ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী
৪,৩৪১ হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত দেবে সরকার
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে উদ্বৃত্ত চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ।
এছাড়া ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য বিমানভাড়া আরও কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রবিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সৌদি আরব পর্বের হজযাত্রায় অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এ সময় ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ১০ জন হাজির হাতে তাদের অর্থের চেক তুলে দেন মন্ত্রী। বাকিদের অর্থ রবিবারের মধ্যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ বলেন, ‘২০২৬ সালে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত পাবেন। এই টাকা হাজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হবে। ২৩ জন হাজির চিকিৎসাব্যয় তাদের স্বাস্থ্যবিমার অর্থের চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।’
প্রতারণা থেকে হাজিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘হাজিদের রিফান্ডসহ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সব অনুদান বা সহায়তা কেবল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এ টাকা পাঠাতে মন্ত্রণালয় থেকে কাউকে ফোন করা কিংবা তার কাছ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর কিংবা বিকাশ, নগদ বা রকেটের কোনো পিন নম্বর চাওয়া হয় না। এমনটি যদি কেউ করে, তাহলে সে প্রতারক। এ ধরনের প্রতারকদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য এই পবিত্র ইবাদতকে সহজসাধ্য করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজে বিমানভাড়া পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হজযাত্রীদের কল্যাণে যা বর্তমান সরকারের একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মাইলফলক।’
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়ার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ধার্য করা হয়েছিল, তার চেয়ে কিছু কম মূল্যে এবার বাড়ি ভাড়া করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে সার্ভিস চার্জও কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি প্যাকেজের খরচের খাতভিত্তিক হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
২০২৬ সালের হজে সরকারি মাধ্যমে মোট তিনটি প্যাকেজ ছিল উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ) সম্পর্কে বলেন, ‘এই প্যাকেজের হাজিদের কাবা শরিফ থেকে এক নম্বর বাড়ি তথা হোটেল বুল্লরা আল দুররাতে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই হোটেলে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা ফেরত পাবেন।’
‘এই হোটেলের দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা প্রত্যেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা এবং যারা দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজে হজ পালন করেছেন, তারা প্রত্যেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা ফেরত পাবেন।’
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা প্রত্যেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা এবং যারা তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজে হজ পালন করেছেন, তারা প্রত্যেকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা ফেরত পাবেন।’
হজ প্যাকেজ-২ সম্পর্কে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কা হজ মিশনসংলগ্ন ২, ৩ ও ৪ নম্বর বাড়িতে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুই নম্বর বাড়ি তথা হোটেল লুলুয়াত আল তাওহীদে অবস্থানকারী সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ৯৪ পয়সা, তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা ফেরত পাবেন।’
এছাড়া তিন নম্বর বাড়ি তথা হোটেল রাওদাত আল শুরুকে অবস্থানকারী সাধারণ প্যাকেজের প্রত্যেক হাজি ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা ফেরত পাবেন বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘চার নম্বর বাড়ি তথা হোটেল মানার আল শুরুকে অবস্থানকারী হাজিরা প্রত্যেকে ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬ হাজার ২৪৯ টাকা ২৪ পয়সা ফেরত পাবেন।’
সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩ সম্পর্কে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্যাকেজের হাজিদের ৫ নম্বর বাড়ি তথা হোটেল নাম্বার ওয়ানে রাখা হয়েছিল। এই বাড়িতে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা ফেরত পাবেন। এই প্যাকেজে শর্ট কিংবা আপগ্রেডেশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।’
২ ঘণ্টা আগে
হজ কার্যক্রম তদারকিতে ধর্মমন্ত্রীর নেতৃত্বে পর্যবেক্ষণ দল গঠন
চলতি বছরের হজ কার্যক্রম তদারকির জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে চার সদস্যের পর্যবেক্ষণ দল মনিটরিং টিম গঠন করেছে সরকার।
বুধবার (২৫ মার্চ) এ দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।
দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। অন্য সদস্যরা হলেন— সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং অতিরিক্ত সচিব (হজ অনুবিভাগ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দলটির তিন সদস্য বিমানের ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামী ১৯ মে বা কাছাকাছি সময়ে সৌদি আরব যাবেন। সেখানে দায়িত্ব পালন শেষে ১৬ জুন বা কাছাকাছি সময়ে দেশে ফিরবেন। অন্যদিকে, আয়াতুল ইসলাম অগ্রবর্তী প্রতিনিধি হিসেবে ১৬ এপ্রিল বা কাছাকাছি সময়ে সৌদি আরব যাবেন এবং ৩০ মে বা কাছাকাছি সময়ে দেশে ফিরবেন।
এ সফরে সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলামের সঙ্গে তাদের স্ত্রী যথাক্রমে রাজিয়া মোরশেদা ও রোমেনা পারভীন সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
সরকারি শর্ত অনুযায়ী, এ সফর সরকারি ভ্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সদস্যরা নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করবেন। মন্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট খাত থেকে এবং অন্যান্য সদস্যদের ব্যয় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বরাদ্দ থেকে বহন করা হবে।
এছাড়া বিমান টিকিট, ভিসা, বীমা, আবাসন, যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যয় সদস্যদের প্রাপ্য ভাতার মধ্য থেকে সমন্বয় করতে হবে। সফরসঙ্গীদের জন্য জনপ্রতি চার লাখ টাকা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। অতিরিক্ত ব্যয় হলে তা পরবর্তী সময়ে পরিশোধযোগ্য হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট। এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন।
১৬৪ দিন আগে