শিক্ষক পরিবার
বিরোধের জেরে রাস্তা বন্ধ, চাঁদপুরে অবরুদ্ধ শিক্ষক পরিবার
জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে টানা তিন মাস ধরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের এক শিক্ষক পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে পরিবারটি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পুকুরের পাড় ঘেঁষে ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে পরিবারের শিশুসহ সব সদস্যদের।
এ ঘটনা ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ এলাকার ফজল বেপারী বাড়িতে।
রবিবার (২২ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে চলাচলের পথে প্রতিপক্ষের দেওয়া বাঁশ ও কাঁটাযুক্ত বেড়ার কারণে কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে এ পরিবারটি।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা তাছলিমা সুলতানা জানান, তিনি সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা। তার স্বামী মো. রাসেল হোসেন সরকারি চাকরির সুবাদে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের স্কুল পড়ুয়া ৩টি সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথ জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
তাছলিমা সুলতানা বলেন, ‘সারা দিন বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরি। কিন্তু নিজের ঘরে প্রবেশের কোনো স্বাভাবিক পথ নেই। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তায় কাঁটা ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে প্রতিদিন বাড়িতে প্রবেশ করতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের ওপর এমন অন্যায় ও সামাজিক নির্যাতনের বাস্তব চিত্র না দেখলে কেউ এটা উপলব্ধি করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমাকেই নয়, আমার ছোট ছোট সন্তানদেরও একইভাবে পুকুরে নেমে বাড়িতে যেতে হয়। সারা দিন বাচ্চাদের পড়ানো শেষে যখন বাড়ি ফিরি, তখন নিজের ঘরে ঢুকতেও অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। একজন শিক্ষিকা হয়ে আমি আজ নিজ ভূমিতে অবরুদ্ধ ও অসহায়।’
ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে, গত ১৬ জুন তাছলিমা সুলতানা বেড়া পার হয়ে ঘরে প্রবেশ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লাসমিন আক্তার দা নিয়ে তাকে আক্রমণের চেষ্টা করেন এবং সোহেল হোসেন প্রকাশ্যে কোপানোর হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় তারা একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং থানায় অভিযোগ ও মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছে এবং পরিবারটিকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও মানসিক হয়রানি করছে।
এদিকে, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলালউদ্দীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এই বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ আসেও নাই। থানায় এসে আমাদের বিস্তারিত জানালে, অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেছেন, তিনি এ ব্যাপারে চেষ্টা করছেন। কিন্তু সমাধানে আসতে পারেননি।
ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, সমস্যাটি নিয়ে এলাকার চেয়ারম্যানও সমাধান করতে ব্যার্থ হয়েছেন। আমি উভয় পক্ষকে ডেকেছি । আশাকরি বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আইনত প্রকৃতপক্ষে চলাচলের পথ কেউ আটকাতে পারে না।
মানবিক দিক বিবেচনা করে চলাচলের পথটি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর প্রতিবেশীসহ আশপাশের সবাই।
২২ ঘণ্টা আগে