালো জায়গায়, সুন্দর জায়গায় নিয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা প্রথম দিনই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি, এই বিরোধী দল কোনো গতানুগতিক বিরোধী দল হবে না। ন্যায্যসঙ্গত সকল কাজে সমর্থন-সহযোগিতা, অন্যায় এবং জনগণের অধিকার হরণকারী সকল পদক্ষেপে আমাদের কণ্ঠ থাকবে আপসহীন।
মীর শাহে আলমের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকে মাননীয় সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে আমাদের একবারে জেরবার করে ফেলেছেন।’
শফিকুর রহমান বলেন, অসংখ্য অসত্য তথ্য এখানে এসেছে। দুই-একটার প্রতিবাদ আপনি নিজেও করেছেন। আমি অনুরোধ করব, অসত্য কোনো তথ্য যেন এই মহান সংসদে কেউ পরিবেশন না করেন।
তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য সংসদ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে স্পিকার বলেন, আমি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখব। সেখানে কোনো অসংসদীয় বা অসত্য তথ্য থাকলে সেটা প্রত্যাহার করা হবে।
১০৫ দিন আগে
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচন হবে: প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত এখনও সরকার নেয়নি। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠানে এডিসি, ইউএনওরা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবে তারাই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নে নির্মানাধীন একটি সেতুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সেতুটির অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে এটিকে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হবে। এটি প্রধানন্ত্রীর নজরে আসার পর আমাকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে জনগণের চলাচল-উপযোগী করতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশীদ, সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মুসাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১১৮ দিন আগে