নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে ঘটনায় অজ্ঞাতনামা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলাটি করেন এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী লালন শাহের মাজার পরিদর্শনে আসেন। মাজার পরিদর্শন ও লালনের গান শোনা শেষে রাত আনুমানিক সোয়া ৮টায় মাজারের মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালান।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীদের মধ্যে একজন নাসীরুদ্দীনকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করেন। এরপর অন্যদের উদ্দেশে ‘শালাদের আজ শেষ করে ফেল’ বলে উসকানি দেন। পরে হামলাকারীরা লাঠি, বাঁশ, পাইপ, বাটাম, লোহার রড, পাথরসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাসীরুদ্দীন ও তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা ও মারধর করেন। এতে কয়েকজন আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলা থেকে বাঁচতে নাসীরুদ্দীন, এনসিপির নেতা-কর্মীরা মাজারের ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে হামলাকারীরা তাদের পিছু নিয়ে মাজারের ভেতরেও ধাওয়া করেন এবং হামলার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে নাসীরুদ্দীনকে নিরাপদে বের হতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার ব্যবহৃত গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, এনসিপির নেতা-কর্মী ও উপস্থিত অন্যরা তাদের রক্ষায় এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মাজার থেকে বের হয়ে মূল ফটকে অবস্থান নেন। সেখানে তারা বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ও পুলিশের সহায়তায় নাসীরুদ্দীনসহ অন্যরা নিরাপদে মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় গত বুধবার মামলা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে পুলিশ।
১০ দিন আগে
শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে পা রাখলেই ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে পা রাখা মাত্রই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। ওইখানে বসে বসে রাজনীতি করে ধমক দেয়— আমি কিন্তু আসব। আসেন না, কই আসবেন?’
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা কোম্পানীগঞ্জে এলে জনগণ কী করবে?’ এ সময় জনতার সমর্থন পেয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি ইঞ্চি মাটিতে শেখ হাসিনা যখনই নামবে, তখনই ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে।’
বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আন্দোলনে গুলিতে আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধসহ ৪০০ জনের মৃত্যুর জন্য তৎকালীন সরকার দায়ী। দুই বছরের মাথায় অনেকেই আবু সাঈদকে ভুলে যেতে পারেন। আবু সাঈদের সেই রক্ত ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু আমরা যতদিন বাংলাদেশে জীবিত আছি ততদিন ভুলব না।’
সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে বিএনপিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে বিএনপির পতন ঘটবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট বিদ্যমান। একইসঙ্গে কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রত্যাশামতো চালু না হওয়া এবং চীন সফর থেকে কাঙ্ক্ষিত চুক্তি না আসাও সরকারের ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের দলের তিনটি প্রধান দাবি ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিলে বিএনপি জনসমর্থন হারাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক উবায়েদ আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতুসহ দলটির সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, সারাদেশে দখলবাজি, টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজি করছে বিএনপির কিছু লোক। এসব অপকর্মের সঙ্গে বিএনপির ৫ শতাংশ লোক জড়িত থাকলেও দায় নিতে হচ্ছে সবার। বিএনপির হাইকমান্ড কেন এই দুষ্টু লোকদের থামাতে পারছে না? তার মানে কি এই দুষ্টু লোকদের অপকর্মের উপার্জন হাইকমান্ড পর্যন্ত পৌঁছায়? যদি তা না হয়, তাহলে এদের অপকর্ম বন্ধ করুন।
৮০ দিন আগে