ছুরিকাঘাতে হত্যা
বাড্ডায় সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, অভিযুক্ত আটক
রাজধানীর বাড্ডায় একটি বাসার সামনে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে ঝুমুর আক্তার (৩৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রেজাউলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে বাড্ডার ডিআইটি রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ঝুমুর আক্তারের বাড়ি পটুয়াখালীর সদর উপজেলার তিতকাটা গ্রামে। তার বাবার নাম জাফর হাওলাদার।
নিহতের স্বজন অজিফা আখতার জানান, ঝুমুর কিছুদিন আগে পটুয়াখালী থেকে বাড্ডায় তার বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাজার করে বাসায় ফেরার পর ঝুমুরের সাবেক স্বামী রেজাউল ফোনে তাকে গালমন্দ করেন এবং বাসার নিচে এসে ডাকেন।
একপর্যায়ে ঝুমুর নিচে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় রেজাউল ধারালো ছুরি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। ছুরির আঘাতে ঝুমুরের পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে যায়।
তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রেজাউলকে আটক করে বাড্ডা থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, ঝুমুরের প্রথম স্বামীর সঙ্গে অনেক আগেই বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরে রেজাউলের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হলেও তিন বছর পর তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর তিনি প্রবাসী একজনকে বিয়ে করে বসবাস করছিলেন। তার তৃতীয় সংসারে একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
ময়মনসিংহে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত ১
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মজনু মুন্সি ওই ইউনিয়নের দুর্বারচর গ্রামের আব্বাস আলী আকন্দের ছেলে। তার ছেলে জহরুল ইসলাম আকন্দ কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন।
নিহতের ছেলে জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে স্থানীয় বয়ড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একদল কিশোর গ্যাং তার বাবার পথরোধ করে। তাদের চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তার বাবা দুর্বারচর পশ্চিমপাড়ার তিনজনের নাম উল্লেখ করে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, তার বাবা বয়ড়া বাজার থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা অন্য কাউকে ছিনতাই বা হত্যার উদ্দেশ্যে ওঁৎ পেতে ছিল। এ সময় ভুলবশত তারা তার বাবার পথরোধ করে। পরে তাকে বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।
নিহতের ছেলের অভিযোগ, হামলার পর দুর্বৃত্তদের একজন তার বাবার মোবাইল ফোন থেকে তাকে ফোন দেয়। এ সময় প্রায় ১৩ সেকেন্ড কলটিতে সংযোগ থাকলেও তারা কোনো কথা বলেনি। পরে একই নম্বর থেকে তার বোন মাহিয়া আক্তার বৃষ্টিকে ফোন করে একজন বলেন, আপনার বাবাকে আমি মারিনি, আরেকজন ছুরি মেরেছে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫ দিন আগে