অর্থনৈতিক করিডর
অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে সুযোগ শেষ হয়নি, অন্য দেশের জন্যও দরজা খোলা: চীনা রাষ্ট্রদূত
আঞ্চলিক সংযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে নিয়ে অর্থনৈতিক করিডর গঠনে বেইজিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে এ উদ্যোগে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার চীনা দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এই সহযোগিতাই শেষ কথা নয়। আমরা উন্মুক্ত এবং অন্য দেশগুলো যদি প্রস্তুত থাকে, আমরা তাদেরও স্বাগত জানাই। তবে তারা এর অংশ হতে চায় নাকি আরও কিছু সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায়, তা সম্পূর্ণ তাদের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে অর্থনৈতিক করিডর গঠনে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) ফোরামের অধীনে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক করিডর ধারণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এর আগে বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা হলেও তাতে অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, মিয়ানমারও এ ধরনের সহযোগিতা চায়। আমাদের তিন দেশ মিলে এই সংযোগ (অর্থনৈতিক করিডর) গড়ে তুলতে পারব।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কুনমিং থেকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বহুমাত্রিক (মাল্টিমোডাল) যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার এবং চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ সফল সফর। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক, যা সম্পর্ককে এক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘এ সফর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করেছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন মাত্রার পারস্পরিক আস্থা তৈরি হয়েছে।’
তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত
তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল, কারণ এ প্রকল্পের সঙ্গে লাখো মানুষের জীবিকা জড়িত।
তিনি বলেন, ‘তিস্তা বাংলাদেশের প্রকল্প। এটি আপনাদের প্রকল্প।’
ইয়াও ওয়েন জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়িংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ পরিকল্পনা, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনবল প্রশিক্ষণে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চীন প্রস্তুত।
‘একটি বিষয় আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—তিস্তা প্রকল্পের প্রতি চীনের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত রয়েছে,’ বলেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, তিস্তা প্রকল্পে চীন তাদের সক্ষমতার মধ্যে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা করবে।
নতুন কৌশলগত সংলাপ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
রাষ্ট্রদূত বলেন, সফরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক ‘২+২’ সংলাপ কাঠামো চালুর বিষয়ে আলোচনা। এই ব্যবস্থাগুলো দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগের জন্য একটি শক্তিশালী এবং আরও স্থিতিশীল প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বাত্মক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তারই একটি অংশ। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ে মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
তিনি বলেন, দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের সফর, সুশাসন বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে।
জিডিআই ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী নীতিতে অবিচল রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি যেমনই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে চীন তার অঙ্গীকার থেকে সরে আসবে না। বাংলাদেশ সবসময় চীনের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার থাকবে।’
তিনি জানান, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই)-এর ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে চীন এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর করতে একসঙ্গে কাজ করবে।
‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি’
ইয়াও ওয়েন বলেন, এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো বাংলাদেশ-চীনের বিদ্যমান সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে উন্নীত করে ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত।
তার ভাষায়, এটি এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্কের সর্বোচ্চ স্তরের কাঠামো।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘দুই দেশের নেতারা আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ নতুন ঐকমত্যে পৌঁছেছেন এবং আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আমাদের দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরবর্তী ‘স্বর্ণালী ৫০ বছরে’ পদার্পণের এই লগ্নে, আমাদের নেতাদের অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়নে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, তারা যৌথভাবে এই ফলাফলগুলোকে দৃশ্যমান অর্জনে রূপান্তর করবেন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শক্তিশালী গতি আনবেন, যা দুই দেশ ও জনগণের জন্য আরও বড় কল্যাণ বয়ে আনবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ও চীন ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), চুক্তি, একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা এবং একটি কৃষি বাণিজ্য প্রোটোকল।
পাশাপাশি গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই) বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতাবিষয়ক আরেকটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়।
৯ ঘণ্টা আগে
হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: শামা ওবায়েদ
জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কোনো আপডেট নেই। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
‘অবশ্যই একজন আসামি, যিনি অন্যায় করে, অপরাধ করে আরেক দেশে অবস্থান করছেন এবং যার বিচার হয়েছে, যিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাকে আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সেই বিচার সম্পন্ন করতে চাই। বাংলাদেশের জনগণও সেটাই চায়। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’
পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশের কাছে বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমরা মনে করছি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যে চুক্তিগুলো হয়েছে এবং আলোচনা চলছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা একধাপ এগিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা একধাপ এগিয়েছি। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও ‘টু প্লাস টু’ প্রস্তাব
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তারা আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আমরা আশা করছি, চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।’
চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ এবং অর্থনৈতিক করিডর (ইকোনমিক করিডর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের চাহিদাকে সামনে রেখেই পরিচালিত হবে। যদি আমরা দেখি এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য উপকারী এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয়, তাহলে অবশ্যই আমরা তা বিবেচনা করব।’
‘টু প্লাস টু’ সংলাপের প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে চীনের মন্তব্য যে ‘এ সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই’, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, সব দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক স্বতন্ত্র। চীনের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক থাকবে, তেমনি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও থাকবে। আমরা মনে করি না, এক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে আরেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে। সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ হাসিল করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) নিয়ে তিনি বলেন, সমীক্ষাটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, চীন তা দিতে সম্মত হয়েছে। শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থাপনার আরও অনেক বিষয় রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় তারা সহায়তা করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি এখনও শেষ হয়নি, শুরু হয়েছে। আগে যেখানে কাজ থেমে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর সেখান থেকেই এটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
অর্থনৈতিক করিডর
মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি বিশ্লেষণ করছি। যদি অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হয়, তাহলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। তবে এতে কোনো জটিলতা বা সমস্যা আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি প্রস্তাব। আমরা প্রস্তাবটিকে সাধুবাদ জানাই, কারণ এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে বা কোনো জটিলতা তৈরি করবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, অতীতে ভারতের উদ্যোগে করিডোর নিয়ে যেভাবে আলোচনা হয়েছিল, তখন একটা ভিন্ন পেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। বর্তমান প্রস্তাব নিয়েও তেমন কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না।
জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিশ্লেষণ করছে এবং তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
ভারতের বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাংকের মন্তব্য প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের থিঙ্ক ট্যাংক কী বলছে, সেটা ভারতকেই জিজ্ঞেস করা যায়। এ বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।’
১ দিন আগে