এলপিপি
এফইএস রিটেইল বিরোধের সমাধানে একসঙ্গে কাজ করবে বিজিএমইএ-এলপিপি
এফইএস রিটেইলের (FES Retail) ইনভয়েস সংক্রান্ত দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও পোল্যান্ডের পোশাকের ব্র্যান্ড এলপিপি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠান দুটি বাংলাদেশে আইনি নিশ্চয়তা, কর্মীদের সুরক্ষা এবং স্থিতিশীল ব্যবসায়িক প্রসার ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতি তাদের পারস্পরিক অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং এলপিপির ডিরেক্টর—পারচেজিং অ্যান্ড ইএসজি ডোরোটা জানকোভস্কা-টমকৌ।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রকাশ্যে আলোচিত বিষয়টি চুক্তিবদ্ধ ও ইনভয়েস সংক্রান্ত কিছু বকেয়া দায়ের দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবির ক্ষেত্রে এলপিপি কোনো দেনাদার বা অর্থ পরিশোধে আইনিভাবে বাধ্য থাকা পক্ষ নয়।
এলপিপি নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে তাদের প্রত্যক্ষ সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের যাবতীয় দায়-দেনা তারা নিয়মিতভাবে এবং প্রযোজ্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরিশোধ করে।
বিজিএমইএ এলপিপির এই অবস্থান বিবেচনায় নিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো সেই সব প্রতিষ্ঠানের কাছেই উপস্থাপন করা উচিত, যারা এসব দায়ের সঙ্গে আইনিভাবে আবদ্ধ। উভয় পক্ষ স্বীকার করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির সম্মুখীন।
তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, এসব দায়-দেনা নিষ্পত্তির যেকোনো আলোচনা আইনিভাবে দায়বদ্ধ পক্ষের সঙ্গেই হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে এলপিপি তার নিজস্ব আইনি অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজন হলে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে।
এলপিপি আরও নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি তাদের কিছু সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা প্রদান, আইনি নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য একটি স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই পর্যালোচনা প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি এবং এটি এলপিপির নিজস্ব সব প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিকে প্রভাবিত করে না।
বিজিএমইএ ও এলপিপি সম্মত হয়েছে, এলপিপির সঙ্গে বর্তমানে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত ৩৫০টিরও বেশি প্রস্তুতকারকসহ সমগ্র বাংলাদেশের পোশাক খাতের স্বার্থ যেন সীমিতসংখ্যক তৃতীয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এ কারণে ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর কোনো প্রচার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে উভয় পক্ষ। এ ধরনের প্রচার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য প্রস্তুতকারক, কর্মী অথবা এলপিপি ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কর্তৃপক্ষ ও শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এর মধ্যে এলপিপির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যেকোনো অনুচিত হয়রানি, চাপ বা ভিত্তিহীন আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষা প্রদানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন না করে এবং আইনিভাবে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেকোনো পক্ষের বৈধ দাবি উত্থাপনের অধিকার সীমাবদ্ধ না রেখেই এ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিজিএমইএ ও এলপিপি তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
চলমান বিরোধের একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে উভয় প্রতিষ্ঠান।
১৬ ঘণ্টা আগে