নতুন উপজেলা
ঠাকুরগাঁওয়ে ২ নতুন উপজেলা, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে নতুন দুটি উপজেলা ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ায় এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে।
এ খবরে বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে শুক্রবার (৮ মে) পর্যন্ত রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার সাধারণ মানুষ মিষ্টি বিতরণসহ আনন্দমিছিল করেছে। একইসঙ্গে এই সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।
গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলার আরও কয়েকটি উপজেলা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন পায়।
২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ছিল একটি বৃহৎ উপজেলা । দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি ও সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া, রুহিয়া পশ্চিম, আখানগর, ঢোলারহাট ও সেনুয়া ইউনিয়ন নিয়ে রুহিয়া থানার কার্যক্রম শুরু হয়। এদিকে ২০২২ সালে ২৯ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া, বড়গাঁও, দেবীপুর, গড়েযা ও শুখানপুকুরী ইউনয়িন নিয়ে ভুল্লী থানার কার্যক্রম শুরু হয়। তারপর থেকেই এলাকাবাসী থানা দুটিকে উপজেলায় রুপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিল।
রুহিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রুহিয়াকে উপজেলা করার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। নানা সময় স্মারকলিপি দিয়েছি, মানববন্ধন করেছি, জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েছি; কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছিল না। আজ সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমাদের দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণের দ্বার খুলে দিয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপজেলা পর্যায়ের সব সেবা পাবে। এতে আমাদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।
ভুল্লী বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুল্লী উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি অনেক গতিশীল হবে। নতুন নতুন সরকারি অফিস, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
স্থানীয় তরুণরা বলেন, আমরা বিশেষভাবে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিইডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বারবার এই অঞ্চলের মানুষের দাবি ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতার ফলেই আজ আমরা এই সুখবর পেয়েছি। নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সব খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানান, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলার দাবি অনেক দিনের। আমাদের নির্বাচনি প্রচার চলাকালে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিও ছিল। আমাদের মহাসচিবমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, চলতি বছরেই দুই নতুন উপজেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী।
২০ ঘণ্টা আগে