গোলাম পরওয়ার
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনারসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ১১ দলীয় জোট। ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনের আগে জোটের শীর্ষ নেতারা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এসব কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ৫ কোটি মানুষ বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার করে নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে দলীয়করণ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এবং একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিল। আমরা এখন বেদনার সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বর্তমান সরকার তা থেকে ইউটার্ন করে নানান অজুহাত তুলে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করে গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জ্বালানিমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোটের যে গণরায়, তা বাস্তবায়নই আমাদের আন্দোলনের প্রধানতম লক্ষ্য। কিন্তু, বিদ্যমান যে জনদুর্ভোগ, জ্বালানি সংকট চললেও জ্বালানিমন্ত্রী হাস্যকরভাবে বলছেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তেল পাচ্ছেন না। এমনকি সংসদ সদস্যরা তেল না পেয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তিনি আরও বলেন, সার সংকট জ্বালানি থেকেই তৈরি হচ্ছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে ফসল কাটা, মাড়াইয়ের জন্য জ্বালানি প্রয়োজন। আসন্ন বোরো মৌসুমেও জ্বালানির প্রয়োজন।
দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সারা দেশে দেড় লক্ষাধিক হামের রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্যখাত একেবারে ভেঙে পড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও হাসপাতালের চেহারা বিপরীত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, খুনখারাবি ও দখলদারি আবারও চলছে। একটি দলের নেতৃত্বে বিভিন্ন দখলবাজি শুরু হয়েছে। ব্যাংক খাত ধ্বংস করা হয়েছে। এমন কোনো নজির আছে কি যে একটি দল ক্ষমতায় এসে দেড় মাসে ৪০-৪২ হাজার কোটি টাকা শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ করেছে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংকগুলো খালি করে নিজেদের সিন্ডিকেটের লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোয় আমানত রাখা কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক এখন রাজপথে নামছেন, কথা বলছেন। প্রশাসনে সচিবালয় থেকে শুরু করে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধস্তন পর্যন্ত দলীয়করণ, পদত্যাগে বাধ্য করা, ওএসডি করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় সব সরিয়ে দিচ্ছে সরকার। দৃশ্যত, শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নের চলমান আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতির আলোকে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে ১১ দলের আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে গণমিছিল করবে ১১ দলীয় জোট। এরপর ২৫ এপ্রিল রাজধানী বাদে অন্যসব মহানগরীতে গণমিছিল করবে তারা। তারপর ২ মে সব জেলা শহরে গণমিছিল।
এছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত জোটের পক্ষ থেকে সারা দেশে লিফলেট বিতরণ এবং সকল মহানগরী ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে সেমিনার আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়াও পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে সকল বিভাগে জনসভা করা হবে। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৩ ঘণ্টা আগে