এমডিজি
প্রত্যেক নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও অর্থনৈতিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনবে সরকার
বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে দেশের সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও অর্থনৈতিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ‘ন্যাভিগেটিং ফাইভ-ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাচিভিং এসডিজিস: পলিসি, পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে, একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে চলেছে।
এসডিজির ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও সামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের নীতি। এ ক্ষেত্রে সরকারের মূলনীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
বিএনপির জননীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে কেন্দ্র করেই দলটির সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণীত হয়েছে। তার ভাষ্যে, ‘সব সময়ই বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি ছিল জনবান্ধব। যেমন দেশ এবং জনগণের উন্নয়নে আমরা এখানে উপস্থাপিত একটি ডকুমেন্টারিতেও দেখেছি—স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার “ভিশন ২০৩০” এবং বর্তমান রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ঐতিহাসিকভাবেই প্রতিটি ভিশন এবং মিশনের সঙ্গে এমডিজি কিংবা বর্তমানে এসডিজির খুব বেশি অমিল নেই।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনে বাংলাদেশ একটি ঋণ ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করতে হবে। এই পুনর্গঠনের যাত্রায় এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ-ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গ সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের মতো এসডিজির মূল অগ্রাধিকারগুলো প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
১৪ ঘণ্টা আগে