বাজেট ২০২৬-২৭
বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কমছে কোনটির
জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এটি বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।
দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের
কারণ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বৃদ্ধি করেছে সরকার। এর ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিগারেট, আমদানি করা জ্বালানিচালিত গাড়ি, বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, রড এবং বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিগারেটে বাড়ছে করের চাপ
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার যুক্তিতে সিগারেটের সব স্তরের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তেলচালিত গাড়ি কেনা হবে আরও ব্যয়বহুল
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (আইসিই) চালিত গাড়ির ওপর করভার বাড়িয়েছে সরকার। বিশেষ করে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন আমদানি করা পেট্রল, অকটেন বা ডিজেলচালিত গাড়ির করভার ১৩২ শতাংশের বেশি থেকে প্রায় ১৫৬ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
এতে মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয় গাড়িগুলোর দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাইসাইকেল
দেশীয় সাইকেল শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
কাগজের কাঁচামাল
কাগজ শিল্পের সুরক্ষায় গ্রিজ প্রুফ ও গ্লাসিন পেপারের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আমদানিকৃত কাগজ ও কাগজজাত কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বৈদ্যুতিক মোটর
১২০০ ওয়াটের নিম্ন ক্ষমতাসম্পন্ন ডিসি মোটর আমদানির ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকায় বৈদ্যুতিক মোটরের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাজুবাদাম
দেশীয় কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে উৎসাহ দিতে কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত কাজুবাদামের বাজারদর বৃদ্ধি পেতে পারে।
জিপসাম বোর্ড ও শিট
নির্মাণসামগ্রী খাতেও প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে জিপসাম বোর্ড ও শিট আমদানির ওপর ২০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়ও ডিটারজেন্ট, রড, কপার তার, কপার টিউব, হিমায়িত মাছ, সুগন্ধি নির্যাসসহ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়তে পারে।
কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বড় একটি অংশের পণ্যে কর হ্রাস ও অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে অনেক পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৬০টি নিত্যপণ্য
ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দৈনন্দিন বাজারে চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিশুখাদ্য
শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমে দাম কমতে পারে।
মসলা
জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়ার মতো মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
খেজুর
খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।
সোনার গয়না
সোনার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের ফলে প্রতি ভরিতে করের চাপ কমেছে, এতে দাম কিছুটা কমতে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি
ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমতে পারে।
কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা
ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিবার ডায়ালাইসিস খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
ওষুধ
ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে করছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ৯টি নতুন কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এতে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাদ্যযন্ত্র
গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে দাম কমতে পারে।
অন্যান্য
বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, পিওএস যন্ত্র, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপণ্যে কর কমানোয় সাধারণ মানুষের ব্যয়চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে বাস্তবে বাজারে দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
৭ ঘণ্টা আগে
রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই প্রবাসী কল্যাণসেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।
একইসঙ্গে বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখার কথাও জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
আমির খসরু বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রবাসি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশন ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যে, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে—এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে সরকার। এ ছাড়াও বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
ক্যানসারসহ ৬ রোগে আক্রান্তদের এককালীন ১ লাখ টাকা সহায়তার প্রস্তাব
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। নতুন বাজেটে এসব রোগীদের এককালীন চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের অংশ হিসেবে শিগ্গিরই ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী কর্মী থাকবেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতের দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম, রুবেলা টিকা দিয়েছে।’
এছাড়া মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং নার্সিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রথমবারের মতো জিডিপির ১ শতাংশের ওপরে নেওয়া হয়েছে। মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
৮ ঘণ্টা আগে
ব্যাংক হিসাব খুলতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে টিআইএন
বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে এমনিতেই মানুষের হাতে টাকা রাখার প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তি ও যে কোনো ব্যবসায়িক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব ঘোষণা করেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন করে কোনও ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব খুলতে চাইলে তাকে টিআইএন সনদ দাখিল করতে হবে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে করদাতাদের তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কর প্রশাসনের আওতা বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
তবে কিছু ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব, নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট (১০ টাকার হিসাব), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা গ্রহণের হিসাব এবং পেনশনভোগীদের ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ প্রদর্শনের প্রয়োজন হবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১৭ কোটির বেশি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। নতুন বিধান কার্যকর হলে ভবিষ্যতে ব্যাংক হিসাব খুলতে আগ্রহী ব্যক্তিদের আগে টিআইএন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত এই পদক্ষেপকে কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৮ ঘণ্টা আগে
বাজেটে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য স্বস্তির খবর
দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একাধিক ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। এর ফলে এসব খাতের উদ্যোক্তাদের পরিচালন ব্যয় কমবে এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যের খসড়া অনুযায়ী, বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা বিভিন্ন সেবা এবং তাদের ব্যবহৃত অফিস বা অন্যান্য স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটও মওকুফের প্রস্তাব রাখা হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্টার্টআপ খাতের জন্য এসব ভ্যাট সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০৩৫ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি এই কর-সুবিধা দেশের উদীয়মান প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাগুলোর বিকাশে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, খসড়া বাজেটে কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের প্রদত্ত সেবার ওপর বর্তমানে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ইউটিউবার, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা, গ্রাফিক ডিজাইনার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, অনলাইন পরামর্শকসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাধীন পেশাজীবীরা সরাসরি এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট নির্মাণ এবং স্টার্টআপ উদ্যোগ দেশের তরুণদের জন্য আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সরকারও স্মার্ট অর্থনীতি ও ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট অব্যাহতির এই উদ্যোগকে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৯ ঘণ্টা আগে
বাড়ছে সব স্তরের সিগারেটের দাম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য নিকোটিন পাউচের ওপর প্রথমবারের মতো কর আরোপ ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার ন্যূনতম মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি শলাকার দাম দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬.২ টাকা, ৯.২ টাকা, ১৬ টাকা এবং ২১ টাকা।
এছাড়া নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোবাকো পণ্যের ক্ষেত্রেও নতুন কর কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী নিকোটিন পাউচে প্রতি ১০ গ্রামে ৫০০ টাকার ভিত্তিতে ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং হিটেড টোবাকোতে প্রতি ১০ শলাকায় ২১০ টাকার ভিত্তিতে ৬৭ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
অবৈধ তামাক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে বাজেটে ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ চেইন নজরদারির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
৯ ঘণ্টা আগে
এতিম শিশুদের ভরণপোষণ তহবিল গঠন করবে সরকার
সরকার দরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠন করবে। একই সঙ্গে ‘পিতা মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’-এর দুর্বলতা দূর করা ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায় আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতা সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতির নিরিখে ভাতার হার বৃদ্ধি, উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে ভাতা বিতরণ পর্যন্ত কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটিকে আধুনিক ও টেকসই করা হবে। অধিকন্তু, সমাজের অবহেলিত গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, আমাদের সরকার বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পেনশনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করতে ‘পেনশন ফান্ড’ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং মোট অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুয়িটি হিসেবে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এছাড়াও সরকার হতদরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠন এবং ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’-এর দুর্বলতা দূর করা ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
৯ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ, যেসব প্রতিশ্রুতি দিল সরকার
একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনকে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পূর্বশর্ত উল্লেখ করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন হয়নি। ফলে দেশের হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে, সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য হবে সর্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রূপান্তর, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও চিকিৎসা শিল্পের বিকাশ ঘটানো।
সরকার স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়া হবে।
জটিল রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা সহজলভ্য ও সুশৃঙ্খল করতে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সমন্বিতভাবে পূর্ণাঙ্গ ‘সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মা, নবজাতক, শিশু ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা এবং ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা থাকবে। অন্যদিকে, সার্জারিসহ জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসা জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীভূত করা হবে, যেখানে করোনারি কেয়ার ও কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটের মতো সুবিধাও থাকবে।
রোগী পরিবহনের দুর্ভোগ কমাতে ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক’ গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি প্রণয়নে কাজ করছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বাকৃতির সমস্যা মোকাবিলায় বহুমুখী ও বহু-খাতভিত্তিক জাতীয় কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
ওষুধশিল্পের বিকাশে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্পপার্কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গবেষণা, বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। এলডিসি উত্তররণের পরিপ্রেক্ষিতে ওষুধশিল্পের ধারাবাহিক উন্নয়ন, উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে আর্থিক প্রণোদনা ও সহায়ক নীতিগত সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী একটি আধুনিক ও টেকসই ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, টিকা সংগ্রহ ও টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে অতীতের অবহেলা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে দেশে হামের বিস্তার ঘটেছে এবং শিশু মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
চিকিৎসাশিক্ষার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ইন্টিগ্রেটেড মডুলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে নতুন দক্ষতাভিত্তিক এমবিবিএস কারিকুলাম চালু করা হবে।
জনবল সংকট নিরসনে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দেশব্যাপী মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী হবে।
শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল ডিভাইস শিল্পকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাত হিসেবে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমিত আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা কমানো, মানসম্মত ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রতিষ্ঠাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ।
৯ ঘণ্টা আগে
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এই সংক্রান্ত ঘোষণা দেন তিনি। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায় আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সমন্বিত ও সার্বিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেচ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, লবণাক্ততা প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে; যেমন: সরকার দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ব্যাপক খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩০৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ ও মেরামত এবং ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ৪৮৪ কিলোমিটার নদ-নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও ডুবোচর অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদী বা জলাশয় দখলমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী, বারনই নদী পুনরুদ্ধার এবং পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। হাওড়-বাওর অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন এবং উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা নিরসন করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে; চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা সুবিধা ভোগ করবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
৯ ঘণ্টা আগে
ইভি, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাপক কর-শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব
দেশে বিদ্যুৎচালিত যানবাহন (ইভি), সেমিকন্ডাক্টর, কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস এবং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ব্যাপক শুল্ক-কর অব্যাহতি ও রেয়াতি সুবিধার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন এবং ইভির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরিতে উৎসাহ দিতে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান চার চাকা ও তিন চাকা বৈদ্যুতিক যানবাহনের বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং ও সংযোজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চ মূল্য সংযোজন করবে, তাদের উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৩ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া সব ধরনের শুল্ক ও কর মওকুফ করা হবে।
অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান যন্ত্রাংশ সংযোজন ও পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া অন্যান্য সব শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এসব শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়া অন্য সব ধরনের শুল্ক ও কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইভি শিল্পের জন্য প্রস্তাবিত সব রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।
দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করতে শুধু উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নিয়োজিত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স খাতের বিকাশে মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
একইভাবে কম্পিউটার, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধাও ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ খাতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানিতে ১ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর এবং অগ্রিম কর ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব পদক্ষেপ দেশের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করবে, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
১০ ঘণ্টা আগে