বাংলাদেশ-কাতার সম্পর্ক
বাংলাদেশের ৫টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আজ কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলি বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির নেতৃত্বে কাতারের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ-কাতার সপ্তম যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের ৫ নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী।
সোমবার (১৮ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে কাতারের আমির যে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে চার লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী কাতারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখছেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গিয়েছেন। চলতি বছর কাতার কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যার দ্বিগুণ কর্মী গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কাতারগামী কর্মীদের জন্য বর্তমানে ঢাকায় মাত্র একটি ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ সময় স্বল্প সময়ে ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট ৫৫টি ট্রেডে মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।
বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যার মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের ৫টি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ড. আলি বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি জানান, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতোমধ্যে দুইটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিভাগীয় শহরে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করবেন।
যৌথ কমিটির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আলি মাহদি সাঈদ আল-কাহতানি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতারের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের
উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতারের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার বার্তা নিয়ে দোহায় কাতারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।
রবিবার (২৯ মার্চ) সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহায় গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন হুমায়ূন কবির। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে একটি সংহতিপত্র হস্তান্তর করেন তিনি।
সংহতিপত্রে প্রধানমন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ব্যক্ত করেন। তিনি কাতারে বসবাসরত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাতার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
একইসঙ্গে কাতারের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া, ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও মে মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাতায়াতে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় কাতারের আমিরের মহানুভবতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও মানবিক কূটনীতিতে কাতারের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
সফরকালে তিনি কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ সময় সাম্প্রতিক এক সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় শ্রমমন্ত্রীর এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা জানান।
সফরকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দোহাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন।
তার এই সফর দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার অংশীদারত্বকে আরও গতিশীল করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই উদ্দেশ্যে দোহা থেকে আরও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ সফরের কথা রয়েছে উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরের।
৬১ দিন আগে