ফুয়েল পাস অ্যাপ
রাজধানীর ২ পাম্পে চালু হচ্ছে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ
জ্বালানি সংকটের মাঝে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানী ঢাকার দুটি পেট্রোল পাম্পে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে আমরা দুটি ফিলিং স্টেশনে কাজ শুরু করেছি; একটি আসাদ গেটের সোনার বাংলা, আরেকটি তেজগাঁয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন। ইতোমধ্যে প্রচুর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করছেন। আমার মনে হয় রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে।
‘তবে এই কাজটা একটু সময়সাপেক্ষ। আমরা মোটরসাইকেলে ফোকাস করে দুটি ফিলিং স্টেশনে কাজটি শুরু করেছি। আশা করি, আস্তে আস্তে ঢাকা শহর পুরোটা কভার করতে পারব। এরপর হয়তো আমরা এটি দেশব্যাপী রেপ্লিকেট (অনুকরণ) করার চেষ্টা করব।’
যুগ্ম সচিব জানান, ৮ এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধভাবে মজুদ করা মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৭ লিটার, অকটেন ৩৬ হাজার ৬২১ লিটার এবং পেট্রোল ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মামলার সংখ্যা ৩ হাজার ১১টি। মোট জরিমানা করা হয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সেই সঙ্গে মোট ৩৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের মজুদের পরিমাণ ডিজেল এক লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন, অকটেন ৪ হাজার ৫৬৯ টন এবং পেট্রোল ১৬ হাজার ৮১২ টন বলেও জানান মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো সংকট হবে না।’
অবৈধ মজুদের পেছনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মামলার মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জ্বালানি ও খুনি সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রকৃত মূল্য প্রায় ১৫৫ টাকা হওয়া উচিত। এ কারণে সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। অযথা মজুদ বা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করলেই নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমে আসবে।’
৩ ঘণ্টা আগে