সুড়ঙ্গ
ভারতে তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণ, নিহত ১০
হিমালয়ের কোলঘেঁষা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে চীনের সীমান্তসংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যের রাজধানী গ্যাংটক থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের সামারদুং গ্রামে সোমবার (২০ জুলাই) এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল বলে মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা অনুপমা তামলিং জানান, বিস্ফোরণের সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। যারা প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তারা জানিয়েছেন, প্রথমে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর সুড়ঙ্গের ভেতরে ধস নামে এবং অনেক শ্রমিক আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (এনএইচপিসি) ছয় কর্মকর্তা উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেন। তবে তারাও ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশপ্রধান সোনাম দোলমা বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১৭ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীসহ (এনডিআরএফ) উদ্ধারকারী দলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
এনডিআরএফ কর্মকর্তা নিতীন কুমার বলেন, ‘সুড়ঙ্গের ভেতরে মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করা হয়েছে।’ তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা বিশেষ শ্বাস-প্রশ্বাসের সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিপজ্জনক পরিবেশে জীবিতদের খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভারতে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে নির্মাণ দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠন, নির্মাণ ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
বিশেষ করে, হিমালয় অঞ্চলে ভঙ্গুর পাহাড়, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা এবং অনিশ্চিত ভূগর্ভস্থ অবস্থার কারণে সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডে একটি সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ শ্রমিক ১৭ দিন আটকা থাকার পর উদ্ধার হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা নদী অববাহিকা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এ এলাকায় তুলনামূলক নবীন ও ভঙ্গুর শিলাস্তর, অসংখ্য ফাটল এবং ভূগর্ভে আটকে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে।
পাশের মেঘালয় রাজ্যের নর্থ-ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবেশ ওয়ালিয়া বলেন, এলাকাটিতে কয়লাবাহী শিলাস্তরসহ তুলনামূলক নবীন ভূতাত্ত্বিক গঠন রয়েছে। মিথেনসহ অন্যান্য গ্যাস ভূগর্ভে জমে বিস্ফোরণের সূত্রপাত ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
১১ ঘণ্টা আগে